মাদক নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন

যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন

  যুগান্তর ডেস্ক    ১০ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মাদক নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন

মাদকের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চলার পরও একের পর এক ইয়াবার চালান আটকের ঘটনায় বোঝা যায় ইয়াবা ব্যবসায়ীরা কতটা বেপরোয়া। ইয়াবা সেবন স্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ এ মাদক সেবন করে যাচ্ছে।

যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ইয়াবা বিপণনে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে- দেশবাসী এটাই দেখতে চায়। সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে নতুন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮-এর খসড়া সম্প্রতি মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদিত হয়েছে।

নতুন আইনে বলা হয়েছে, ৫ গ্রামের বেশি ইয়াবা, ২৫ গ্রামের বেশি হেরোইন উৎপাদন, পরিবহন, বিপণন ও সেবনের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড। বিশ্বের অনেক দেশেই মাদক ব্যবসার শাস্তি মত্যুদণ্ড। মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধে আমাদের দেশেও এ ধরনের একটি কঠোর আইনের প্রয়োজন রয়েছে। অবশেষে আইনটি মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে, এটি স্বস্তিদায়ক।

বস্তুত সহজলভ্য হওয়ার কারণেই দেশে ইয়াবার ব্যবহার বেড়েছে। এসব মাদক বিপণনের যারা পৃষ্ঠপোষক, তাদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা হবে, দেশবাসী এটাই দেখতে চায়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কিভাবে অনেকে ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িত হয়েছে, এসব তথ্য আমরা গণমাধ্যম থেকে জানতে পেরেছি।

ইয়াবা, হেরোইন- এসব মাদক সেবনের অর্থ সংগ্রহ করতে গিয়ে মাদকসেবীরা বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হয়। কাজেই মাদকের ব্যবহার বন্ধ না হলে সমাজে অপরাধের মাত্রা কমবে না। উদ্বেগের বিষয় হল, সমাজে ইয়াবা সেবনকারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। নতুন নতুন মাদকও দেশে প্রবেশ করছে। এ অবস্থায় মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের কোনো বিকল্প ছিল না।

দেশের সীমান্ত এলাকায় কোন্ কোন্ রুটে ইয়াবা প্রবেশ করে তা বহুল আলোচিত। কাজেই দেশে যাতে ইয়াবা প্রবেশ করতে না পারে তা নিশ্চিত করা জরুরি। দেশে মাদকের ব্যবহার বন্ধ করতে হলে যারা এসব পাচারের মূল হোতা তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। যেহেতু দেশের বাইরে থেকে ইয়াবা দেশে প্রবেশ করে, সেহেতু এসব মাদক ব্যবহারকারীদের হাতে আসতে কয়েকবার হাত বদল হয়। এ চক্রের সব সদস্যকেই দ্রুত আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্য কিংবা মাদক নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালনকারী কোনো অসাধু ব্যক্তি যাতে নতুন আইন অপপ্রয়োগের চেষ্টা না করেন সেদিকেও কঠোর দৃষ্টি রাখা দরকার। নতুন আইন অপপ্রয়োগের কোনো তথ্য পাওয়া গেলে এ বিষয়ে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter