টমেটো চাষে সফলতার সহজ উপায়
jugantor
টমেটো চাষে সফলতার সহজ উপায়

  সমুহাম্মদ শফিকুর রহমান  

১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

টমেটো অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি সবজি। অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর। ছোট টবে টমেটোর গাছ লাগানো যায় ছাদ কিংবা বেলকোনিতে। একটু রোদ পড়তে হবে। শৌখিন বাগানিরা টমেটোর চাষ করতে পছন্দ করেন। কাঁচা-পাকা উভয় অবস্থায় টমেটো খাওয়া যায়। অল্পদিনে ফল ঘরে তোলা যায়। এ জন্য শৌখিন বাগানিরা টমেটোর গাছ লাগান। টমেটো আবাদে ছোটখাটো কিছু সমস্যার সম্মুখীন তাদের হতে হয়। এখানে সেসব বিষয় নিয়েই আলোচনা করা হলো-

মাটি : টমেটো গাছের জন্য বিভিন্নভাবে মাটি রেডি করা যায়। যেমন- মাটি ৫০ শতাংশ, বালু ২০ শতাংশ, জৈব সার ১০ শতাংশ, গোবর সার ১০ শতাংশ, ৫ শতাংশ শিং কুচি, ৫ শতাংশ হাড়ের গুঁড়া, অল্প একটু নিম খৈল। ভাত পচানো মাটি দিলে ভালো সুফল পাওয়া যায়। মাটির সঙ্গে জৈব সার, ভার্মি কম্পোসের পরিমাণ কম-বেশি হতে পারে। তবে অবশ্যই ট্রাইকোডারমা বা অন্য কোনো ছত্রাকনাশক দিতে হবে। সব কিছু দিয়ে কিছুদিন মাটি রেখে দিয়ে তারপর গাছ লাগানো উত্তম। ৭-৮ ঘণ্টা রোদ পড়ে এমন জায়গায় টমেটো গাছ ভালো হয়। টমোটো গাছ খুব নরম। পানি বেশি দিলে গোড়া পচে যায়। যেখানেই লাগানো হোক না কেন, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। স্যাঁতসেঁতে মাটি থাকলে টমেটো গাছের ঢলেপড়া রোগ হতে পারে। শীতকালে টমেটোর ফলন ভালো হয়। তবে কৌশল জানা থাকলে সারা বছর টমেটোর ফলন সম্ভব। ২০ থেকে ২৫ ডিগ্রি তাপমাত্রায় টমেটো ভালো হয়।

চারা : বীজ দিয়ে চারা করলে বীজ শোধন করে নিতে হবে। বীজ শোধন ছত্রাকনাশক দেওয়া পানিতে করা হয়। শুধু কাকোপিট বা ভার্মিতে চারা দ্রুত বড় হয়। বাজার থেকে চারা কিনলে ইমিটাফ পানিতে গুলে সে পানিতে দশ মিনিট গোড়া ভিজিয়ে রেখে তারপর লাগাবেন। পাশাপাশি চারার দূরত্ব হবে ২৪ ইঞ্চি, অন্যদিকে ১৫ ইঞ্চি। এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ঘন করে চারা লাগালে ভালো ফলন পেতে যথেষ্ট বেগ পেতে হবে। ৪০ দিন বয়সি চারা লাগালে ভালো ফল পাবেন। প্রথমে মিনি পটে চারা তারপর একটু বড় পটে নিলে ভালো করবেন। ১০ ইঞ্চি টবে একটি, একটি ড্রামে বড়জোর দুটি গাছ থাকতে পারে। অক্টোবরে টমেটোর আবাদে হাত দেওয়া উত্তম। তাহলে অনায়াসে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত খাওয়া যাবে। টমেটো গাছ শুয়ে থাকলে ফলন কম হবে। শুরু থেকেই লাঠি বেঁধে দিন। উত্তর পাশে লাঠি বাঁধতে হবে। একবার টমেটো খাওয়া শেষ। এবার আবার মাটিতে গাছের খাবার দিতে পারেন। আরেকবার টমেটো হবে।

গাছের খাবার : টমেটো গাছের খাবার হলো সরিষা খৈল, পচা পানি, সবজির পানি, অনুখাদ্য, ভার্মি কম্পোস্ট, জৈব সার, ড্যাপ সার, নিম খৈল, হাড়ের গুঁড়া ইত্যাদি। তবে মাঝে মাঝে ইপসম স্বল্প পানিতে গুলে স্প্রে করলে সুফল পাওয়া সম্ভব। ফুল আনার জন্য মিরাকুলান এবং অন্য একটি পিজি আর স্প্রে করা যায়। পিজি আর দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। টমেটো গাছের নিচের দিকে ডালপালা কেটে দিলে ফলন বেশি হবে। গাছ হালকা হবে। কিছু কাঁচা টমেটো খেয়ে ফেলতে পারেন। তাহলে অন্যগুলো দ্রুত বড় হবে।

রোগ বালাই : টমেটো গাছের পাতায় ছত্রাক আক্রমণ করে। এ জন্য মেকোজেব, কার্বোন্ডিজম, মেটালিস্কিম ইত্যাদি গ্রুপের ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে। গাছের পাতা কুঁকড়ালে দিতে হবে এবামেকটিন গ্রুপের কীটনাশক। সাত দিন পর পর। কোসাইড প্রতি লিটার পানিতে ৩ গ্রাম মিশিয়ে গাছের গোড়ায় দিতে হবে। তাহলে গোড়া পচবে না। ছত্রাকনাশক কেবল স্প্রে নয়, গাছের মাটিতেও দেওয়া যায়। টমেটো গাছে সাদা মাটি ভাইরাস ছড়ায়। তাই রিপকড, ইমিটাপ কীটনাশক স্প্রে করতে হবে। ভাইরাস আক্রান্ত হলে গাছ তুলে ফেলে দেওয়া উত্তম। টমেটোর ওপরের দিকে পচে যায় ছত্রাকের কারণে। নিচের দিকে পচে যায় ক্যালসিয়ামের অভাবে। ক্যালসিয়ামের জন্য এক লিটার পানিতে খাবার চুন ৩০ গ্রাম মিশিয়ে তার ওপরের পানির সঙ্গে আরও পানি মিশিয়ে মাটিতে দিতে হবে। ৯০-১২০ দিনের মধ্যে টমেটো ঘরে তোলা যায়। একটি সুস্থ, সবল গাছে প্রচুর টমেটো হয়। তাই সামান্য যত্নে অসংখ্য টমেটো পাওয়া সম্ভব।

টমেটো চাষে সফলতার সহজ উপায়

 সমুহাম্মদ শফিকুর রহমান 
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

টমেটো অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি সবজি। অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর। ছোট টবে টমেটোর গাছ লাগানো যায় ছাদ কিংবা বেলকোনিতে। একটু রোদ পড়তে হবে। শৌখিন বাগানিরা টমেটোর চাষ করতে পছন্দ করেন। কাঁচা-পাকা উভয় অবস্থায় টমেটো খাওয়া যায়। অল্পদিনে ফল ঘরে তোলা যায়। এ জন্য শৌখিন বাগানিরা টমেটোর গাছ লাগান। টমেটো আবাদে ছোটখাটো কিছু সমস্যার সম্মুখীন তাদের হতে হয়। এখানে সেসব বিষয় নিয়েই আলোচনা করা হলো-

মাটি : টমেটো গাছের জন্য বিভিন্নভাবে মাটি রেডি করা যায়। যেমন- মাটি ৫০ শতাংশ, বালু ২০ শতাংশ, জৈব সার ১০ শতাংশ, গোবর সার ১০ শতাংশ, ৫ শতাংশ শিং কুচি, ৫ শতাংশ হাড়ের গুঁড়া, অল্প একটু নিম খৈল। ভাত পচানো মাটি দিলে ভালো সুফল পাওয়া যায়। মাটির সঙ্গে জৈব সার, ভার্মি কম্পোসের পরিমাণ কম-বেশি হতে পারে। তবে অবশ্যই ট্রাইকোডারমা বা অন্য কোনো ছত্রাকনাশক দিতে হবে। সব কিছু দিয়ে কিছুদিন মাটি রেখে দিয়ে তারপর গাছ লাগানো উত্তম। ৭-৮ ঘণ্টা রোদ পড়ে এমন জায়গায় টমেটো গাছ ভালো হয়। টমোটো গাছ খুব নরম। পানি বেশি দিলে গোড়া পচে যায়। যেখানেই লাগানো হোক না কেন, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। স্যাঁতসেঁতে মাটি থাকলে টমেটো গাছের ঢলেপড়া রোগ হতে পারে। শীতকালে টমেটোর ফলন ভালো হয়। তবে কৌশল জানা থাকলে সারা বছর টমেটোর ফলন সম্ভব। ২০ থেকে ২৫ ডিগ্রি তাপমাত্রায় টমেটো ভালো হয়।

চারা : বীজ দিয়ে চারা করলে বীজ শোধন করে নিতে হবে। বীজ শোধন ছত্রাকনাশক দেওয়া পানিতে করা হয়। শুধু কাকোপিট বা ভার্মিতে চারা দ্রুত বড় হয়। বাজার থেকে চারা কিনলে ইমিটাফ পানিতে গুলে সে পানিতে দশ মিনিট গোড়া ভিজিয়ে রেখে তারপর লাগাবেন। পাশাপাশি চারার দূরত্ব হবে ২৪ ইঞ্চি, অন্যদিকে ১৫ ইঞ্চি। এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ঘন করে চারা লাগালে ভালো ফলন পেতে যথেষ্ট বেগ পেতে হবে। ৪০ দিন বয়সি চারা লাগালে ভালো ফল পাবেন। প্রথমে মিনি পটে চারা তারপর একটু বড় পটে নিলে ভালো করবেন। ১০ ইঞ্চি টবে একটি, একটি ড্রামে বড়জোর দুটি গাছ থাকতে পারে। অক্টোবরে টমেটোর আবাদে হাত দেওয়া উত্তম। তাহলে অনায়াসে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত খাওয়া যাবে। টমেটো গাছ শুয়ে থাকলে ফলন কম হবে। শুরু থেকেই লাঠি বেঁধে দিন। উত্তর পাশে লাঠি বাঁধতে হবে। একবার টমেটো খাওয়া শেষ। এবার আবার মাটিতে গাছের খাবার দিতে পারেন। আরেকবার টমেটো হবে।

গাছের খাবার : টমেটো গাছের খাবার হলো সরিষা খৈল, পচা পানি, সবজির পানি, অনুখাদ্য, ভার্মি কম্পোস্ট, জৈব সার, ড্যাপ সার, নিম খৈল, হাড়ের গুঁড়া ইত্যাদি। তবে মাঝে মাঝে ইপসম স্বল্প পানিতে গুলে স্প্রে করলে সুফল পাওয়া সম্ভব। ফুল আনার জন্য মিরাকুলান এবং অন্য একটি পিজি আর স্প্রে করা যায়। পিজি আর দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। টমেটো গাছের নিচের দিকে ডালপালা কেটে দিলে ফলন বেশি হবে। গাছ হালকা হবে। কিছু কাঁচা টমেটো খেয়ে ফেলতে পারেন। তাহলে অন্যগুলো দ্রুত বড় হবে।

রোগ বালাই : টমেটো গাছের পাতায় ছত্রাক আক্রমণ করে। এ জন্য মেকোজেব, কার্বোন্ডিজম, মেটালিস্কিম ইত্যাদি গ্রুপের ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে। গাছের পাতা কুঁকড়ালে দিতে হবে এবামেকটিন গ্রুপের কীটনাশক। সাত দিন পর পর। কোসাইড প্রতি লিটার পানিতে ৩ গ্রাম মিশিয়ে গাছের গোড়ায় দিতে হবে। তাহলে গোড়া পচবে না। ছত্রাকনাশক কেবল স্প্রে নয়, গাছের মাটিতেও দেওয়া যায়। টমেটো গাছে সাদা মাটি ভাইরাস ছড়ায়। তাই রিপকড, ইমিটাপ কীটনাশক স্প্রে করতে হবে। ভাইরাস আক্রান্ত হলে গাছ তুলে ফেলে দেওয়া উত্তম। টমেটোর ওপরের দিকে পচে যায় ছত্রাকের কারণে। নিচের দিকে পচে যায় ক্যালসিয়ামের অভাবে। ক্যালসিয়ামের জন্য এক লিটার পানিতে খাবার চুন ৩০ গ্রাম মিশিয়ে তার ওপরের পানির সঙ্গে আরও পানি মিশিয়ে মাটিতে দিতে হবে। ৯০-১২০ দিনের মধ্যে টমেটো ঘরে তোলা যায়। একটি সুস্থ, সবল গাছে প্রচুর টমেটো হয়। তাই সামান্য যত্নে অসংখ্য টমেটো পাওয়া সম্ভব।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন