হঠাৎ পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি
jugantor
হঠাৎ পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি
ঈদুল-আজহা সামনে রেখেই কি এ কারসাজি?

  সম্পাদকীয়  

১২ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভোজ্যতেল সংকটের পাশাপাশি এবার শুরু হয়েছে পেঁয়াজের সংকট। ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফের বাড়তে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম। জানা যায়, আমদানির অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ভারত থেকে পেঁয়াজ আসা বন্ধ রয়েছে।

আর এটাকে সুযোগ হিসাবে ব্যবহার করে রাজধানীর খুচরা বাজারে দুদিনে পেঁয়াজের দাম বাড়ানো হয়েছে কেজিতে ২০ টাকা, অর্থাৎ মনে ৮০০ টাকা। মঙ্গলবার রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪০-৪৫ টাকায়, যা দুদিন আগে বিক্রি হয়েছিল ৩০ টাকায়।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বলছে, সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ২০ দশমিক ৬৯ এবং আমদানি করা পেঁয়াজ ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বস্তুত ভারত থেকে পেঁয়াজ আসা বন্ধ হলেই দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়। এবারও তা-ই হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ তো ঠিক আছে, খুচরা বাজারেও কোনো সংকট নেই। তাহলে পেঁয়াজের দাম বাড়বে কেন? এক পাইকারি বিক্রেতা বলেছেন, বন্দরে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে, যে কারণে সেখান থেকে বেশি দরে পেঁয়াজ পাইকারি বাজারে আসছে।

আর আমদানি করা পেঁয়াজে টান পড়ায় দেশি পেঁয়াজের দাম বাড়তে শুরু করেছে। এ যুক্তি ধোপে টেকে না। কথা হচ্ছে, বাজারে সরবরাহ তো ঠিক আছে, সেক্ষেত্রে দাম বাড়বে কেন? আরও প্রশ্ন হচ্ছে, নতুন করে আমদানির অনুমতি না পাওয়া গেলে পেঁয়াজের দাম কি আরও বড়বে? আসলে পণ্যের কৃত্রিম সংকট তেরি করা এ দেশের একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

কোনো ধরনের সুযোগ তৈরি হলে তো বটেই, কখনো কখনো নিজেরাই সুযোগ সৃষ্টি করে পণ্যের দাম বড়িয়ে দেয়। এসব ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে নিতে হবে কঠোর অবস্থান। মুক্তবাজার অর্থনীতি মানে ব্যবসায়ীদের খেয়াল-খুশিমতো বাজার পরিচালনা করা নয়। বাজার অর্থনীতির কিছু নিয়মকানুন আছে। অর্থনীতির সেই নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে অবশ্যই।

ঈদুলফিতর সামনে রেখে শুরু হয়েছিল ভোজ্যতেলের সংকট, এবার ঈদুল-আজহা সামনে রেখে পেঁয়াজের সংকট তৈরি করা হচ্ছে কি না, তা এক বড় প্রশ্ন। ঈদুল-আজহায় পেঁয়াজের চাহিদা বেড়ে যায় আর সেই বাস্তবতারই সুযোগ নিচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা-এমন মন্তব্যকে অত্যুক্তি বলা যাবে না। আমাদের কথা হলো, পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতাকে এখনই বন্ধ করতে হবে। এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পেঁয়াজের দাম হুহু করে বাড়তে থাকবে।

হঠাৎ পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি

ঈদুল-আজহা সামনে রেখেই কি এ কারসাজি?
 সম্পাদকীয় 
১২ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভোজ্যতেল সংকটের পাশাপাশি এবার শুরু হয়েছে পেঁয়াজের সংকট। ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফের বাড়তে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম। জানা যায়, আমদানির অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ভারত থেকে পেঁয়াজ আসা বন্ধ রয়েছে।

আর এটাকে সুযোগ হিসাবে ব্যবহার করে রাজধানীর খুচরা বাজারে দুদিনে পেঁয়াজের দাম বাড়ানো হয়েছে কেজিতে ২০ টাকা, অর্থাৎ মনে ৮০০ টাকা। মঙ্গলবার রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪০-৪৫ টাকায়, যা দুদিন আগে বিক্রি হয়েছিল ৩০ টাকায়।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বলছে, সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ২০ দশমিক ৬৯ এবং আমদানি করা পেঁয়াজ ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বস্তুত ভারত থেকে পেঁয়াজ আসা বন্ধ হলেই দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়। এবারও তা-ই হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ তো ঠিক আছে, খুচরা বাজারেও কোনো সংকট নেই। তাহলে পেঁয়াজের দাম বাড়বে কেন? এক পাইকারি বিক্রেতা বলেছেন, বন্দরে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে, যে কারণে সেখান থেকে বেশি দরে পেঁয়াজ পাইকারি বাজারে আসছে।

আর আমদানি করা পেঁয়াজে টান পড়ায় দেশি পেঁয়াজের দাম বাড়তে শুরু করেছে। এ যুক্তি ধোপে টেকে না। কথা হচ্ছে, বাজারে সরবরাহ তো ঠিক আছে, সেক্ষেত্রে দাম বাড়বে কেন? আরও প্রশ্ন হচ্ছে, নতুন করে আমদানির অনুমতি না পাওয়া গেলে পেঁয়াজের দাম কি আরও বড়বে? আসলে পণ্যের কৃত্রিম সংকট তেরি করা এ দেশের একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

কোনো ধরনের সুযোগ তৈরি হলে তো বটেই, কখনো কখনো নিজেরাই সুযোগ সৃষ্টি করে পণ্যের দাম বড়িয়ে দেয়। এসব ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে নিতে হবে কঠোর অবস্থান। মুক্তবাজার অর্থনীতি মানে ব্যবসায়ীদের খেয়াল-খুশিমতো বাজার পরিচালনা করা নয়। বাজার অর্থনীতির কিছু নিয়মকানুন আছে। অর্থনীতির সেই নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে অবশ্যই।

ঈদুলফিতর সামনে রেখে শুরু হয়েছিল ভোজ্যতেলের সংকট, এবার ঈদুল-আজহা সামনে রেখে পেঁয়াজের সংকট তৈরি করা হচ্ছে কি না, তা এক বড় প্রশ্ন। ঈদুল-আজহায় পেঁয়াজের চাহিদা বেড়ে যায় আর সেই বাস্তবতারই সুযোগ নিচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা-এমন মন্তব্যকে অত্যুক্তি বলা যাবে না। আমাদের কথা হলো, পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতাকে এখনই বন্ধ করতে হবে। এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পেঁয়াজের দাম হুহু করে বাড়তে থাকবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন