৫৭০: ১৫ আগস্টের কালো অধ্যায়
jugantor
৫৭০: ১৫ আগস্টের কালো অধ্যায়

  আখন্দ জাহিদ  

১৯ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর। বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধুর বাড়ি। এ বাড়িকে ঘিরে রয়েছে অনেক করুণ, নির্মম ও রক্তাক্ত ইতিহাস। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এ বাড়িতেই সপরিবারে নির্মমভাবে খুন হন তিনি। সেই সময়কার কয়েকটি ঘণ্টা পর্দায় তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নেন নির্মাতা আশরাফ শিশির।

কী ঘটেছিল সেদিন? গল্পের বুননে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবির স্ক্রিপ্টও দাঁড়িয়ে যায়। নাম দিয়েছেন ‘৫৭০’। কথামতো কাজও শুরু করেন। গত মাসের শেষ দিকে শুটিংও করেন তিনি। কী আছে সেই ছবিতে? জানিয়েছেন পরিচালক নিজেই।

কিছু দৃশ্য আছে এমন, বাড়ির প্রবেশপথেই বাইরে পড়ে রয়েছে কর্নেল জামিলের নিথর দেহ। হঠাৎ চোখ আটকে যাবে, বাড়ির ভেতরের সেই সিঁড়িটির দিকে। যে সিঁড়ির ওপর নিশ্চুপভাবে ঘুমিয়ে রয়েছেন বঙ্গবন্ধু। এত নিষ্ঠুর! এত নির্দয়! শেখ রাসেলের মতো মাছুম শিশুটির মাথার একপাশ গুলি করে উড়িয়ে দিয়েছে পিশাচরা। তারপর একে একে পরিবারের সবার নিথর দেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে দর্শক নিশ্চয়ই ফিরে যাবেন অতীতে। নিজের মধ্যে ধারণ করবেন বাঙালি জাতির ইতিহাসকে কীভাবে তারা মুছে দিতে চেয়েছিল- দৃশ্যায়নের বর্ণনা এভাবেই দিচ্ছিলেন নির্মাতা আশরাফ শিশির।

শুটিংয়ের সময় দেখা গেছে নিজের মুনশিয়ানার অনবদ্য স্বাক্ষর রাখার চেষ্টা করেছেন। কয়েক মুহূর্তের জন্য হলেও ১৯৭৫ সালের সেই ভয়াল দৃশ্যের স্মৃতিতে ঘুরে আসবেন দর্শকরা- এটা নির্দিধায় বলা যায়। আলাপচারিতায় তিনি জানিয়েছেনও সে কথা। বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি আমরা দেখিনি। প্রতিটি দৃশ্য যখন ক্যামেরাবন্দি করছি, তখন মনে হচ্ছে- ১৫ আগস্টের সেই দৃশ্যগুলো যেন চোখের সামনে ভেসে উঠছে। একদিকে অপরাধবোধ ও দায়বোধ; অন্যদিকে বঙ্গবন্ধুর জন্য শ্রদ্ধা-ভালোবাসা- সবকিছু একসঙ্গে যখন ফুটে উঠছে, তখন শুধু অভিনয়শিল্পীরাই নয়, ইউনিটের প্রত্যেকটি সদস্যের পাশাপাশি যারা শুটিং দেখছেন সবার চোখে জল চলে এসেছিল’

ছবিতে এক সাধারণ সৈনিকের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন চিত্রনায়ক বাপ্পী চৌধুরী। যে সৈনিক বঙ্গবন্ধুর লাশের সঙ্গে দাফন পর্যন্ত উপস্থিত ছিলেন। এ ছবিতে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি নিজেকে খুবই সৌভাগ্যবান মনে করছি এমন একটি ছবিতে কাজ করতে পেরে। আমার কাছে বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ। এ কাজটি করতে গিয়ে আরও অনেক কিছু ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছি। এ ছবির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু নতুনভাবে আমার আবেগ আর ভালোবাসার স্থলে আরও শক্তভাবে জায়গা করে নিয়েছেন। সব কিছু মিলে আমার চোখের সামনে দেখা দিল, ১৫ আগস্টের সেই কালো অধ্যায়।’

ছবির নাম ‘৫৭০’ কেন? এমন প্রশ্নে পরিচালক জানিয়েছেন, বঙ্গবন্ধুর মরদেহ দাফনের আগে গোসল করানো হয়েছিল একটি ‘৫৭০’ সাবান দিয়ে। সেই সাবানের নামেই এ ছবির নামকরণ করা হয়েছে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী বছরের ১৭ মার্চ ছবিটি মুক্তি দেয়ার কথা জানান পরিচালক।

৫৭০: ১৫ আগস্টের কালো অধ্যায়

 আখন্দ জাহিদ 
১৯ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর। বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধুর বাড়ি। এ বাড়িকে ঘিরে রয়েছে অনেক করুণ, নির্মম ও রক্তাক্ত ইতিহাস। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এ বাড়িতেই সপরিবারে নির্মমভাবে খুন হন তিনি। সেই সময়কার কয়েকটি ঘণ্টা পর্দায় তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নেন নির্মাতা আশরাফ শিশির।

কী ঘটেছিল সেদিন? গল্পের বুননে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবির স্ক্রিপ্টও দাঁড়িয়ে যায়। নাম দিয়েছেন ‘৫৭০’। কথামতো কাজও শুরু করেন। গত মাসের শেষ দিকে শুটিংও করেন তিনি। কী আছে সেই ছবিতে? জানিয়েছেন পরিচালক নিজেই।

কিছু দৃশ্য আছে এমন, বাড়ির প্রবেশপথেই বাইরে পড়ে রয়েছে কর্নেল জামিলের নিথর দেহ। হঠাৎ চোখ আটকে যাবে, বাড়ির ভেতরের সেই সিঁড়িটির দিকে। যে সিঁড়ির ওপর নিশ্চুপভাবে ঘুমিয়ে রয়েছেন বঙ্গবন্ধু। এত নিষ্ঠুর! এত নির্দয়! শেখ রাসেলের মতো মাছুম শিশুটির মাথার একপাশ গুলি করে উড়িয়ে দিয়েছে পিশাচরা। তারপর একে একে পরিবারের সবার নিথর দেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে দর্শক নিশ্চয়ই ফিরে যাবেন অতীতে। নিজের মধ্যে ধারণ করবেন বাঙালি জাতির ইতিহাসকে কীভাবে তারা মুছে দিতে চেয়েছিল- দৃশ্যায়নের বর্ণনা এভাবেই দিচ্ছিলেন নির্মাতা আশরাফ শিশির।

শুটিংয়ের সময় দেখা গেছে নিজের মুনশিয়ানার অনবদ্য স্বাক্ষর রাখার চেষ্টা করেছেন। কয়েক মুহূর্তের জন্য হলেও ১৯৭৫ সালের সেই ভয়াল দৃশ্যের স্মৃতিতে ঘুরে আসবেন দর্শকরা- এটা নির্দিধায় বলা যায়। আলাপচারিতায় তিনি জানিয়েছেনও সে কথা। বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি আমরা দেখিনি। প্রতিটি দৃশ্য যখন ক্যামেরাবন্দি করছি, তখন মনে হচ্ছে- ১৫ আগস্টের সেই দৃশ্যগুলো যেন চোখের সামনে ভেসে উঠছে। একদিকে অপরাধবোধ ও দায়বোধ; অন্যদিকে বঙ্গবন্ধুর জন্য শ্রদ্ধা-ভালোবাসা- সবকিছু একসঙ্গে যখন ফুটে উঠছে, তখন শুধু অভিনয়শিল্পীরাই নয়, ইউনিটের প্রত্যেকটি সদস্যের পাশাপাশি যারা শুটিং দেখছেন সবার চোখে জল চলে এসেছিল’

ছবিতে এক সাধারণ সৈনিকের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন চিত্রনায়ক বাপ্পী চৌধুরী। যে সৈনিক বঙ্গবন্ধুর লাশের সঙ্গে দাফন পর্যন্ত উপস্থিত ছিলেন। এ ছবিতে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি নিজেকে খুবই সৌভাগ্যবান মনে করছি এমন একটি ছবিতে কাজ করতে পেরে। আমার কাছে বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ। এ কাজটি করতে গিয়ে আরও অনেক কিছু ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছি। এ ছবির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু নতুনভাবে আমার আবেগ আর ভালোবাসার স্থলে আরও শক্তভাবে জায়গা করে নিয়েছেন। সব কিছু মিলে আমার চোখের সামনে দেখা দিল, ১৫ আগস্টের সেই কালো অধ্যায়।’

ছবির নাম ‘৫৭০’ কেন? এমন প্রশ্নে পরিচালক জানিয়েছেন, বঙ্গবন্ধুর মরদেহ দাফনের আগে গোসল করানো হয়েছিল একটি ‘৫৭০’ সাবান দিয়ে। সেই সাবানের নামেই এ ছবির নামকরণ করা হয়েছে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী বছরের ১৭ মার্চ ছবিটি মুক্তি দেয়ার কথা জানান পরিচালক।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন