জঙ্গি হামলা ধরেই তদন্ত

‘ভূতের বাচ্চা সোলায়মান’ উপন্যাসের কারণেই এ হামলা -দাবি ফয়জুলের * মামলা দায়ের, আটক আরও ৪ * পুলিশের বিরুদ্ধে দায়িত্বহীনতার অভিযোগ * পুলিশ এবং গোয়েন্দা ব্যর্থতার অভিযোগ বিশ্লেষকদের * ছবি দেখে ৩ জনের পরিচয় নিশ্চিতের চেষ্টা * ঘটনার সময় ওই এলাকায় চালু থাকা সব মোবাইল ফোন মনিটরিংয়ের আওতায়

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৫ মার্চ ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও জনপ্রিয় লেখক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনায় জঙ্গি সদস্যরা জড়িত বলে নিশ্চিত হয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তবে জঙ্গিদের কোন গ্রুপ এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনও চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া জাফর ইকবালের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় পুলিশ নিয়োজিত থাকার পরও কেন এমন ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো গাফিলতি ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের আইজি। এ ঘটনায় হামলাকারী ফয়জুল ছাড়া আরও চারজনকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিন (র‌্যাব)। ফয়জুল র‌্যাবকে জানিয়েছে, ‘ভূতের বাচ্চা সোলায়মান’ উপন্যাসের কারণে জাফর ইকবালের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। হামলার ঘটনায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করা হয়েছে। রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ইশফাকুল হোসেন বাদী হয়ে ফয়জুল হাসানের নাম উল্লেখসহ কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করে এসএমপির জালালাবাদ থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

এ হামলার ঘটনায় রোববার প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে। দিনভর মানববন্ধন, বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী, খুলনা, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা জানান। পাশাপাশি রাজধানীসহ দেশের অনেক অঞ্চলে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী সংগঠনের কর্মী এবং সাংবাদিক, শিক্ষক ও সাধারণ নাগরিকরা হামালার ঘটনার প্রতিবাদে নানা কর্মসূচি পালন করছেন। ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল এখন সুস্থ ও শঙ্কামুক্ত আছেন। পুরোপুরি সুস্থ হতে আরও কয়েকদিন লাগবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এদিকে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা ঘটনার জন্য পুলিশ এবং গোয়েন্দাদের ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করলেও জাফর ইকবালের স্ত্রীর দাবি নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি ছিল না।

পুলিশ সদর দফতরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হামলার আগে ঘটনাস্থলে জাফর ইকবালের পেছনে তিনজন লোক দাঁড়িয়েছিল। এদের মধ্যে কালো গেঞ্জি পরিহিত যুবকের নাম ফয়জুল হাসান। ছুরিকাঘাতের ঘটনাটি সে ঘটিয়েছে। সে এখন পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন। তার পাশেরই সাদা-কালো গেঞ্জি ও জিন্সের প্যান্ট পরে অপর এক যুবক দাঁড়িয়েছিল। তাছাড়া জাফর ইকবালের পাশে আরও দু’জন অজ্ঞাত যুবক ছিল। ছবি দেখে ওই তিন যুবকের পরিচয় নিশ্চিতের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। সন্দেহজনক যুবকদের খুঁজে বের করতে স্থানীয় পুলিশকে পুলিশ সদর দফতর থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে আলাদাভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের আইজি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী।

আরও জানা গেছে, হত্যাচেষ্টায় ব্যবহৃত ছুরিটি এরই মধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে। ছুরি এবং হামলার ধরন দেখে পুলিশ পুরোপুরি নিশ্চিত হয়েছে যে, এটি একটি জঙ্গি হামলা। তাই জঙ্গিদের ঘিরে তদন্ত এগিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আইজিপি। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ সদর দফতর থেকে একটি টিম সিলেটে পাঠানো হয়েছে। অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার দুই কর্মকর্তা সদর দফতর থেকে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। তাছাড়া কাউন্টার টোরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটসহ পুলিশের অন্যান্য ইউনিটের সদস্যরাও ঢাকা থেকে সিলেটে গিয়েছেন। ঘটনার সময় ওই এলাকায় যত মোবাইল ফোন চালু ছিল, সেগুলোকে প্রযুক্তির আওতায় এনে তদন্তকাজ শুরু করা হয়েছে।

এ ছাড়া অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যকে প্রাধান্য দিয়ে তদন্ত চালানো হচ্ছে উল্লেখ করে পুলিশ সদর দফতরের এক কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষদর্শী ভিডিও দৃশ্য ধারণা করেছে কিনা, তা বের করার চেষ্টা চলছে। পুলিশের দায়িত্বহীনতার কথা উল্লেখ করে ওই কর্মকর্তা বলেন, জাফর ইকবাল হামলার আশঙ্কার মধ্যে থাকলেও ঘটনার সময় দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা সেখানে ছিলেন না। যারা ছিলেন তারা মোবাইল ফোনে গেমস খেলছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি জানান, ঘটনার পর বেশ দেরি করে সেখানে পুলিশ কর্মকর্তারা গিয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে এমনকি যখন কোনো কর্মকর্তা সেখানে যান তার ৭-৮ মিনিট আগে গেলে সন্দেহজনক আরও একাধিক যুবককে গ্রেফতার করা যেত। একজন এসআই পদমর্যাদার কর্মকর্তা গেলেও হতো।

এ বিষয়ে রোববার বিকালে পুলিশের আইজি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী যুগান্তরকে বলেন, ‘ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে। পুলিশের দায়িত্বহীনতার বিষয়টিকেও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন কমিশনারের সঙ্গে কথা বলেছি। হামলায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছি। আটক ফয়জুল ছাড়া আর কে বা কারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের খুঁজে বের করা হবে। তাছাড়া পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সিটিটিসি ইউনিটের প্রধান ডিআইজি মনিরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্থানীয় বিভিন্ন ইউনিটের পাশাপাশি ঢাকা থেকে একাধিক টিম ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ করছে। দু’জন অতিরিক্ত উপ-কমিশনারের নেতৃত্বে সিটিটিসির ১০ সদস্যের একটি টিম এখন সিলেটে অবস্থান করছে। এটা যে একটি জঙ্গি হামলা তা আমরা নিশ্চিত। তবে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম বা আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, সেলফ মোটিভেটেড কোনো জঙ্গি নাকি অন্য কোনো গ্রুপ এটি করেছে তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হতে পারিনি। সব বিষয় সামনে রেখে তদন্ত চলছে। মনিরুল ইসলাম বলেন, হামলার পরপরই হামলাকারী ফয়জুল গণপিটুনির শিকার হয়। প্রাথমিকভাবে যতটুকু কথা বলেছে, তাতে মনে হয় সে একাই ছিল। তবে আমরা নিশ্চিত নই, ঘটনাস্থলে হামলাকারী কয়জন ছিল। ফয়জুলের সঙ্গে কোন জঙ্গি সংগঠনের লিংক আছে, তা খুঁজে বের করতে সিটিটিসির সদস্যরা কাজ করছেন।

পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত ডিআইজি (ইনটেলিজেন্স অ্যান্ড স্পেশাল অ্যাফেয়ার্স) মনিরুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই জাফর ইকবাল ছিলেন জঙ্গিদের টার্গেট। রহস্য উদ্ঘাটনে ফয়জুলকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না।

সিটিটিসি সূত্র জানায়, ফয়জুল সিলেট বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী টোকেরবাজার কুমারগাঁওয়ের শেখপাড়ার বাসিন্দা। মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস করার পর সে আর পড়ালেখা করেনি। তার বাবার নাম মাওলানা আতিকুর রহমান। তিনি শাহপুর মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষক। তাদের মূল বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর। প্রায় ২০ বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করছিল ফয়জুল। বছর দুয়েক আগে শেখপাড়ায় জমি কিনে আধা পাকা বাড়ি করেন ফয়জুলের বাবা। শনিবার হামলার পরপরই শেখপাড়ার বাসাটি তালাবদ্ধ করে ফয়জুলের পরিবারের সদস্যরা সিএনজিচালিত অটোরিকশা করে অন্যত্র পালিয়ে গেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান যমুনা টিভিকে বলেন, এ হামলার পেছনে গোয়েন্দা ব্যর্থতা ছিল। যে ছেলেটি হামলা চালিয়েছে, সে দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসের পাশে অবস্থান করে ড. জাফর ইকবালের গতিবিধি লক্ষ করছিল। কিন্তু গোয়েন্দারা বিষয়টি জানতে পারেনি। তিনি জানান, জঙ্গিরা যতদিন বাইরে থাকবে, দেশ ততদিন নিরাপদ থাকবে না।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রি. জে. (অব.) সাখাওয়াত হোসেন একই টিভিকে বলেছেন, পুলিশের কাজ ছিল জাফর ইকবালকে প্রটেকশন দেয়া। কিন্তু তারা তা করতে পারেনি। ঘটনার সময় দায়িত্ব পালনকারী কিছু পুলিশ সদস্য মোবাইল ফোন নিয়ে ব্যস্ত ছিল। অতীতের হামলাগুলোর যথাযথ বিচার না হলে এ ধরনের হামলা আরও ঘটবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন ব্রি. জে. (অব.) সাখাওয়াত হোসেন।

যদিও জাফর ইকবালের স্ত্রী ইয়াসমীন জানান, জাফর ইকবালের সঙ্গে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ থাকে। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল না। হামলার সময় এসবির একজন সদস্য বাধাও দিয়েছিলেন।

এদিকে সিলেট ব্যুরো জানায়, জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হয়েই ড. জাফর ইকবালকে হত্যার চেষ্টা করে বলে স্বীকার করেছে হামলাকারী ফয়জুল হাসান। র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফয়জুল স্বীকার করে, জাফর ইকবালের ‘ভূতের বাচ্চা সোলায়মান’ নামক উপন্যাস লিখে নবী সোলায়মানকে (আ.) ব্যঙ্গ করায় অধ্যাপক ড. জাফর ইকবালের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। ফয়জুল দাবি করে, ‘জাফর ইকবাল ইসলামের শত্র“, তাই তাকে হত্যা করার জন্য হামলা করেছি। উনি নিজে নাস্তিক এবং অন্য সবাইকেও নাস্তিক বানানোর জন্য প্রচার করে বেড়াচ্ছেন। তার লেখা পড়ে মানুষ বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ছে।’ রোববার ফয়জুলের এই স্বীকারোক্তির কথা জানান র‌্যাব-৯-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আলী হায়দার আজাদ আহমেদ। র‌্যাব কর্মকর্তা আজাদ আহমেদ জানান, হামলার সময় তার সঙ্গে অন্য কেউ ছিল না বলে ফয়জুল জানিয়েছে।

সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়া জানিয়েছেন, হামলার ঘটনায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করা হয়েছে। রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ইশফাকুল হোসেন বাদী হয়ে ফয়জুল হাসানের নাম উল্লেখসহ কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করে এসএমপির জালালাবাদ থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এদিকে ঘটনায় ফয়জুল ছাড়াও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে শনিবার রাতেই পুলিশ শহরতলির শেখপাড়া থেকে আটক করে ফয়জুল হাসানের মামা ফয়জুর রহমানকে। একই রাতে র‌্যাব আটক করে মঈন কম্পিউটারের মালিক মঈনুল হক মঈনকে। যেখানে কাজ করত ফয়জুল হাসান। তাকে আটকের সময় দোকান থেকে কম্পিউটার জব্দ করে নিয়ে যান র‌্যাব সদস্যরা। রোববার ভোরে ফয়জুলের গ্রামের বাড়ি থেকে তার চাচা আবদুল কাহারকে আটক করে র‌্যাব। তাছাড়া আরও একজনকে আটকের কথা জানাজানি হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তার নাম জানানো হয়নি। শনিবার ঘটনার পর আটক ফয়জুলকে প্রথমে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে জালালাবাদ সেনানিবাসে নেয়া হয়। রোববার তাকে পুলিশ প্রহরায় ফের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। এখন সে এই হাসপাতালের ২৭নং কেবিনে চিকিৎসাধীন আছে।

জাফর ইকবালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের কোনো অবহেলা ছিল কিনা- এমন প্রশ্নে এসএমপি কমিশনার গোলাম কিবরিয়া জানান, পুলিশের কোনো অবহেলা ছিল না। পুলিশ বাধা না দিলে বড় ধরনের ঘটনা ঘটতে পারত। তবুও হামলাকারী কীভাবে এত কাছাকাছি গেল, সে সময় পুলিশ সদস্যদের দায়িত্বে কোনো অবহেলা ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান গোলাম কিবরিয়া।

দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন হুমকির মধ্যে থাকা ড. জাফর ইকবালের ওপর শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসেই হামলার শিকার হন দেহরক্ষী বেষ্টিত কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল। সিলেট বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে পেছন থেকে অধ্যাপক জাফর ইকবালের মাথায় ছুরিকাঘাত করে ফয়জুল হাসান। হামলার পরপরই ফয়জুলকে আটক করে গণধোলাই দেয় শিক্ষার্থীরা। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। জালালাবাদ সেনানিবাসে চিকিৎসা দিয়ে রোববার র‌্যাব কার্যালয়ে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশে দেয়া হয়। অধ্যাপক জাফর ইকবালকে উদ্ধার করে প্রথমে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারপর রাতেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে হেলিকপ্টারে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে ঢাকা সিএমএইচে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সজ্ঞান ও আশঙ্কামুক্ত আছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা সেনানিবাসের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) চিকিৎসকরা।

ঘটনাপ্রবাহ : ড. জাফর ইকবাল ছুরিকাঘাত

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×