নির্বাচন নিয়ে নাগরিকদের ভাবনা
jugantor
নির্বাচন নিয়ে নাগরিকদের ভাবনা

  আল ফাতাহ মামুন  

২৮ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মেয়রকে বলা হয় নগরপিতা। নগরের অভিভাবক। দীর্ঘ পাঁচ বছর শেষে নতুন করে নগরের অভিভাবক নির্বাচন করবেন রাজধানীবাসী। বিগত মেয়াদের নগরপিতারা রাজধানীবাসীর জন্য তেমন কোনো কল্যাণ বয়ে আনেনি বললেই চলে।

এর প্রমাণে এতটুকু বলাই যথেষ্ট, বসবাস অযোগ্য শহরের তালিকায় বারবার প্রথমের দিকে এসেছে জাদুর শহর, রঙের শহর ঢাকার নামটি।

যানজট, জলজট, বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ, নদী দূষণে নিঃশ্বাসও বিষাক্ত হয়ে উঠেছে নগরীর মানুষের। তার ওপর শিক্ষাবাণিজ্য থেকে শুরু করে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক, ধর্ষণ এককথায় ঘরে-বাইরে নরকজীবনের অভিজ্ঞতায় অতিষ্ঠ সাধারণ জনগণ। এমন পরিস্থিতিতে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি নগরপিতা নির্বাচন করবে রাজধানীবাসী।

কেমন মেয়র চাই, কেমন ঢাকা চাই-জানতে চেয়েছিলাম রাজধানীর সর্বস্তরের মানুষের কাছে। তারা বলেছেন, তাদের প্রত্যাশার কথা। কারো কারো কণ্ঠে ফুটে উঠেছে গভীর হতাশাও। আসুন জেনে নিই নগর নিয়ে নাগরিকদের ভাবনা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক আনিসুজ্জামান নগর সম্পর্কে তার ভাবনা জানিয়ে বলেন, ‘বাসযোগ্য ঢাকা চাই-এক কথায় বলতে গেলে এটাই বলতে হবে। তবে বাস অযোগ্য এ শহরকে একদিনে বা পাঁচ বছরেই বাসযোগ্য করা যাবে না। এর জন্য দীর্ঘমেয়াদি নিখুঁত পরিকল্পনা নিয়ে এগুতে হবে।

এরমধ্যে সরকার রাজধানীকে বাসযোগ্য করার জন্য কিছু মেগা পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছে। একজন নগরপিতার দায়িত্ব হবে এ কাজগুলো যেন সুষ্ঠুভাবে শেষ হয় এ জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা করা। পাশাপাশি নগরকে সুন্দর-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য যেসব কাজ না করলেই নয়, তাতে যেন কোনো কমতি না থাকে। এ নগরীতে আর কোনো ডেঙ্গু ট্র্যাজেডি কিংবা চুরিহাট্টার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের নির্মম অভিজ্ঞতা দেখতে চাই না।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পোস্তগোলার বাসিন্দা ভাষা প্রদীপ উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আবুল হোসেন বলেন, ‘নাগরিক সব সুবিধার পাশাপাশি একজন শিক্ষক হিসেবে মেয়রের কাছে প্রত্যাশা থাকবে শিক্ষক এবং শিক্ষার্র্থীদের অধিকারের ব্যাপারে তিনি সজাগ-সচেতন থাকবেন।

রাজধানীর শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি চাপে থাকে। অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই শিক্ষাবান্ধব নয়। খেলার মাঠ নেই, নেই বিনোদনের সুব্যবস্থাও। তা ছাড়া শিক্ষকদেরও অনেক হাসি-কান্না, না বলা ব্যথা আছে যা কাউকে বলা যায় না। নগরপিতা মনোযোগ দিয়ে আমাদের কথা শুনবেন, আমাদের দুঃখ ঘুচাতে কাজ করবেন এ প্রত্যাশা সব শিক্ষকের।’

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মিরপুর ২-এর বাসিন্দা মণিপুর বাইতুল আশরাফ (মাইকওয়ালা) জামে মসজিদের খতিব মুফতি এহছানুল হক জেহাদী মুজাদ্দেদী বলেন, নগরপিতা যে দল থেকেই আসুক তিনি যেন ইসলাম, ইসলামি মূল্যবোধের পক্ষে থাকেন ইমাম সমাজের চাওয়া এটি। মাঝে মাঝে শোনা যায়, রাজধানীতে বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে হিজাব খুলতে, টুপি খুলতে বাধ্য করা হয়। এসব দুঃখজনক ঘটনা পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে পারে। এ ছাড়াও ইসলামবিরোধী যেকোনো পদক্ষেপ মেয়র মহোদয় রুখে দেবেন- এটা ইসলামপ্রিয়দের প্রাণের দাবি।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ওয়ারীর বাসিন্দা সূর্যদাস রাজিব বলেন, ‘এ অঞ্চলে তুলনামূলক সনাতন ধর্মাবলম্বী বেশি। নগরপিতার কাছে আমাদের চাওয়া থাকবে, বরাবরের মতো আমরা যেন আমাদের ধর্মীয় উৎসবগুলো নির্ঝঞ্ঝাটভাবে পালন করতে পারি। আনন্দের কথা হল, পূর্বের নগরপিতারা এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সহযোগিতা এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছেন। আশা করি, সে ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী রিফাত সরকার বলেন, যদিও শিক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের বিষয় দেখার জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় আছে এবং এ বিষয়ে মেয়র মহোদয়ের প্রত্যক্ষ ভূমিকা কম, কিন্তু মেয়র মহোদয় যদি একটি পরিকল্পিত সুন্দর শহর উপহার দেন, জ্যামমুক্ত, ভোগান্তিমুক্ত শহর গড়ে তোলেন, তাহলে সাধারণ মানুষ তো বটেই শিক্ষার্থীরাও স্বস্তি পাবে। প্রতিদিন জ্যাম ঠেলে এসে যখন ক্লাসে বসি, তখন কি পড়াশোনায় মনোযোগী হব নাকি বিশ্রাম নেব-বুঝতে পারি না। এ জ্যামের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস এমনকি পরীক্ষাও মিস হয়ে যায় আমাদের।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী রোকেয়া আক্তার বলেন, ‘একটি নিরাপদ-সুস্থ নগরী আমাদের প্রত্যাশা। বিগত দিনগুলোতে মেয়েদের জন্য নগরীটা এত বেশি অনিরাপদ হয়ে ওঠেছে যা বলার বাইরে। দিনে-দুপুরে, ঘরে-বাইরে, বাসে-গাড়িতে সর্বত্রই নারীরা লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছে। এ থেকে মুক্তি চাই। নগরে কোনো ‘মজনু’ থাকবে না-এ প্রত্যাশা নগরপিতার কাছে।’

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন উত্তরার বাসিন্দা মাহবুবা আক্তারেরও একই প্রত্যাশা। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ঘর-বাহির দুটো সামলাতে হিমশিম খেতে হয় তাকে। পরিবার-চাকরি এ দুটো ছাড়াও মাথায় আরেকটি টেনশন নিয়ে ঘুমাতে যান তিনি- আগামীকাল কি নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারব?

সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পর আবার বাসায় ফেরা পর্যন্ত সারা দিন একই শঙ্কা মনে বাজতে থাকে। তিনি বলেন, এমন একটি নগরী চাই যেখানে অন্তত নারীর সম্ভ্রমহানির ভয় থাকবে না। এ চাওয়াটুকু খুব বড় চাওয়া নয়। একজন নগরপিতা চাইলেই নারীর জন্য নিরাপদ শহর গড়তে পারেন।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন মিরপুর ১০-এর বাসিন্দা হাজী আসলাম মোহাম্মদ পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, একজন ব্যবসায়ী হিসেবে আমার প্রথম চাওয়া হল চাঁদাবাজমুক্ত ব্যবসা করতে চাই। নগরের অধিকাংশ ব্যবসাঙ্গন প্রকাশ্য চাঁদাবাজের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। নীরব চাঁদাবাজির কথা তো বলে শেষ করা যাবে না।

পাশাপাশি আরেকটি বিষয় না বললেই নয়, ব্যবসায়ীদের লাইসেন্সসহ যেসব কাজ সিটি কর্পোরেশনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, এ সেবাগুলো যেন ভোগান্তিহীন অতি দ্রুত পাওয়া যায়-এ বিষয়ে নগরপিতা দৃষ্টি রাখবেন বলে আশা করি। কাগজপত্র করতে গিয়ে ব্যবসায়ীরা প্রচুর হয়রানির শিকার হন। আশা করি, আগামীতে ব্যবসায়ীদের এ ধরনের হয়রানির শিকার হতে হবে না।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন সায়েদাবাদের বাসিন্দা মো. কুদ্দুস পেশায় একজন রিকশা চালক। নগরপিতার কাছে প্রত্যাশা কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, গরিবের কোনো পিতা নেই, গরিবের কোনো সরকার নেই। নির্বাচনে যেই জিতুক গরিবকে ঘাম ঝরিয়েই দিন কাটাতে হয়।

বিপদে-আপদে গরিবের পাশে কেউ দাঁড়ায় না। গরিবের অধিকার নিয়ে কেউ কথা বলে না। কথার আগে গরিবের ওপর মাইর চলে। এসব বৈষম্য কোনো পিতা যদি দূর করতে পারেন তাহলে হয়তো আমাদের মতো শ্রমজীবী মানুষের মুখে হাসি ফুটবে।

নির্বাচন নিয়ে নাগরিকদের ভাবনা

 আল ফাতাহ মামুন 
২৮ জানুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মেয়রকে বলা হয় নগরপিতা। নগরের অভিভাবক। দীর্ঘ পাঁচ বছর শেষে নতুন করে নগরের অভিভাবক নির্বাচন করবেন রাজধানীবাসী। বিগত মেয়াদের নগরপিতারা রাজধানীবাসীর জন্য তেমন কোনো কল্যাণ বয়ে আনেনি বললেই চলে।

এর প্রমাণে এতটুকু বলাই যথেষ্ট, বসবাস অযোগ্য শহরের তালিকায় বারবার প্রথমের দিকে এসেছে জাদুর শহর, রঙের শহর ঢাকার নামটি।

যানজট, জলজট, বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ, নদী দূষণে নিঃশ্বাসও বিষাক্ত হয়ে উঠেছে নগরীর মানুষের। তার ওপর শিক্ষাবাণিজ্য থেকে শুরু করে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক, ধর্ষণ এককথায় ঘরে-বাইরে নরকজীবনের অভিজ্ঞতায় অতিষ্ঠ সাধারণ জনগণ। এমন পরিস্থিতিতে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি নগরপিতা নির্বাচন করবে রাজধানীবাসী।

কেমন মেয়র চাই, কেমন ঢাকা চাই-জানতে চেয়েছিলাম রাজধানীর সর্বস্তরের মানুষের কাছে। তারা বলেছেন, তাদের প্রত্যাশার কথা। কারো কারো কণ্ঠে ফুটে উঠেছে গভীর হতাশাও। আসুন জেনে নিই নগর নিয়ে নাগরিকদের ভাবনা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক আনিসুজ্জামান নগর সম্পর্কে তার ভাবনা জানিয়ে বলেন, ‘বাসযোগ্য ঢাকা চাই-এক কথায় বলতে গেলে এটাই বলতে হবে। তবে বাস অযোগ্য এ শহরকে একদিনে বা পাঁচ বছরেই বাসযোগ্য করা যাবে না। এর জন্য দীর্ঘমেয়াদি নিখুঁত পরিকল্পনা নিয়ে এগুতে হবে।

এরমধ্যে সরকার রাজধানীকে বাসযোগ্য করার জন্য কিছু মেগা পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছে। একজন নগরপিতার দায়িত্ব হবে এ কাজগুলো যেন সুষ্ঠুভাবে শেষ হয় এ জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা করা। পাশাপাশি নগরকে সুন্দর-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য যেসব কাজ না করলেই নয়, তাতে যেন কোনো কমতি না থাকে। এ নগরীতে আর কোনো ডেঙ্গু ট্র্যাজেডি কিংবা চুরিহাট্টার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের নির্মম অভিজ্ঞতা দেখতে চাই না।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পোস্তগোলার বাসিন্দা ভাষা প্রদীপ উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আবুল হোসেন বলেন, ‘নাগরিক সব সুবিধার পাশাপাশি একজন শিক্ষক হিসেবে মেয়রের কাছে প্রত্যাশা থাকবে শিক্ষক এবং শিক্ষার্র্থীদের অধিকারের ব্যাপারে তিনি সজাগ-সচেতন থাকবেন।

রাজধানীর শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি চাপে থাকে। অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই শিক্ষাবান্ধব নয়। খেলার মাঠ নেই, নেই বিনোদনের সুব্যবস্থাও। তা ছাড়া শিক্ষকদেরও অনেক হাসি-কান্না, না বলা ব্যথা আছে যা কাউকে বলা যায় না। নগরপিতা মনোযোগ দিয়ে আমাদের কথা শুনবেন, আমাদের দুঃখ ঘুচাতে কাজ করবেন এ প্রত্যাশা সব শিক্ষকের।’

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মিরপুর ২-এর বাসিন্দা মণিপুর বাইতুল আশরাফ (মাইকওয়ালা) জামে মসজিদের খতিব মুফতি এহছানুল হক জেহাদী মুজাদ্দেদী বলেন, নগরপিতা যে দল থেকেই আসুক তিনি যেন ইসলাম, ইসলামি মূল্যবোধের পক্ষে থাকেন ইমাম সমাজের চাওয়া এটি। মাঝে মাঝে শোনা যায়, রাজধানীতে বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে হিজাব খুলতে, টুপি খুলতে বাধ্য করা হয়। এসব দুঃখজনক ঘটনা পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে পারে। এ ছাড়াও ইসলামবিরোধী যেকোনো পদক্ষেপ মেয়র মহোদয় রুখে দেবেন- এটা ইসলামপ্রিয়দের প্রাণের দাবি।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ওয়ারীর বাসিন্দা সূর্যদাস রাজিব বলেন, ‘এ অঞ্চলে তুলনামূলক সনাতন ধর্মাবলম্বী বেশি। নগরপিতার কাছে আমাদের চাওয়া থাকবে, বরাবরের মতো আমরা যেন আমাদের ধর্মীয় উৎসবগুলো নির্ঝঞ্ঝাটভাবে পালন করতে পারি। আনন্দের কথা হল, পূর্বের নগরপিতারা এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সহযোগিতা এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছেন। আশা করি, সে ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী রিফাত সরকার বলেন, যদিও শিক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের বিষয় দেখার জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় আছে এবং এ বিষয়ে মেয়র মহোদয়ের প্রত্যক্ষ ভূমিকা কম, কিন্তু মেয়র মহোদয় যদি একটি পরিকল্পিত সুন্দর শহর উপহার দেন, জ্যামমুক্ত, ভোগান্তিমুক্ত শহর গড়ে তোলেন, তাহলে সাধারণ মানুষ তো বটেই শিক্ষার্থীরাও স্বস্তি পাবে। প্রতিদিন জ্যাম ঠেলে এসে যখন ক্লাসে বসি, তখন কি পড়াশোনায় মনোযোগী হব নাকি বিশ্রাম নেব-বুঝতে পারি না। এ জ্যামের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস এমনকি পরীক্ষাও মিস হয়ে যায় আমাদের।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী রোকেয়া আক্তার বলেন, ‘একটি নিরাপদ-সুস্থ নগরী আমাদের প্রত্যাশা। বিগত দিনগুলোতে মেয়েদের জন্য নগরীটা এত বেশি অনিরাপদ হয়ে ওঠেছে যা বলার বাইরে। দিনে-দুপুরে, ঘরে-বাইরে, বাসে-গাড়িতে সর্বত্রই নারীরা লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছে। এ থেকে মুক্তি চাই। নগরে কোনো ‘মজনু’ থাকবে না-এ প্রত্যাশা নগরপিতার কাছে।’

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন উত্তরার বাসিন্দা মাহবুবা আক্তারেরও একই প্রত্যাশা। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ঘর-বাহির দুটো সামলাতে হিমশিম খেতে হয় তাকে। পরিবার-চাকরি এ দুটো ছাড়াও মাথায় আরেকটি টেনশন নিয়ে ঘুমাতে যান তিনি- আগামীকাল কি নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারব?

সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পর আবার বাসায় ফেরা পর্যন্ত সারা দিন একই শঙ্কা মনে বাজতে থাকে। তিনি বলেন, এমন একটি নগরী চাই যেখানে অন্তত নারীর সম্ভ্রমহানির ভয় থাকবে না। এ চাওয়াটুকু খুব বড় চাওয়া নয়। একজন নগরপিতা চাইলেই নারীর জন্য নিরাপদ শহর গড়তে পারেন।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন মিরপুর ১০-এর বাসিন্দা হাজী আসলাম মোহাম্মদ পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, একজন ব্যবসায়ী হিসেবে আমার প্রথম চাওয়া হল চাঁদাবাজমুক্ত ব্যবসা করতে চাই। নগরের অধিকাংশ ব্যবসাঙ্গন প্রকাশ্য চাঁদাবাজের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। নীরব চাঁদাবাজির কথা তো বলে শেষ করা যাবে না।

পাশাপাশি আরেকটি বিষয় না বললেই নয়, ব্যবসায়ীদের লাইসেন্সসহ যেসব কাজ সিটি কর্পোরেশনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, এ সেবাগুলো যেন ভোগান্তিহীন অতি দ্রুত পাওয়া যায়-এ বিষয়ে নগরপিতা দৃষ্টি রাখবেন বলে আশা করি। কাগজপত্র করতে গিয়ে ব্যবসায়ীরা প্রচুর হয়রানির শিকার হন। আশা করি, আগামীতে ব্যবসায়ীদের এ ধরনের হয়রানির শিকার হতে হবে না।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন সায়েদাবাদের বাসিন্দা মো. কুদ্দুস পেশায় একজন রিকশা চালক। নগরপিতার কাছে প্রত্যাশা কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, গরিবের কোনো পিতা নেই, গরিবের কোনো সরকার নেই। নির্বাচনে যেই জিতুক গরিবকে ঘাম ঝরিয়েই দিন কাটাতে হয়।

বিপদে-আপদে গরিবের পাশে কেউ দাঁড়ায় না। গরিবের অধিকার নিয়ে কেউ কথা বলে না। কথার আগে গরিবের ওপর মাইর চলে। এসব বৈষম্য কোনো পিতা যদি দূর করতে পারেন তাহলে হয়তো আমাদের মতো শ্রমজীবী মানুষের মুখে হাসি ফুটবে।