জমে উঠেছে দুই সিটির ভোট

জমে উঠেছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে রাজধানীর অলিগলি চষে বেড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মেয়র প্রার্থীরা। নৌকা ও ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি তাদের। গণসংযোগের সপ্তম দিনে ২৪ ঘণ্টা হেল্পলাইন চালুসহ আধুনিক ঢাকা গড়ার আশ্বাস দিচ্ছেন তারা। পূজার কারণে ভোট পেছানোর দাবির প্রতি সম্মতি জানিয়েছেন দু’দলের চার মেয়র প্রার্থী

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৭ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দুই সিটির ভোট
ছবি: যুগান্তর

হেল্পলাইনে ২৪ ঘণ্টাই মেয়রকে পাওয়া যাবে

- তাপস

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, ‘আমি নির্বাচিত হলে ঢাকাবাসীর জন্য হেল্পলাইন চালু করব। হেল্পলাইনে ঢাকাবাসী যে কোনো অভিযোগ দিতে পারবেন। এতে সমস্যার সমাধান না হলে ঢাকাবাসী সরাসরি মেয়রকে অভিযোগ জানানোর সুযোগ পাবেন। মেয়র সঙ্গে সঙ্গেই সেই সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।

বৃহস্পতিবার সকালে সপ্তম দিনের মতো নির্বাচনী প্রচারণায় রাজধানীর আজিমপুর-নিউমার্কেট এলাকার বিজিবি ৩ নম্বর গেটের সামনে সাংবাদিকদের তিনি এমন প্রতিশ্রুতির কথা জানান।

শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, আমি নির্বাচিত হলে মেয়র হিসেবে নয়, একজন সেবক হিসেবে ঢাকাবাসীর জন্য কাজ করে যাব। সেখানে একজন সেবক হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ২৪ ঘণ্টা ঢাকাবাসীর সেবা করব। ঢাকাবাসী আমাকে তাদের কাছে ২৪ ঘণ্টাই পাবেন। আমরা আমাদের সেবা সার্বক্ষণিক ঢাকাবাসীর দোরগোড়ায় পৌঁছাব।

তিনি বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন একটি সেবা প্রদানকারী সংস্থা। সুতরাং সেই সেবা প্রদানকারী সংস্থাকে ঢাকাবাসীর জন্য ২৪ ঘণ্টাই সেবা প্রদান করার জন্য আমরা নিয়োজিত রাখব।

এ সময় ঐতিহ্যের ঢাকা, সুন্দর ঢাকা, সচল ঢাকা, সুশাসিত ঢাকা এবং উন্নত ঢাকা- এই পাঁচ লক্ষ্যের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন নৌকার প্রার্থী তাপস। তিনি বলেন, ঢাকা নগরীকে আমরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থেকে শুরু করে বাসযোগ্য সুন্দর নগরী হিসেবে গড়ে তুলব। রাস্তায় আবর্জনা থাকবে না। মশক নিধন, সবুজায়ন এসব আমরা দৈনন্দিন ভিত্তিতে করব। ২৪ ঘণ্টা সিটি কর্পোরেশন এই কাজে নিয়োজিত থাকবে। আমাদের প্রাণের ঐতিহ্যের ঢাকা থাকবে একটি গর্বের জায়গায়।

পুরান ঢাকার সমস্যা নিয়ে আগে কেউ কোনো পরিকল্পনা নেয়নি উল্লেখ করে এই বিষয়ে বিস্তর পরিকল্পনা আছে বলে জানান শেখ ফজলে নূর তাপস।

তিনি বলেন, আমাদের প্রথম পরিকল্পনাই হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ঢাকাকে নিয়ে এখানে জলাবদ্ধতা নিরসন থেকে শুরু করে আমাদের ব্যাপক কার্যক্রম আমরা হাতে নেব। আমাদের যে মহাপরিকল্পনা সেই পরিকল্পনার আওতায় ঐতিহ্যবাহী ঢাকাকে সচল করে তুলব। নগরবাসী বাসযোগ্য সুন্দর নগরী পাবে।

তাপস বলেন, দায়িত্ব পেলে প্রথম ৯০ দিনে অগ্রাধিকার দিয়ে সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্রাশ প্রোগ্রামের আওতায় ব্যাপকভাবে কাজ শুরু করে মৌলিক নাগরিক সুবিধাগুলো নগরবাসীর দোরগোড়ায় পৌঁছে দেব।

তিনি বলেন, নৌকা মার্কার উন্নয়নের রূপরেখা ঢাকাবাসী সাদরে গ্রহণ করেছে। এর আগে কখনও ঐতিহ্যবাহী ঢাকাকে নিয়ে কোনো পরিকল্পনা করা হয়নি। আমরাই প্রথম এটা করেছি। আমাদের পরিকল্পনার প্রথমেই রয়েছে ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করা এবং ঐতিহ্যের যে স্বকীয়তা অপরূপ রয়েছে, সেটাকে প্রস্ফুটিত করা। আমরা যে মহাপরিকল্পনা নেব সেখানে ঐতিহ্যবাহী ঢাকাকে নিয়ে অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা সেভাবে কাজ করতে চাই। যে ঐতিহ্য হারিয়ে গেছে তা কীভাবে পুনরুদ্ধার, পুনরুজ্জীবিত করতে পারি এবং বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে পারি সেটাই মূল লক্ষ্য থাকবে।

এ সময় আচরণবিধি মেনে সুশৃঙ্খলভাবে প্রচারণা চালাতে উপস্থিত নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে আওয়ামী লীগ মনোনীত এই মেয়র প্রার্থী।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনিবাহী সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, সদস্য মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, আনোয়ার হোসেন, সাহাবুদ্দিন ফরাজি, উপদেষ্টা মুকুস বোস, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীরসহ দল ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এরপর বিকালে ঐতিহ্যবাহী লালবাগ এলাকায় গণসংযোগ করেন তাপস। এর আগে ইরাকি মাঠ ও ললিতমোহন দাস লেনে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে নৌকার প্রচারণা করেন তিনি।

এদিকে দিনব্যাপী প্রচার-প্রচারণায় হাজার হাজার দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা অংশ নেন। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চান। মিছিলরত নেতাকর্মীরা ‘নৌকা, নৌকা ও তাপস ভাই, তাপস ভাই’ স্লোগানে গণসংযোগ এলাকা মুখরিত করে রাখেন। বেশ কয়েক স্থানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা ভোট চাওয়ার পাশাপাশি বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন। তাপস মেয়র নির্বাচিত হলে আধুনিক ঢাকা গড়ার কথাও বলেন অনেকে।

প্রচারণার অংশ হিসেবে ফজলে নূর তাপস আজ চকবাজার থানার ৩১নং ওয়ার্ডের তারা মসজিদে পবিত্র জুমার নামাজ আদায় করবেন। নামাজ শেষে মুসল্লিদের সঙ্গে নাগরিক সমস্যা নিয়ে মতবিনিময় করবেন। পরে তিনি তারা মসজিদের সামনে হতে নির্বাচনী গণসংযোগ শুরু করবেন। এলাকাবাসীসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রচারণায় অংশগ্রহণ করবেন।

জনস্রোতে ষড়যন্ত্র ভেসে যাবে, জয় হবেই

- ইশরাক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, আমার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির মামলা হয়নি। দুদক ২০০৮ সালে সম্পদের বিবরণী চেয়ে যে নোটিশ দিয়েছে তার জবাব না দেয়ায় মামলা হয়েছে। ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার দেখে সরকার নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। জনস্রোতে সব ষড়যন্ত্র ভেসে যাবে। কোনো কিছু আমাদের আটকাতে পারবে না। জনগণ পাশে আছে। জয় আমাদের হবেই।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর দয়াগঞ্জ ব্রিজ থেকে সপ্তম দিনের নির্বাচনী প্রচার শুরুর সময় সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। পরে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা, উত্তর যাত্রাবাড়ী, ৪৮ নং ওয়ার্ড শহীদ জিয়া স্কুল, ধলপুর রোড, সুতি খালপাড়, কাজলা মেইন রোড, ডেমরা রোড, ভাঙ্গা প্রেস, বাঁশপট্টি, শেখদি চৌরাস্তা, শনির আখড়া, মৃধাবাড়ী ক্যানেল রোড হয়ে কোনাবাড়ী পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন। এ সময় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে ভোট চেয়ে লিফলেট বিতরণ করেন তিনি।

গণসংযোগকালে ইশরাকের সঙ্গে ছিলেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, ফজলুল হক মিলন, ঢাকা মহানগরের নেতা নবীউল্লাহ নবী, এসএম জিলানী, তানভির আহমেদ রবিন প্রমুখ। এছাড়াও স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী গণসংযোগে অংশ নেন।

গণসংযোগে ‘ঢাকার ছেলে ইশরাক ভাই ধানের শীষে ভোট চাই; মাগো তোমার একটি ভোটে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবে; আসছে দেশে শুভ দিন ধানের শীষে ভোট দিন’ ইত্যাদি স্লোগানে সব এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। এ সময় রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে নারী-পুরুষসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ হাত তুলে, অনেককে উঁচু দালানের ছাদে, বারান্দায় দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে ধানের শীষের পক্ষে সমর্থন দিতে দেখা যায়।

এ সময় বিভিন্ন এলাকায় নারী ভোটাররা দলবেঁধে ধানের শীষের প্রার্থী ইশরাক হোসেনকে ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে স্বাগত জানান। তিনিও হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে ঢাকা মহানগরীতে ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ মুখিয়ে আছে ধানের শীষে ভোট দেয়ার জন্য। আমরা যে এলাকায় গিয়েছি সেখানেই নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল শ্রেণির মানুষের উচ্ছ্বাস দেখেছি। এ অবস্থা দেখে ক্ষমতাসীনরা বেহাল হয়ে উঠছে। তারা নতুন নতুন ষড়যন্ত্রের ফাঁদ আঁটছে।

মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার কাছে নতুন করে সম্পদ বিবরণী চাওয়া হয়নি। আমার কাছে সম্পদ বিবরণী চাওয়া হয়েছিল ২০০৮ সালে। তখন আমার বয়স মাত্র ১৮ বছর। তখন আমি একজন ছাত্র। থাকতাম দেশের বাইরে। ওই সময়কার সেনা সমর্থিত সরকার বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে প্রতিহিংসামূলক আচরণ করার উদ্দেশ্যে এই সম্পদ বিবরণীর নোটিশ দিয়েছিল।

ইশরাক বলেন, পরে ২০১০ সালে যখন সরকারবিরোধী আন্দোলনে আমার বাবা যুক্ত হন। তখন আমার বাবার ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য আমার বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার এ মামলাটি করে। তারপর এই মামলার কোনো গতিবিধি ছিল না। ২০১৮ সালে যখন আমি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করি, তখন তড়িঘড়ি করে এই মামলার চার্জশিট অনুমোদন করা হয়।

এই মামলাকে ষড়যন্ত্রমূলক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে অবশ্যই এটি নতুন করে নাড়াচাড়া করছে সরকার রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার জন্য। তবে আমি এতে ভিত নই।

ইশরাক হোসেন বলেন, নির্বাচন কমিশনে এসব বিষয়ে প্রায় প্রতিদিনই অভিযোগ দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু কমিশন থেকে এখনও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখছি না। আমরা আশা করি, নির্বাচন কমিশন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।

রাত পর্যন্ত ইশরাক ৪৯, ৫০, ৬২, ৬৩, ৬৪ ও ৬৫ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন জায়গায় গণসংযোগ করেন। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় কদমতলী থানাধীন ৬১ নং ওয়ার্ডের দনিয়া বর্ণমালা স্কুল থেকে প্রচার শুরু করবেন তিনি। কদমতলী লাল মসজিদে জুমার নামাজ শেষে ৫২, ৫৩, ৫৮, ৫৯, ৬০ ও ৬১নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন জায়গায় গণসংযোগ করবেন ইশরাক হোসেন।

সম্ভব হলে নির্বাচনের তারিখ পিছিয়ে দিন

- আতিক

সরস্বতী পূজার জন্য সম্ভব হলে ভোটের তারিখ পেছানোর অনুরোধ জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে সব ধর্মের লোক বাস করে, সবারই উৎসব পালনের অধিকার রয়েছে। আমি অবশ্যই মনে করি, সরস্বতী পূজার কারণে যদি নির্বাচন পেছানোর দরকার হয় সেটা করতে হবে। আমি নির্বাচন কমিশনের প্রতি আমার পক্ষ থেকে, দলের পক্ষ থেকে দাবি জানাচ্ছি, যদি সম্ভব হয় তাহলে নির্বাচনের তারিখ পিছিয়ে দিন। কারও ধর্ম পালনে যেন কোনো বিঘ্ন না ঘটে।

বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মিরপুর ১২ নম্বরে আলুব্দি ঈদগাহ ময়দানে গণসংযোগে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা উত্তরে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের নির্বাচনী পোস্টার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগের বিষয়ে আতিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের কোনো নেতাকর্মী, সমর্থক আপনাদের পোস্টার ছিঁড়েনি, ছিঁড়বে না। মিথ্যা অভিযোগ করবেন না। প্রয়োজন হলে আপনার পোস্টার দেন, আমি লাগিয়ে দেব।

তিনি আরও বলেন, আপনারাই দেখুন, তাবিথ আউয়ালের পোস্টারে ছেঁয়ে গেছে সব জায়গা। আমরা যদি বলতাম, আমাদের নেতারা যদি বলতেন পোস্টার ছিঁড়তে, তাহলে তাবিথ আউয়ালের একটি পোস্টারও থাকত না। আমাদের ছিঁড়া লাগবে না। এসব অভিযোগ না করে শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকেন। ৩০ জানুয়ারি দেখা যাবে, নৌকা বিজয়ী হবেই ইনশাআল্লাহ।

আতিকুল বলেন, গত ৯ মাসে আমরা সমস্যা চিহ্নিত করেছি। আপনারা যদি নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন, তাহলে আগামী ৫ বছরে সমস্যার সমাধান করব, ইনশাআল্লাহ। স্তব্ধ ঢাকাকে সচল ঢাকা দেখতে হলে নৌকার বিজয়ের বিকল্প নেই। আমি গত ৯ মাসে যে কাজ করেছি তার চেয়ে বেশি কাজ করে আপনাদের সচল, সবুজায়ন, মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ঢাকা উপহার দেব।

এদিকে সপ্তম দিনের প্রচার ৩, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আলুব্দি ঈদগাহ মাঠ থেকে শুরু করেন আতিকুল। এদিনে মিরপুর ১২, সেকশন ১১, পলাশ নগর, সেকশন ১০, পল্লবী, মিল্কভিটা, রূপনগর এলাকায় গণসংযোগ-প্রচার চালিয়েছেন তিনি। সমাবেশ, প্রচার ও গণসংযোগে এলাকার সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহর ভাই এখলাস উদ্দিন মোল্লা ও তার সন্তানদের গাড়িবহর অংশ নিতে দেখা যায়।

এ সময় তার সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি বজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচিসহ নগর আওয়ামী লীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। প্রচার-গণসংযোগে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের দল সমর্থিত কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী।

এসব এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়ে আতিকুল আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বস্তিবাসীও আমাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের জন্য বিভিন্ন ধরনের ফ্ল্যাট তৈরি করে দেয়া হবে। আমরা কাজগুলো হাতে নিয়েছি। আমরা মনে করি, পুনর্বাসন ছাড়া কোনো উচ্ছেদ করা যাবে না। এটার আইনি দিক আমরা দেখব। বস্তিতে যে ক’দিন থাকুক না কেন, তাকে ওই ক’দিনের ভাড়া দেয়ার ব্যবস্থা আমরা করব। এরকম একটা ডিজাইন তৈরি করেছি আমরা। কিন্তু ৯ মাসে সবকিছু বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। অনেক কিছু আমরা প্ল্যান করে ফেলেছি।

এসময় নেতাকর্মীদের ঘরে ঘরে গিয়ে নৌকার জন্য ভোট চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেককে ভোট দিতে হবে। প্রত্যেককে ভোটের মাঠে আনতে হবে।

এদিকে নির্বাচনী প্রচারের অষ্টম দিনে আজ কালীবাড়ি বাউনিয়া মোড় থেকে গণসংযোগ শুরু করবেন। পরে মাটিকাটা, লালসরাই এলাকায় নৌকায় ভোট চাইবেন তিনি। বেলা আড়াইটা থেকে ভাষানটেক, বাইগারটেক, আলব্দিটেক, দামালকোট ও বিআরবি এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভায় অংশ নেবেন আতিকুল ইসলাম।

ধানের শীষে ভোট দিয়ে পূজার ক্ষোভ প্রশমিত করুন

- তাবিথ

সরস্বতী পূজার দিনে ভোটের তারিখ দিয়ে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল। হিন্দু সম্প্রদায়কে ওইদিন ধানের শীষে ভোট দিয়ে ক্ষোভ প্রশমিত করার আহ্বানও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর পশ্চিম তেজতুরি বাজার এলাকায় গণসংযোগকালে এসব কথা বলেন তাবিথ আউয়াল। এর আগে বেলা ১১টায় বসুন্ধরা সিটি মার্কেটের সামনে থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সপ্তম দিনের প্রচার শুরু করেন তিনি।

আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের সিদ্ধান্ত থেকে নির্বাচন কমিশনকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে তাবিথ বলেন, আমরা প্রযুক্তিবিরোধী নই, কিন্তু ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে এ প্রযুক্তি ব্যবহার নিয়ে আমাদের আশঙ্কা ও আপত্তি রয়েছে। তাছাড়া ইভিএম ব্যবহারে ভোটাররা এখনও প্রস্তুত নয়।

ইভিএমের সফটওয়্যার ও এর ব্যবহারের নানা বিষয় নিয়ে আমরা ইসির কাছে কিছু প্রশ্নের উত্তর জানতে চেয়েছি কিন্তু এখনও তারা এ বিষয়ে কিছুই জানাননি। নির্বাচন কমিশনকে বলব, দেশের বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল ও ভোটারদের ইচ্ছার কথা বিবেচনায় এনে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসুন।

তাবিথ বলেন, বিএনপির গণজোয়ার দেখে সরকারি দলের প্রার্থীরা ভয় পেয়ে উল্টো বিএনপির প্রার্থীদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছেন। আমাদের ভয় দেখানোর চেষ্টা না করে ভোটারদের কাছে যান, ভোট চান। তিনি বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ সকালে এক রকম আর বিকালে আরেক রূপ ধারণ করে। ভয়ভীতি উপেক্ষা করে সবাইকে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রচার শুরু আগে বসুন্ধরা সিটির সামনে এক ব্যতিক্রমী প্রতিবাদের আয়োজন করা হয়। চারুকলার শিক্ষার্থীরা সেখানে বর্তমান সরকারের নানা কর্মকাণ্ডের বিরোধিতার চিত্র প্রতীকীভাবে তুলে ধরেন। এরপর সেখান থেকে পুরাতন আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি, আবদুল আলিম কমিউনিটি সেন্টারের গলিতে প্রচার চালান তাবিথ।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাবিথ ফার্মগেটের গ্রিন সুপার মার্কেটের সামনে আসেন। এখানে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও পথচারীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও ধানের শীষে ভোট চান তিনি। পশ্চিম তেজতুরি বাজার, আনন্দ সিনেমা হল, তেজগাঁ কলেজ, ইন্ধিরা রোড, পূর্ব রাজাবাজার, পান্থপথ, স্কয়ার হাসপাতাল, খামারবাড়ি, খেজুর বাগান, আগারগাঁও পাকা মার্কেট, শেরেবাংলা নগর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, বাংলাদেশে বেতারের সামনে, দক্ষিণ পীরের বাগ, ৬০ ফিটের আমতলা, বিএনপি বাজার এলাকায় গণসংযোগ করেন তিনি।

এ সময় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে ভোট চান। বেলা ৩টায় রোকেয়া সরণি থেকে ফের প্রচার শুরু করেন তাবিথ। এরপর তালতলা স্টাফ কোয়ার্টার, পানির ট্যাংকির মোড়, শ্যামলীর ১ ও ২নং রোডে প্রচার চালিয়ে গণসংযোগ শেষ করেন তিনি।

এসময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তাবিথ বলেন, গণসংযোগে জনগণের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। ভোটাররাও ধানের শীষে ভোট দিয়ে তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চান। আমিও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, যেসব পার্ক, খেলার মাঠ দখল হয়ে গেছে সেগুলো উদ্ধার করব। মশার কারণে ডেঙ্গু হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গণসংযোগকালে তাবিথের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপাসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, নিপুণ রায় চৌধুরী, ঢাকা মহানগর নেতা বজলুল বাসিদ আঞ্জু, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা সুলতানা আহমেদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, মোস্তাফিজুর রহমান, গোলাম সরোয়ার, কমিশনার প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, যুবদল নেতা এসএম জাহাঙ্গীর হোসেনসহ বিএনপি ও তার অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

আজ সকাল ১০টায় মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে গণসংযোগ শুরু করবেন তাবিথ। ২৯ থেকে ৩৩নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় দিনব্যাপী প্রচার চালাবেন তিনি।

ঘটনাপ্রবাহ : ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন-২০২০

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×