শীতের পরশ মাখা হেমন্ত
jugantor
শীতের পরশ মাখা হেমন্ত

  আঞ্জুমান আরা  

২৪ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রকৃতিতে হেমন্ত আসে ধীর পদক্ষেপে; শীতের পরশ আলতো করে গায়ে মেখে। হালকা কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকে হেমন্তের সকাল। শিশির ভেজা ঘাসের ডগায় যেন মুক্তার মেলা বসে। হেমন্তের প্রকৃতিতে থাকে আলো-ছায়ার বিচিত্র মায়াবী খেলা। অঝোর বর্ষা আর শরতের বৃষ্টির জলধারায় সিক্ত পথ-ঘাটের মাটি হেমন্তে শুকাতে থাকে। খাল-বিলে পানি কমতে থাকে। তখন কাদাপানিতে ডুলাভর্তি মাছ ধরার আনন্দে মেতে ওঠে গ্রামবাংলার মানুষ। শিশির ভেজানো টাটকা শাকসবজি বাজারে উঠতে শুরু করে।

ফসল তোলার ঋতুও হেমন্ত। এ সময় দিগন্ত বিস্তৃত সোনালি ধানের ফসলে ভরে ওঠে কৃষকের খেত। বর্ষার শেষ দিকের আমন-আউশ শরতে বেড়ে ওঠে। আর হেমন্তের প্রথম মাস কার্তিকে ধান পরিপক্ব হয়। তাই তো গ্রামবাংলার মাঠে মাঠে এ সময় ধান কাটার ধুম পড়ে যায়। কাকডাকা ভোরে কৃষকের ধান কাটা শুরু হয়। আর গোধূলি লগ্নে ধানের আঁটি মাথায় মেঠোপথে কৃষকরা সারিবদ্ধভাবে ঘরে ফেরে। কী এক অপূর্ব দৃশ্য! যেন ফ্রেমে বাঁধানো কোনো ছবি।

হেমন্তের শুরুটা মিশে থাকে শরতের শুভ্রতায়; আর শেষটা চলে যায় শীতের কাছে। হেমন্তের শেষ দিকে হিমহিম অনুভব হয়। বরাবরের মতো হেমন্তের হাওয়ায় এখন থেকেই সকাল ও সন্ধ্যার দিকে হালকা ঠাণ্ডা গায়ে লাগতে শুরু করেছে। তাই ক’দিন আগেও যেখানে দিব্যি স্লিভলেস কিংবা শর্টস্লিভে চলে যেত, এখন সেখানে ফুলস্লিভে আরাম মিলছে। উৎসব অনুষ্ঠানে স্নিগ্ধ সাজের জায়গায় চকচকে সাজে এখন চোখ হারায়।

শিশির ভেজা হেমন্তের ভোর সকালের কাঁচা রোদে যেন স্বর্ণালি হয়ে ওঠে। না শীত; না গরম- এ সময় এক অন্যরকম পুলকিত পরশে ভরে ওঠে দেহমন। নগর জীবনে আমরা হেমন্তের এ রূপ খুব একটা পাই না। তবুও হেমন্তের মৃদু হিমেল হাওয়া শহুরে জীবনযাপনেও বুলিয়ে দেয় পুলকিত স্নিগ্ধ পরশ। পোশাক থেকে সাজ সব ক্ষেত্রেই ফুটে ওঠে বৈচিত্র্য আর বর্ণিলতার ছোঁয়া। না শীত; না গরম- হেমন্তের এমন মোহনীয় আবহাওয়ায় সিল্ক আর জর্জেট পরার এটিই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। পরতে পারেন লিনেন বা ধুপিয়ানও। হেমন্তের উৎসব বা অনুষ্ঠানে সিল্ক, মসলিন বা নেটের পোশাকও গর্জিয়াস লুক আনে। লং কামিজ বা স্কার্টও এ সময় আরামদায়ক। শার্ট কিংবা টপসের সঙ্গে লেগিংস খুব ভালো লাগবে। লেয়ারিং ড্রেস পরার এটিই সময়। কামিজের সঙ্গে লং কটি বা কয়েক লেয়ার দিয়ে তৈরি পোশাকগুলো রাখতে পারেন হেমন্তের ফ্যাশনে। সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে নিতে পারেন মোটা কাপড়ের ওড়না অথবা পাতলা শাল। রাতে বাইরে বের হলে গলায় বা মাথায় স্কার্ফ পেঁচিয়ে নিলে স্টাইলিশ লাগবে। গ্রীষ্মের পছন্দের ড্রেসটির সঙ্গে এখন সকাল কিংবা সন্ধ্যায় গায়ে চাপিয়ে নিতে পারেন সুতি কাপড়ের জ্যাকেট বা নেটের টপস। শাড়ির ক্ষেত্রে মানানসই হবে সিল্ক, সাউথ ইন্ডিয়ান সিল্ক, নেট, টাঙ্গাইল ও খাদি শাড়ি। ছেলেদের কাছে এ সময়ের অন্যতম আকর্ষণ ফুলস্লিভ টি-শার্ট কিংবা পোলো শার্ট। টি-শার্টের ওপর ফুলহাতা শার্টও ভালো লাগবে। হালকা ঠাণ্ডায় আরামদায়কও এটি। ক্যাজুয়াল লুকের টি-শার্টের সঙ্গে জিন্স বা সুতি প্যান্ট পরতে পারেন। পাঞ্জাবির সঙ্গে ভালো লাগবে হাতাকাটা কটি। হেমন্তের পোশাকের তালিকায় পছন্দের শীর্ষে রয়েছে লাল, অলিভ, কমলা ও সবুজের মতো উজ্জ্বল রংগুলো।

হেমন্তে নানা বৈচিত্র্যের সঙ্গে প্রকৃতিতে বয়ে যায় শুষ্ক বাতাসও। আর এ শুষ্ক বাতাস ত্বক থেকে টেনে নেয় আর্দ্রতা। ত্বক হয়ে পড়ে মলিন। তাই এ সময়ে ত্বকের পরিচর্যা এবং সাজের ক্ষেত্রেও হতে হয় সতর্ক। গরমে অনেক ঘাম হয় বলে তৈলাক্ত কোনো কিছুই সে সময় ত্বকে ব্যবহার করা যায় না। কিন্তু হেমন্ত থেকে ত্বক একটু টানতে শুরু করে। তাই এখন তৈলাক্ত এবং শিমারি বেজে মেকআপ করা যেতে পারে। ডিউ মেকআপও বলা হয় একে। এখন ত্বকের স্বাভাবিক রঙের সঙ্গে মিলিয়ে ক্রিম বেজড শিমার ব্যবহার করুন। ত্বকে কোনো দাগ থাকলে শুধু ক্রিমের মতো করে শিমার মুখে বুলিয়ে নিলেও চলে। জমকালো দাওয়াতে ফাউন্ডেশন, প্যানকেক ইত্যাদি ব্যবহার করে এখন ভারী মেকআপ করা যায় অনায়াসে। হালকা গোলাপি, পিচ, বাদামি বা সোনালি আইশ্যাডো ব্যবহার করলে ভালো দেখাবে। এ আবহাওয়ায় লাল, কমলা, হটপিংক, ম্যাজেন্টা বা মেরুন রং রাখতে পারেন লিপস্টিকের তালিকায়।

শীতল হাওয়ায় হাতের চামড়া এখন কুঁচকে যায়। তাই সকালে এবং রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে হাতে ময়েশ্চারাইজার ক্রিম কিংবা পেট্রোলিয়াম জেলি লাগান। সম্ভব হলে ময়েশ্চারাইজারের সঙ্গে গ্লিসারিন মিশিয়ে নিন। পা ফেটে গেলে হালকা গরম পানির সঙ্গে এক চামচ শ্যাম্পু আর লেবুর রস মিশিয়ে তাতে পা ডুবিয়ে রাখুন ১০ মিনিট। এরপর পরিষ্কার করে ময়েশ্চারাইজার লাগান। রাতে পায়ের গোড়ালি পরিষ্কার করে পেট্রোলিয়াম জেলি কিংবা গ্লিসারিন মাখুন। আর গোসলের ক্ষেত্রে সাবানের বদলে তরল বডিওয়াশ ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।

শীতের পরশ মাখা হেমন্ত

 আঞ্জুমান আরা 
২৪ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রকৃতিতে হেমন্ত আসে ধীর পদক্ষেপে; শীতের পরশ আলতো করে গায়ে মেখে। হালকা কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকে হেমন্তের সকাল। শিশির ভেজা ঘাসের ডগায় যেন মুক্তার মেলা বসে। হেমন্তের প্রকৃতিতে থাকে আলো-ছায়ার বিচিত্র মায়াবী খেলা। অঝোর বর্ষা আর শরতের বৃষ্টির জলধারায় সিক্ত পথ-ঘাটের মাটি হেমন্তে শুকাতে থাকে। খাল-বিলে পানি কমতে থাকে। তখন কাদাপানিতে ডুলাভর্তি মাছ ধরার আনন্দে মেতে ওঠে গ্রামবাংলার মানুষ। শিশির ভেজানো টাটকা শাকসবজি বাজারে উঠতে শুরু করে।

ফসল তোলার ঋতুও হেমন্ত। এ সময় দিগন্ত বিস্তৃত সোনালি ধানের ফসলে ভরে ওঠে কৃষকের খেত। বর্ষার শেষ দিকের আমন-আউশ শরতে বেড়ে ওঠে। আর হেমন্তের প্রথম মাস কার্তিকে ধান পরিপক্ব হয়। তাই তো গ্রামবাংলার মাঠে মাঠে এ সময় ধান কাটার ধুম পড়ে যায়। কাকডাকা ভোরে কৃষকের ধান কাটা শুরু হয়। আর গোধূলি লগ্নে ধানের আঁটি মাথায় মেঠোপথে কৃষকরা সারিবদ্ধভাবে ঘরে ফেরে। কী এক অপূর্ব দৃশ্য! যেন ফ্রেমে বাঁধানো কোনো ছবি।

হেমন্তের শুরুটা মিশে থাকে শরতের শুভ্রতায়; আর শেষটা চলে যায় শীতের কাছে। হেমন্তের শেষ দিকে হিমহিম অনুভব হয়। বরাবরের মতো হেমন্তের হাওয়ায় এখন থেকেই সকাল ও সন্ধ্যার দিকে হালকা ঠাণ্ডা গায়ে লাগতে শুরু করেছে। তাই ক’দিন আগেও যেখানে দিব্যি স্লিভলেস কিংবা শর্টস্লিভে চলে যেত, এখন সেখানে ফুলস্লিভে আরাম মিলছে। উৎসব অনুষ্ঠানে স্নিগ্ধ সাজের জায়গায় চকচকে সাজে এখন চোখ হারায়।

শিশির ভেজা হেমন্তের ভোর সকালের কাঁচা রোদে যেন স্বর্ণালি হয়ে ওঠে। না শীত; না গরম- এ সময় এক অন্যরকম পুলকিত পরশে ভরে ওঠে দেহমন। নগর জীবনে আমরা হেমন্তের এ রূপ খুব একটা পাই না। তবুও হেমন্তের মৃদু হিমেল হাওয়া শহুরে জীবনযাপনেও বুলিয়ে দেয় পুলকিত স্নিগ্ধ পরশ। পোশাক থেকে সাজ সব ক্ষেত্রেই ফুটে ওঠে বৈচিত্র্য আর বর্ণিলতার ছোঁয়া। না শীত; না গরম- হেমন্তের এমন মোহনীয় আবহাওয়ায় সিল্ক আর জর্জেট পরার এটিই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। পরতে পারেন লিনেন বা ধুপিয়ানও। হেমন্তের উৎসব বা অনুষ্ঠানে সিল্ক, মসলিন বা নেটের পোশাকও গর্জিয়াস লুক আনে। লং কামিজ বা স্কার্টও এ সময় আরামদায়ক। শার্ট কিংবা টপসের সঙ্গে লেগিংস খুব ভালো লাগবে। লেয়ারিং ড্রেস পরার এটিই সময়। কামিজের সঙ্গে লং কটি বা কয়েক লেয়ার দিয়ে তৈরি পোশাকগুলো রাখতে পারেন হেমন্তের ফ্যাশনে। সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে নিতে পারেন মোটা কাপড়ের ওড়না অথবা পাতলা শাল। রাতে বাইরে বের হলে গলায় বা মাথায় স্কার্ফ পেঁচিয়ে নিলে স্টাইলিশ লাগবে। গ্রীষ্মের পছন্দের ড্রেসটির সঙ্গে এখন সকাল কিংবা সন্ধ্যায় গায়ে চাপিয়ে নিতে পারেন সুতি কাপড়ের জ্যাকেট বা নেটের টপস। শাড়ির ক্ষেত্রে মানানসই হবে সিল্ক, সাউথ ইন্ডিয়ান সিল্ক, নেট, টাঙ্গাইল ও খাদি শাড়ি। ছেলেদের কাছে এ সময়ের অন্যতম আকর্ষণ ফুলস্লিভ টি-শার্ট কিংবা পোলো শার্ট। টি-শার্টের ওপর ফুলহাতা শার্টও ভালো লাগবে। হালকা ঠাণ্ডায় আরামদায়কও এটি। ক্যাজুয়াল লুকের টি-শার্টের সঙ্গে জিন্স বা সুতি প্যান্ট পরতে পারেন। পাঞ্জাবির সঙ্গে ভালো লাগবে হাতাকাটা কটি। হেমন্তের পোশাকের তালিকায় পছন্দের শীর্ষে রয়েছে লাল, অলিভ, কমলা ও সবুজের মতো উজ্জ্বল রংগুলো।

হেমন্তে নানা বৈচিত্র্যের সঙ্গে প্রকৃতিতে বয়ে যায় শুষ্ক বাতাসও। আর এ শুষ্ক বাতাস ত্বক থেকে টেনে নেয় আর্দ্রতা। ত্বক হয়ে পড়ে মলিন। তাই এ সময়ে ত্বকের পরিচর্যা এবং সাজের ক্ষেত্রেও হতে হয় সতর্ক। গরমে অনেক ঘাম হয় বলে তৈলাক্ত কোনো কিছুই সে সময় ত্বকে ব্যবহার করা যায় না। কিন্তু হেমন্ত থেকে ত্বক একটু টানতে শুরু করে। তাই এখন তৈলাক্ত এবং শিমারি বেজে মেকআপ করা যেতে পারে। ডিউ মেকআপও বলা হয় একে। এখন ত্বকের স্বাভাবিক রঙের সঙ্গে মিলিয়ে ক্রিম বেজড শিমার ব্যবহার করুন। ত্বকে কোনো দাগ থাকলে শুধু ক্রিমের মতো করে শিমার মুখে বুলিয়ে নিলেও চলে। জমকালো দাওয়াতে ফাউন্ডেশন, প্যানকেক ইত্যাদি ব্যবহার করে এখন ভারী মেকআপ করা যায় অনায়াসে। হালকা গোলাপি, পিচ, বাদামি বা সোনালি আইশ্যাডো ব্যবহার করলে ভালো দেখাবে। এ আবহাওয়ায় লাল, কমলা, হটপিংক, ম্যাজেন্টা বা মেরুন রং রাখতে পারেন লিপস্টিকের তালিকায়।

শীতল হাওয়ায় হাতের চামড়া এখন কুঁচকে যায়। তাই সকালে এবং রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে হাতে ময়েশ্চারাইজার ক্রিম কিংবা পেট্রোলিয়াম জেলি লাগান। সম্ভব হলে ময়েশ্চারাইজারের সঙ্গে গ্লিসারিন মিশিয়ে নিন। পা ফেটে গেলে হালকা গরম পানির সঙ্গে এক চামচ শ্যাম্পু আর লেবুর রস মিশিয়ে তাতে পা ডুবিয়ে রাখুন ১০ মিনিট। এরপর পরিষ্কার করে ময়েশ্চারাইজার লাগান। রাতে পায়ের গোড়ালি পরিষ্কার করে পেট্রোলিয়াম জেলি কিংবা গ্লিসারিন মাখুন। আর গোসলের ক্ষেত্রে সাবানের বদলে তরল বডিওয়াশ ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।