পাঠক-দর্শক প্রতিক্রিয়া
jugantor
পাঠক-দর্শক প্রতিক্রিয়া

   

১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মেলায় পর্যাপ্ত স্যানিটেশনের ঘাটতি

প্রতিবছরের মতো এবারও বইমেলায় উপচে পড়া ভিড়। নতুন লেখকদের প্রকাশনীর মাত্রাতিরিক্ত কমিশনের প্রভাব পড়ছে পাঠকদের ঘাড়েও। বাংলা একাডেমির উচিত মেলায় প্রকাশিত বইগুলোর কিছু ন্যূনতম মানদণ্ড বিবেচনা করে লেখা প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করা। এর বাইরে এবারের বই মেলায় আইনি-কাঠামোর তত্ত্বাবধানগত দিক ঠিক থাকলেও (সোহরাওয়ার্দী এবং বাংলা একাডেমির) খাবারের মানের থেকে মূল্য অনেক বেশি। মেট্রোরেলের কারণে যাতায়াতের বিঘ্নতা থাকার পাশাপাশি ধূলি-বালি সৃষ্টি করছে নানা সংক্রামকও। তা ছাড়া পর্যাপ্ত স্যানিটেশনের ঘাটতিও পরিলক্ষিত হয়। বিষয়গুলোর প্রতি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছি।

ফাতেমাতুজ জোহরা এলি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

বইয়ের দাম অন্য বছরের তুলনায় বেশি

এবারের বইমেলার পরিসর, চলাফেরা, বসার জায়গা সন্তোষজনক হলেও এর মধ্যে ভোগান্তির পরিমাণও কম নেই। ফার্মগেট থেকে শাহবাগ হয়ে টিএসসি কিংবা মতিঝিল-পুরান ঢাকা থেকে দোয়েলচত্বর হয়ে মেলা প্রাঙ্গণে আসতে মেট্রোরেলের কাজের জন্য দীর্ঘ যানজট ও ধুলা-বালিময় পরিবেশে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বইপ্রেমীদের। প্রত্যেকেরই অভিযোগ, এ বছর বইয়ের দাম অন্য বছরের তুলনায় বেশি। নতুন বইয়ের পাশাপাশি পুরনো বইয়ের দাম চড়া। এ ক্ষেত্রে প্রকাশকদের কথা, কাগজের দাম হিসাব করলে দাম না বাড়িয়ে উপায় নেই। কিন্তু ২৫ শতাংশ কমিশন বইপ্রেমীদের জন্য কম বলেই মনে হয়। আমি মনে করি, বাজার দর অনুযায়ী বইয়ের মূল্য পাঠকদের ক্রয় ক্ষমতার ভেতরে থাকা উচিত।

আরজু আক্তার ইমা, বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

বইমেলা মনের খোরাক মেটায়

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষাকে সামনে রেখে শুরু হয়েছে ‘অমর একুশে বইমেলা’ যা অধিক সৌন্দর্যমণ্ডিত হয়েছে ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবসের ছোঁয়ায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বইমেলা অনুষ্ঠিত হওয়ায় বইমেলাতে শিক্ষার্থীদের আনাগোনা সবসময় লক্ষ করা যায়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ বিশেষ করে টিএসসিতে সব সময় একটা উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা, সার্বিক পরিস্থিতি বেশ প্রশংসনীয়। বইমেলার ভিড় ক্রমেই বেড়ে চলেছে, শেষের দিকে আরও বাড়বে বলে মনে হচ্ছে। বইমেলাতে কেউ আসে বই কিনতে, কেউ দেখতে, কেউ বা ছবি তুলতে বা নিছক আনন্দের জন্য কেননা বইমেলা মনের খোরাক মেটায়।

তাজমিনা ইয়াসমিন মুন্নি, শিক্ষার্থী

আবারও জোয়ার আসুক মূলধারার সাহিত্যে

গত কয়েক বছরের বইমেলারই সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে কেন্দ্র করে বিখ্যাত হয়ে ওঠা মানুষজনের বই প্রকাশের মাত্রাধিক্যতা। সেই বইয়ের মান নিয়েও প্রশ্ন তোলার উপায় নেই। কেননা, ইতিমধ্যেই তারা বিখ্যাত হওয়ায় দেদারসে বিক্রিও হয়ে চলেছে তাদের বই। ভালোমানের গল্প, উপন্যাস, কবিতার বইয়ের বিক্রি যেন প্রতিনিয়তই কমছে। এর মাঝে প্রথিতযশা সাহিত্যিক বা নবীন লেখকের মাঝে যারা সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয় তারা ছাড়া নতুন কবি, সাহিত্যিকদের উঠে আসা দিন দিন হয়ে উঠছে আরও কষ্টকর। পাঠকও বঞ্চিত হচ্ছে ভালো মানের মূলধারার সাহিত্য থেকে। তাই সবার প্রতি আহ্বান নতুন লেখকদের বই কিনুন, শুধু অনুপ্রেরণামূলক বই নয় কিছু গল্প, কবিতার বইও পড়ুন।

মবিন মজুমদার, শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

পাঠক-দর্শক প্রতিক্রিয়া

  
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মেলায় পর্যাপ্ত স্যানিটেশনের ঘাটতি

প্রতিবছরের মতো এবারও বইমেলায় উপচে পড়া ভিড়। নতুন লেখকদের প্রকাশনীর মাত্রাতিরিক্ত কমিশনের প্রভাব পড়ছে পাঠকদের ঘাড়েও। বাংলা একাডেমির উচিত মেলায় প্রকাশিত বইগুলোর কিছু ন্যূনতম মানদণ্ড বিবেচনা করে লেখা প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করা। এর বাইরে এবারের বই মেলায় আইনি-কাঠামোর তত্ত্বাবধানগত দিক ঠিক থাকলেও (সোহরাওয়ার্দী এবং বাংলা একাডেমির) খাবারের মানের থেকে মূল্য অনেক বেশি। মেট্রোরেলের কারণে যাতায়াতের বিঘ্নতা থাকার পাশাপাশি ধূলি-বালি সৃষ্টি করছে নানা সংক্রামকও। তা ছাড়া পর্যাপ্ত স্যানিটেশনের ঘাটতিও পরিলক্ষিত হয়। বিষয়গুলোর প্রতি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছি।

ফাতেমাতুজ জোহরা এলি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

বইয়ের দাম অন্য বছরের তুলনায় বেশি

এবারের বইমেলার পরিসর, চলাফেরা, বসার জায়গা সন্তোষজনক হলেও এর মধ্যে ভোগান্তির পরিমাণও কম নেই। ফার্মগেট থেকে শাহবাগ হয়ে টিএসসি কিংবা মতিঝিল-পুরান ঢাকা থেকে দোয়েলচত্বর হয়ে মেলা প্রাঙ্গণে আসতে মেট্রোরেলের কাজের জন্য দীর্ঘ যানজট ও ধুলা-বালিময় পরিবেশে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বইপ্রেমীদের। প্রত্যেকেরই অভিযোগ, এ বছর বইয়ের দাম অন্য বছরের তুলনায় বেশি। নতুন বইয়ের পাশাপাশি পুরনো বইয়ের দাম চড়া। এ ক্ষেত্রে প্রকাশকদের কথা, কাগজের দাম হিসাব করলে দাম না বাড়িয়ে উপায় নেই। কিন্তু ২৫ শতাংশ কমিশন বইপ্রেমীদের জন্য কম বলেই মনে হয়। আমি মনে করি, বাজার দর অনুযায়ী বইয়ের মূল্য পাঠকদের ক্রয় ক্ষমতার ভেতরে থাকা উচিত।

আরজু আক্তার ইমা, বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

বইমেলা মনের খোরাক মেটায়

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষাকে সামনে রেখে শুরু হয়েছে ‘অমর একুশে বইমেলা’ যা অধিক সৌন্দর্যমণ্ডিত হয়েছে ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবসের ছোঁয়ায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বইমেলা অনুষ্ঠিত হওয়ায় বইমেলাতে শিক্ষার্থীদের আনাগোনা সবসময় লক্ষ করা যায়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ বিশেষ করে টিএসসিতে সব সময় একটা উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা, সার্বিক পরিস্থিতি বেশ প্রশংসনীয়। বইমেলার ভিড় ক্রমেই বেড়ে চলেছে, শেষের দিকে আরও বাড়বে বলে মনে হচ্ছে। বইমেলাতে কেউ আসে বই কিনতে, কেউ দেখতে, কেউ বা ছবি তুলতে বা নিছক আনন্দের জন্য কেননা বইমেলা মনের খোরাক মেটায়।

তাজমিনা ইয়াসমিন মুন্নি, শিক্ষার্থী

আবারও জোয়ার আসুক মূলধারার সাহিত্যে

গত কয়েক বছরের বইমেলারই সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে কেন্দ্র করে বিখ্যাত হয়ে ওঠা মানুষজনের বই প্রকাশের মাত্রাধিক্যতা। সেই বইয়ের মান নিয়েও প্রশ্ন তোলার উপায় নেই। কেননা, ইতিমধ্যেই তারা বিখ্যাত হওয়ায় দেদারসে বিক্রিও হয়ে চলেছে তাদের বই। ভালোমানের গল্প, উপন্যাস, কবিতার বইয়ের বিক্রি যেন প্রতিনিয়তই কমছে। এর মাঝে প্রথিতযশা সাহিত্যিক বা নবীন লেখকের মাঝে যারা সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয় তারা ছাড়া নতুন কবি, সাহিত্যিকদের উঠে আসা দিন দিন হয়ে উঠছে আরও কষ্টকর। পাঠকও বঞ্চিত হচ্ছে ভালো মানের মূলধারার সাহিত্য থেকে। তাই সবার প্রতি আহ্বান নতুন লেখকদের বই কিনুন, শুধু অনুপ্রেরণামূলক বই নয় কিছু গল্প, কবিতার বইও পড়ুন।

মবিন মজুমদার, শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়