Logo
Logo
×

Advertisement

প্রথম পাতা

ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে দুই জোট: একক প্রার্থী দেবে ১৪ দল

বিএনপি নির্বাচনে আসবে- এমনটা ধরেই সব প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে

Advertisement

Icon

হাসিবুল হাসান

প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে দুই জোট: একক প্রার্থী দেবে ১৪ দল

ডিএনসিস ও ডিএসসিসি। ফাইল ছবি

Advertisement

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে একক প্রার্থী দেয়ার পরিকল্পনা করেছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট। যদিও জোটের দুই শরিক- জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি আলাদাভাবে নির্বাচনের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে। কিন্তু চূড়ান্ত পর্যায়ে জোটের পক্ষ থেকে সর্বসম্মতভাবে একক প্রার্থীকে সমর্থন দেয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছেন জোট সংশ্লিষ্টরা।

তবে নির্বাচনে যদি কোনো কারণে বিএনপি অংশ না নেয়, সেক্ষেত্রে হিসাব-নিকাশ ভিন্ন হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন জোটভুক্ত নেতারা। তাদের মতে, প্রার্থীর সংখ্যা বেশি দেখাতে দলগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সম্ভাবনা আছে শরিকদের। তবে বিএনপি নির্বাচনে আসবে- এমনটা ধরেই সব প্রস্তুতি নিচ্ছে ১৪ দলীয় জোট।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিম মঙ্গলবার সন্ধ্যায় টেলিফোনে যুগান্তরকে বলেন, এখনও তো সময় আসেনি। আলোচনাও হয়নি। নির্বাচনে সবার প্রার্থী থাকবে। তবে আমরা আলোচনা করে ১৪ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে একজনকে সমর্থন দেব।

বিগত সময় ঢাকা উত্তর সিটির উপনির্বাচন এবং খুলনা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, বরিশাল ও রাজশাহীসহ সিটি নির্বাচনগুলোতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকেই শেষ পর্যন্ত সমর্থন দিয়েছিল ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলগুলো। এসব নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় জোটের পক্ষে টিমও গঠন করা হয়েছিল। জোটের প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নেমে নির্বাচনী প্রচারও চালিয়েছিল জোট শরিকরা। এবারের নির্বাচনেও শেষ পর্যন্ত জোটের ছোট দলগুলো জোটগতভাবে একক প্রার্থীকেই সমর্থন দেবে বলে জানায় সংশ্লিষ্টরা।

জোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টি (জেপি) মহাসচিব শেখ শহিদুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, সিটি নির্বাচন নিয়ে এখনও আলোচনা হয়নি। আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে আমার যেটা মনে হয়, শেষ পর্যন্ত ১৪ দল জোটগতভাবেই নির্বাচনে অংশ নেবে।

এছাড়া আরেক শরিক সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়–য়া বলেন, আমরা চাই- জোটগতভাবে নির্বাচন করতে। একই ধরনের মত দেন ন্যাপের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন। তিনি বলেন, প্রতিপক্ষের অবস্থান ও কৌশলের ওপর আমাদের অবস্থান ও কৌশল নির্ভর করবে।

এদিকে ১৪ দলীয় জোটের একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, জোটের বেশির ভাগ দল মেয়র পদে জোটগত প্রার্থী দিতে চাইলেও শরিক- জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টি উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা চায়। এবার ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে তারা নিজেদের মতো করে নির্বাচনী প্রস্তুতিও নিতে শুরু করে দিয়েছে। জাসদের পক্ষে ইতিমধ্যে ঢাকা দক্ষিণে কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি শহিদুল ইসলাম এবং উত্তরে জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য নুরুল আক্তার নির্বাচনী মাঠেও নেমে পড়েছেন। এর বাইরে অন্য দলগুলো মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকেই সমর্থন দেবে। তবে তারা কয়েকটি কাউন্সিলর পদে কিছু কিছু জায়গায় ছাড় চাইতে পারে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যুগান্তরকে বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন তো আলাদাভাবেই সবাই করে। আমরাও দলীয়ভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’ বিগত সিটি নির্বাচনগুলোতে তো দেখেছি শেষ পর্যন্ত আপনারা আওয়ামী লীগের প্রার্থীকেই সমর্থন দিয়েছেন- এবারও তেমন হবে কিনা জানতে চাইলে রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘যদি সেই ধরনের কোনো ব্যাপার হয়, তাহলে আমরা জোটের বৈঠকে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরিন আক্তার যুগান্তরকে বলেন, ‘গত দুই নির্বাচনের অভিজ্ঞতা হচ্ছে- কেউ কারও নয়। যে যার যার দলের। আমরা সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী নিজেও তো বলেছেন, প্রত্যেক দলকে শক্তি অর্জন করার জন্য। ফলে সবাই শক্তি অর্জন করার জন্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে এভাবেই দেখবে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শরিক দলের সঙ্গে জোটের প্রার্থী নিয়ে এখনই আলোচনায় বসবে না আওয়ামী লীগ। বৈঠকে বসার আগে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থী চূড়ান্ত করতে চায় দলটি। এরপর বিএনপির নির্বাচনে অংশ নেয়া বা না নেয়ার সিদ্ধান্ত এবং অংশ নিলে তাদের প্রার্থী কে হবেন এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতিসহ সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে জোট শরিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসবে ক্ষমতাসীনরা। তখন পরিস্থিতি বুঝে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে জোটের সমর্থন চাইবে তারা। এর আগ পর্যন্ত যেসব দলের সক্ষমতা আছে, তাদের নিজেদের মতো প্রস্তুতি নিতে বলা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্য যুগান্তরকে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কোনো বাঁধাধরা নিয়ম নেই। ফলে যে যার মতো প্রস্তুতি নেবে এটাই স্বাভাবিক। তবে শরিকদের যারা আলাদাভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রয়োজন পড়লে তারাও আওয়ামী লীগের প্রার্থীকেই সমর্থন দেবে। ঢাকা সিটিতে মেয়র বা কাউন্সিলর পদে তাদেরও যদি ‘উইনেবল ক্যান্ডিডেট’ থাকে আমরাও সেটা বিবেচনা করব। কিন্তু শেষ পর্যন্ত একক প্রার্থীই দেব। কারণ তারা আমাদের শরিক, প্রতিপক্ষ নয়।

এবার ঢাকার দুই সিটিতে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির ও যোগ্যদের প্রার্থী করতে চায় আওয়ামী লীগ। যাতে ১৪ দলের শরিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীকে সমর্থন দেয়। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণের বর্তমান মেয়র সাঈদ খোকন আবারও দলের মনোনয়ন চাইবেন। তবে নানা কারণে তার মনোনয়ন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ফলে দলীয় মনোনয়নে পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য অ্যাডভোকেট কাজী নজিবুল্লাহ হিরু, ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে নূর তাপস, ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী এবং এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন আলোচনায় রয়েছেন।

অন্যদিকে মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুর পর চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র পদে বিজয়ী হন ব্যবসায়ী নেতা আতিকুল ইসলাম। ৭ মার্চ শপথ নেন তিনি। নিজের যোগ্যতা প্রমাণে খুব বেশি সময় পাননি মেয়র আতিকুল। সে বিবেচনায় তাকে আরেকবার সুযোগ দিতে পারে আওয়ামী লীগ। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ঢাকার দু’জন এমপি ও একজন প্রভাবশালী নেতা মেয়র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন।

প্রসঙ্গত, রোববার ৩ নভেম্বর ঢাকার দুই সিটিতে জানুয়ারির মাঝামাঝি বা শেষের দিকে ভোটগ্রহণ হতে পারে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর। তিনি বলেছেন, নভেম্বরের ১৮ তারিখের পর যে কোনোদিন এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। চলতি ভোটার তালিকা দিয়ে ইভিএমের মাধ্যমে এই দুই সিটিতে ভোটগ্রহণ করা হবে।

Advertisement

ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি নির্বাচন

Advertisement

আরও পড়ুন

নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষ ঘুম থেকে চিরঘুমে ১২ প্রাণ

ঘুম থেকে চিরঘুমে ১২ প্রাণ

রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী পতিত স্বৈরাচার ও বিরোধী দল এক হয়ে ষড়যন্ত্র করছে

পতিত স্বৈরাচার ও বিরোধী দল এক হয়ে ষড়যন্ত্র করছে

খালার বাড়ি যাওয়া হলো না দুই শিশুর বাবা-মেয়ের মৃত্যু মা-ছেলে হাসপাতালে

বাবা-মেয়ের মৃত্যু মা-ছেলে হাসপাতালে

বাঁওড় এলাকায় মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প তিন কোটি টাকার মাছ ছাড়তে খরচ ৪৫ কোটি

তিন কোটি টাকার মাছ ছাড়তে খরচ ৪৫ কোটি

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম