সুনামগঞ্জে শুল্ক স্টেশন কবে হবে?

  হাসান হামিদ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সুনামগঞ্জে শুল্ক স্টেশন কবে হবে?

আমি প্রথম ভারতে গিয়েছিলাম ২০১৪ সালে। যাওয়ার সময় ঢাকা-কলকাতা বিমানে গেলেও এসেছিলাম সড়কপথে। ফেরার সময় হরিদাসপুরের (বেনাপোল) ইমিগ্রেশনে লম্বা লাইন দেখে অবাক হয়েছিলাম।

তখন বুঝতে পেরেছি সম্ভাবনাময় ও উপযুক্ত বর্ডার এলাকায় ইমিগ্রেশন পয়েন্ট স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা কতটা। ২০১৭ সালের শুরুর দিকে শুনেছিলাম, আন্তঃদেশীয় বাণিজ্যের সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ডলুরায় শুল্ক স্টেশন চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কিন্তু সেই শুল্ক স্টেশনের কাজে অগ্রগতি কোথায়?

আমাদের দেশে বর্তমানে ১৮১টি শুল্ক স্টেশন আছে। এর মধ্যে মাত্র ৩২টি কার্যকর। এসব শুল্ক স্টেশন দিয়ে বছরে একটি হলেও পণ্যের চালান আসে। যেসব শুল্ক স্টেশন দিয়ে বহু বছর ধরে আমদানি-রফতানি হয় না, সেগুলো চালু রাখার মানে হল সম্পদের অপচয়। তাই সেগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আর এখন যেসব কার্যকর আছে সেসব শুল্ক স্টেশন আরও ভালো করে যাতে চলে সেই উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি যেসব জায়গায় শুল্ক স্টেশন দরকার, সেসব জায়গায় তা চালু করার বিষয়ে জোর দিয়েছে সরকার। আর তাই বহুল কাক্সিক্ষত শুল্ক স্টেশন ও ইমিগ্রেশন পয়েন্টের জন্য অনেকদিন ধরে অপেক্ষা করে আছে সুনামগঞ্জবাসী।

ধান উৎপাদনে উদ্বৃত্ত সুনামগঞ্জ জেলা দেশের মৎস্য সম্পদেরও সবচেয়ে বড় আধার। উন্নতমানের বালু, চুনাপাথর, নুড়ি পাথর ইত্যাদি খনিজ সম্পদে এ জেলা সমৃদ্ধ। মূলত ভৌগোলিক অবস্থার কারণে সুনামগঞ্জ জেলার যোগাযোগসহ অন্যান্য ভৌত অবকাঠামোর তেমন উন্নয়ন হয়নি। আগে জেলা সদরের সঙ্গে মাত্র একটি উপজেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল। বর্তমানে সদরের দুটিসহ মোট ছয়টি উপজেলা সদরের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপিত হয়েছে। এখনও পাঁচটি উপজেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ না থাকায় শুষ্ক মৌসুমে মানুষকে পায়ে হেঁটে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। এতে যে কোনো পরিকল্পনা কিংবা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এ জেলায় উৎপাদিত কৃষি সামগ্রী বিপণনেও সমস্যা হয়। ফলে কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়। মোহনগঞ্জ-ধর্মপাশা-জামালগঞ্জ-সুনামগঞ্জ সড়কটি নির্মিত হলে ঢাকার সঙ্গে সুনামগঞ্জের দূরত্ব ১৪০ কিলোমিটার কমে যাবে। ফলে সুনামগঞ্জ থেকে সড়কপথে ৪-৫ ঘণ্টায় ঢাকায় যাওয়া সম্ভব হবে। তাছাড়া সুনামগঞ্জের সম্পদ মাছ, পাথর, বালি ও ধান দেশের উত্তর ও দক্ষিণাংশে পরিবহনে বিশেষ সুবিধা হবে। তাছাড়া সুনামগঞ্জের রয়েছে পর্যটন আকর্ষণ। ভারতের সাত রাজ্যের পর্যটকরা যদি দলে দলে সুনামগঞ্জে আসেন, তাহলে আখেরে আমরাই লাভবান হব। এজন্য যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা তৈরির কাজটি করতে হবে আমাদেরই।

সুনামগঞ্জের ডলুরা স্থলবন্দরটি চালু হলে এলাকার অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ঘটবে। ভারতের মেঘালয়, ত্রিপুরা, মিজোরাম, উড়িষ্যাসহ সেভেন সিস্টার রাজ্যগুলোর সঙ্গে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম শুরু হবে। এতে ভারত-বাংলাদেশ উভয়েই লাভবান হবে। ভারত ১৫০ কোটি মানুষের বিশাল বাজার। এই বাজারে প্রবেশের সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। এজন্য দুই রাষ্ট্রের মধ্যে সদ্ভাব ও আস্থার পরিবেশ থাকা অন্যতম পূর্বশর্ত। জাতীয় স্বার্থে এ জায়গাটিতে সবার ঐকমত্য থাকা দরকার। ডলুরা শুল্ক স্টেশন ও ইমিগ্রেশন পয়েন্ট এ ক্ষেত্রে ব্যাপক অবদান রাখবে বলে আশা করি। আমরা স্বপ্ন দেখছি, সুনামগঞ্জের ইমিগ্রেশন পয়েন্ট ব্যবহার করে সহস্র মানুষ ভারতে প্রবেশ করছে, বাড়ছে অর্থ ও বাণিজ্যের গতি।

হাসান হামিদ : কবি ও গবেষক; সদস্য, জাতীয় গ্রন্থাগার

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter