Logo
Logo
×
   

Advertisement

সম্পাদকীয়

বিমানের দুর্নীতি উদ্ঘাটন

দুদকের উদ্যোগ ফলপ্রসূ হোক

Advertisement

Icon

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বিমানের দুর্নীতি উদ্ঘাটন

Advertisement

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিষয়টি বহুল আলোচিত। এ প্রেক্ষাপটে এ প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রসঙ্গে আলোচনা হয়; দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়।

কিন্তু এসব উদ্যোগের ফল কী হয়, তা আর জানা যায় না। বিমানের দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা আবারও আলোচনায় এসেছে। এবার কতটা কী হয়, এটাই দেখার বিষয়। জানা গেছে, বিমানের সব ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে মাঠে নামছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বিভিন্ন মাধ্যমে সংস্থাটিতে জমা হওয়া অভিযোগ এবং গণমাধ্যমে প্রচারিত ও প্রকাশিত দুর্নীতিসংক্রান্ত খবরের সূত্র ধরেই বিমানের দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে অনুসন্ধান কাজ শুরু করেছে অন্তত তিনটি টিম। মিসরীয় দুটি উড়োজাহাজের লিজসংক্রান্ত গুরুতর অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িতদের চিহ্নিত করার কাজে অগ্রগতির কথাও আলোচনায় এসেছে। বিমানের সিবিএ’র ১৭ নেতার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধানও চলছে। এছাড়া আরও কয়েকটি খাতের দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান টিম গঠনের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দুদক বিমানের বিভিন্ন ব্যক্তির জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধান করে কী তথ্য জানতে পারবে, তা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো দুর্নীতিবাজ দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ নিজের নামে জমা না রেখে অন্যের নামে রাখলেও তা খুঁজে বের করার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে দুদককে এবং সেই সক্ষমতা কাজে লাগাতে হবে।

বিমানের বহর সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ২০১৪ সালে মিসরীয় দুটি বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর এয়ারক্রাফট লিজ নেওয়া হয়। লিজ প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। দুটি বোয়িং ৭৭৭-২০০ উড়োজাহাজের পেছনে পাঁচ বছরে বিমানের ক্ষতি হয়েছে ১১শ কোটি টাকা। এই বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যারা দায়ী, তাদের সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।

বস্তুত দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণেই বিমানের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা এতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জানা যায়, দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দর সম্প্রসারণে দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধানও চলমান রয়েছে। সব অনুসন্ধানের ফল দ্রুত জানা যাবে, এটাই প্রত্যাশা। অতীতের মতো কেবল চিঠি চালাচালি আর তদন্ত কমিটি করেই যদি কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব শেষ করে, তাতে কাজের কাজ কিছুই হবে না। বিমানকে স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত সংস্থায় পরিণত করার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ মহলের দৃষ্টি দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

 

Advertisement

বিমান

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম