করোনা থেকে সেরে ওঠার পর
jugantor
করোনা থেকে সেরে ওঠার পর

  অধ্যাপক ডা. শুভাগত চৌধুরী  

০৯ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা থেকে সেরে ওঠার পর অনেকের দীর্ঘস্থায়ী উপসর্গ টিকে থাকাকে ‘পোস্ট-কোভিড সিনড্রোম’ বলেন বিজ্ঞানীরা। এ রোগীরা সেরে উঠলেন, এরপর মাসের পর মাস কিছু উপসর্গের সঙ্গে লড়াই করতে হয় এ রোগীদের।

এমনটি ঘটল খ্যাতনামা এক চিত্রগ্রাহকের জীবনে। একদিন সকালে উঠে দেখলেন, জ্বর আর বুকে প্রচণ্ড চাপ যেন হাতি বসেছে বুকের ওপর। দু’সপ্তাহ অসুস্থ, গৃহবাস। ব্যথার ওষুধ খেয়ে সারল। কিন্তু কাহিনী এখানে শেষ হল না। এ রকম কাহিনী আরও আছে। অনেকের হল ‘কোভিড টো’, কারও মাথায় কেশহানি, কারও স্বাদ ও ঘ্রাণ চেতনা নাছোড় হয়ে থাকল। কারও হল মিনি স্ট্রোক। কারও ডায়াবেটিস সূচিত হল।

ফেসবুক গ্রুপ ‘সার্ভাইবার কপস’ যুক্ত হলেন ইন্ডিয়ানা স্কুল অব মেডিসিনের অধ্যাপকের সঙ্গে এর বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের জন্য। লম্বা পথ পাড়ি দেয়া এসব লোক সম্বন্ধে আরও জানা চই। ১৫০০ লোকের ওপর সমীক্ষা চালনো কেউ কেউ বলেন, তাদের শ্বাসযন্ত্র ও হৃদযন্ত্রের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হয়ে চলেছে, আরও হচ্ছে হাড়ের গিঁটে ব্যথা, র‌্যাশ, পেশিশূল, মাথা ঝিম ঝিম, বিভ্রান্তি, দৃষ্টিভ্রম, বিষণ্নতা ও দুশ্চিন্তারমতো উপসর্গ।

কোভিড-১৯ থেকে আরোগ্য পেয়েছেন এমন লোকদের মধ্যে বেশ দেখা গেছে দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, পেশিশূল ও শরীরে ব্যথা বেদনা, মনোযোগে সমস্যা। এসব সমস্যা পুঞ্জকে বলেছেন বিজ্ঞানীরা ‘পোস্ট কোভিড সিনড্রোম’। টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নায়ুবিজ্ঞানী অধ্যাপকই সথার মেলামেড বলছেন, ক্লান্তি আর অবসন্নতার কারণ বোঝা যাচ্ছে না, তবে সম্ভবত ইমুন ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থা, দেহে প্রদাহ, মগজ ও স্নায়ুতে সরাসরি ক্ষতির জন্য স্নায়ুকোষদের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এসব কারণ হতে পারে।

তবে পোস্ট কোভিড উপসর্গগুলো কোভিড-১৯-এর অনন্য আর নিজস্ব তা এখনও স্পষ্ট নয়। জনহপকিন্সের শ্বাসযন্ত্র রোগ বিশেষজ্ঞ ড. এন পার্কার ক্রিটিক্যাল কেয়ারে থাকার পর সেরে উঠেছেন। তিনি বলেন, গুরুতর সংক্রমণ নিয়ে লড়াই যারা করেছেন তারা পরবর্তীতে মাসের পর মাস ক্লান্ত অবসন্ন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। বুদ্ধিবৃত্তি বা মানসিক ইস্যু সবই হতে পারে।

এমন নয় যারা গুরুতর অসুস্থ তাদের এমন হয়েছে, অনেকে আইসিইউতে ভর্তি হয়নি। অনেক রোগী বলেন, উপসর্গ ছিলো এর উপশম হয়নি।

সার্ভাইভার কপসের প্রতিষ্ঠাতা চিত্রগ্রাহক ব্যারেট, যার অসুখ সেরে যাওয়ার পর ভালো ছিলেন, এরপর এলো রহস্যময় সব উপসর্গ। মধ্যকর্ণে তীব্র ব্যথা মাথাধরা, বমিভাব, ঝাপসা।

কবি এনজেলের মার্চে হল মৃদু কোভিড। ঠাণ্ডা সর্দি হল এরপর হল শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়পড়, বুকব্যথা। পরে নির্ণয় হল কার্ডিও মায়োপ্যাথি। তার হাঁপানি বাড়ল, আর বুক জ্বালাও। আগের সমস্যাগুলো উস্কে দিল কি এই ভাইরাস?

পোস্ট কোভিড বর্তমান চিন্তাভাবনা কী

এখন কেউ নিশ্চিত নন, কোভিড ১৯ হয়েছে এমন ক’জনের এমন অটল দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যা হবে। নিউজার্সির রজার্স রবাট উড জনসন মেডিকেল স্কুলের মেডিসিনের অধ্যাপক বেনন্ড প্যানেটেরি বলেন, তার অনুমান ১০% কোভিড-১৯ রোগীর এমন ক্রনিক সমস্যা হতে পারে।

কেউ খুব অসুস্থ ছিলেন, কারও ছিল অন্যান্য অসুখ যেমন ডায়েবেটিস বা স্থূলতা। তবে সবার নয়। অবিরাম দৈহিক চাপ মানসিক চাপ সঙ্গে সঙ্গে চলে। ‘অসুখ সেরে গেলে মানুষ বিষণ্ন হতে পারে, সেখানে একঘরে থাকা, সামাজিক বিচ্ছন্ন হয়ে থাকাতে তেমন লাভ হয় না।

সুসংবাদ হল, এ রকম দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা নিয়ে অনেকে থাকলে তা চিরস্থায়ী হয় না। অনেক খুব অসুস্থ রোগী তিন-চার মাসের মধ্যে সুস্থ হয়ে কাজেও ফিরেছেন। ধীর ধীরে এরা ভালো হয়ে যায়।

সময় গেলে, অনেক গবেষণা করলে এদের সমস্যার কারণ স্পষ্ট হবে।

করোনা থেকে সেরে ওঠার পর

 অধ্যাপক ডা. শুভাগত চৌধুরী 
০৯ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা থেকে সেরে ওঠার পর অনেকের দীর্ঘস্থায়ী উপসর্গ টিকে থাকাকে ‘পোস্ট-কোভিড সিনড্রোম’ বলেন বিজ্ঞানীরা। এ রোগীরা সেরে উঠলেন, এরপর মাসের পর মাস কিছু উপসর্গের সঙ্গে লড়াই করতে হয় এ রোগীদের।

এমনটি ঘটল খ্যাতনামা এক চিত্রগ্রাহকের জীবনে। একদিন সকালে উঠে দেখলেন, জ্বর আর বুকে প্রচণ্ড চাপ যেন হাতি বসেছে বুকের ওপর। দু’সপ্তাহ অসুস্থ, গৃহবাস। ব্যথার ওষুধ খেয়ে সারল। কিন্তু কাহিনী এখানে শেষ হল না। এ রকম কাহিনী আরও আছে। অনেকের হল ‘কোভিড টো’, কারও মাথায় কেশহানি, কারও স্বাদ ও ঘ্রাণ চেতনা নাছোড় হয়ে থাকল। কারও হল মিনি স্ট্রোক। কারও ডায়াবেটিস সূচিত হল।

ফেসবুক গ্রুপ ‘সার্ভাইবার কপস’ যুক্ত হলেন ইন্ডিয়ানা স্কুল অব মেডিসিনের অধ্যাপকের সঙ্গে এর বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের জন্য। লম্বা পথ পাড়ি দেয়া এসব লোক সম্বন্ধে আরও জানা চই। ১৫০০ লোকের ওপর সমীক্ষা চালনো কেউ কেউ বলেন, তাদের শ্বাসযন্ত্র ও হৃদযন্ত্রের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হয়ে চলেছে, আরও হচ্ছে হাড়ের গিঁটে ব্যথা, র‌্যাশ, পেশিশূল, মাথা ঝিম ঝিম, বিভ্রান্তি, দৃষ্টিভ্রম, বিষণ্নতা ও দুশ্চিন্তারমতো উপসর্গ।

কোভিড-১৯ থেকে আরোগ্য পেয়েছেন এমন লোকদের মধ্যে বেশ দেখা গেছে দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, পেশিশূল ও শরীরে ব্যথা বেদনা, মনোযোগে সমস্যা। এসব সমস্যা পুঞ্জকে বলেছেন বিজ্ঞানীরা ‘পোস্ট কোভিড সিনড্রোম’। টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নায়ুবিজ্ঞানী অধ্যাপকই সথার মেলামেড বলছেন, ক্লান্তি আর অবসন্নতার কারণ বোঝা যাচ্ছে না, তবে সম্ভবত ইমুন ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থা, দেহে প্রদাহ, মগজ ও স্নায়ুতে সরাসরি ক্ষতির জন্য স্নায়ুকোষদের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এসব কারণ হতে পারে।

তবে পোস্ট কোভিড উপসর্গগুলো কোভিড-১৯-এর অনন্য আর নিজস্ব তা এখনও স্পষ্ট নয়। জনহপকিন্সের শ্বাসযন্ত্র রোগ বিশেষজ্ঞ ড. এন পার্কার ক্রিটিক্যাল কেয়ারে থাকার পর সেরে উঠেছেন। তিনি বলেন, গুরুতর সংক্রমণ নিয়ে লড়াই যারা করেছেন তারা পরবর্তীতে মাসের পর মাস ক্লান্ত অবসন্ন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। বুদ্ধিবৃত্তি বা মানসিক ইস্যু সবই হতে পারে।

এমন নয় যারা গুরুতর অসুস্থ তাদের এমন হয়েছে, অনেকে আইসিইউতে ভর্তি হয়নি। অনেক রোগী বলেন, উপসর্গ ছিলো এর উপশম হয়নি।

সার্ভাইভার কপসের প্রতিষ্ঠাতা চিত্রগ্রাহক ব্যারেট, যার অসুখ সেরে যাওয়ার পর ভালো ছিলেন, এরপর এলো রহস্যময় সব উপসর্গ। মধ্যকর্ণে তীব্র ব্যথা মাথাধরা, বমিভাব, ঝাপসা।

কবি এনজেলের মার্চে হল মৃদু কোভিড। ঠাণ্ডা সর্দি হল এরপর হল শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়পড়, বুকব্যথা। পরে নির্ণয় হল কার্ডিও মায়োপ্যাথি। তার হাঁপানি বাড়ল, আর বুক জ্বালাও। আগের সমস্যাগুলো উস্কে দিল কি এই ভাইরাস?

পোস্ট কোভিড বর্তমান চিন্তাভাবনা কী

এখন কেউ নিশ্চিত নন, কোভিড ১৯ হয়েছে এমন ক’জনের এমন অটল দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যা হবে। নিউজার্সির রজার্স রবাট উড জনসন মেডিকেল স্কুলের মেডিসিনের অধ্যাপক বেনন্ড প্যানেটেরি বলেন, তার অনুমান ১০% কোভিড-১৯ রোগীর এমন ক্রনিক সমস্যা হতে পারে।

কেউ খুব অসুস্থ ছিলেন, কারও ছিল অন্যান্য অসুখ যেমন ডায়েবেটিস বা স্থূলতা। তবে সবার নয়। অবিরাম দৈহিক চাপ মানসিক চাপ সঙ্গে সঙ্গে চলে। ‘অসুখ সেরে গেলে মানুষ বিষণ্ন হতে পারে, সেখানে একঘরে থাকা, সামাজিক বিচ্ছন্ন হয়ে থাকাতে তেমন লাভ হয় না।

সুসংবাদ হল, এ রকম দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা নিয়ে অনেকে থাকলে তা চিরস্থায়ী হয় না। অনেক খুব অসুস্থ রোগী তিন-চার মাসের মধ্যে সুস্থ হয়ে কাজেও ফিরেছেন। ধীর ধীরে এরা ভালো হয়ে যায়।

সময় গেলে, অনেক গবেষণা করলে এদের সমস্যার কারণ স্পষ্ট হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন