রাজধানীর ঘাটে ঘাটে অপরাধীর ফাঁদ
jugantor
রাজধানীর ঘাটে ঘাটে অপরাধীর ফাঁদ

  যাকারিয়া ইবনে ইউসুফ  

০৩ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চারশ বছরের পুরনো এ শহর শুধু বাংলাদেশ নয় বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। জীবন-জীবিকার সন্ধানে প্রতিদিনই ঢাকামুখী হচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। প্রায় দুই কোটি মানুষের এ ঢাকা শহরের যেমন রয়েছে নানা সৌন্দর্য আর গল্প তেমনি এর উল্টো পিঠও দেখছেন অনেকে।

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ঘনবসতির এ শহরে পদে পদে ফাঁদ পেতে রেখেছেন সংঘবদ্ধ অপরাধীরা। গ্রাম থেকে আসা সহজ-সরল মানুষকে টার্গেট করে এসব অপরাধী চক্রের ফাঁদে প্রতিনিয়ত সর্বস্ব হারাচ্ছেন কেউ কেউ। চলতি পথে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি, পকেটমার, ছিনতাইকারী, থুথু পার্টি, ধাক্কা পার্টি, সালাম পার্টি, টানা পার্টিসহ বিভিন্ন নামে, বিভিন্ন স্টাইলে ওঁৎ পেতে আছে অপরাধীরা। অনেক সময় ঘটছে প্রাণহানির ঘটনাও।

টানা পার্টি-ছিনতাই আতঙ্ক

গত শনিবার ভোরে রাজধানীর মুগদায় ছিনতাইকারী ব্যাগ ধরে টান দিলে রিকশা থেকে পড়ে তারিনা বেগম লিপি (৩৮) নামে এক নারী প্রাণ হারান। নিহতের আত্মীয় আদনান তাহের জানান, ২৪ ফেব্রুয়ারি লিপিরা সপরিবারে তাদের সবুজবাগ দক্ষিণ রাজারবাগ এলাকার বাসায় বেড়াতে আসে। শনিবার ভোরে সিলেট যাওয়ার উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয়। বাসার সামনে থেকে তাদের রিকশায় তুলে দেয়া হয় কমলাপুর স্টেশনে যাওয়ার উদ্দেশে। দুই রিকশা নিয়ে তারা যাচ্ছিলেন।

এক রিকশায় ছিলেন লিপি ও তার বড় ছেলে শাহরিয়ার রিংকি (১৫) অন্য রিকশায় গোলাম কিবরিয়া ও মেয়ে তামিসা বিনতে কিবরিয়া (৬)। তারা রিকশা নিয়ে মুগদা স্টেডিয়াম এলাকায় পৌঁছলে দুই-তিনজন ছিনতাইকারী লিপির হাতে থাকা ব্যাগ ধরে টান দেয়। এ সময় ব্যাগসহ রিকশা থেকে নিচে পড়ে গিয়ে মাথা ফেটে যায় ও অজ্ঞান হয়ে যান লিপি। পরে হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রতিনিয়ত রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে টানা পার্টির খপ্পরে পড়ে মোবাইল, ল্যাপটপ, ব্যাগ, স্বর্ণলঙ্কারসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় মূল্যবান জিনিসপত্র হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়লেও টানা পার্টির দৌরাত্ম্য কমেনি।

রাজধানীতে পথেঘাটে ছোঁ মেরে ব্যাগ, মোবাইলসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িতদের ৮০ শতাংশ সদস্যই মাদকাসক্ত। পুলিশ বলছে, সংঘবদ্ধ চক্রের পাশাপাশি খণ্ডকালীন অপরাধীরা ছিনতাইয়ে জড়াচ্ছে। মূলত মাদকের টাকা জোগাড় করতেই তারা এ পথ বেছে নিচ্ছে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বহুল আলোচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত মজনুও একজন মাদকাসক্ত এবং ভবঘুরে।

হিজড়া বিড়ম্বনা

ব্যস্ত রাজধানীর অনেক এলাকায় চোখে পড়ে হিজড়াদের গতিবিধি। অনেক ক্ষেত্রেই অসহায় অবস্থায় পড়তে হয় পথচারীদের। হিজড়ারা বিভিন্ন দল ও সংগঠনের নামে বিভক্ত হয়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি করছেন। ইদানীং তাদের মাত্রাতিরিক্ত অসদাচরণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন নগরবাসী। ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা, হিজড়াদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ করেও কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না, যে কারণে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছেন।

বিভিন্ন ওভারবিব্রজের নিচে, স্কুল-কলেজের সামনে, রাস্তার পাশে দোকানে, ফুটপাতের দোকানে জোর করে তারা টাকা আদায় করছেন। বাসাবাড়ি গিয়েও হিজড়ারা চাঁদা চাচ্ছেন, টাকা না দিলে হুমকিসহ নানা ধরনের অশ্লীল ভাষা ও অঙ্গভঙ্গি করে এক ধরনের অস্বস্তিকর চাপ সৃষ্টি করে টাকা-পয়সা দিতে বাধ্য করছেন তারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, হিজড়াদের বিরুদ্ধে লিখিতভাবে অভিযোগ পাওয়া গেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

হিজড়াদের টাকা তোলার বিষয়টি নতুন কিছু নয়। আগে মানুষ যা দিত, তা নিয়েই খুশি থাকতেন হিজড়ারা। কিন্তু ইদানীং তাদের আচরণ বদলে গেছে। রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ি, দোকানপাট যেখানে-সেখানে টাকার জন্য মানুষকে নাজেহাল করছে তারা।

হিজড়াদের কয়েকজন অভিযোগ করছেন, রাজধানীতে অনেক ‘নকল’ হিজড়া আছে, যাদের মূল উদ্দেশ্য মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিনা পরিশ্রমে অর্থ উপার্জন করা। ট্রাফিক সংকেতে যানবাহন থামার পর হিজড়ারা সামনে এসে দাঁড়ালে যাত্রীদের কিছু করার থাকে না। রাজধানীর বিভিন্ন সিগন্যালে দলবেঁধে ওঁৎ পেতে থাকে হিজড়ার দল। রাজধানীর শাহবাগ সিগন্যাল, পান্থপথ সিগন্যাল, বিজয় সরণি সিগন্যাল, হাতিরঝিল (এফডিসি) সিগন্যালে হিজড়ারা প্রকাশ্যে টাকা আদায় করে। টাকা না দিয়ে তাদের সঙ্গে তর্ক করতে গেলেই বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়।

এ ছাড়া ঢাকার যে কোনো প্রান্তে কোনো বাড়িতে নবজাতকের আগমনী বার্তা পেলেই হুমড়ি খেয়ে পড়েন হিজড়ারা। নিজস্ব ভঙ্গির নাচ-গানের পর বকশিশের দাবি। তাদের বঞ্চনা। পরিস্থিতি ঘোলাটে হতে থাকে। গৃহস্থ তখন রীতিমতো বিব্রত। পুরোপুরি জিম্মি হয়ে পড়েন তিনি। পরিশেষে নানারকম ভয়ভীতি দেখিয়েও আর অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে হাতিয়ে নেন হাজার হাজার টাকা। এ জন্য কোনো বাসায় বাচ্চা হলে বাবা-মা যতটা পারেন খবরটা গোপন রাখার চেষ্টা করেন।

কেননা জানাজানি হলে হিজড়াদের হাত থেকে রেহাই নেই। তবে হিজড়া নেতারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তারা বলছেন, কেউ তাদের কাজ দিতে চায় না। মানুষের সাহায্য-সহযোগিতা নিয়েই চলতে হয়।

নিশিকন্যাদের ফাঁদ

সুন্দরী ‘কলগার্ল রূপী’ সুন্দরী নিশিকন্যাদের ফাঁদে পড়ে নানা কৌশলে নিয়মিত মাশুল দিচ্ছে রাজধানী নানা পেশার মানুষ। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রমনা পার্ক, চন্দ্রিমা উদ্যান, বলধাগার্ডেন, শাহবাগ শিশু পার্ক, ইন্দিরা রোডের ফুটপাত, গ্রিন রোড, কাকরাইল মোড়, মতিঝিল এলাকায় শিকার ধরার জন্য ঘুরে বেড়ায় এসব ভাসমান সুন্দরী কলগার্ল। বিশেষ করে সন্ধ্যা হলেই রিকশা কিংবা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তারা শিকারের আশায় বসে থাকে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাতের সুন্দরীদের বড় একটি অংশ চিহ্নিত দুর্ধর্ষ অপরাধীর হয়ে কাজ করে।

বিভিন্ন ঘটনা থেকে জানা যায়, সুন্দরী মহিলারা কুকর্মের প্রস্তাব দিয়ে প্রথমে খদ্দের খোঁজেন। তবে সুবিধাজনক ফাঁকা জায়গায় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার দলের অপরাধীরা সুন্দরীসহ পুরুষ সঙ্গীকে ঘিরে ফেলে। এরপর পুরুষটির কাছ থেকে মোবাইল ফোন, হাতঘড়ি ও মানিব্যাগসহ মূল্যবান যা কিছু থাকে তার সবাই ছিনিয়ে নেয়।

জানা গেছে, সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, এটিএম বুথের নৈশ প্রহরীদের সামনে টোপ হিসেবে সুন্দরী ঠেলে দেয়। যে কয়েকটি এটিএম বুথে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে তার প্রতিটির নেপথ্যে রয়েছে সুন্দরী কলগার্লের উপস্থিতি। নৈশ প্রহরীকে অসামাজিক কাজে প্রলুব্ধ করে কলগার্ল রূপী সুন্দরী। এরপরই সংঘটিত হয় অপরাধ। ডাকাতি-ছিনতাই মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, সুন্দরী কলগার্ল মানেই শুধু কলগার্ল নয়। আড়ালে এদের অনেকেই রাতে ভয়ঙ্কর রূপে ধরা দেয়। অপরাধ চক্রের পুরুষ সদস্যরা কলগার্লের আশপাশে ঘুরে বেড়ায়। কলগার্ল রূপী সুন্দরী এবং তাদের দলের পুরুষ সদস্যদের থেকে সাবধান না থাকলে যে কোনো সময় বিপদ ঘটে যেতে পারে।

মজমা বসিয়ে প্রতারণা

রাজধানীসহ দেশের বড় বড় শহরগুলোয় প্রতারক চক্র সক্রিয়। প্রতারকরা বিভিন্ন জাদু, ভেল্কিবাজি আর জিনের দোহাই দিয়ে মজমা বসিয়ে বিক্রি করছে ক্ষতিকর ওষুধ, মালিশ, নামসর্বস্ব পাথরসহ অনেক কিছু। তাদের প্রতারণায় সর্বস্ব হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। মজমা জমিয়ে পরে ওষুধ বিক্রি, তাবিজ-কবচ বিক্রির বিষয়টি অনেক পুরনো। বিভিন্ন রকম জাদু খেলা বা ওষুধ বিক্রির মজমাগুলো সাধারণত এমন জায়গায় বসানো হয় যেখানে গ্রামের সহজ-সরল মানুষের আনাগোনা বেশি।

রাজধানীসহ দেশের শহর-বন্দরে বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড, লঞ্চঘাট, বিভিন্ন মাজারের সামনে এসব মজমা বেশি দেখা যায়। এসব এলাকায় সাধারণত সদ্য শহরে আসা, অর্ধশিক্ষিত লোকের আনাগোনা বেশি থাকে বলে মজমার ক্যানভাসাররা সহজেই তাদের ফাঁদে ফেলতে পারে। এসব ফাঁদে পড়ে প্রতিনিয়তই নদগ অর্থ খোয়াচ্ছেন সাধারণ মানুষ। রাজধানী ঢাকায় গত শুক্রবার অনুসন্ধান চালাতে ফার্মগেটের একটি মজমায় উপস্থিত হলে অজ্ঞাত কারণে এ প্রতিবেদককে কাছে যেতে দেয়া হয়নি। পরের দিন সহযোগী প্রতিবেদককে সঙ্গে নিয়ে অতিসাধারণ পোশাকে লুঙ্গি পরে গেলে মজমা উপভোগ করতে কোনো অসুবিধে হয়নি। এভাবেই তারা বেছে বেছে তুলনামূলক সহজ-সরল লোকদের টার্গেট করে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে।

অভিযান : ৪২ ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার

মুগদায় ছিনতাইয়ের সময় নারী মৃত্যুর ঘটনার দিনই টানা কয়েকদিন বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৪২ জন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল বাতেন জানান, গোয়েন্দা পুলিশের ছিনতাই প্রতিরোধে বিশেষ অভিযানে ৪২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ৮৫টি মোবাইল ফোন, চাপাতি উদ্ধার করা হয়।

শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে রিকশা যাত্রীর কাছ থেকে ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়ার সময় ছিটকে পড়ে নারীর মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন পুলিশ কর্মকর্তা বাতেন। এ সময় তিনি খুব দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত রাজধানীতে ছিনতাইকারীদের তৎপরতা বেশি। বিভিন্ন জেলা থেকে বাসে, ট্রেনে, লঞ্চে আসা যাত্রীদের লক্ষ্য করে ওঁৎ পেতে থাকে ছিনতাইকারীরা। যে সব জায়গায় রাস্তার আলো নেই সেখানে তারা আক্রমণ করে। তিনি সবাইকে সচেতন এবং পুলিশের সহযোগিতা নেয়ার আহ্বান জানান। এদিকে রাজধানীর শ্যামলী এলাকায় গত শনিবার রাতে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সন্দেহভাজন এক ছিনতাইকারী নিহতের কথা জানিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য : অভিযান ও নিয়মিত টহল অব্যাহত রয়েছে

ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখার উপকমিশনার মাসুদুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, জিরো ক্রাইম সোসাইটি আসলে কোথাও নেই। সম্প্রতি ছিনতাইয়ের সময় মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এসব মৃত্যু দুঃখজনক। পুলিশ বাহিনী কিন্তু বসে নেই। নগরীর বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত অভিযান, চেকপোস্ট স্থাপনসহ নানাভাবে অপরাধীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। প্রতি মাসেই ডিএমপির অপরাধসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেখানে কিন্তু আমরা বিভিন্ন অপরাধ নিয়ে আলোচনা বা বিশ্লেষণ করি।

টহল পুলিশ ২৪ ঘণ্টাই রাজপথে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার মাধ্যমে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পুলিশের পাশিপাশি সাধারণ জনগণও যেন সচেতন হয় সে জন্য ডিএমপি কিন্তু বিভিন্ন এলাকায় উঠান বৈঠক বা লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে সচেতনতা তৈরি করছে। তিনি বলেন, রাজধানীতে যানজট লেগেই থাকে।

ফলে অপরাধীরা অপরাধকর্ম সংঘটিত করার পর ঠিকভাবে পালাতে পারে কিনা সে বিষয়টিও মাথায় রাখে। ফলে যেখানে একটু মানুষজন কম, নির্জন এলাকা সেখানে ছিনতাই বেশি হয়। রাজধানীতে ভোরের দিকে এ প্রবণতাটা বেশি দেখা যায়। পুলিশ বাহিনী টানা পার্টি, মলম পার্টি, অজ্ঞান পার্টিসহ সব অপরাধীর দৌরাত্ম্য ঠেকাতে নানামুখি পদক্ষেপ নেয়া অব্যাহত রেখেছে। আর ছিনতাইসহ অন্যান্য ঘটনায় পুলিশের শরণাপন্ন হতে হবে।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম যুগান্তরকে বলেন, ছিনতাই অনেকরকম হয়। সে ক্ষেত্রে যারা সংঘবদ্ধভাবে গোলাগুলি করে বড় ধরনের ছিনতাই করেন, লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন তাদের বিরুদ্ধে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে এমন অনেক সংঘবদ্ধ চক্রের হোতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

রাজধানীর ঘাটে ঘাটে অপরাধীর ফাঁদ

 যাকারিয়া ইবনে ইউসুফ 
০৩ মার্চ ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চারশ বছরের পুরনো এ শহর শুধু বাংলাদেশ নয় বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। জীবন-জীবিকার সন্ধানে প্রতিদিনই ঢাকামুখী হচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। প্রায় দুই কোটি মানুষের এ ঢাকা শহরের যেমন রয়েছে নানা সৌন্দর্য আর গল্প তেমনি এর উল্টো পিঠও দেখছেন অনেকে।

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ঘনবসতির এ শহরে পদে পদে ফাঁদ পেতে রেখেছেন সংঘবদ্ধ অপরাধীরা। গ্রাম থেকে আসা সহজ-সরল মানুষকে টার্গেট করে এসব অপরাধী চক্রের ফাঁদে প্রতিনিয়ত সর্বস্ব হারাচ্ছেন কেউ কেউ। চলতি পথে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি, পকেটমার, ছিনতাইকারী, থুথু পার্টি, ধাক্কা পার্টি, সালাম পার্টি, টানা পার্টিসহ বিভিন্ন নামে, বিভিন্ন স্টাইলে ওঁৎ পেতে আছে অপরাধীরা। অনেক সময় ঘটছে প্রাণহানির ঘটনাও।

টানা পার্টি-ছিনতাই আতঙ্ক

গত শনিবার ভোরে রাজধানীর মুগদায় ছিনতাইকারী ব্যাগ ধরে টান দিলে রিকশা থেকে পড়ে তারিনা বেগম লিপি (৩৮) নামে এক নারী প্রাণ হারান। নিহতের আত্মীয় আদনান তাহের জানান, ২৪ ফেব্রুয়ারি লিপিরা সপরিবারে তাদের সবুজবাগ দক্ষিণ রাজারবাগ এলাকার বাসায় বেড়াতে আসে। শনিবার ভোরে সিলেট যাওয়ার উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয়। বাসার সামনে থেকে তাদের রিকশায় তুলে দেয়া হয় কমলাপুর স্টেশনে যাওয়ার উদ্দেশে। দুই রিকশা নিয়ে তারা যাচ্ছিলেন।

এক রিকশায় ছিলেন লিপি ও তার বড় ছেলে শাহরিয়ার রিংকি (১৫) অন্য রিকশায় গোলাম কিবরিয়া ও মেয়ে তামিসা বিনতে কিবরিয়া (৬)। তারা রিকশা নিয়ে মুগদা স্টেডিয়াম এলাকায় পৌঁছলে দুই-তিনজন ছিনতাইকারী লিপির হাতে থাকা ব্যাগ ধরে টান দেয়। এ সময় ব্যাগসহ রিকশা থেকে নিচে পড়ে গিয়ে মাথা ফেটে যায় ও অজ্ঞান হয়ে যান লিপি। পরে হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রতিনিয়ত রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে টানা পার্টির খপ্পরে পড়ে মোবাইল, ল্যাপটপ, ব্যাগ, স্বর্ণলঙ্কারসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় মূল্যবান জিনিসপত্র হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়লেও টানা পার্টির দৌরাত্ম্য কমেনি।

রাজধানীতে পথেঘাটে ছোঁ মেরে ব্যাগ, মোবাইলসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িতদের ৮০ শতাংশ সদস্যই মাদকাসক্ত। পুলিশ বলছে, সংঘবদ্ধ চক্রের পাশাপাশি খণ্ডকালীন অপরাধীরা ছিনতাইয়ে জড়াচ্ছে। মূলত মাদকের টাকা জোগাড় করতেই তারা এ পথ বেছে নিচ্ছে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বহুল আলোচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত মজনুও একজন মাদকাসক্ত এবং ভবঘুরে।

হিজড়া বিড়ম্বনা

ব্যস্ত রাজধানীর অনেক এলাকায় চোখে পড়ে হিজড়াদের গতিবিধি। অনেক ক্ষেত্রেই অসহায় অবস্থায় পড়তে হয় পথচারীদের। হিজড়ারা বিভিন্ন দল ও সংগঠনের নামে বিভক্ত হয়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি করছেন। ইদানীং তাদের মাত্রাতিরিক্ত অসদাচরণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন নগরবাসী। ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা, হিজড়াদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ করেও কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না, যে কারণে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছেন।

বিভিন্ন ওভারবিব্রজের নিচে, স্কুল-কলেজের সামনে, রাস্তার পাশে দোকানে, ফুটপাতের দোকানে জোর করে তারা টাকা আদায় করছেন। বাসাবাড়ি গিয়েও হিজড়ারা চাঁদা চাচ্ছেন, টাকা না দিলে হুমকিসহ নানা ধরনের অশ্লীল ভাষা ও অঙ্গভঙ্গি করে এক ধরনের অস্বস্তিকর চাপ সৃষ্টি করে টাকা-পয়সা দিতে বাধ্য করছেন তারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, হিজড়াদের বিরুদ্ধে লিখিতভাবে অভিযোগ পাওয়া গেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

হিজড়াদের টাকা তোলার বিষয়টি নতুন কিছু নয়। আগে মানুষ যা দিত, তা নিয়েই খুশি থাকতেন হিজড়ারা। কিন্তু ইদানীং তাদের আচরণ বদলে গেছে। রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ি, দোকানপাট যেখানে-সেখানে টাকার জন্য মানুষকে নাজেহাল করছে তারা।

হিজড়াদের কয়েকজন অভিযোগ করছেন, রাজধানীতে অনেক ‘নকল’ হিজড়া আছে, যাদের মূল উদ্দেশ্য মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিনা পরিশ্রমে অর্থ উপার্জন করা। ট্রাফিক সংকেতে যানবাহন থামার পর হিজড়ারা সামনে এসে দাঁড়ালে যাত্রীদের কিছু করার থাকে না। রাজধানীর বিভিন্ন সিগন্যালে দলবেঁধে ওঁৎ পেতে থাকে হিজড়ার দল। রাজধানীর শাহবাগ সিগন্যাল, পান্থপথ সিগন্যাল, বিজয় সরণি সিগন্যাল, হাতিরঝিল (এফডিসি) সিগন্যালে হিজড়ারা প্রকাশ্যে টাকা আদায় করে। টাকা না দিয়ে তাদের সঙ্গে তর্ক করতে গেলেই বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়।

এ ছাড়া ঢাকার যে কোনো প্রান্তে কোনো বাড়িতে নবজাতকের আগমনী বার্তা পেলেই হুমড়ি খেয়ে পড়েন হিজড়ারা। নিজস্ব ভঙ্গির নাচ-গানের পর বকশিশের দাবি। তাদের বঞ্চনা। পরিস্থিতি ঘোলাটে হতে থাকে। গৃহস্থ তখন রীতিমতো বিব্রত। পুরোপুরি জিম্মি হয়ে পড়েন তিনি। পরিশেষে নানারকম ভয়ভীতি দেখিয়েও আর অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে হাতিয়ে নেন হাজার হাজার টাকা। এ জন্য কোনো বাসায় বাচ্চা হলে বাবা-মা যতটা পারেন খবরটা গোপন রাখার চেষ্টা করেন।

কেননা জানাজানি হলে হিজড়াদের হাত থেকে রেহাই নেই। তবে হিজড়া নেতারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তারা বলছেন, কেউ তাদের কাজ দিতে চায় না। মানুষের সাহায্য-সহযোগিতা নিয়েই চলতে হয়।

নিশিকন্যাদের ফাঁদ

সুন্দরী ‘কলগার্ল রূপী’ সুন্দরী নিশিকন্যাদের ফাঁদে পড়ে নানা কৌশলে নিয়মিত মাশুল দিচ্ছে রাজধানী নানা পেশার মানুষ। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রমনা পার্ক, চন্দ্রিমা উদ্যান, বলধাগার্ডেন, শাহবাগ শিশু পার্ক, ইন্দিরা রোডের ফুটপাত, গ্রিন রোড, কাকরাইল মোড়, মতিঝিল এলাকায় শিকার ধরার জন্য ঘুরে বেড়ায় এসব ভাসমান সুন্দরী কলগার্ল। বিশেষ করে সন্ধ্যা হলেই রিকশা কিংবা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তারা শিকারের আশায় বসে থাকে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাতের সুন্দরীদের বড় একটি অংশ চিহ্নিত দুর্ধর্ষ অপরাধীর হয়ে কাজ করে।

বিভিন্ন ঘটনা থেকে জানা যায়, সুন্দরী মহিলারা কুকর্মের প্রস্তাব দিয়ে প্রথমে খদ্দের খোঁজেন। তবে সুবিধাজনক ফাঁকা জায়গায় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার দলের অপরাধীরা সুন্দরীসহ পুরুষ সঙ্গীকে ঘিরে ফেলে। এরপর পুরুষটির কাছ থেকে মোবাইল ফোন, হাতঘড়ি ও মানিব্যাগসহ মূল্যবান যা কিছু থাকে তার সবাই ছিনিয়ে নেয়।

জানা গেছে, সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, এটিএম বুথের নৈশ প্রহরীদের সামনে টোপ হিসেবে সুন্দরী ঠেলে দেয়। যে কয়েকটি এটিএম বুথে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে তার প্রতিটির নেপথ্যে রয়েছে সুন্দরী কলগার্লের উপস্থিতি। নৈশ প্রহরীকে অসামাজিক কাজে প্রলুব্ধ করে কলগার্ল রূপী সুন্দরী। এরপরই সংঘটিত হয় অপরাধ। ডাকাতি-ছিনতাই মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, সুন্দরী কলগার্ল মানেই শুধু কলগার্ল নয়। আড়ালে এদের অনেকেই রাতে ভয়ঙ্কর রূপে ধরা দেয়। অপরাধ চক্রের পুরুষ সদস্যরা কলগার্লের আশপাশে ঘুরে বেড়ায়। কলগার্ল রূপী সুন্দরী এবং তাদের দলের পুরুষ সদস্যদের থেকে সাবধান না থাকলে যে কোনো সময় বিপদ ঘটে যেতে পারে।

মজমা বসিয়ে প্রতারণা

রাজধানীসহ দেশের বড় বড় শহরগুলোয় প্রতারক চক্র সক্রিয়। প্রতারকরা বিভিন্ন জাদু, ভেল্কিবাজি আর জিনের দোহাই দিয়ে মজমা বসিয়ে বিক্রি করছে ক্ষতিকর ওষুধ, মালিশ, নামসর্বস্ব পাথরসহ অনেক কিছু। তাদের প্রতারণায় সর্বস্ব হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। মজমা জমিয়ে পরে ওষুধ বিক্রি, তাবিজ-কবচ বিক্রির বিষয়টি অনেক পুরনো। বিভিন্ন রকম জাদু খেলা বা ওষুধ বিক্রির মজমাগুলো সাধারণত এমন জায়গায় বসানো হয় যেখানে গ্রামের সহজ-সরল মানুষের আনাগোনা বেশি।

রাজধানীসহ দেশের শহর-বন্দরে বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড, লঞ্চঘাট, বিভিন্ন মাজারের সামনে এসব মজমা বেশি দেখা যায়। এসব এলাকায় সাধারণত সদ্য শহরে আসা, অর্ধশিক্ষিত লোকের আনাগোনা বেশি থাকে বলে মজমার ক্যানভাসাররা সহজেই তাদের ফাঁদে ফেলতে পারে। এসব ফাঁদে পড়ে প্রতিনিয়তই নদগ অর্থ খোয়াচ্ছেন সাধারণ মানুষ। রাজধানী ঢাকায় গত শুক্রবার অনুসন্ধান চালাতে ফার্মগেটের একটি মজমায় উপস্থিত হলে অজ্ঞাত কারণে এ প্রতিবেদককে কাছে যেতে দেয়া হয়নি। পরের দিন সহযোগী প্রতিবেদককে সঙ্গে নিয়ে অতিসাধারণ পোশাকে লুঙ্গি পরে গেলে মজমা উপভোগ করতে কোনো অসুবিধে হয়নি। এভাবেই তারা বেছে বেছে তুলনামূলক সহজ-সরল লোকদের টার্গেট করে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে।

অভিযান : ৪২ ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার

মুগদায় ছিনতাইয়ের সময় নারী মৃত্যুর ঘটনার দিনই টানা কয়েকদিন বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৪২ জন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল বাতেন জানান, গোয়েন্দা পুলিশের ছিনতাই প্রতিরোধে বিশেষ অভিযানে ৪২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ৮৫টি মোবাইল ফোন, চাপাতি উদ্ধার করা হয়।

শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে রিকশা যাত্রীর কাছ থেকে ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়ার সময় ছিটকে পড়ে নারীর মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন পুলিশ কর্মকর্তা বাতেন। এ সময় তিনি খুব দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত রাজধানীতে ছিনতাইকারীদের তৎপরতা বেশি। বিভিন্ন জেলা থেকে বাসে, ট্রেনে, লঞ্চে আসা যাত্রীদের লক্ষ্য করে ওঁৎ পেতে থাকে ছিনতাইকারীরা। যে সব জায়গায় রাস্তার আলো নেই সেখানে তারা আক্রমণ করে। তিনি সবাইকে সচেতন এবং পুলিশের সহযোগিতা নেয়ার আহ্বান জানান। এদিকে রাজধানীর শ্যামলী এলাকায় গত শনিবার রাতে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সন্দেহভাজন এক ছিনতাইকারী নিহতের কথা জানিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য : অভিযান ও নিয়মিত টহল অব্যাহত রয়েছে

ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখার উপকমিশনার মাসুদুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, জিরো ক্রাইম সোসাইটি আসলে কোথাও নেই। সম্প্রতি ছিনতাইয়ের সময় মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এসব মৃত্যু দুঃখজনক। পুলিশ বাহিনী কিন্তু বসে নেই। নগরীর বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত অভিযান, চেকপোস্ট স্থাপনসহ নানাভাবে অপরাধীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। প্রতি মাসেই ডিএমপির অপরাধসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেখানে কিন্তু আমরা বিভিন্ন অপরাধ নিয়ে আলোচনা বা বিশ্লেষণ করি।

টহল পুলিশ ২৪ ঘণ্টাই রাজপথে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার মাধ্যমে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পুলিশের পাশিপাশি সাধারণ জনগণও যেন সচেতন হয় সে জন্য ডিএমপি কিন্তু বিভিন্ন এলাকায় উঠান বৈঠক বা লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে সচেতনতা তৈরি করছে। তিনি বলেন, রাজধানীতে যানজট লেগেই থাকে।

ফলে অপরাধীরা অপরাধকর্ম সংঘটিত করার পর ঠিকভাবে পালাতে পারে কিনা সে বিষয়টিও মাথায় রাখে। ফলে যেখানে একটু মানুষজন কম, নির্জন এলাকা সেখানে ছিনতাই বেশি হয়। রাজধানীতে ভোরের দিকে এ প্রবণতাটা বেশি দেখা যায়। পুলিশ বাহিনী টানা পার্টি, মলম পার্টি, অজ্ঞান পার্টিসহ সব অপরাধীর দৌরাত্ম্য ঠেকাতে নানামুখি পদক্ষেপ নেয়া অব্যাহত রেখেছে। আর ছিনতাইসহ অন্যান্য ঘটনায় পুলিশের শরণাপন্ন হতে হবে।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম যুগান্তরকে বলেন, ছিনতাই অনেকরকম হয়। সে ক্ষেত্রে যারা সংঘবদ্ধভাবে গোলাগুলি করে বড় ধরনের ছিনতাই করেন, লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন তাদের বিরুদ্ধে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে এমন অনেক সংঘবদ্ধ চক্রের হোতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।