Logo
Logo
×
   

Advertisement

সম্পাদকীয়

মূল্যস্ফীতির চাপ বৃদ্ধির আশঙ্কা

নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে

Advertisement

Icon

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মূল্যস্ফীতির চাপ বৃদ্ধির আশঙ্কা

Advertisement

বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির হারে ঊর্ধ্বগতি, শ্রমবাজারে কর্মের অভাব, সর্বোপরি করোনার নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা করে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে আগামীতে দেশে মূল্যস্ফীতির চাপ বৃদ্ধির আশঙ্কা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

উল্লেখ্য, দেশের হালনাগাদ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৈরি করা এক বিশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে চারটি প্রধান ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে। এগুলো হলো-বৈশ্বিক খাতে প্রত্যাশার চেয়ে পুনরুদ্ধারের গতি কম; বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির হারে ঊর্ধ্বগতি; শ্রমবাজারে কর্মের অভাব এবং পণ্য পরিবহণ খরচ অস্বাভাবিক বৃদ্ধি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাদ্যপণ্যসহ খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতির হার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, যা গত জুলাইয়ে ৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ থাকলেও আগস্টে বেড়ে হয়েছে ৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ। তবে সম্প্রতি খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার বেশি বাড়ছে, যা উদ্বেগজনক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক অবশ্য এ হার সাড়ে ৫ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখতে মুদ্রানীতির দিক থেকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।

অর্থনীতি পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে সর্বাগ্রে মানুষের মধ্যে আস্থা সঞ্চার করা জরুরি। দেশবাসীকে এ নিশ্চয়তা প্রদান করা উচিত যে, কোনোভাইে তাদের আয় হ্রাস পাবে না। এর ফলে মানুষ খরচ করবে ও অর্থনীতিতে ভোগ বাড়বে। এতে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার কার্যক্রম গতি পাবে, যা এ সময়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে একইসঙ্গে উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য বিপণনের সুযোগও নিশ্চিত করতে হবে এবং তাদের বিনিয়োগ থেকে মুনাফা আসার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

বিশ্বের খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা করোনার প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি ও আর্থিক কাঠামোর করুণ পরিণতির ব্যাপারে ইতঃপূর্বে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেছেন, করোনার অভিঘাতে সৃষ্ট বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা যে কোনো আর্থিক মন্দার চেয়ে খারাপ হবে। করোনার প্রকোপে বিশ্ব অর্থনীতি যেমন সংকটে নিমজ্জিত হয়েছে, একইভাবে দেশের অর্থনীতিও নেতিবাচক পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছে।

লন্ডনভিত্তিক সাময়িকী দি ইকোনমিস্টের ইন্টেলিজেন্স ইউনিট করোনাভাইরাস মহামারির প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সব দেশেই ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতির কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও বিপর্যয় নেমে আসার পূর্বাভাস দিয়েছে। বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি পণ্য আমদানি করে চীন ও ভারত থেকে। আশঙ্কার বিষয় হলো, এ দুই দেশেই মূল্যস্ফীতির হার বাড়ছে। ভারতে গত তিন মাসে মূল্যস্ফীতির হার ৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬ শতাংশে উঠেছে। ভারত থেকে পণ্য আমদানির ফলে স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়ছে।

আগামীতে করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বর্তমান সম্প্রসারণমুখী মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখতে হবে। এর ফলে অদূরভবিষ্যতে ব্যাপকভিত্তিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে-এমন প্রত্যাশা আমরা করতে পারি। বস্তুত এর মধ্য দিয়েই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো মোকাবিলা করতে হবে। আশার কথা, এ লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এ ধারাবাহিকতায় সরকারও বিভিন্ন নীতি সহায়তা ও প্রণোদনার মাধ্যমে সংশিষ্ট খাতগুলোকে সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত রাখবে, এটাই প্রত্যাশা।

Advertisement

মূল্যস্ফীতি চাপ বৃদ্ধি আশঙ্কা

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম