কেমন ঢাকা, কেমন মেয়র চাই?
jugantor
কেমন ঢাকা, কেমন মেয়র চাই?
দেশের মহানগরগুলোর স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থার একক হল সিটি কর্পোরেশন। কিন্তু ঢাকার সেই স্বায়ত্তশাসন নিজের ইচ্ছায় চলে না, নির্ভর করতে হয় অন্যান্য সংস্থা ও মন্ত্রণালয়ের মর্জির ওপর। সপ্তাহ ঘুরলেই নতুন নগর পিতার মুকুট পরবেন দুই মেয়র। তাদের কাছে কেমন ঢাকা প্রত্যাশা? নির্বাচনই বা কেমন হবে। মেয়র তকমা পাওয়ার পরে প্রতিশ্রুতি মনে থাকবে তো? এ নিয়ে বিশিষ্টজনদের সঙ্গে কথা বলেছেন-

  সাইফুল ইসলাম খান  

২৮ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বুথ জ্যাম শুনেছেন কখনও?

সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, যদি আইন প্রয়োগ না হয় তাহলে শুধু ইভিএম দিয়ে হবে না। ইভিএম লাগালেও বুথ ক্যাপচার কে ঠেকাবে।

বিশ্বে এমন কোনো সিস্টেম তৈরি হয়নি, যেখানে বুথ ক্যাপচার হলে নির্বাচন ভালো হবে বা বুথ জ্যাম হলে নির্বাচন ভালো হবে। কখনও বুথ ক্যাপচার হয় সরাসরি, আবার কখনও গোপন কক্ষে বসে থেকে লোকজনকে ডেকে ভোট দিতে বলে। কাজেই এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।

বুথ জ্যাম শুনেছেন কখনও? বুথ জ্যাম হল বাইরে বিশাল লাইন, ভিতরে কিন্তু কেউ ভোট দিতে পারছে না। লোকজন ভিতরে যেতে পারে না, শেষে অধৈর্য হয়ে ফিরে যায়। অথবা যখন ক্যামেরা দেখে তখন লোকজন ডেকে আনে। এগুলো চেক করার দায়িত্ব কিন্তু নির্বাচন কমিশনের। ভেড়ায় যদি ক্ষেত খায়, তাহলে কিছু করার নেই। গত নির্বাচন দেখে আমি বলেছিলাম, ব্যাড ইলেকশন গুড রেজাল্ট। কিন্তু হওয়া উচিত গুড ইলেকশন গুড রেজাল্ট।

আপনার ভেতরে যদি আন্তরিকতা থাকে তাহলে আপনি কাজ করতে পারবেন। আনিসের (আনিসুল হক) উদাহরণ আমরা দেই। তার কিছু আন্তরিকতা ছিল, সে সাহস করে অনেক কাজ করেছে। আপনাকে কেউ ক্ষমতা দেবে না এই দেশে। আপনাকে নিজে নিজে ক্ষমতা তৈরি করতে হবে।

সেটা আপনি তখনই করতে পারবেন যখন আপনি সঠিক ও যথাযথভাবে জনগণের ভোট দ্বারা নির্বাচিত হবেন। যদি আপনি জনগণ দ্বারা নির্বাচিত না হন তাহলে আপনার সেই সাহস থাকবে না।

আপনি নিজের পকেট ভরবেন অন্য কারও দিকে দেখবেন না। আমরা ঢাকা শহর একটু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন দেখতে চাই। বড় বড় পরিকল্পনা হয়তো আপনার দ্বারা হবে না। শহরকে পরিষ্কার করে যেই মেয়র শৃঙ্খলা আনতে পারবেন আমি মনে করি তিনিই সবচেয়ে সফল মেয়র।

পরিচ্ছন্ন নগর, যানজট নিরসন ও সেবাকে সহজলভ্য করুন

লেখক, প্রাবন্ধিক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এমিরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, আমি কতগুলো জিনিস চাই। একটা হল- সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। কিন্তু সেটা ভালোভাবে রাখা হয় না। শহরে যে আবর্জনা, বর্জ্য জমে সেগুলো ঠিকমতো পরিষ্কার করা হয় না। যেখানে-সেখানে ময়লা থাকে। নানা স্থানে পানি জমে থাকে, মশা তৈরি হয়। কাজেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা হল প্রধান কর্তব্য। আরেকটি চাইব- যানজট ঢাকার শহরের আরেকটা বড় সমস্যা। এ ব্যাপারে কর্পোরেশন কী করতে পারে। তারা কতটা সক্রিয় হতে পারে এটাও আমরা দেখতে চাইব।

আর তৃতীয় কথা হল- যে সেবাগুলো কর্পোরেশনের দেয়ার কথা, মানে ওয়ার্ড কমিশনারের দেয়ার কথা সেই সেবাগুলো যাতে সহজলভ্য হয়। এ সেবা পেতে অনেক রকম জটিলতা থাকে।

যেমন- ওয়ার্ড কমিশনারের কোথায় অফিস, অফিস পেলেও কমিশনারকে ঠিকমতো পাওয়া যায় না, তাদের থেকে সেবা পেতে অনেক সময় লাগে। তাই যারা কমিশনার হবেন তারা যেন তৎপর হয় সেবা দিতে, যে সেবাগুলো নাগরিকদের প্রাপ্য। মোট কথা, তিনটি দাবি আমি জানাচ্ছি- নগরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, যানজট নিরসন করা এবং সেবাকে সহজলভ্য করা।

শহরের সেবাগুলো সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে চলুক

সামাজিক কর্মী, নারীবাদী এবং পরিবেশবাদী খুশি কবীর যুগান্তরকে বলেন, বাসযোগ্য একটা সভ্য ঢাকা চাই। সেখানে যেন আইন-শৃঙ্খলা মানা হয়, ট্রাফিক মানা হয়। মানুষের জীবন-যাপন থেকে রাস্তাঘাট সবকিছু অর্থাৎ মানুষের বাসস্থানের যেন নিশ্চয়তা থাকে এরকম ঢাকা চাই। যেখানে সব মানুষের একটা জায়গা থাকে, নিশ্চয়তা থাকে।

আর যে মেয়র কাজ করতে পারবে সেই মেয়র চাই। এখন সবাই মেয়র নির্বাচন করে। কিন্তু শহরের পানি, গ্যাসসহ সেবাগুলো বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে। সুতারং মেয়র শুধু নামে, ওরকম মেয়র চাই না।

এ রকম মেয়র চাই যে আসলেই পুরোপুরো দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে পারবে। এখন তো মেয়ররা অজুহাতও দিতে পারেন যে, কাজ করতে পারেন না। সেটাও সত্য কারণ সেবাগুলো অন্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে। তাই আমি মনে করি, সেবাগুলো মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকতে সমস্যা নেই। কিন্তু তা সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে এবং কথা অনুসারে চলবে। মানে স্থানীয় সরকার যে রকম হওয়া উচিত সে রকম হবে।

মেয়রের আন্তরিকতা থাকলে এবং সময় দিলে সমস্যা কমান সম্ভব

সাংবাদিক, কলামিস্ট, গবেষক, প্রাবন্ধিক ও লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ যুগান্তরকে বলেন, সবাই তো ভালো মেয়র চায়। যে দক্ষ, যোগ্য এবং নিবেদিত। কিন্তু আমাদের দেশে প্রথাগত চলছে সব। ঢাকা একটা সমস্যা জর্জরিত নগরী। সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ একটি নগরী। এখানে ওয়াশা থেকে শুরু করে অনেক এজেন্সি কাজ করে।

নগর কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে কোনো এজেন্সিই নাই। তারফলে নগর কর্তৃপক্ষ যদি সেবা দিতে চায়, তাহলে বিভিন্ন যে সংস্থাগুলো আছে সেই সংস্থার সহযোগিতা ছাড়া এবং সমন্বয় ছাড়া এর কিছু করতে পারবে না যত প্রতিশ্রুতিই দেয়া হোক না কেন। আমাদের দেশের প্রথা হল নির্বাচনের আগে অনেক রকম প্রতিশ্রুতি দেয়া। এগুলো প্রথাগত কাজ আর আসল কাজ হল প্রধান প্রধান সমস্যা সমাধান করা।

যেমন ধরুন, গণযোগাযোগ ব্যবস্থা। এটা একটি চরম অরাজগতার মধ্যে পড়েছে। তারপরে ঢাকা অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন নগরী, অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর নগরী।

এ কাজগুলো নগর কর্তৃপক্ষ যে করবেন, একা করতে পারবেন না। তারা অন্যান্য সংস্থার সহযোগিতা নিয়ে করবেন। কিন্তু এখন নির্বাচনের আগে যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন এ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন কিভাবে করবেন সেটা কেউ বলছেন না। প্রতিশ্রুতি দেয়া এক কথা আর কাজের অগ্রগতি অন্য কথা। সুতারং নির্বাচনের আগে এ রকম প্রচারণা এটা গতানুগতিক কাজ।

সেই রকমের মেয়র দরকার যিনি নগরীর সমস্যাগুলো জানবেন। মেয়রকে সমস্যাগুলো উপলব্ধি করতে হবে। সে ধরনের মেয়র আমাদের দরকার যিনি সার্বক্ষণিক নগরের সমস্যা নিয়ে সময় দিতে পারেন।

৭০-৮০ বছর আগের যারা নগরের প্রধান ছিলেন তারা কিন্তু সারাদিন এ নগর নিয়েই থাকতেন। আর এখনকার মেয়রদের অবস্থা হল- কোনো দিন অফিসে গেলেন, কোনো দিন গেলেন না, এরকম। আন্তরিকতা থাকলে এবং সার্বক্ষণিক যদি সমস্যা নিয়ে মেয়র কাজ করেন তাহলে অনেক সমস্যা কমিয়ে আনা সম্ভব।

কেমন ঢাকা, কেমন মেয়র চাই?

দেশের মহানগরগুলোর স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থার একক হল সিটি কর্পোরেশন। কিন্তু ঢাকার সেই স্বায়ত্তশাসন নিজের ইচ্ছায় চলে না, নির্ভর করতে হয় অন্যান্য সংস্থা ও মন্ত্রণালয়ের মর্জির ওপর। সপ্তাহ ঘুরলেই নতুন নগর পিতার মুকুট পরবেন দুই মেয়র। তাদের কাছে কেমন ঢাকা প্রত্যাশা? নির্বাচনই বা কেমন হবে। মেয়র তকমা পাওয়ার পরে প্রতিশ্রুতি মনে থাকবে তো? এ নিয়ে বিশিষ্টজনদের সঙ্গে কথা বলেছেন-
 সাইফুল ইসলাম খান 
২৮ জানুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বুথ জ্যাম শুনেছেন কখনও?

সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, যদি আইন প্রয়োগ না হয় তাহলে শুধু ইভিএম দিয়ে হবে না। ইভিএম লাগালেও বুথ ক্যাপচার কে ঠেকাবে।

বিশ্বে এমন কোনো সিস্টেম তৈরি হয়নি, যেখানে বুথ ক্যাপচার হলে নির্বাচন ভালো হবে বা বুথ জ্যাম হলে নির্বাচন ভালো হবে। কখনও বুথ ক্যাপচার হয় সরাসরি, আবার কখনও গোপন কক্ষে বসে থেকে লোকজনকে ডেকে ভোট দিতে বলে। কাজেই এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।

বুথ জ্যাম শুনেছেন কখনও? বুথ জ্যাম হল বাইরে বিশাল লাইন, ভিতরে কিন্তু কেউ ভোট দিতে পারছে না। লোকজন ভিতরে যেতে পারে না, শেষে অধৈর্য হয়ে ফিরে যায়। অথবা যখন ক্যামেরা দেখে তখন লোকজন ডেকে আনে। এগুলো চেক করার দায়িত্ব কিন্তু নির্বাচন কমিশনের। ভেড়ায় যদি ক্ষেত খায়, তাহলে কিছু করার নেই। গত নির্বাচন দেখে আমি বলেছিলাম, ব্যাড ইলেকশন গুড রেজাল্ট। কিন্তু হওয়া উচিত গুড ইলেকশন গুড রেজাল্ট।

আপনার ভেতরে যদি আন্তরিকতা থাকে তাহলে আপনি কাজ করতে পারবেন। আনিসের (আনিসুল হক) উদাহরণ আমরা দেই। তার কিছু আন্তরিকতা ছিল, সে সাহস করে অনেক কাজ করেছে। আপনাকে কেউ ক্ষমতা দেবে না এই দেশে। আপনাকে নিজে নিজে ক্ষমতা তৈরি করতে হবে।

সেটা আপনি তখনই করতে পারবেন যখন আপনি সঠিক ও যথাযথভাবে জনগণের ভোট দ্বারা নির্বাচিত হবেন। যদি আপনি জনগণ দ্বারা নির্বাচিত না হন তাহলে আপনার সেই সাহস থাকবে না।

আপনি নিজের পকেট ভরবেন অন্য কারও দিকে দেখবেন না। আমরা ঢাকা শহর একটু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন দেখতে চাই। বড় বড় পরিকল্পনা হয়তো আপনার দ্বারা হবে না। শহরকে পরিষ্কার করে যেই মেয়র শৃঙ্খলা আনতে পারবেন আমি মনে করি তিনিই সবচেয়ে সফল মেয়র।

পরিচ্ছন্ন নগর, যানজট নিরসন ও সেবাকে সহজলভ্য করুন

লেখক, প্রাবন্ধিক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এমিরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, আমি কতগুলো জিনিস চাই। একটা হল- সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। কিন্তু সেটা ভালোভাবে রাখা হয় না। শহরে যে আবর্জনা, বর্জ্য জমে সেগুলো ঠিকমতো পরিষ্কার করা হয় না। যেখানে-সেখানে ময়লা থাকে। নানা স্থানে পানি জমে থাকে, মশা তৈরি হয়। কাজেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা হল প্রধান কর্তব্য। আরেকটি চাইব- যানজট ঢাকার শহরের আরেকটা বড় সমস্যা। এ ব্যাপারে কর্পোরেশন কী করতে পারে। তারা কতটা সক্রিয় হতে পারে এটাও আমরা দেখতে চাইব।

আর তৃতীয় কথা হল- যে সেবাগুলো কর্পোরেশনের দেয়ার কথা, মানে ওয়ার্ড কমিশনারের দেয়ার কথা সেই সেবাগুলো যাতে সহজলভ্য হয়। এ সেবা পেতে অনেক রকম জটিলতা থাকে।

যেমন- ওয়ার্ড কমিশনারের কোথায় অফিস, অফিস পেলেও কমিশনারকে ঠিকমতো পাওয়া যায় না, তাদের থেকে সেবা পেতে অনেক সময় লাগে। তাই যারা কমিশনার হবেন তারা যেন তৎপর হয় সেবা দিতে, যে সেবাগুলো নাগরিকদের প্রাপ্য। মোট কথা, তিনটি দাবি আমি জানাচ্ছি- নগরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, যানজট নিরসন করা এবং সেবাকে সহজলভ্য করা।

শহরের সেবাগুলো সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে চলুক

সামাজিক কর্মী, নারীবাদী এবং পরিবেশবাদী খুশি কবীর যুগান্তরকে বলেন, বাসযোগ্য একটা সভ্য ঢাকা চাই। সেখানে যেন আইন-শৃঙ্খলা মানা হয়, ট্রাফিক মানা হয়। মানুষের জীবন-যাপন থেকে রাস্তাঘাট সবকিছু অর্থাৎ মানুষের বাসস্থানের যেন নিশ্চয়তা থাকে এরকম ঢাকা চাই। যেখানে সব মানুষের একটা জায়গা থাকে, নিশ্চয়তা থাকে।

আর যে মেয়র কাজ করতে পারবে সেই মেয়র চাই। এখন সবাই মেয়র নির্বাচন করে। কিন্তু শহরের পানি, গ্যাসসহ সেবাগুলো বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে। সুতারং মেয়র শুধু নামে, ওরকম মেয়র চাই না।

এ রকম মেয়র চাই যে আসলেই পুরোপুরো দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে পারবে। এখন তো মেয়ররা অজুহাতও দিতে পারেন যে, কাজ করতে পারেন না। সেটাও সত্য কারণ সেবাগুলো অন্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে। তাই আমি মনে করি, সেবাগুলো মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকতে সমস্যা নেই। কিন্তু তা সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে এবং কথা অনুসারে চলবে। মানে স্থানীয় সরকার যে রকম হওয়া উচিত সে রকম হবে।

মেয়রের আন্তরিকতা থাকলে এবং সময় দিলে সমস্যা কমান সম্ভব

সাংবাদিক, কলামিস্ট, গবেষক, প্রাবন্ধিক ও লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ যুগান্তরকে বলেন, সবাই তো ভালো মেয়র চায়। যে দক্ষ, যোগ্য এবং নিবেদিত। কিন্তু আমাদের দেশে প্রথাগত চলছে সব। ঢাকা একটা সমস্যা জর্জরিত নগরী। সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ একটি নগরী। এখানে ওয়াশা থেকে শুরু করে অনেক এজেন্সি কাজ করে।

নগর কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে কোনো এজেন্সিই নাই। তারফলে নগর কর্তৃপক্ষ যদি সেবা দিতে চায়, তাহলে বিভিন্ন যে সংস্থাগুলো আছে সেই সংস্থার সহযোগিতা ছাড়া এবং সমন্বয় ছাড়া এর কিছু করতে পারবে না যত প্রতিশ্রুতিই দেয়া হোক না কেন। আমাদের দেশের প্রথা হল নির্বাচনের আগে অনেক রকম প্রতিশ্রুতি দেয়া। এগুলো প্রথাগত কাজ আর আসল কাজ হল প্রধান প্রধান সমস্যা সমাধান করা।

যেমন ধরুন, গণযোগাযোগ ব্যবস্থা। এটা একটি চরম অরাজগতার মধ্যে পড়েছে। তারপরে ঢাকা অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন নগরী, অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর নগরী।

এ কাজগুলো নগর কর্তৃপক্ষ যে করবেন, একা করতে পারবেন না। তারা অন্যান্য সংস্থার সহযোগিতা নিয়ে করবেন। কিন্তু এখন নির্বাচনের আগে যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন এ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন কিভাবে করবেন সেটা কেউ বলছেন না। প্রতিশ্রুতি দেয়া এক কথা আর কাজের অগ্রগতি অন্য কথা। সুতারং নির্বাচনের আগে এ রকম প্রচারণা এটা গতানুগতিক কাজ।

সেই রকমের মেয়র দরকার যিনি নগরীর সমস্যাগুলো জানবেন। মেয়রকে সমস্যাগুলো উপলব্ধি করতে হবে। সে ধরনের মেয়র আমাদের দরকার যিনি সার্বক্ষণিক নগরের সমস্যা নিয়ে সময় দিতে পারেন।

৭০-৮০ বছর আগের যারা নগরের প্রধান ছিলেন তারা কিন্তু সারাদিন এ নগর নিয়েই থাকতেন। আর এখনকার মেয়রদের অবস্থা হল- কোনো দিন অফিসে গেলেন, কোনো দিন গেলেন না, এরকম। আন্তরিকতা থাকলে এবং সার্বক্ষণিক যদি সমস্যা নিয়ে মেয়র কাজ করেন তাহলে অনেক সমস্যা কমিয়ে আনা সম্ভব।