তরুণ লেখকদের কথা
jugantor
তরুণ লেখকদের কথা

   

১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বই ও মানুষকেও কায়দা করে বাঁচতে হয়

ইমরান মাহফুজ, কবি ও গবেষক

অমর একুশে গ্রন্থমেলা তারুণ্যের জোয়ারে ভাসছে। কী লেখক, কী প্রকাশক, কী পাঠক। সবখানেই তারুণ্যের জয়। কিন্তু কোথাও যেন একটা দম আটকে আছে, প্রাণ নেই! সরাসরি কিছু বলছে না, সাবলিলতার কমতি! অনেক কথা বলার থাকলেও স্বস্তিবোধ করছে না! আবার নগরে যান চলাচলে অস্থির পরিস্থিতির কারণে দলবেঁধে যেভাবে তরুণদের আসার কথা ছিল সেভাবে আসছেন না। এতে একইভাবে প্রকাশকরাও খুব বেশি আশাবাদী হতে পারছেন না। এসব সমস্যার সমাধান কত দূর? সে কি অধরা! এবার আমার দ্বিতীয় কবিতার বই বের হয়েছে নাম দিয়েছি কায়দা করে বেঁচে থাকো। পৃথিবীর সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর মানুষটিকেও টিকে থাকতে হয় কায়দা করে। কায়দা না জানলে গ্রাম, নগর, অফিস, বিদ্যালয়, মন্ত্রণালয় থেকে সংসারেও টিকে থাকা প্রায়ই অসম্ভব! তারপরও জীবন আনন্দের সঙ্গে কাটুক, বন্ধু হোক বই। বইমেলা ভরে যাক প্রাণে প্রাণে।

মেলায় ভালোটাই এবার বেশি

ইশতিয়াক আহমেদ, লেখক

বইমেলা আমার কাছে বরাবরের মতোই একটা মিশ্র ব্যাপার। এখানে ভালোলাগার ব্যাপার যেমন আছে, তেমনি থাকে কিছু হতাশার বিষয়ও। এবারের মেলা বিগত সব বছরের চেয়ে দৃষ্টিনন্দন হলেও শহরব্যাপী মেট্রোরেলের গতিপথ বাংলা একাডেমির রাস্তায় চলে আসার কারণে মেলায় ঢুকতেই যে একটা প্রশান্তি থাকত সবসময় সেটা এবার পাচ্ছি না। এটা একজন পাঠক দর্শনার্থীর কথা হলেও সবশেষে লেখক হিসেবে বলতে হয়, একটা গোছানো ও সুন্দর মেলা হচ্ছে এবার। স্টল বিন্যাস, স্টলের মাঝখানে প্রচুর স্পেস এবং অনেক প্রবেশপথ লেখকদের বইয়ের কাছাকাছি নিয়ে আসছে পাঠকদের। বিক্রিও ভালো জানাচ্ছেন প্রকাশকরা। সবমিলিয়ে মেলায় ভালোটাই এবার বেশি।

মানসম্মত বই বের হচ্ছে কি না

সে প্রশ্নটা খুবই যুক্তিযুক্ত

আব্দুল্লাহ আল ইমরান, ঔপন্যাসিক

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে যতগুলো সার্বজনীন উৎসব আছে তার মধ্যে বইমেলা অন্যতম। এবার বইমেলার পরিস্থিতি পরিবেশ আগের থেকে খোলামেলা। তবে নিরাপত্তার অজুহাতে বইমেলায় প্রবেশের জায়গাগুলো সংকুচিত হয়ে গেছে। ভেতরে স্টল খুঁজে পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ এক একটা স্টলের একেক ধরনের নাম্বার। আমি ফ্রাংকফুট বইমেলা ঘুরে এসেছি দেখেছি বিশাল কর্মযজ্ঞ। লাখ লাখ মানুষ কিন্তু অনেক স্টল। মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে এক ক্লিকেই আমি আমার কাঙ্ক্ষিত স্টলটি খুঁজে বের করতে পেরেছি। এ রকম টেকনোলজি ব্যবহার করা জরুরি আমাদের বইমেলার ক্ষেত্রে। আর সবচেয়ে বেশি খারাপ লেগেছে যেটি সেটি হল, আমাদের প্রকাশক যারা তারা বইয়ের মানের দিকে গুরুত্ব না দিয়ে কিছুটা ব্যবসায়িক চিন্তাভাবনার দিকে জড়িয়ে গেছেন। অনেক প্রকাশনীর সম্পাদনা পরিষদ না থাকায় মানসম্মত বই বের হচ্ছে কি না সে প্রশটা খুবই যুক্তিযুক্তভাবে স্পষ্ট হয়েছে।

তরুণ লেখকদের কথা

  
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বই ও মানুষকেও কায়দা করে বাঁচতে হয়

ইমরান মাহফুজ, কবি ও গবেষক

অমর একুশে গ্রন্থমেলা তারুণ্যের জোয়ারে ভাসছে। কী লেখক, কী প্রকাশক, কী পাঠক। সবখানেই তারুণ্যের জয়। কিন্তু কোথাও যেন একটা দম আটকে আছে, প্রাণ নেই! সরাসরি কিছু বলছে না, সাবলিলতার কমতি! অনেক কথা বলার থাকলেও স্বস্তিবোধ করছে না! আবার নগরে যান চলাচলে অস্থির পরিস্থিতির কারণে দলবেঁধে যেভাবে তরুণদের আসার কথা ছিল সেভাবে আসছেন না। এতে একইভাবে প্রকাশকরাও খুব বেশি আশাবাদী হতে পারছেন না। এসব সমস্যার সমাধান কত দূর? সে কি অধরা! এবার আমার দ্বিতীয় কবিতার বই বের হয়েছে নাম দিয়েছি কায়দা করে বেঁচে থাকো। পৃথিবীর সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর মানুষটিকেও টিকে থাকতে হয় কায়দা করে। কায়দা না জানলে গ্রাম, নগর, অফিস, বিদ্যালয়, মন্ত্রণালয় থেকে সংসারেও টিকে থাকা প্রায়ই অসম্ভব! তারপরও জীবন আনন্দের সঙ্গে কাটুক, বন্ধু হোক বই। বইমেলা ভরে যাক প্রাণে প্রাণে।

মেলায় ভালোটাই এবার বেশি

ইশতিয়াক আহমেদ, লেখক

বইমেলা আমার কাছে বরাবরের মতোই একটা মিশ্র ব্যাপার। এখানে ভালোলাগার ব্যাপার যেমন আছে, তেমনি থাকে কিছু হতাশার বিষয়ও। এবারের মেলা বিগত সব বছরের চেয়ে দৃষ্টিনন্দন হলেও শহরব্যাপী মেট্রোরেলের গতিপথ বাংলা একাডেমির রাস্তায় চলে আসার কারণে মেলায় ঢুকতেই যে একটা প্রশান্তি থাকত সবসময় সেটা এবার পাচ্ছি না। এটা একজন পাঠক দর্শনার্থীর কথা হলেও সবশেষে লেখক হিসেবে বলতে হয়, একটা গোছানো ও সুন্দর মেলা হচ্ছে এবার। স্টল বিন্যাস, স্টলের মাঝখানে প্রচুর স্পেস এবং অনেক প্রবেশপথ লেখকদের বইয়ের কাছাকাছি নিয়ে আসছে পাঠকদের। বিক্রিও ভালো জানাচ্ছেন প্রকাশকরা। সবমিলিয়ে মেলায় ভালোটাই এবার বেশি।

মানসম্মত বই বের হচ্ছে কি না

সে প্রশ্নটা খুবই যুক্তিযুক্ত

আব্দুল্লাহ আল ইমরান, ঔপন্যাসিক

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে যতগুলো সার্বজনীন উৎসব আছে তার মধ্যে বইমেলা অন্যতম। এবার বইমেলার পরিস্থিতি পরিবেশ আগের থেকে খোলামেলা। তবে নিরাপত্তার অজুহাতে বইমেলায় প্রবেশের জায়গাগুলো সংকুচিত হয়ে গেছে। ভেতরে স্টল খুঁজে পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ এক একটা স্টলের একেক ধরনের নাম্বার। আমি ফ্রাংকফুট বইমেলা ঘুরে এসেছি দেখেছি বিশাল কর্মযজ্ঞ। লাখ লাখ মানুষ কিন্তু অনেক স্টল। মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে এক ক্লিকেই আমি আমার কাঙ্ক্ষিত স্টলটি খুঁজে বের করতে পেরেছি। এ রকম টেকনোলজি ব্যবহার করা জরুরি আমাদের বইমেলার ক্ষেত্রে। আর সবচেয়ে বেশি খারাপ লেগেছে যেটি সেটি হল, আমাদের প্রকাশক যারা তারা বইয়ের মানের দিকে গুরুত্ব না দিয়ে কিছুটা ব্যবসায়িক চিন্তাভাবনার দিকে জড়িয়ে গেছেন। অনেক প্রকাশনীর সম্পাদনা পরিষদ না থাকায় মানসম্মত বই বের হচ্ছে কি না সে প্রশটা খুবই যুক্তিযুক্তভাবে স্পষ্ট হয়েছে।