আয়েশা বেগমের ভাগ্যে জোটেনি সম্মান
jugantor
আয়েশা বেগমের ভাগ্যে জোটেনি সম্মান

  আয়শা সিদ্দিকা আকাশী  

২৩ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

একাত্তরে আমার ওপর পাকিস্তানি সেনাদের নির্মম নির্যাতনের সেই ভয়াবহ চার রাতের কথা মনে পড়লে আজও শরীর কেঁপে ওঠে। ভয় আর লজ্জায় মরে যেতে ইচ্ছা করে। তবে শুনছি সরকার আমাদের মতো নির্যাতনের শিকার নারীদের অনেক সম্মান জানিয়েছে। এটা শুনে আমার খুব ভালো লাগছে। এভাবেই কথাগুলো বললেন একাত্তরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে নির্যাতনের শিকার মাদারীপুরের আয়েশা বেগম।

মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের পখীরা রাজারচর গ্রামের মুলাই সরদারের মেয়ে আয়েশা বেগম। বরিশালের দিনমজুর আরব আলী সরদারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। সংসারে অভাবের তাড়নায় মুক্তিযুদ্ধের আগে স্বামী ও তিন বছরের ছেলেকে নিয়ে খুলনার দৌলতপুরে চলে যান আয়েশা বেগম।

এ প্রসঙ্গে আয়েশা বেগম বলেন, হঠাৎ দেশে যুদ্ধ শুরু হল। মানুষের মুখে দেশের যুদ্ধের কথা শুনছি। তখনো খুলনার দৌলতপুরের নদীর ওপারে কলোনিতে কোনো পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আসেনি। একদিন সত্যি সত্যি কলোনিতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ঢুকে পড়ে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে। তখন আমার বয়স ২০ বছর হবে। বড় ছেলে বয়স ৩ বছর । মাস ছয়েকের গর্ভবতী আমি। তবুও ওরা আমাকে ধরে নিয়ে যায়। ওদের একটি ক্যাম্পের কক্ষে আমিসহ আরও পাঁচ-ছয়জনকে একসঙ্গে আটকে রাখে। চারদিন-রাত আমার ওপর চালায় নির্মম অত্যাচার। পাকিস্তানি সেনাদের নির্মম নির্যাতনে খুব অসুস্থ হয়ে পড়লাম। বারবার জ্ঞান হারাই। শেষমেশ কতক্ষণ পর জ্ঞান এসেছিল আমার জানা নেই। এক পর্যায় পাকিস্তানি আর্মি কমান্ডারের হাতে-পায়ে ধরে পেটে সন্তান আছে জানালাম। সে প্রথমে আমার কথা বিশ্বাস করেনি। পরে আমার শারীরিক অবস্থা দেখে আমাকে ছেড়ে দিল। একজন পাকিস্তানি সেনা আমাকে পথ দেখিয়ে দিল। আমি ভয়ে ভয়ে কোনোভাবে ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে এলাম। মনে মনে আল্লাহকে ডাকতে লাগলাম। সেই সময় কেবলই মনে হচ্ছিল এই বুঝি গুলি করে আমাকে হত্যা করবে। আমি আর পেছনদিকে না তাকিয়ে সোজা পথ ধরে হাঁটতে থাকি। এভাবে কতক্ষণ হাঁটছি আমার মনে নেই। অনেক পথ হাঁটার পর একটি বাড়িতে ঢুকলাম। তারা আমাকে তাড়িয়ে দিল। বলল আমাকে থাকতে দিলে পাকিস্তানি বাহিনীরা তাদের মেরে ফেলবে। আবার হাঁটা শুরু করলাম। একটি বাড়িতে গিয়ে খাবার চাইলাম। তারা আমার শারীরিক অবস্থা দেখে খেতে দিল। কিন্তু পাকিস্তানি সেনাদের ভয়ে থাকতে দিল না। রাতে চুপ করে একটি বাড়ির রান্না ঘরে ঘুমিয়ে থাকি। ভোর হতেই আবার হাঁটা শুরু করি। বিভিন্ন মানুষজনকে জিজ্ঞেস করে করে দৌলতপুরের কলোনির বাড়িতে ফিরে আসি।

এসে শুনি আমার স্বামীসহ কলোনির বহু মানুষকে পাকিস্তানি সেনারা ধরে নিয়ে গেছে। ছেলের খোঁজ করি। কলোনির পাশের ঘরে বনু বিবি নামে এক বাঙালির আশ্রয়ে আমার ছেলে সাহেদুলকে পেলাম।

শত দুঃখের মাঝেও ছেলেকে পেয়ে খুশি হলাম। আর স্বামী আরব আলীর কোনো সন্ধান পাইনি। পাকিস্তানি বাহিনীরা তাকে মেরে লাশ কোথায় ফেলে দিয়েছে তার হদিসও পাইনি। তবে নিজের চোখে কলোনির ভেতর, নদীর পাড়ে যেখানে লাশ দেখেছি সেখানেই আমার স্বামীকে খুঁজেছি। কিন্তু কোথাও পাইনি। শুধু লাশের ওপর লাশ আর রক্ত দেখেছি। এত রক্ত যেন একটি নদী ভরে যেত। এরকিছু দিন পর দেশ স্বাধীন হল। আমি ছেলেকে নিয়ে কলোনিতেই থেকে গেলাম। এর কয়েকদিন পর কলোনির পাট গোডাউনে প্রায় দুই শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা আশ্রয় নেয়। সেসময় মুক্তিযোদ্ধাদের জয় বাংলা স্লোগান আজও আমার কানে ভাসে। ওই সময় মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের কলোনিতে এক বস্তা আটা দিয়ে তাদের জন্য রুটি বানাতে বলে। এ সময় ওই কলোনির বিহারিরা মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যার জন্য আটার মধ্যে বিষ ঢেলে রুটি বানায়। এ সময় প্রতিবেশী বনু বিবি আমাকে বলেন, ‘আমার বিহারিদের সঙ্গে বিয়ে হলেও আমি বাঙালি। তাই এই কাজটি আমি করতে পারি না। বিহারিরা আটার মধ্যে বিষ দিয়ে রুটি বানাচ্ছে। এটা খেলে মুক্তিযোদ্ধারা মারা যাবে।’ এ খবরটি মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে পৌঁছাতে হবে। কলোনি থেকে বের হওয়ার জন্য ভরা কলসির পানি ফেলে দিয়ে নদীতে গিয়ে পানি ভরার উদ্দেশ্যে বের হই। পুরো ব্যাপারটি মুক্তিযোদ্ধাদের জানাই। এরপর মুক্তিযোদ্ধারা একটি রুটি কুকুরকে খাওয়ালে ওই কুকুর মারা যায়। এ সময় মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষুব্ধ হয়ে বিহারি কলোনিতে আক্রমণ করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। তখন আমি আমার ছেলেসহ অনেকেই কলোনি থেকে বের হয়ে আসি। এরপর পৈতৃকবাড়ি মাদারীপুরে আসার জন্য পায়ে হেঁটে রওনা হই। বড়দিয়া স্কুলসহ কয়েকটি স্থানে অবস্থানরত দু-তিন শত নারী-পুরুষ পায়ে হেঁটে যার যার গ্রামের বাড়ি ফিরে যাই। খুলনা থেকে গোপালগঞ্জ হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের টিনঘেরা বাড়ির পাশ দিয়ে হেঁটে গ্রামের বাড়িতে আসতে সময় লেগে যায় পাঁচ-ছয় দিন।

আয়েশা বেগম আরও বলেন, বড় ছেলে সাহেদুল রিকশা চালক আর ছোট ছেলে আলমগীর মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। ছেলে, ছেলের বউ আর নাতি-নাতনিদের নিয়ে আমি নদীর পাড়ে একটি টিন আর পাটখড়ির বেড়ার তৈরি ঘরে বাস করছি। এভাবেই কোনোরকমভাবে বেঁচে আছি। নিজের ইজ্জত হারালেও লজ্জা ও ভয়ে একাত্তরে পাকিস্তানি সেনাদের দ্বারা নির্যাতনের ঘটনা কাউকে বলিনি। তবুও অনেকেই জানেন। তবে এখন সরকার আমাদের অনেক সম্মান দিয়েছে। আমাদের বীরাঙ্গনা উপাধি দিয়েছে। তাই মৃত্যুর আগে আমার জীবনের এই ঘটনাগুলো বলে যেতে চাই। যাতে করে আমাদের ত্যাগের কথা দেশবাসী জানেন। দেশের জন্য অনেক কিছু করার ইচ্ছা থাকলেও লেখাপড়া না জানায় আর অভাবে থাকার কারণে কিছু করতে পারিনি।

মাদারীপুরের জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শাজাহান হাওলাদার বলেন, আয়েশা বেগম কখনও আমাদের কাছে আসেননি। তার নির্যাতনের কথাও আমাদের কখনও বলেননি।

আয়েশা বেগমের ভাগ্যে জোটেনি সম্মান

 আয়শা সিদ্দিকা আকাশী 
২৩ মার্চ ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

একাত্তরে আমার ওপর পাকিস্তানি সেনাদের নির্মম নির্যাতনের সেই ভয়াবহ চার রাতের কথা মনে পড়লে আজও শরীর কেঁপে ওঠে। ভয় আর লজ্জায় মরে যেতে ইচ্ছা করে। তবে শুনছি সরকার আমাদের মতো নির্যাতনের শিকার নারীদের অনেক সম্মান জানিয়েছে। এটা শুনে আমার খুব ভালো লাগছে। এভাবেই কথাগুলো বললেন একাত্তরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে নির্যাতনের শিকার মাদারীপুরের আয়েশা বেগম।

মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের পখীরা রাজারচর গ্রামের মুলাই সরদারের মেয়ে আয়েশা বেগম। বরিশালের দিনমজুর আরব আলী সরদারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। সংসারে অভাবের তাড়নায় মুক্তিযুদ্ধের আগে স্বামী ও তিন বছরের ছেলেকে নিয়ে খুলনার দৌলতপুরে চলে যান আয়েশা বেগম।

এ প্রসঙ্গে আয়েশা বেগম বলেন, হঠাৎ দেশে যুদ্ধ শুরু হল। মানুষের মুখে দেশের যুদ্ধের কথা শুনছি। তখনো খুলনার দৌলতপুরের নদীর ওপারে কলোনিতে কোনো পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আসেনি। একদিন সত্যি সত্যি কলোনিতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ঢুকে পড়ে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে। তখন আমার বয়স ২০ বছর হবে। বড় ছেলে বয়স ৩ বছর । মাস ছয়েকের গর্ভবতী আমি। তবুও ওরা আমাকে ধরে নিয়ে যায়। ওদের একটি ক্যাম্পের কক্ষে আমিসহ আরও পাঁচ-ছয়জনকে একসঙ্গে আটকে রাখে। চারদিন-রাত আমার ওপর চালায় নির্মম অত্যাচার। পাকিস্তানি সেনাদের নির্মম নির্যাতনে খুব অসুস্থ হয়ে পড়লাম। বারবার জ্ঞান হারাই। শেষমেশ কতক্ষণ পর জ্ঞান এসেছিল আমার জানা নেই। এক পর্যায় পাকিস্তানি আর্মি কমান্ডারের হাতে-পায়ে ধরে পেটে সন্তান আছে জানালাম। সে প্রথমে আমার কথা বিশ্বাস করেনি। পরে আমার শারীরিক অবস্থা দেখে আমাকে ছেড়ে দিল। একজন পাকিস্তানি সেনা আমাকে পথ দেখিয়ে দিল। আমি ভয়ে ভয়ে কোনোভাবে ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে এলাম। মনে মনে আল্লাহকে ডাকতে লাগলাম। সেই সময় কেবলই মনে হচ্ছিল এই বুঝি গুলি করে আমাকে হত্যা করবে। আমি আর পেছনদিকে না তাকিয়ে সোজা পথ ধরে হাঁটতে থাকি। এভাবে কতক্ষণ হাঁটছি আমার মনে নেই। অনেক পথ হাঁটার পর একটি বাড়িতে ঢুকলাম। তারা আমাকে তাড়িয়ে দিল। বলল আমাকে থাকতে দিলে পাকিস্তানি বাহিনীরা তাদের মেরে ফেলবে। আবার হাঁটা শুরু করলাম। একটি বাড়িতে গিয়ে খাবার চাইলাম। তারা আমার শারীরিক অবস্থা দেখে খেতে দিল। কিন্তু পাকিস্তানি সেনাদের ভয়ে থাকতে দিল না। রাতে চুপ করে একটি বাড়ির রান্না ঘরে ঘুমিয়ে থাকি। ভোর হতেই আবার হাঁটা শুরু করি। বিভিন্ন মানুষজনকে জিজ্ঞেস করে করে দৌলতপুরের কলোনির বাড়িতে ফিরে আসি।

এসে শুনি আমার স্বামীসহ কলোনির বহু মানুষকে পাকিস্তানি সেনারা ধরে নিয়ে গেছে। ছেলের খোঁজ করি। কলোনির পাশের ঘরে বনু বিবি নামে এক বাঙালির আশ্রয়ে আমার ছেলে সাহেদুলকে পেলাম।

শত দুঃখের মাঝেও ছেলেকে পেয়ে খুশি হলাম। আর স্বামী আরব আলীর কোনো সন্ধান পাইনি। পাকিস্তানি বাহিনীরা তাকে মেরে লাশ কোথায় ফেলে দিয়েছে তার হদিসও পাইনি। তবে নিজের চোখে কলোনির ভেতর, নদীর পাড়ে যেখানে লাশ দেখেছি সেখানেই আমার স্বামীকে খুঁজেছি। কিন্তু কোথাও পাইনি। শুধু লাশের ওপর লাশ আর রক্ত দেখেছি। এত রক্ত যেন একটি নদী ভরে যেত। এরকিছু দিন পর দেশ স্বাধীন হল। আমি ছেলেকে নিয়ে কলোনিতেই থেকে গেলাম। এর কয়েকদিন পর কলোনির পাট গোডাউনে প্রায় দুই শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা আশ্রয় নেয়। সেসময় মুক্তিযোদ্ধাদের জয় বাংলা স্লোগান আজও আমার কানে ভাসে। ওই সময় মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের কলোনিতে এক বস্তা আটা দিয়ে তাদের জন্য রুটি বানাতে বলে। এ সময় ওই কলোনির বিহারিরা মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যার জন্য আটার মধ্যে বিষ ঢেলে রুটি বানায়। এ সময় প্রতিবেশী বনু বিবি আমাকে বলেন, ‘আমার বিহারিদের সঙ্গে বিয়ে হলেও আমি বাঙালি। তাই এই কাজটি আমি করতে পারি না। বিহারিরা আটার মধ্যে বিষ দিয়ে রুটি বানাচ্ছে। এটা খেলে মুক্তিযোদ্ধারা মারা যাবে।’ এ খবরটি মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে পৌঁছাতে হবে। কলোনি থেকে বের হওয়ার জন্য ভরা কলসির পানি ফেলে দিয়ে নদীতে গিয়ে পানি ভরার উদ্দেশ্যে বের হই। পুরো ব্যাপারটি মুক্তিযোদ্ধাদের জানাই। এরপর মুক্তিযোদ্ধারা একটি রুটি কুকুরকে খাওয়ালে ওই কুকুর মারা যায়। এ সময় মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষুব্ধ হয়ে বিহারি কলোনিতে আক্রমণ করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। তখন আমি আমার ছেলেসহ অনেকেই কলোনি থেকে বের হয়ে আসি। এরপর পৈতৃকবাড়ি মাদারীপুরে আসার জন্য পায়ে হেঁটে রওনা হই। বড়দিয়া স্কুলসহ কয়েকটি স্থানে অবস্থানরত দু-তিন শত নারী-পুরুষ পায়ে হেঁটে যার যার গ্রামের বাড়ি ফিরে যাই। খুলনা থেকে গোপালগঞ্জ হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের টিনঘেরা বাড়ির পাশ দিয়ে হেঁটে গ্রামের বাড়িতে আসতে সময় লেগে যায় পাঁচ-ছয় দিন।

আয়েশা বেগম আরও বলেন, বড় ছেলে সাহেদুল রিকশা চালক আর ছোট ছেলে আলমগীর মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। ছেলে, ছেলের বউ আর নাতি-নাতনিদের নিয়ে আমি নদীর পাড়ে একটি টিন আর পাটখড়ির বেড়ার তৈরি ঘরে বাস করছি। এভাবেই কোনোরকমভাবে বেঁচে আছি। নিজের ইজ্জত হারালেও লজ্জা ও ভয়ে একাত্তরে পাকিস্তানি সেনাদের দ্বারা নির্যাতনের ঘটনা কাউকে বলিনি। তবুও অনেকেই জানেন। তবে এখন সরকার আমাদের অনেক সম্মান দিয়েছে। আমাদের বীরাঙ্গনা উপাধি দিয়েছে। তাই মৃত্যুর আগে আমার জীবনের এই ঘটনাগুলো বলে যেতে চাই। যাতে করে আমাদের ত্যাগের কথা দেশবাসী জানেন। দেশের জন্য অনেক কিছু করার ইচ্ছা থাকলেও লেখাপড়া না জানায় আর অভাবে থাকার কারণে কিছু করতে পারিনি।

মাদারীপুরের জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শাজাহান হাওলাদার বলেন, আয়েশা বেগম কখনও আমাদের কাছে আসেননি। তার নির্যাতনের কথাও আমাদের কখনও বলেননি।