গ্লোন্ডেন গ্লোব সেরা রামি মালেক ও গ্লেন ক্লোজ
jugantor
গ্লোন্ডেন গ্লোব সেরা রামি মালেক ও গ্লেন ক্লোজ

  তারা ঝিলমিল ডেস্ক  

১০ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গত ৬ জানুয়ারি আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলেসের বেভারলি হিলসে বসেছিল গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ডের ৭৬তম আসর। এবারের অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছেন অভিনেত্রী সান্দ্রা ওহ ও অভিনেতা কমেডিয়ান অ্যান্ডি স্যামবার্গ। ড্রামা বিভাগে ‘বোহেমিয়ান আরহেপসডি’ ছবিটি এবারের গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ডে সেরা ছবির পুরস্কার জিতেছে। এ ছবিতে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতার পুরস্কার জিতেছেন রামি মালেক। অন্যদিকে একই ক্যাটাগরিতে ‘দ্য ওয়াইফ’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতেছেন গ্লেন ক্লোজ। বলা হয়ে থাকে গোল্ডেন গ্লোবে যেসব ছবি কিংবা যারা পুরস্কার জিতেন, সেগুলো অস্কারেও আধিপত্য বিস্তার করে। তাই গোল্ডেন গ্লোবে শেষ হওয়ার পরপরই জয়ীদের অস্কার পাওয়া নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা।

এবারের আসরের ড্রামা বিভাগে সেরা চলচ্চিত্র অভিনেতা রামি মালেক; যার পুরো নাম রামি সাঈদ মালেক। তিনি মিসরীয় বংশোদ্ভূত। জন্ম ১৯৮১ সালের ১২ মে। জন্ম এবং বেড়ে ওঠা ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে। সামি নামে মাত্র চার মিনিটের ছোট একটি যমজ ভাইও রয়েছে তার। সে ভাইটি শিক্ষকতা করেন। চার বছর বয়স পর্যন্ত আরবিতেই কথা বলতেন রামি। বাবা-মা চেয়েছিলেন তাকে উকিল বানাবেন। এজন্য ছোটবেলা থেকে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় তার অংশ নেয়া ছিল পরিবার থেকে বাধ্যতামূলক। অংশও নিতেন রামি। একদিন তার বিতর্কে শিক্ষক আবিষ্কার করলেন, রামির মনোযোগ অন্যদিকে। সে অন্যকিছু হতে চায়। বিশেষ করে কোনো সংলাপ আওড়ে সেটা রেকর্ড করাতেই ব্যস্ত থাকতেন রামি। অবশেষে তার ইচ্ছাই পূরণ হল। এরপর ইন্ডিয়ানা রাজ্যের ইভানসভিলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে থিয়েটার বিষয়ে স্নাতকত্তোর ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। ২০০৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন টিভি সিরিজে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করতেন রামি। কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করে শেষ পর্যন্ত গোল্ডেন গ্লোবের সেরার মুকুট তার মাথায় উঠল। এর আগে ‘মি. রোবট’ ছবিতে এলিয়ট এন্ডারসন চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয়ের জন্য প্রাইমটাইম এমি অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন রামি। ২০১৮ সালে মালেক ‘বোহেমিয়ান আরহেপসডি’ ছবিতে ফ্রেডি মার্কিউরি চরিত্রে অভিনয় করেন। এতে অভিয়ের জন্য তিনি সমালোচকদের কাছ থেকে বেশ প্রশংসা পান। তারই ধারাবাহিকতায় গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ড ২০১৯ এ সেরা অভিনেতা হিসেবে স্বীকৃতি পান।

অন্যদিকে ৭১ বছর বয়সী মার্কিন অভিনেত্রী গ্লেন ক্লোজ সেরা অভিনেত্রী হিসেবে পেয়েছেন আইকন অ্যাওয়ার্ড। ১৯৪৭ সালের ১৯ মার্চ আমেরিকার কানেকটিকাটের গ্রিনউইচে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ক্লোজের জন্মের সাত বছর পর থেকে তার বাবা-মা ইন্টারন্যাশনাল মরাল অ্যান্ড স্পিরিচুয়াল মুভমেন্ট নামে একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন পনের বছর। মানুষের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও দ্বিধা দূর করে মানসিক ভারসাম্য তৈরিতে এ সংগঠনটি কাজ করত। স্বাভাবিকভাবেই ক্লোজও এখান থেকে অনেক কিছুই নিজের জীবনে ধারণ করেছেন। ২২ বছর বয়সে ক্লোজ সংগঠনটি ছেড়ে নিজের মতো ক্যারিয়ার গঠনে কাজ শুরু করেন। প্রথমদিকে তিনি যাত্রাপালা করতেন। ১৯৭৪ সালে ‘লাভ ফর লাভ’ নামে যাত্রার মাধ্যমে অভিনয় ক্যারিয়ার শুরু করেন গ্লেন ক্লোজ। সত্তর ও আশির দশকে নিউইয়র্কে জনপ্রিয় স্টেজ পারফর্মার ছিলেন তিনি। এরপর ৪০ বছর ধরে চলচ্চিত্রে কাজ করছেন। হলিউডের জনপ্রিয় এ অভিনেত্রী অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনার সঙ্গেও যুক্ত। তার অভিনীত ‘দ্য ওয়াইফ’ মুক্তির পর ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হন তিনি। এ ছবিতে বৃদ্ধ স্বামী-স্ত্রীর খোলামেলা যৌনতার বিষয়টিও বেশ আলোচিত। একবার কানাডার টরেন্টোয় এ ছবির প্রদর্শনী শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে গ্লেন ক্লোজ বলেছিলেন, “সমাজে যারা ‘খারাপ’ বলে বিবেচিত এমন একটি নারীর চরিত্রে আমি অভিনয় করেছি। এ ঘরানার নারীরা মানসিকভাবে বেশ দৃঢ় হয়, এ বিষয়টি আমাকে আকর্ষণ করে। তা ছাড়া আমি কর্মজীবনে এ সমস্যার মুখোমুখিও হয়েছি।” তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, মানুষ জানে না তারা ইচ্ছা করলে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নিজেদের যৌনতা ধরে রাখতে পারে।’ ক্যারিয়ারে অভিনয়ের জন্য তিনবার টনি অ্যাওয়ার্ড, তিনবার গোল্ডেন গ্লোব ও তিনবার প্রাইমটাইম এমি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ক্লোজ। এ ছাড়া অস্কারে ছয়বার মনোনয়ন পেয়েছেন। ক্লোজকে বলা হয় পুরস্কারের মনোনয়ন অভিনেত্রী। আমেরিকার বেশিরভাগ পুরস্কারে সর্বাধিক মনোনয়ন পেয়ে পুরস্কার না পাওয়ার রেকর্ডও রয়েছে তার।

গ্লোন্ডেন গ্লোব সেরা রামি মালেক ও গ্লেন ক্লোজ

 তারা ঝিলমিল ডেস্ক 
১০ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গত ৬ জানুয়ারি আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলেসের বেভারলি হিলসে বসেছিল গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ডের ৭৬তম আসর। এবারের অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছেন অভিনেত্রী সান্দ্রা ওহ ও অভিনেতা কমেডিয়ান অ্যান্ডি স্যামবার্গ। ড্রামা বিভাগে ‘বোহেমিয়ান আরহেপসডি’ ছবিটি এবারের গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ডে সেরা ছবির পুরস্কার জিতেছে। এ ছবিতে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতার পুরস্কার জিতেছেন রামি মালেক। অন্যদিকে একই ক্যাটাগরিতে ‘দ্য ওয়াইফ’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতেছেন গ্লেন ক্লোজ। বলা হয়ে থাকে গোল্ডেন গ্লোবে যেসব ছবি কিংবা যারা পুরস্কার জিতেন, সেগুলো অস্কারেও আধিপত্য বিস্তার করে। তাই গোল্ডেন গ্লোবে শেষ হওয়ার পরপরই জয়ীদের অস্কার পাওয়া নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা।

এবারের আসরের ড্রামা বিভাগে সেরা চলচ্চিত্র অভিনেতা রামি মালেক; যার পুরো নাম রামি সাঈদ মালেক। তিনি মিসরীয় বংশোদ্ভূত। জন্ম ১৯৮১ সালের ১২ মে। জন্ম এবং বেড়ে ওঠা ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে। সামি নামে মাত্র চার মিনিটের ছোট একটি যমজ ভাইও রয়েছে তার। সে ভাইটি শিক্ষকতা করেন। চার বছর বয়স পর্যন্ত আরবিতেই কথা বলতেন রামি। বাবা-মা চেয়েছিলেন তাকে উকিল বানাবেন। এজন্য ছোটবেলা থেকে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় তার অংশ নেয়া ছিল পরিবার থেকে বাধ্যতামূলক। অংশও নিতেন রামি। একদিন তার বিতর্কে শিক্ষক আবিষ্কার করলেন, রামির মনোযোগ অন্যদিকে। সে অন্যকিছু হতে চায়। বিশেষ করে কোনো সংলাপ আওড়ে সেটা রেকর্ড করাতেই ব্যস্ত থাকতেন রামি। অবশেষে তার ইচ্ছাই পূরণ হল। এরপর ইন্ডিয়ানা রাজ্যের ইভানসভিলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে থিয়েটার বিষয়ে স্নাতকত্তোর ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। ২০০৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন টিভি সিরিজে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করতেন রামি। কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করে শেষ পর্যন্ত গোল্ডেন গ্লোবের সেরার মুকুট তার মাথায় উঠল। এর আগে ‘মি. রোবট’ ছবিতে এলিয়ট এন্ডারসন চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয়ের জন্য প্রাইমটাইম এমি অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন রামি। ২০১৮ সালে মালেক ‘বোহেমিয়ান আরহেপসডি’ ছবিতে ফ্রেডি মার্কিউরি চরিত্রে অভিনয় করেন। এতে অভিয়ের জন্য তিনি সমালোচকদের কাছ থেকে বেশ প্রশংসা পান। তারই ধারাবাহিকতায় গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ড ২০১৯ এ সেরা অভিনেতা হিসেবে স্বীকৃতি পান।

অন্যদিকে ৭১ বছর বয়সী মার্কিন অভিনেত্রী গ্লেন ক্লোজ সেরা অভিনেত্রী হিসেবে পেয়েছেন আইকন অ্যাওয়ার্ড। ১৯৪৭ সালের ১৯ মার্চ আমেরিকার কানেকটিকাটের গ্রিনউইচে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ক্লোজের জন্মের সাত বছর পর থেকে তার বাবা-মা ইন্টারন্যাশনাল মরাল অ্যান্ড স্পিরিচুয়াল মুভমেন্ট নামে একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন পনের বছর। মানুষের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও দ্বিধা দূর করে মানসিক ভারসাম্য তৈরিতে এ সংগঠনটি কাজ করত। স্বাভাবিকভাবেই ক্লোজও এখান থেকে অনেক কিছুই নিজের জীবনে ধারণ করেছেন। ২২ বছর বয়সে ক্লোজ সংগঠনটি ছেড়ে নিজের মতো ক্যারিয়ার গঠনে কাজ শুরু করেন। প্রথমদিকে তিনি যাত্রাপালা করতেন। ১৯৭৪ সালে ‘লাভ ফর লাভ’ নামে যাত্রার মাধ্যমে অভিনয় ক্যারিয়ার শুরু করেন গ্লেন ক্লোজ। সত্তর ও আশির দশকে নিউইয়র্কে জনপ্রিয় স্টেজ পারফর্মার ছিলেন তিনি। এরপর ৪০ বছর ধরে চলচ্চিত্রে কাজ করছেন। হলিউডের জনপ্রিয় এ অভিনেত্রী অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনার সঙ্গেও যুক্ত। তার অভিনীত ‘দ্য ওয়াইফ’ মুক্তির পর ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হন তিনি। এ ছবিতে বৃদ্ধ স্বামী-স্ত্রীর খোলামেলা যৌনতার বিষয়টিও বেশ আলোচিত। একবার কানাডার টরেন্টোয় এ ছবির প্রদর্শনী শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে গ্লেন ক্লোজ বলেছিলেন, “সমাজে যারা ‘খারাপ’ বলে বিবেচিত এমন একটি নারীর চরিত্রে আমি অভিনয় করেছি। এ ঘরানার নারীরা মানসিকভাবে বেশ দৃঢ় হয়, এ বিষয়টি আমাকে আকর্ষণ করে। তা ছাড়া আমি কর্মজীবনে এ সমস্যার মুখোমুখিও হয়েছি।” তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, মানুষ জানে না তারা ইচ্ছা করলে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নিজেদের যৌনতা ধরে রাখতে পারে।’ ক্যারিয়ারে অভিনয়ের জন্য তিনবার টনি অ্যাওয়ার্ড, তিনবার গোল্ডেন গ্লোব ও তিনবার প্রাইমটাইম এমি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ক্লোজ। এ ছাড়া অস্কারে ছয়বার মনোনয়ন পেয়েছেন। ক্লোজকে বলা হয় পুরস্কারের মনোনয়ন অভিনেত্রী। আমেরিকার বেশিরভাগ পুরস্কারে সর্বাধিক মনোনয়ন পেয়ে পুরস্কার না পাওয়ার রেকর্ডও রয়েছে তার।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন