Logo
Logo
×

Advertisement

সম্পাদকীয়

অভিনব প্রতারণা: ফাঁদে পা দেওয়ার আগে ভাবতে হবে শতবার

Advertisement

Icon

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২২, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

অভিনব প্রতারণা: ফাঁদে পা দেওয়ার আগে ভাবতে হবে শতবার

Advertisement

দেশে কত ধরনের যে প্রতারণা হচ্ছে, তার কোনো হিসাব নেই। কোনো কোনো প্রতারণা এতই অভিনব যে, ভাবতে অবাক লাগে। গতকাল যুগান্তরে এমনই এক প্রতারণার খবর ছাপা হয়েছে। এ প্রতারণার শিকার হয়ে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও অগ্রণী ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত এজিএম মো. ইদ্রিস আলী মিয়া খুইয়েছেন ৭২ লাখ টাকা। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে তাকে একটি কোম্পানির অংশীদার হওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়েছিল।

এ ঘটনায় প্রতারক চক্রের মূল হোতাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বৃহস্পতিবার মালিবাগ সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির পুলিশ সুপার জানিয়েছেন এ তথ্য।

তিনি বলেছেন, চাকরি ও ব্যবসায় অংশীদারত্বের কথা বলে অভিনব কায়দায় একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে প্রতারণা করে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এ চক্র। তিনি আরও বলেন, রাজধানীসহ কয়েকটি বিভাগীয় শহরে চিকিৎসা ভাতা ও ট্রান্সপোর্ট সুবিধাসহ আকর্ষণীয় বেতনে চাকরি দেওয়া হবে-দৈনিক পত্রিকায় এ ধরনের বিজ্ঞাপন প্রচার করে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিল চক্রটি।

বাণিজ্যিক এলাকায় বহুতল ভবনে স্বল্প সময়ের জন্য অফিস ভাড়া নিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের আকৃষ্ট করা হতো। এরপর ইন্টারভিউ নিয়ে উচ্চ বেতনে শর্তসাপেক্ষে তাদের নিয়োগ দিয়ে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করা হতো। কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পর ওই কোম্পানির অংশীদার করার প্রলোভনে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে ভাড়া করা অফিসে তালা ঝুলিয়ে লাপাত্তা হয়ে যেত চক্রটি। দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে রয়েছে এ চক্রের প্রতারণার নেটওয়ার্ক।

শুধু এ চক্রটিই নয়, দেশে আরও অসংখ্য চক্র রয়েছে, যারা অভিনব কায়দায় নিরীহ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এদের কার্যক্রম এতটাই কৌশলসমৃদ্ধ যে, সাধারণ মানুষের একটা বড় অংশ সহজেই এদের ফাঁদে পা দিচ্ছে। এ ব্যাপারে আমাদের সাবধানবাণী হলো, কোনো বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে অর্থের লেনদেন করতে নেই। জাঁকজমকপূর্ণ অফিসের চাকচিক্য দেখে অথবা আপাত বিশ্বাসযোগ্য কথায় আকৃষ্ট হয়ে অর্থের লেনদেন করলে প্রতারিত হওয়ার সমূহ আশঙ্কা থাকে।

প্রতারণার বেশিরভাগই হয়ে থাকে চাকরির প্রলোভন দেখানোর মাধ্যমে। যে প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা চাকরি দেওয়ার কথা বলছে, সেই প্রতিষ্ঠানের আইনগত ভিত্তি রয়েছে কিনা, তা যাচাই করতে হবে সর্বাগ্রে। দ্বিতীয় কথা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বদাই তৎপর থাকতে হবে কোথায় কীভাবে প্রতারণা হচ্ছে তা অনুসন্ধানে। সন্দেহ হওয়া মাত্রই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সংস্থার খোঁজখবর নিতে হবে। ব্যক্তির অথবা প্রাতিষ্ঠানিক-উভয় ধরনের প্রতারণার জাল ছিন্ন করার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।

 

Advertisement

প্রতারণা

Advertisement

আরও পড়ুন

জনমনে আতঙ্ক বাড়ছে

জনমনে আতঙ্ক বাড়ছে

সাইবার সুরক্ষায় সক্ষমতা

সাইবার সুরক্ষায় সক্ষমতা

এলডিসি উত্তরণের প্রভাব, ঝুঁকি কমাতে প্রয়োজন আগাম পদক্ষেপ

এলডিসি উত্তরণের প্রভাব, ঝুঁকি কমাতে প্রয়োজন আগাম পদক্ষেপ

ছিনতাইয়ের নব নব কৌশল, পুলিশের কোনো কৌশল নেই?

ছিনতাইয়ের নব নব কৌশল, পুলিশের কোনো কৌশল নেই?

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম