৩০৬ কেন্দ্রে একশ’র কম করে ভোট তাবিথের
jugantor
৩০৬ কেন্দ্রে একশ’র কম করে ভোট তাবিথের
আতিক একশ’র কম করে ভোট পান ৩৯ কেন্দ্রে * ঢাকা উত্তরে কোথাও ৩ ভাগ, কোথাও ৭৮.২১ শতাংশ ভোট পড়েছে * ভোটের হার ২৫.৩২ শতাংশ

  কাজী জেবেল  

০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

৩০৬ কেন্দ্রে তাবিথ একশ’ও কম করে ভোট পেয়েছেন

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে ৩০৬টি ভোটকেন্দ্রে একশ’রও কম করে ভোট পেয়েছেন মাঠের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি প্রার্থী তাবিথ আউয়াল। অপরদিকে ৩৯টি কেন্দ্রে একশ’রও কম করে ভোট পেয়েছেন নবনির্বাচিত আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মো. আতিকুল ইসলাম।

তবে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলে তাবিথ আউয়াল সর্বনিম্ন দুটি ও সর্বোচ্চ ৮৪৯ ভোট পেয়েছেন। আতিকুল ইসলাম সর্বনিম্ন ৩৩ ও সর্বোচ্চ ১ হাজার ৯৯২ ভোট পেয়েছেন। ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচনের ১৩১৮টি কেন্দ্রের ফল বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। সামগ্রিকভাবে এ নির্বাচনে ২৫ দশমিক ৩২ শতাংশ ভোট পড়েছে।

কোনো কেন্দ্রে ৩ শতাংশ আবার কোথাও ৭৮ দশমিক ২১ শতাংশ ভোট পড়েছে। যে ৩০৬টি কেন্দ্রে বিএনপির প্রার্থী একশ’র কম করে ভোট পেয়েছেন, সেখানে নৌকার প্রার্থী বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয় পায়। অপরদিকে আতিকুল ইসলাম যে ৪০টি কেন্দ্রে ১০০টির কম করে ভোট পেয়েছেন, ওইসব কেন্দ্রের অনেকগুলোতেই তাবিথ আউয়াল বেশি ভোট পেয়েছেন।

ভোটের এ পরিসংখ্যান নিয়ে জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাচন কমিশন ফলাফল তৈরি করার জন্য একটা অঙ্ক মিলিয়েছে; যেটা তারা প্রকাশ করেছে। এক কথায় বলা যায় এই নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে বানোয়াট। এই ফলাফল কোনো মতেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ নির্বাচনে ৫-৭ শতাংশের বেশি ভোট পড়েনি। তবে তাবিথ আউয়ালের বাক্সে কম ভোট পড়ার জন্য বিএনপিকে দুষছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। তিনি বলেছেন, এর জন্য দায়ী বিএনপির নির্বাচনবিরোধী চরিত্র। নির্বাচনী প্রচারের শুরু থেকে বিএনপি নেতারা ও তাদের প্রার্থীরা ভোটারদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার হয় এমন বক্তব্য দিয়ে আসছিলেন। বিএনপির আচরণ দেখে মনে হয়েছে তারা জয়ের জন্য নয়, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ এবং জনগণের মধ্যে ভীতি সঞ্চারের জন্য অংশ নিয়েছে।

শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণের পর রাত ৩টার দিকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাসেম। তিনি জানান, নির্বাচনে ঢাকা উত্তর সিটির ৩০ লাখ ১৩ হাজার ১২ ভোটের মধ্যে ৭ লাখ ৬২ হাজার ৭৮৮ জন ভোট দিয়েছেন, যার মধ্যে বৈধ ভোট ৭ লাখ ৬১ হাজার ২৫৮টি ও বাতিল ভোট ১ হাজার ৫৩০টি। ভোট পড়ার হার ২৫ দশমিক ৩২ শতাংশ। আওয়ামী লীগ প্রার্থী আতিকুল ইসলাম ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৮১১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।

তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির তাবিথ আউয়াল পেয়েছেন ২ লাখ ৬৪ হাজার ১৬১ ভোট। অন্যান্য প্রার্থীর মধ্যে কমিউনিস্ট পার্টির আহাম্মদ সাজেদুল হক ১৫ হাজার ১২২, এনপিপির আনিসুর রহমান দেওয়ান ৩ হাজার ৮৫৩, পিডিপির শাহীন খান ২ হাজার ১১১ ও ইসলামী আন্দোলনের শেখ মো. ফজলে বারী মাসউদ ২৮ হাজার ২০০ ভোট পেয়েছেন।

ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করে ভোটগ্রহণ করায় কম ভোট পড়ার অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা আলোচনা ও সমালোচনা। নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর বলেছেন, ভোটাররা আরাম-আয়েশে থাকায় ভোট দিতে আসেননি।

কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, তাবিথ আউয়াল ও আতিকুল ইসলামের মধ্যে ভোটের ব্যবধান অনেক বেশি। বেশির ভাগ কেন্দ্রে তাবিথ আউয়াল বড় ব্যবধানে পিছিয়ে ছিলেন। ১১টি ভোটকেন্দ্রে ১০টি করে, ১৯টি কেন্দ্রে ১০ থেকে ১৯টি করে, ২৬টি কেন্দ্রে ২০ থেকে ২৯টি করে ভোট পেয়েছেন তাবিথ আউয়াল।

সব মিলিয়ে ২ থেকে ৪৯ পর্যন্ত ভোট পাওয়া কেন্দ্রের সংখ্যা তার ১১৩টি। আর তিনি ৫০ থেকে ৯৯টি করে ভোট পেয়েছেন ১৯৩ কেন্দ্রে। এ হিসাবে ঢাকা উত্তর সিটির ১ হাজার ৩১৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩০৬টিতে ২ থেকে ৯৯টি করে ভোট পেয়েছেন তাবিথ আউয়াল। আর ১০০ থেকে ১৪৯টি করে ভোট পেয়েছেন ২২৩টি কেন্দ্রে। বাকি কেন্দ্রগুলোতে ১৫০ থেকে ৮৪৯টি করে ভোট পেয়েছেন তাবিথ আউয়াল।

তেজগাঁওয়ের ঢাকা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট কেন্দ্রে ২টি ভোট পেয়েছেন তাবিথ আউয়াল। অপরদিকে এ কেন্দ্রে ১৯৭টি ভোট পেয়েছেন আতিকুল ইসলাম। এ কেন্দ্রে ২ হাজার ২৫৯টির মধ্যে ২০১টি ভোট পড়েছে; যা মোট ভোটের ৮ দশমিক ৯০ শতাংশ। একই এলাকার তেজগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে তাবিথ আউয়াল ৫ ভোট পেয়েছেন।

পক্ষান্তরে আতিকুল ইসলাম পেয়েছেন ৪১ ভোট। এ কেন্দ্রে ভোট পড়ার হার ৪ দশমিক ০৮ শতাংশ। টেকনিক্যাল টিচার ট্রেনিং কেন্দ্রে তাবিথ আউয়াল ৫ ভোট, তেজগাঁও কলেজের এক কেন্দ্রে ৬ ভোট ও আরেক কেন্দ্রে ৭ ভোট পেয়েছেন। এ তিনটি কেন্দ্রে আতিকুল ইসলাম পেয়েছেন যথাক্রমে ১৯৮, ১৯৫ ও ১৭৩ ভোট।

অপরদিকে নৌকার প্রার্থী আতিকুল ইসলাম ৩৯টি কেন্দ্রে একশ’র কম করে ভোট পেয়েছেন। এর অনেকগুলোতেই তাবিথ আউয়াল বেশি ভোট পেয়েছে। ৩৯টি কেন্দ্রের মধ্যে তিনটি কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আতিকুল ইসলাম ৩৩ থেকে ৪৯ ভোট করে পেয়েছেন। ৫০ থেকে ৯৯ ভোট করে পেয়েছেন ৩৭টি কেন্দ্রে, আর ১০০ থেকে ১৪৯ ভোট করে পেয়েছেন ৯২টি কেন্দ্রে।

কেন্দ্রভিত্তিক সবচেয়ে কম ভোট পেয়েছেন কাফরুলের শহীদ পুলিশ স্মৃতি ভোটকেন্দ্রে। এই কেন্দ্রে আতিকুল ইসলাম ৩৩ ভোট পেয়েছেন। অপরদিকে ধানের শীষের প্রার্থী তাবিথ আউয়াল পেয়েছেন ২০টি। এ কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৩ দশমিক ০৮ শতাংশ। পল্লবী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আতিকুল ইসলাম ৫৭টি ও তাবিথ ৪০টি এবং তেজগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে আতিকুল ইসলাম ৪১টি ও তাবিথ আউয়াল ৫টি ভোট পেয়েছেন। এ দুটি কেন্দ্রে যথাক্রমে ৯ দশমিক ২১ ও ৪ দশমিক ০৮ শতাংশ ভোট পড়েছে।

কোথাও ৩, কোথাও ৭৮ দশমিক ২১ শতাংশ ভোট : ঢাকা উত্তর সিটির একটি কেন্দ্রে সর্বনিম্ন ৩ দশমিক ০৮ শতাংশ ভোট পড়লেও আরেকটি কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ৭৮ দশমিক ২১ শতাংশ ভোট পড়েছে। কাফরুলের শহীদ পুলিশ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৩ দশমিক ০৮ শতাংশ ভোট পড়েছে।

এই কেন্দ্রে ২ হাজার ১১ ভোটারের মধ্যে ৬২ জন ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যে নৌকা ৩৩টি ও ধানের শীষ ২০ ভোট পেয়েছে। এছাড়া ৩টি কেন্দ্রে ৫ শতাংশের কম এবং ৫৬টি কেন্দ্রে ৫ থেকে ৯ শতাংশ পর্যন্ত ভোট পড়েছে। বাকি কেন্দ্রগুলোতে ১০ থেকে ৭৮ শতাংশ পর্যন্ত ভোট পড়েছে। উত্তরা আইডিয়াল কলেজ কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ৭৮.২১ শতাংশ ভোট পড়েছে। এ কেন্দ্রে ২ হাজার ১৮০ ভোটের মধ্যে এক হাজার ৭০৫ ভোট পড়েছে। এর মধ্যে আতিকুল ইসলাম এক হাজার ৬৮১ এবং তাবিথ আউয়াল ১৯ ভোট পেয়েছেন।

ট্যাবের কারণে ফল প্রকাশে বিলম্ব : দুই রিটার্নিং কর্মকর্তার দফতর সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে ইভিএমে ভোটগ্রহণের পরই ফল প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রীয়ভাবে ফল প্রকাশে সময় লেগেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ১০ ঘণ্টা ও উত্তর সিটিতে ১১ ঘণ্টা। বিকাল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হলেও ঢাকা দক্ষিণ সিটির রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবদুল বাতেন রাত ২টার কিছু আগে মেয়র পদের পূর্ণাঙ্গ ফল প্রকাশ করেন। আর ঢাকা উত্তর সিটির রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাসেম ফল প্রকাশ করেন রাত ৩টার দিকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই সিটির ১০ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেছেন, মোবাইল ট্যাবের মাধ্যমে ফল প্রকাশ করতে গিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। যে প্রক্রিয়ায় দ্রুত ফল প্রকাশের কথা তা বিপর্যয় ঘটে। ফলে মাঝপথে কয়েক ঘণ্টা ফল প্রকাশ বন্ধ ছিল। এক পর্যায়ে ঢাকা উত্তরে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ফল সংগ্রহ করা হয়। আর দক্ষিণে ট্যাবের মাধ্যমে ফল প্রকাশ করা হলেও সময় বেশি লেগেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাসেম বলেন, প্রযুক্তি ফেল করাতে ফল প্রকাশে দেরি হয়েছে। এটি ইচ্ছাকৃত নয়।

৩০৬ কেন্দ্রে একশ’র কম করে ভোট তাবিথের

আতিক একশ’র কম করে ভোট পান ৩৯ কেন্দ্রে * ঢাকা উত্তরে কোথাও ৩ ভাগ, কোথাও ৭৮.২১ শতাংশ ভোট পড়েছে * ভোটের হার ২৫.৩২ শতাংশ
 কাজী জেবেল 
০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
৩০৬ কেন্দ্রে তাবিথ একশ’ও কম করে ভোট পেয়েছেন
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে ৩০৬টি ভোটকেন্দ্রে একশ’রও কম করে ভোট পেয়েছেন মাঠের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি প্রার্থী তাবিথ আউয়াল। অপরদিকে ৩৯টি কেন্দ্রে একশ’রও কম করে ভোট পেয়েছেন নবনির্বাচিত আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মো. আতিকুল ইসলাম।

তবে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলে তাবিথ আউয়াল সর্বনিম্ন দুটি ও সর্বোচ্চ ৮৪৯ ভোট পেয়েছেন। আতিকুল ইসলাম সর্বনিম্ন ৩৩ ও সর্বোচ্চ ১ হাজার ৯৯২ ভোট পেয়েছেন। ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচনের ১৩১৮টি কেন্দ্রের ফল বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। সামগ্রিকভাবে এ নির্বাচনে ২৫ দশমিক ৩২ শতাংশ ভোট পড়েছে।

কোনো কেন্দ্রে ৩ শতাংশ আবার কোথাও ৭৮ দশমিক ২১ শতাংশ ভোট পড়েছে। যে ৩০৬টি কেন্দ্রে বিএনপির প্রার্থী একশ’র কম করে ভোট পেয়েছেন, সেখানে নৌকার প্রার্থী বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয় পায়। অপরদিকে আতিকুল ইসলাম যে ৪০টি কেন্দ্রে ১০০টির কম করে ভোট পেয়েছেন, ওইসব কেন্দ্রের অনেকগুলোতেই তাবিথ আউয়াল বেশি ভোট পেয়েছেন।

ভোটের এ পরিসংখ্যান নিয়ে জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাচন কমিশন ফলাফল তৈরি করার জন্য একটা অঙ্ক মিলিয়েছে; যেটা তারা প্রকাশ করেছে। এক কথায় বলা যায় এই নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে বানোয়াট। এই ফলাফল কোনো মতেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ নির্বাচনে ৫-৭ শতাংশের বেশি ভোট পড়েনি। তবে তাবিথ আউয়ালের বাক্সে কম ভোট পড়ার জন্য বিএনপিকে দুষছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। তিনি বলেছেন, এর জন্য দায়ী বিএনপির নির্বাচনবিরোধী চরিত্র। নির্বাচনী প্রচারের শুরু থেকে বিএনপি নেতারা ও তাদের প্রার্থীরা ভোটারদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার হয় এমন বক্তব্য দিয়ে আসছিলেন। বিএনপির আচরণ দেখে মনে হয়েছে তারা জয়ের জন্য নয়, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ এবং জনগণের মধ্যে ভীতি সঞ্চারের জন্য অংশ নিয়েছে।

শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণের পর রাত ৩টার দিকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাসেম। তিনি জানান, নির্বাচনে ঢাকা উত্তর সিটির ৩০ লাখ ১৩ হাজার ১২ ভোটের মধ্যে ৭ লাখ ৬২ হাজার ৭৮৮ জন ভোট দিয়েছেন, যার মধ্যে বৈধ ভোট ৭ লাখ ৬১ হাজার ২৫৮টি ও বাতিল ভোট ১ হাজার ৫৩০টি। ভোট পড়ার হার ২৫ দশমিক ৩২ শতাংশ। আওয়ামী লীগ প্রার্থী আতিকুল ইসলাম ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৮১১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।

তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির তাবিথ আউয়াল পেয়েছেন ২ লাখ ৬৪ হাজার ১৬১ ভোট। অন্যান্য প্রার্থীর মধ্যে কমিউনিস্ট পার্টির আহাম্মদ সাজেদুল হক ১৫ হাজার ১২২, এনপিপির আনিসুর রহমান দেওয়ান ৩ হাজার ৮৫৩, পিডিপির শাহীন খান ২ হাজার ১১১ ও ইসলামী আন্দোলনের শেখ মো. ফজলে বারী মাসউদ ২৮ হাজার ২০০ ভোট পেয়েছেন।

ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করে ভোটগ্রহণ করায় কম ভোট পড়ার অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা আলোচনা ও সমালোচনা। নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর বলেছেন, ভোটাররা আরাম-আয়েশে থাকায় ভোট দিতে আসেননি। 

কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, তাবিথ আউয়াল ও আতিকুল ইসলামের মধ্যে ভোটের ব্যবধান অনেক বেশি। বেশির ভাগ কেন্দ্রে তাবিথ আউয়াল বড় ব্যবধানে পিছিয়ে ছিলেন। ১১টি ভোটকেন্দ্রে ১০টি করে, ১৯টি কেন্দ্রে ১০ থেকে ১৯টি করে, ২৬টি কেন্দ্রে ২০ থেকে ২৯টি করে ভোট পেয়েছেন তাবিথ আউয়াল।

সব মিলিয়ে ২ থেকে ৪৯ পর্যন্ত ভোট পাওয়া কেন্দ্রের সংখ্যা তার ১১৩টি। আর তিনি ৫০ থেকে ৯৯টি করে ভোট পেয়েছেন ১৯৩ কেন্দ্রে। এ হিসাবে ঢাকা উত্তর সিটির ১ হাজার ৩১৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩০৬টিতে ২ থেকে ৯৯টি করে ভোট পেয়েছেন তাবিথ আউয়াল। আর ১০০ থেকে ১৪৯টি করে ভোট পেয়েছেন ২২৩টি কেন্দ্রে। বাকি কেন্দ্রগুলোতে ১৫০ থেকে ৮৪৯টি করে ভোট পেয়েছেন তাবিথ আউয়াল।

তেজগাঁওয়ের ঢাকা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট কেন্দ্রে ২টি ভোট পেয়েছেন তাবিথ আউয়াল। অপরদিকে এ কেন্দ্রে ১৯৭টি ভোট পেয়েছেন আতিকুল ইসলাম। এ কেন্দ্রে ২ হাজার ২৫৯টির মধ্যে ২০১টি ভোট পড়েছে; যা মোট ভোটের ৮ দশমিক ৯০ শতাংশ। একই এলাকার তেজগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে তাবিথ আউয়াল ৫ ভোট পেয়েছেন।

পক্ষান্তরে আতিকুল ইসলাম পেয়েছেন ৪১ ভোট। এ কেন্দ্রে ভোট পড়ার হার ৪ দশমিক ০৮ শতাংশ। টেকনিক্যাল টিচার ট্রেনিং কেন্দ্রে তাবিথ আউয়াল ৫ ভোট, তেজগাঁও কলেজের এক কেন্দ্রে ৬ ভোট ও আরেক কেন্দ্রে ৭ ভোট পেয়েছেন। এ তিনটি কেন্দ্রে আতিকুল ইসলাম পেয়েছেন যথাক্রমে ১৯৮, ১৯৫ ও ১৭৩ ভোট।

অপরদিকে নৌকার প্রার্থী আতিকুল ইসলাম ৩৯টি কেন্দ্রে একশ’র কম করে ভোট পেয়েছেন। এর অনেকগুলোতেই তাবিথ আউয়াল বেশি ভোট পেয়েছে। ৩৯টি কেন্দ্রের মধ্যে তিনটি কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আতিকুল ইসলাম ৩৩ থেকে ৪৯ ভোট করে পেয়েছেন। ৫০ থেকে ৯৯ ভোট করে পেয়েছেন ৩৭টি কেন্দ্রে, আর ১০০ থেকে ১৪৯ ভোট করে পেয়েছেন ৯২টি কেন্দ্রে।

কেন্দ্রভিত্তিক সবচেয়ে কম ভোট পেয়েছেন কাফরুলের শহীদ পুলিশ স্মৃতি ভোটকেন্দ্রে। এই কেন্দ্রে আতিকুল ইসলাম ৩৩ ভোট পেয়েছেন। অপরদিকে ধানের শীষের প্রার্থী তাবিথ আউয়াল পেয়েছেন ২০টি। এ কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৩ দশমিক ০৮ শতাংশ। পল্লবী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আতিকুল ইসলাম ৫৭টি ও তাবিথ ৪০টি এবং তেজগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে আতিকুল ইসলাম ৪১টি ও তাবিথ আউয়াল ৫টি ভোট পেয়েছেন। এ দুটি কেন্দ্রে যথাক্রমে ৯ দশমিক ২১ ও ৪ দশমিক ০৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। 

কোথাও ৩, কোথাও ৭৮ দশমিক ২১ শতাংশ ভোট : ঢাকা উত্তর সিটির একটি কেন্দ্রে সর্বনিম্ন ৩ দশমিক ০৮ শতাংশ ভোট পড়লেও আরেকটি কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ৭৮ দশমিক ২১ শতাংশ ভোট পড়েছে। কাফরুলের শহীদ পুলিশ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৩ দশমিক ০৮ শতাংশ ভোট পড়েছে।

এই কেন্দ্রে ২ হাজার ১১ ভোটারের মধ্যে ৬২ জন ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যে নৌকা ৩৩টি ও ধানের শীষ ২০ ভোট পেয়েছে। এছাড়া ৩টি কেন্দ্রে ৫ শতাংশের কম এবং ৫৬টি কেন্দ্রে ৫ থেকে ৯ শতাংশ পর্যন্ত ভোট পড়েছে। বাকি কেন্দ্রগুলোতে ১০ থেকে ৭৮ শতাংশ পর্যন্ত ভোট পড়েছে। উত্তরা আইডিয়াল কলেজ কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ৭৮.২১ শতাংশ ভোট পড়েছে। এ কেন্দ্রে ২ হাজার ১৮০ ভোটের মধ্যে এক হাজার ৭০৫ ভোট পড়েছে। এর মধ্যে আতিকুল ইসলাম এক হাজার ৬৮১ এবং তাবিথ আউয়াল ১৯ ভোট পেয়েছেন।

ট্যাবের কারণে ফল প্রকাশে বিলম্ব : দুই রিটার্নিং কর্মকর্তার দফতর সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে ইভিএমে ভোটগ্রহণের পরই ফল প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রীয়ভাবে ফল প্রকাশে সময় লেগেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ১০ ঘণ্টা ও উত্তর সিটিতে ১১ ঘণ্টা। বিকাল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হলেও ঢাকা দক্ষিণ সিটির রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবদুল বাতেন রাত ২টার কিছু আগে মেয়র পদের পূর্ণাঙ্গ ফল প্রকাশ করেন। আর ঢাকা উত্তর সিটির রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাসেম ফল প্রকাশ করেন রাত ৩টার দিকে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই সিটির ১০ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেছেন, মোবাইল ট্যাবের মাধ্যমে ফল প্রকাশ করতে গিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। যে প্রক্রিয়ায় দ্রুত ফল প্রকাশের কথা তা বিপর্যয় ঘটে। ফলে মাঝপথে কয়েক ঘণ্টা ফল প্রকাশ বন্ধ ছিল। এক পর্যায়ে ঢাকা উত্তরে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ফল সংগ্রহ করা হয়। আর দক্ষিণে ট্যাবের মাধ্যমে ফল প্রকাশ করা হলেও সময় বেশি লেগেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাসেম বলেন, প্রযুক্তি ফেল করাতে ফল প্রকাশে দেরি হয়েছে। এটি ইচ্ছাকৃত নয়।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন-২০২০

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০