এসিআর পদ্ধতির পরিবর্তন
jugantor
এসিআর পদ্ধতির পরিবর্তন
এবার যদি সরকারি কর্মকর্তাদের সঠিক মূল্যায়ন হয়!

  সম্পাদকীয়  

১৪ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাৎসরিক গোপন প্রতিবেদনের (অ্যানুয়াল কনফিডেনশিয়াল রিপোর্ট বা এসিআর) যে পদ্ধতি চালু রয়েছে, তাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে।

বর্তমানে যে পদ্ধতিটি কার্যকর রয়েছে, তাতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ইচ্ছাই শেষ কথা, তিনি তার অধস্তন সম্পর্কে যা লিখবেন, সেটাই চূড়ান্ত। আর এ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছ থেকে ইতিবাচক মূল্যায়ন পেতে অধস্তনরা উদগ্রীব হয়ে থাকেন। সারা বছর দুশ্চিন্তা নিয়ে কাজ করতে হয় অধস্তনদের।

গোপনীয় প্রতিবেদনে ‘বস’ কী মূল্যায়ন করলেন, সেটা জানার উপায়ও থাকে না। পদ্ধতিটিকে ত্রুটিপূর্ণ মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের কথা হচ্ছে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার এ ক্ষমতা তাদের স্বেচ্ছাচারী করে তুলতে পারে। তার খেয়াল-খুশি অথবা মেজাজ-মর্জির ওপরই নির্ভর করতে হয় অধস্তনদের। এ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে নানা ধরনের সমালোচনার প্রেক্ষাপটে নতুন পদ্ধতির বাৎসরিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করতে চাচ্ছে সরকার।

নতুন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন এ পদ্ধতির নাম হবে অ্যানুয়াল পারফরম্যান্স অ্যাপ্রাইজাল রিপোর্ট (এপিআর) বা বাৎসরিক কর্ম মূল্যায়ন প্রতিবেদন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ধারণা নিয়ে তৈরি হতে যাওয়া এই এসিআরের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। গ্রেড-৯ থেকে গ্রেড-২ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা এর আওতায় আসবেন।

জানা গেছে, অতি শিগ্গির এ সংক্রান্ত প্রস্তাব প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটিতে পাঠাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

এসিআর পদ্ধতিতে যে পরিবর্তন আসছে, সেটাকে এক কথায় বলা যেতে পারে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যে এসিআর প্রস্তুত করা হয়, তাতে সংশ্লিষ্টজনের ব্যক্তিগত ও পেশাগত বৈশিষ্ট্যের মূল্যায়ন হয়। এতে ব্যক্তিত্ব, সময়ানুবর্তিতা, সততা ইত্যাদির মতো ২৫টি মানদণ্ড রয়েছে।

কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী বছরব্যাপী কী কাজ করেছেন এবং তা ঠিকমতো করেছেন কিনা, তার মূল্যায়ন হয় না। অর্থাৎ বিদ্যমান এসিআরের ১০০ নম্বরের পুরোটাই বৈশিষ্ট্যনির্ভর। বিপরীতে চালু হতে যাওয়া এপিআরে কর্মকর্তা-কর্মচারীর ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যের নম্বর থাকবে ৪০ আর বছরব্যাপী কাজের মূল্যায়নের নম্বর থাকবে ৬০।

বলার অপেক্ষা রাখে না, এই পদ্ধতিতে একজন কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারীর পেশাগত সামগ্রিক অবস্থারই প্রতিফলন ঘটবে, যা হবে তার ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক মূল্যায়ন। উল্লেখ করা যেতে পারে, বর্তমানের পদ্ধতিটি ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক আমলের চিন্তাপ্রসূত। এর মৌলিক পরিবর্তনের ফলে অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আর এসিআরভীতি থাকবে না। ঊর্ধ্বতনরাও স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠতে পারবেন না। আমরা এসিআরের পরিবর্তে এপিআর প্রবর্তনের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।

এসিআর পদ্ধতির পরিবর্তন

এবার যদি সরকারি কর্মকর্তাদের সঠিক মূল্যায়ন হয়!
 সম্পাদকীয় 
১৪ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাৎসরিক গোপন প্রতিবেদনের (অ্যানুয়াল কনফিডেনশিয়াল রিপোর্ট বা এসিআর) যে পদ্ধতি চালু রয়েছে, তাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে।

বর্তমানে যে পদ্ধতিটি কার্যকর রয়েছে, তাতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ইচ্ছাই শেষ কথা, তিনি তার অধস্তন সম্পর্কে যা লিখবেন, সেটাই চূড়ান্ত। আর এ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছ থেকে ইতিবাচক মূল্যায়ন পেতে অধস্তনরা উদগ্রীব হয়ে থাকেন। সারা বছর দুশ্চিন্তা নিয়ে কাজ করতে হয় অধস্তনদের।

গোপনীয় প্রতিবেদনে ‘বস’ কী মূল্যায়ন করলেন, সেটা জানার উপায়ও থাকে না। পদ্ধতিটিকে ত্রুটিপূর্ণ মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের কথা হচ্ছে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার এ ক্ষমতা তাদের স্বেচ্ছাচারী করে তুলতে পারে। তার খেয়াল-খুশি অথবা মেজাজ-মর্জির ওপরই নির্ভর করতে হয় অধস্তনদের। এ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে নানা ধরনের সমালোচনার প্রেক্ষাপটে নতুন পদ্ধতির বাৎসরিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করতে চাচ্ছে সরকার।

নতুন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন এ পদ্ধতির নাম হবে অ্যানুয়াল পারফরম্যান্স অ্যাপ্রাইজাল রিপোর্ট (এপিআর) বা বাৎসরিক কর্ম মূল্যায়ন প্রতিবেদন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ধারণা নিয়ে তৈরি হতে যাওয়া এই এসিআরের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। গ্রেড-৯ থেকে গ্রেড-২ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা এর আওতায় আসবেন।

জানা গেছে, অতি শিগ্গির এ সংক্রান্ত প্রস্তাব প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটিতে পাঠাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

এসিআর পদ্ধতিতে যে পরিবর্তন আসছে, সেটাকে এক কথায় বলা যেতে পারে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যে এসিআর প্রস্তুত করা হয়, তাতে সংশ্লিষ্টজনের ব্যক্তিগত ও পেশাগত বৈশিষ্ট্যের মূল্যায়ন হয়। এতে ব্যক্তিত্ব, সময়ানুবর্তিতা, সততা ইত্যাদির মতো ২৫টি মানদণ্ড রয়েছে।

কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী বছরব্যাপী কী কাজ করেছেন এবং তা ঠিকমতো করেছেন কিনা, তার মূল্যায়ন হয় না। অর্থাৎ বিদ্যমান এসিআরের ১০০ নম্বরের পুরোটাই বৈশিষ্ট্যনির্ভর। বিপরীতে চালু হতে যাওয়া এপিআরে কর্মকর্তা-কর্মচারীর ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যের নম্বর থাকবে ৪০ আর বছরব্যাপী কাজের মূল্যায়নের নম্বর থাকবে ৬০।

বলার অপেক্ষা রাখে না, এই পদ্ধতিতে একজন কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারীর পেশাগত সামগ্রিক অবস্থারই প্রতিফলন ঘটবে, যা হবে তার ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক মূল্যায়ন। উল্লেখ করা যেতে পারে, বর্তমানের পদ্ধতিটি ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক আমলের চিন্তাপ্রসূত। এর মৌলিক পরিবর্তনের ফলে অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আর এসিআরভীতি থাকবে না। ঊর্ধ্বতনরাও স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠতে পারবেন না। আমরা এসিআরের পরিবর্তে এপিআর প্রবর্তনের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর