Logo
Logo
×
   

Advertisement

সম্পাদকীয়

নিয়ন্ত্রণহীন দ্রব্যমূল্য

সিন্ডিকেটগুলো ভাঙা কি এতই কঠিন?

Advertisement

Icon

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ২২ মে ২০২২, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

নিয়ন্ত্রণহীন দ্রব্যমূল্য

Advertisement

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি এখন বলা যায় টক অব দ্য কান্ট্রি। দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজন-এমন সব ধরনের পণ্য ও সেবার মূল্য বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। ভোজ্যতেল, ডাল, আটা-ময়দা, মাছ-মাংস, পেঁয়াজ, শাকসবজিসহ এমন কোনো পণ্য নেই, যার দাম বাড়েনি। এছাড়াও বেড়েছে বাড়িভাড়া, পরিবহণ ব্যয়, চিকিৎসা ও শিক্ষা উপকরণের দাম। ওদিকে দেশে ধানের মৌসুমে বাজারে চালের দাম কম থাকার কথা থাকলেও এবার দেখা যাচ্ছে উলটো চিত্র। ভরা বোরো মৌসুমেও বেড়েছে চালের দাম। ১০ দিনের ব্যবধানে প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) চালে বেড়েছে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা। বলা বাহুল্য, নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়লেও মানুষের আয় বাড়েনি। ফলে জীবনযাত্রায় বাড়তি ব্যয়ের জাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে মানুষের জীবন। সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছে মধ্যবিত্ত। নিুবিত্তরা সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় বিভিন্ন ধরনের সরকারি সুবিধা ভোগ করতে পারছে বলে তাদের জীবন একরকম চলে যাচ্ছে। কিন্তু মধ্যবিত্তরা দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে গিয়ে পড়ছে বিপাকে। অনেকে সঞ্চয় ভেঙে চাহিদা মেটাচ্ছেন। কিন্তু কথা হচ্ছে, মধ্যবিত্ত সব পরিবারের তো আর সঞ্চয় নেই। তাদের অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়েছে।

এটা ঠিক, করোনা মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে গোটা বিশ্বেই পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে। জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি এবং পরিবহণ খরচ বেড়ে যাওয়ায় উন্নত দেশ থেকে শুরু করে উন্নয়নশীল সব দেশেই ঘটছে মূল্যস্ফীতি। যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী দিনে দেশে দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে বলেও আগাম সতর্কতা দিয়েছে জাতিসংঘ। কিন্তু আমাদের কথা হচ্ছে, করোনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মূল্যবৃদ্ধি মেনে নেওয়া গেলেও সিন্ডিকেটের কারণে মূল্যবৃদ্ধি তো মেনে নেওয়া যায় না। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকলে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ঘটতেই পারে। কিন্তু আমাদের দেশে এ নিয়ম খাটছে না। পণ্যের পর্যাপ্ত আমদানি ও সরবরাহ থাকলেও তা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের এ অযৌক্তিক বৃদ্ধির পেছনে কাজ করছে বাজার সিন্ডিকেট। তারা যোগসাজশের মাধ্যমে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। কখনো কখনো তারা তৈরি করছে পণ্যের কৃত্রিম সংকট। এ সিন্ডিকেট ভাঙা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। সিন্ডিকেটের কারসাজি বন্ধ করার দায়িত্ব সরকারের। অসাধু ব্যবসায়ীরা তাদের কায়েমি স্বার্থে ইচ্ছামতো পণ্যের দাম বাড়াবে আর সরকার হাত গুটিয়ে বসে থাকবে, তা হতে পারে না। আমরা বাজার তদারকির মাধ্যমে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের জোরালো ভূমিকা দেখতে চাই। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার দায় ভোক্তাশ্রেণি বহন করবে, এটা হতে পারে না।

 

Advertisement

দ্রব্যমূল্য

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম