বছর ঘুরছে আর বাড়ছে ভাড়া

  আবদুর রশিদ রেনু, সিলেট ব্যুরো ২১ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভাড়া

সিলেট নগরীতে বাস ভাড়া নিয়ে চলছে নৈরাজ্য। মালিকরা নিজেদের খেয়াল খুশিমতো বাড়ি ভাড়া বাড়াচ্ছেন। প্রতি বছর জানুয়ারি মাসে ভাড়া বাড়ানো নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাড়ি ভাড়া আইনের প্রয়োগ না হওয়ায় ভাড়াটেরা থাকেন আতঙ্কে। নতুন বছরের এ সময়ে নানা কারণে বাড়ি বদলাতে বাধ্য হন নগরবাসী, বিশেষত মধ্যবিত্তরা। বছর ঘুরছে আর বাড়ছে বাড়ি ভাড়া। গত ১০ বছরে মৌলভীবাজারে বাড়ি ভাড়া বেড়েছে কয়েকগুণ। নিত্যপণ্যের দামের তুলনায় বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির হার প্রায় দ্বিগুণ। বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণে ২৬ বছর আগে আইন হলেও বিধিমালা হয়নি। নেই আইনের প্রয়োগ।

ভাড়াটেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এরই মধ্যে প্রতিবারের মতো এবারও বছরের শুরুতে বাড়ির মালিকরা নিজেদের ইচ্ছামতো ভাড়া বাড়া বৃদ্ধি করেছেন।

সিলেট নগরীর জিন্দাবাজার, কাজী ইলিয়াছ, দাঁড়িয়াপাড়া, হাওয়াপাড়া, তাঁতীপাড়া, কাজীটুলা, মীরবক্সটুলা, উপশহর, মদিনা মার্কেট, সুবিদবাজার, আম্বরখানা, গোয়াইপাড়া, সাগরদিঘীরপাড়, শামীমাবাদ, বাগবাড়ি, আখালিয়া, লামাবাজার, নয়াসড়ক, ভাতালিয়া, মাছুদিঘীরপাড়, ফাজিলচিস্ত, জালালাবাদ, কলাপাড়া, কানিশাইল, শেখঘাট, হাউজিং স্টেড, দরগাহ মহল্লা, রায়নগর, সোনারপাড়া, শিবগঞ্জ, মিরাবাজার, টিলাগড়, লোহারপাড়া, বালুচর, মুন্সীপাড়া, নবাবরোড, বড়বাজার, কেওয়াপাড়া, চালিবন্দর, ছোবহানীঘাট, চৌকিদেখি, আলমপুর, শাহী ঈদগাহ, কুমারপাড়া দক্ষিণ বালুচর, মিরের ময়দানে, রিকাবীবাজার, মির্জাজাঙ্গাল খুলিয়াপাড়া কাজিরবাজার, খোজারখলা, পাঠানটুলা, সওদাগরটুলা, ঝেরঝেরিপাড়া, শাহী ঈদগাহ এলাকার ভাড়াটের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। তারা বলেছেন, এবার এলাকাভেদে ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বাসা ভাড়া বাড়িয়েছেন বাড়ির মালিকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিলেট নগরীতে ১০ বছর আগে পাকা ভবনে দুই কক্ষের একটি বাসার ভাড়া ছিল আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা। বর্তমানে এ ভাড়া দাঁড়িয়েছে ৬-৮ হাজার টাকা। নগরীর তাঁতীপাড়া দুই কক্ষের একটি বাসা ভাড়া ছিল ৩ হাজার টাকা। যা এখন দ্বিগুণ ছাড়িয়ে গেছে। সেখানে বসবাসকারী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, সিলেটে অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে বাসা ভাড়া।

নগরীর উপশহরে এক শিক্ষক দম্পতি জানান, ডিসেম্বর পর্যন্ত বাসা ভাড়া ছিল ৮ হাজার টাকা, জানুয়ারি থেকে বাসার মালিক আরও ২ হাজার টাকা বৃদ্ধি করেছে। এখন ভাড়া সাড়ে ১০ হাজার ৫শ’ টাকা। মদিনা মার্কেট এলাকায় বসবাসকারী এক চিকিৎসক জানান, গত বছর যে বাসায় থাকতাম ভাড়া ছিল ৭ হাজার ৫শ’ টাকা। জানুয়ারি থেকে ভাড়া বাড়িয়ে করা হয় ১০ হাজার টাকা। ফলে বাধ্য হয়ে বাসা বদলাতে হয়। দাঁড়িয়াপাড়া এলাকায় বসবাসকারী কবির হোসেন, বলেন প্রতি বছর বাড়ির মালিক ৫শ’ টাকা করে ভাড়া বাড়ান। ফলে ১০ বছর আগে ৪ হাজার টাকার বাসা ভাড়া এখন ১০ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে।

শুধু মাসিক ভাড়া নয়, অগ্রিম হিসেবেও কয়েক মাসের ভাড়া নিচ্ছেন বাড়ির মালিকরা। একটি ব্যাংকের কর্মকর্তা বলেন, সব মিলিয়ে মাসিক ভাড়া ২০ হাজার টাকা। আর অগ্রিম দিতে হয়েছে একমাসের ভাড়া। অন্য দিকে বাড়ি ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে বাড়িওয়ালারা নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, গৃহঋণের সুদ, রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ইত্যাদি যুক্তি দেখান। বাগবাড়ির বাড়িওয়ালা সৌদি প্রবাসী বদরুল ইসলাম বলেন, সব কিছুর দাম বাড়লে বাড়ি ভাড়া বাড়বে না কেন। কিছু বাড়িওয়ালা অন্যায়ভাবে ভাড়া বাড়াচ্ছেন এটা ঠিক না। বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই বাড়ি ভাড়া বাড়ান হচ্ছে। তবে সরকারকর্তৃক বাড়ি ভাড়া নির্ধারিত থাকলে সে হারেই ভাড়া নিতেন বলে তিনি জানান।

বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। কয়েক বছর আগেও দুই-আড়াই হাজার টাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে ৪/৫ জন শিক্ষার্থী মিলে মেস করে থাকতে পারত। যার জনপ্রতি মাসে দিতে হতো ৫০০ টাকা। এখন মেসে থাকতে হলে শিক্ষার্থীদের জনপ্রতি গুনতে হচ্ছে এক-দেড় হাজার টাকা।

আইনজীবী সলমান আহমদ জানান, বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ-সম্পর্কিত অধ্যাদেশটি প্রথম জারি করা হয় ১৯৬৩ সালে। বর্তমানে প্রচলিত বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইনটি ১৯৯১ সালের। কিন্তু সরকার এখনও এই আইনের বিধি করেনি। আইনে বলা হয়েছে, কোনো ভাড়াটের কাছে জামানত বা কোনো টাকা দাবি করতে পারবেন না বাড়িওয়ালা। এক মাসের বেশি অগ্রিম ভাড়া নেয়া যাবে না। প্রতি মাসে ভাড়া নেয়ার রসিদ দিতে হবে, নইলে বাড়িওয়ালা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। দুই বছর পর্যন্ত ভাড়া বাড়ান যাবে না। ভাড়াটেদের স্বার্থরক্ষায় এমন আরও অনেক কথাই উল্লেখ আছে এ আইনে।

এ ব্যাপারে সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী যুগান্তরকে জানান, নগরীতে বাড়ি ভাড়া নিয়ে সব ধরনের নৈরাজ্য বন্ধ করতে সিটি কর্পোরেশন শিগগিরই প্রয়োজনী উদ্যোগ গ্রহণ করবে। বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটের মধ্যে আলোচনা করে এ সমস্যা সমাধান করতে হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×