মানুষের জীবনে অন্তত একজন হলেও সৎ ও ভালো বন্ধু থাকা জরুরি : অনন্ত জলিল

  এফ আই দীপু ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দুইসন্তান ও স্ত্রী বর্ষাসহ অনন্ত জলিল
দুইসন্তান ও স্ত্রী বর্ষাসহ অনন্ত জলিল

তিনি অনন্ত জলিল। তাকে বলা হয় বাংলাদেশে ডিজিটাল ফিল্মের স্বপ্নদ্রষ্টা। তিনিই প্রথম ডিজিটাল ছবি নির্মাণ করে ঢাকাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। তার পথ ধরে পরবর্তীতে অনেকেই ডিজিটাল ফরমেটে ছবি বানিয়ে বাহ্বা নিয়েছেন।

ক্যারিয়ারে ছবি করেছেন মাত্র ছয়টি। এ ছয়টি ছবিতেই বাজিমাত করেছেন অনন্ত। সর্বশেষ তাকে ২০১৫ সালে দেখা গিয়েছিল। এরপর করি করি করেও আর অভিনয় করা হয়নি। অবশেষে আবারও আসছেন অনন্ত। নতুন দমে, নতুন উদ্যমে। প্রত্যাবর্তনের নতুন পথচলা প্রসঙ্গে বিস্তারিত জানিয়েছেন যুগান্তরকে।

বাংলাদেশে ডিজিটাল ফিল্মের প্রচলন আপনার হাত ধরেই। এরপর অনেকেই করেছেন। আপনার সময় থেকে যে পরিবর্তন সেটার বর্তমান অবস্থান কোথায় বলে মনে করেন?

কাজ যে করবে তার সমালোচনা থাকবেই। যে কাজ করে না, তাকে নিয়ে আলোচনা বা সমালোচনারও কিছু নেই। ডিজিটাল ফিল্ম প্রথম আমি বানিয়েছি এটা সত্যি, এরপর অনেকেই করছেন। ভালো-মন্দ থাকবেই।

বর্তমান অবস্থানটা ঠিক কোথায় সেটা আমি বলতে পারছি না। তবে মাঝে মধ্যে পত্রপত্রিকায় দেখি, ডিজিটালের নামে নাটক টেলিফিল্মকেও সিনেমা বলে চালিয়ে দিচ্ছেন অনেকেই। এটা ঠিক নয়। নিজের কাছে নিজেকে যে সৎ রাখতে পারে না, তাকে এক সময় অস্তিত্ব সংকটে পড়তে হয়।

যুগান্তর: দীর্ঘদিন সিনেমা থেকে দূরে ছিলেন। এর কারণ কী?

অনন্ত জলিল: আমি ব্যবসা করি এটা সবাই জানেন। আমি সবসময় একটা কথা বলি, মহান আল্লাহ আমাকে সবকিছু দিয়েছেন, কিন্তু সময় দেননি। দিনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৬ ঘণ্টাই আমাকে ব্যবসার কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। এ কারণেই ছবিতে মনোযোগ দিতে পারিনি। এদিকে আমার ভক্ত-দর্শকরা দীর্ঘদিন ধরে চাইছেন তাদের জন্য নতুন ছবি বানাই। তাই কিছুটা সময় বের করে নতুন ছবি ‘দিন : দ্য ডে’-এর কাজ শুরু করলাম।

যুগান্তর: ‘দিন : দ্য ডে’ নামকরণটা কীভাবে করলেন?

অনন্ত জলিল: সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার যে দিন অতিবাহিত হয়, সেটাকেই আমি ছবির নাম দিয়েছি। নামটা এ কারণেই রেখেছি, ছোটবেলায় দেখেছিলাম ‘এইসব দিনরাত্রি’। কখনও হাসি, কখনও কান্না- এ নিয়েই মানুষের জীবন। কিন্তু এখন দেখা যায়, মানুষের মৃত্যুটাই কেমন যেন অসহায়ের মতো। মধ্যপ্রাচ্যের দিকে তাকালেই দেখা যায়, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোয় মানুষের জীবনের মূল্য এক পয়সাও নেই। পাখির মতো গুলি করে বোমা মেরে নির্বিচারে মানুষ মারছে। মানবিকতা নেই কারও মধ্যে। কত ভয়ংকর দিন আমাদের সামনে অপেক্ষা করছে, সেখান থেকেই ছবির নামকরণে উদ্বুদ্ধ হয়েছি। মানুষের জীবনে এক একটি দিন কীভাবে কাটছে সেটাই আমার ছবিতে তুলে ধরার চেষ্টা করব।

যুগান্তর: ছবির স্ক্রিপ্টের কাজ চলছে আগেই শুনেছি। কবে নাগাদ শুটিং শুরু করবেন?

অনন্ত জলিল: ছবিটি আমরা ইরানের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনায় করছি। এ বিষয়টিও সবাই জানেন। বাংলাদেশের বাইরে ইরান, তুরস্ক, আফগানিস্তান, লেবানন এসব দেশে শুটিং করার ইচ্ছা আছে। স্ক্রিপ্ট রেডি। আশা করছি ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে শুটিং শুরু করতে পারব।

যুগান্তর: যৌথ প্রযোজনায় ইরানের সঙ্গে ছবি করলে ঢাকাই চলচ্চিত্র শিল্প কতটা লাভবান হবে বলে মনে করেন?

অনন্ত জলিল: কলকাতার সঙ্গে যৌথ প্রযোজনায় এতদিন ছবি নির্মাণের কথা শুনেছি, দেখেছি। কিন্তু সেখান থেকে বাংলাদেশের ইন্ডাস্ট্রি লাভবান হয়েছে বলে আমার মনে হয় না। হলেও কোনদিক থেকে কতটা লাভবান হয়েছে সেটা আমার জানা নেই। সে ক্ষেত্রে ইরানের সঙ্গে একই প্রশ্ন আসাটা অবান্তর। আমি যেহেতু একটু ভিন্ন ধরনের কাজ করতে পছন্দ করি, সে চিন্তা থেকেই ইরানের সঙ্গে প্রযোজনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তা ছাড়া আরও একটি কারণ আছে। ভারতের বাইরে সিনেমা দেখার জন্য মানুষের মধ্যে যে আগ্রহ সেখানে আরও দুটি দেশ এগিয়ে। সেটা হচ্ছে মিসর ও ইরান। মিসরে সিনেমা নির্মাণের জন্য আমরা সেরকম সুযোগ সুবিধা পাইনি। চেষ্টা করেছিলাম। ইরানে পেয়েছি, তাই সিনেমা প্রযোজনার জন্য আমার কাছে ইরানকেই বেস্ট মনে হয়েছে।

যুগান্তর: ইরান কেন আপনার সঙ্গে কাজ করতে রাজি হল?

অনন্ত জলিল: ইরানে যাদের সঙ্গে আমি কাজ করছি তারা আমাকে নিয়ে তিন মাস স্টাডি করেছে। বাংলাদেশে আমার অবস্থান কী, আমি কী করি, আমার জনপ্রিয়তা কতটুকু, সোশ্যাল ওয়ার্ক করি কিনা, গরিবদের প্রতি কোনো দায়বোধ আছে কিনা- এসব কিছু জানার পর তারা আমার সঙ্গে কাজ করতে রাজি হয়েছে। আমাকে সম্মানের সঙ্গে রিসিভ করেছে। শেষাবধি আমি বুঝতে পারলাম, তাদের সঙ্গে কাজ করে অন্তত শান্তি পাব। কোনো পেইন থাকবে না। যেটা আগে ছবি বানাতে গিয়ে পেয়েছি।

যুগান্তর: ‘দ্য স্পাই : অগ্রযাত্রার মহানায়ক’ নামে একটি ছবি নির্মাণের লক্ষে একটি রিয়েলিটি শো করেছিলেন। সেখান থেকে নির্বাচিত কেউ কি ‘দিন : দ্য ডে’ ছবিতে সুযোগ পাবেন?

অনন্ত জলিল: অবশ্যই পাবে। অলরেডি আমরা ‘দিন : দ্য ডে’ ছবির স্ক্রিপ্ট লেখার সময় বাংলাদেশের অংশে ট্যালেন্ট হান্টের নির্বাচিত অনেককেই সুযোগ দেয়ার ব্যবস্থা রেখেছি। তাদের ডেকে সেটা জানিয়েছিও।

যুগান্তর: এক সময় দেশের অনেক নায়িকাই আপনার বিপরীতে ছবিতে অভিনয় করার কথা বলেছেন। সেটা কী কখনও সম্ভব হবে?

অনন্ত জলিল: হতেও পারে। এখনই বলতে পারছি না। আমি এখন থেকে প্রতি বছর একটি করে ছবি বানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেখানে আমি ও বর্ষা ছাড়া অন্য নায়িকাও থাকতে পারে। কিংবা আমরা নাও থাকতে পারি। সবকিছু নির্ভর করছে সময়ের ওপর। এখন আপাতত ‘দিন : দ্য ডে’ ছাড়া আর কিছু ভাবছি না।

যুগান্তর: শাকিব খান যদি আপনার সঙ্গে কাজ করতে চায় তাহলে সেটা কি সম্ভব? কিংবা শাকিব খানকে নিয়ে আপনার কাজ করার কোনো ইচ্ছা আছে?

অনন্ত জলিল: কেন সম্ভব নয় বা কেন করব না। শাকিব এখন নিজেও প্রযোজক। দেশের জনপ্রিয় নায়ক। আমি বলব, দেশে এ মুহূর্তে শাকিব সেরা নায়ক। তার নিজস্ব দর্শকও আছে। এখন ও যদি মনে করে অনন্ত ভাইয়ের সঙ্গে মিলে ছবি বানাব এবং সে ধরনের কোনো প্রস্তাব ওর কাছ থেকে আসে তাহলে আমার আপত্তি নেই। এটা সত্যি যে, দেশের মানুষ আমাদের এক ছবিতে দেখতেও চায়। দেখা যাক, ভবিষ্যতে হয়ে যেতেও পারে।

যুগান্তর: আপনার ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই শাকিবের সঙ্গে আপনার একটা দ্বন্দ্বের কথা শোনা গিয়েছিল...

অনন্ত জলিল: সেটা আমি শুনেছি। কে বা কারা এসব ছড়িয়েছে বা ওকে আমার সম্পর্কে ভুল বুঝিয়েছে সেটা আমার জানা নেই। তা ছাড়া জনপ্রিয়তা থাকলে অনেকেই পিছে কথা বলবেই। এগুলোয় কান দিয়ে বসে থাকলে হবে না। ব্যক্তিগতভাবে আমি শাকিবকে পছন্দ করি। ঢাকাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিটাকে যে শাকিব এতদিন ধরে আগলে রেখেছে এজন্য তাকে আমি বিশেষ ধন্যবাদ জানাই।

যুগান্তর: হিরো আলম নামে একটি ছেলেকে নিয়েও কাজ করার কথা একটা সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন.....

অনন্ত জলিল: সেটা বলেছি। কিন্তু ‘দিন : দ্য ডে’ ছবিতে তাকে রাখার কোনো সুযোগ নেই। এ ছবির কাস্টিং মোটামুটি ফাইনাল হয়ে গেছে। হিরো আলম নামে ছেলেটি যেভাবেই হোক নিজের একটা পরিচয় দাঁড় করিয়েছে। আমি যেহেতু বলেছি তাকে নিয়ে কাজ করব, তাই আগামীতে অন্য ছবি করলে সেটাতে তাকে সুযোগ দেব।

যুগান্তর: চলচ্চিত্রের কোনো সংগঠন যেমন শিল্পী সমিতি, পরিচালক সমিতি কিংবা প্রযোজক সমিতির নেতৃত্বে আসার কোনো ইচ্ছা বা সম্ভাবনা আছে কি?

অনন্ত জলিল: কোনো সম্ভাবনা নেই। ইচ্ছাও নেই। আমি ব্যবসায়ী মানুষ। শখের বশে সিনেমা করি। সিনেমাকে ভালোবাসি বলেই কিছুটা সময় দিই এখানে। তা ছাড়া নেতৃত্ব দেয়া আমার কাজ নয়। যার যেটা কাজ তাকে সেটাই করতে দেয়া উচিত। আমি মনে করি, সঠিক নেতৃত্ব দিতে না পারা মানে একটি প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতিগ্রস্ত করা। সেটা আমার দ্বারা কোনোদিনই সম্ভব নয়। নেতৃত্বের জন্য যথেষ্ট সময় দরকার। আমার সে সময় নেই।

যুগান্তর: চলচ্চিত্রের যে সংকটের কথা এখন বলা হচ্ছে সেটা কেন এবং কীভাবে দূর করা যায় বলে মনে করেন?

অনন্ত জলিল: ওই যে আগেই বলেছি, অস্তিত্বের সংকট। যারা কাজ করছেন তাদের অনেকের মধ্যেই কোনো কমিটমেন্ট নেই। চলচ্চিত্রের মানুষরা নিজেরা এক হয়ে কাজ করতে পারছেন না। এই একজোট না হওয়ার কারণেই সংকট প্রকট হচ্ছে। একসঙ্গে যখন আবার কাজ করতে পারবেন তখন সংকট সমাধানও হবে, চলচ্চিত্র ব্যবসাও ঘুরে দাঁড়াবে বলে আমার বিশ্বাস।

যুগান্তর: জীবনে প্রথম সিনেমা হলে গিয়ে কোন ছবিটি দেখেছিলেন?

অনন্ত জলিল: সিনেমাহলে গিয়ে জীবনে প্রথম ছবি দেখেছি রুবেল ভাইয়ের ‘লড়াকু’।

যুগান্তর: তখন কী কোনো নায়িকার প্রতি আকর্ষণবোধ করতেন?

অনন্ত জলিল: কারও প্রতি আকর্ষিত হওয়া- এসব অনুভূতি বোধহয় তৈরি হওয়ার জন্য একটি সময় দরকার। এখনকার মতো অল্প বয়সে কাউকে পছন্দ করার মতো অনুভূতি আমাদের সময় ছিল না। তাই তখন কোনো নায়িকার প্রতিও আকর্ষিত হওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।

এমনিতে অভিনয় ভালো লাগত ববিতা ম্যাডাম, শাবানা ম্যাডামের। কামাল নামে আমার এক বন্ধু ছিল। তাকে নিয়েই ছবি দেখতে যেতাম। আমার পছন্দের কোনো ছবি যদি আমি দু’বার দেখতাম, তাহলে কামালের পছন্দের ছবিও আমাকে দু’বার দেখতে হতো। এই কন্ডিশনেই আমরা ছবি দেখতাম।

যুগান্তর: এমন কোনো বন্ধু আছে, যার সঙ্গে কাটানো সময়গুলোর কথা ভেবে নস্টালজিয়ায় ভোগেন?

অনন্ত জলিল: ওই যে বলছিলাম, কামাল নামে এক বন্ধু ছিল। ছোটবেলায় তার সঙ্গেই আমার বেশিরভাগ সময় কেটেছে। অনেক দুষ্টুমি করতাম, মারামারি করতাম। ওকে মারলে সঙ্গে সঙ্গে কোনো রি-অ্যাকশন দিত না। সে প্রতিশোধ নিত অন্যভাবে। আমার বাসায় গিয়ে আমার ফুটবল কিংবা শার্ট, যখন যা পেত সেটা গোপনে কেটে দিয়ে আসত। পরে যখন জানতাম, তখন আবার ঝগড়া হতো। এগুলো মনে পড়লে এখনও হাসি পায়। কামালের সঙ্গে সর্বশেষ ১৫ বছর আগে কথা হয়েছিল। এরপর আর কথা হয়নি।

যুগান্তর: একজন বন্ধু মানুষের জীবনে কতটা কাজে লাগে বলে মনে করেন?

অনন্ত জলিল: অনেক কাজে লাগে। মানুষ যখন আপসেট থাকে, পরিবার-পরিজন জগৎ সংসারের ওপর বিতৃষ্ণা এসে যায়, তখন সত্যিকারের একজন বন্ধুই তাকে আবার সবকিছুতে মনোযোগী করে তুলতে পারে। তাই আমি বলব, মানুষের জীবনে সবকিছুর পাশাপাশি অন্তত একজন হলেও সৎ ও ভালো বন্ধু থাকাটা জরুরি।

যুগান্তর: চিত্রনায়িকা বর্ষা আপনার জীবনে অবিচ্ছেদ্য একটি অঙ্গ বলেই আমরা জানি। শুধু স্ত্রী নয়, মানুষ হিসেবে সে কতটা গুরুত্বপূর্ণ আপনার কাছে?

অনন্ত জলিল: অনেক বেশি। মানুষ কিছু সময় বন্ধুকে পাশে চাইলেও আমি সবসময় বর্ষাকে চাই। বর্ষা স্ত্রীর পাশাপাশি আমার ভালো একজন বন্ধুও বটে। একসঙ্গে মরতে পারব কিনা জানি না, যতদিন বাঁচব, আমরা একসঙ্গেই বাঁচতে চাই, আল্লাহর কাছে এটাই চাওয়া।

যুগান্তর: নিজের জীবনে খুশিতে আত্মহারা হওয়ার মতো কোনো সময় এসেছিল কি?

অনন্ত জলিল: আমার তো খুব স্ট্রাগলের লাইফ। খুশিতে আত্মহারা হওয়ার মতো সময়ও কখনও পাইনি। লেখাপড়া শেষ করে ব্যবসায় মনোযোগী হলাম। ছাত্রাবস্থায়ই জীবনের লক্ষ্য ঠিক করেছি। সেই লক্ষ্যে কাজ করেছি। এখনও করছি। নষ্ট করার মতো সময় আমি পাইনি। বিভিন্ন জায়গায় যে মোটিভেশনাল স্পিচ আমি দেই, সেগুলো কিন্তু আমার জীবন থেকে নেয়া, মোটেও বানানো নয়। তবে ভালোবাসার মানুষগুলোর সঙ্গে কাটানো সময়গুলোয়ই আমি ভালো থাকি, খুশি থাকি।

যুগান্তর: জীবনে সবচেয়ে বাজে এবং কষ্টকর অভিজ্ঞতা কী ছিল?

অনন্ত জলিল: আমার লাইফের একটা স্ট্রাগলের রাতের কথা বলি। আমি যখন ছোট ব্যবসায়ী, তখন আমার ফ্যাক্টরিতে ৪০০ লোক কাজ করে। আমার এক বায়ার ছিল ইউকেতে। বায়ার আমাকে তার কোম্পানির কর্মচারী হিসেবে তার এক কাস্টমারের কাছে পাঠাল। ম্যানচেস্টারে মিটিং ছিল। জায়গাটা ম্যানচেস্টার থেকেও দূরে ছিল। আমি গেলাম। তাপমাত্রা ছিল মাইনাস চার ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃষ্টি হচ্ছিল। বায়ারের দেয়া ঠিকানা খুঁজে পাচ্ছি না।

একদিকে তাপমাত্রা কম, অন্যদিকে বৃষ্টিতে ভিজে একাকার। ঠাণ্ডা এতটাই লাগছিল যে, সব বরফ হয়ে যাচ্ছিল। কাউকে যে ঠিকানা জিজ্ঞেস করব, সে রকমও কেউ নেই রাস্তায়। আমি হাঁটছিই। এক সময় একজনকে দেখতে পেলাম। তার কাছে ঠিকানাটা কোথায় জানতে চাইতেই সে আমাকে ডান-বাম এমনভাবে বোঝাল যে আমি বেকুব হয়ে গেলাম। অবশেষে ঠিকানা যখন খুঁজে পেলাম তখন মিটিং শেষ, সবাই চলে গেছে। এদিকে ঠিকানা মতো গিয়ে আমিও বিব্রত।

কারণ বায়ার আমাকে তার ওয়ার্কার পরিচয়ে পাঠিয়েছে, বিষয়টি আমি জানতাম না। ওই অফিস থেকে পরের দিন আসতে বলল। এদিকে আমার কাছে বিকল্প কোনো কাপড়চোপড়ও নেই যে, রাত কাটাব। বিদেশ বিভুঁইয়ে ওই রাতটা যে আমার জীবনের কতটা কষ্টের রাত ছিল, সেটা আসলে বোঝাতে পারব না। এ ব্যবসাটা দাঁড় করানোর জন্য আমাকে এতটাই কষ্ট করতে হয়েছে।

যুগান্তর: নিজের সম্পর্কে মন্তব্য কী আপনার?

অনন্ত জলিল: অনন্ত জলিল একজন ক্রিস্টাল ক্লিয়ার মানুষ। তার ভেতরে কোনো প্যাঁচগোছ নেই। যা বলার সরাসরিই বলে সে। এ কথাগুলো শুধু আমার নিজের উপলব্ধি নয়, আমার সঙ্গে যারা গভীরভাবে মিশেছেন তারাও বলেন সবসময়।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×