তৃণমূল শক্তিশালী করার উদ্যোগ: জেলার নিষ্ক্রিয় নেতাদের তালিকা করছে বিএনপি

  তারিকুল ইসলাম ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপি

তৃণমূলকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। এরই অংশ হিসেবে নিষ্ক্রিয়দের জেলা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে বাদ দেয়া হচ্ছে। তৈরি করা হচ্ছে একটি তালিকাও। সেই অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ইতিমধ্যে শীর্ষ নেতারা নিষ্ক্রিয় থাকায় নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটি বিলুপ্ত করেছে। একই অভিযোগে শিগগিরই আরও তিনটি জেলার কমিটি ভেঙে দেয়া হবে। বিএনপির নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল যুগান্তরকে বলেন, সাংগঠনিক জেলা কমিটি গঠনের পর তাদের কাছে দলের একটা প্রত্যাশা থাকে। তা হল দলকে উজ্জীবিত করা, থানা কমিটিসহ অধীনস্থ ইউনিটের কমিটি সফলভাবে করা, হামলা-মামলায় জর্জরিত নেতাকর্মীদের পাশে থাকাসহ আরও কিছু। কিন্তু প্রত্যাশিত ফলাফল সেই স্কোরে না যেতে পারলে জেলা কমিটি রাখার তো দরকার নেই। আমরা তৃণমূলকে শক্তিশালী করতে চাই। এতে যারা ব্যর্থ হবেন তাদের বিরুদ্ধে দল ব্যবস্থা নেবে এটাই স্বাভাবিক।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তৃণমূল পুনর্গঠনে মনোযোগ দেয় বিএনপি। এজন্য মেয়াদোত্তীর্ণ সাংগঠনিক জেলায় নতুন করে কমিটি করার উদ্যোগ নেয় দলটি।

নীতিনির্ধারকরা জানান, দল পুনর্গঠন নিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা ছিল- জেলায় ৩ মাসের জন্য প্রথমে আহ্বায়ক কমিটি করা। তারা ইউনিয়ন-থানাসহ সংশ্লিষ্ট জেলার সব পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে অথবা সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্ব বের করবেন। সব শেষে জেলায় কাউন্সিল করে ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন। অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ক্ষেত্রেও প্রায় একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিএনপির ৮২টি সাংগঠনিক জেলা কমিটির মধ্যে ২৬টির আহ্বায়ক কমিটি এবং ৯টির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে নীলফামারী, হবিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নওগাঁ, যশোর, বগুড়া, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, সৈয়দপুর, পাবনা, রাজশাহী, নেত্রকোনা, পঞ্চগড়, ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলাসহ আরও কয়েকটির ৩ মাসের মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। এসব জেলার নেতারা হাইকমান্ডের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করছেন না।

বেশির ভাগ তৃণমূল নেতৃত্ব ভোটের মাধ্যমে করা হচ্ছে না। যেসব জেলার নেতা থানা, পৌর বা উপজেলা কমিটি করেছেন তাতে তাদের নিজস্ব বলয়ের নেতাদের স্থান দিয়েছেন। বিগত দিনে আন্দোলন সংগ্রামে যারা ছিলেন তাদের মূল্যায়ন করেননি। আবার কয়েকটি জেলা আছে কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যক্রমই শুরু করেননি।

নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, যে উদ্দেশ্য নিয়ে দল পুনর্গঠনের নির্দেশনা ছিল- তা জেলার নেতাদের ব্যর্থতার কারণে সফল হচ্ছে না। তবে কিছু জেলার নেতারা আবার কেন্দ্রের নির্দেশনা মেনে সফলভাবে কাজ করেছেন এটাও সত্য। কিন্তু বেশির ভাগ জেলার নেতারা এখনও তৃণমূল গোছাতে পারেনি। নির্দিষ্ট সময়ে ইউনিয়ন-থানাসহ সংশ্লিষ্ট জেলার সব ইউনিটের কমিটি করতে তারা ব্যর্থ হয়েছেন।

বেশকিছু জেলার শীর্ষ নেতারা পদ পেয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে না বলে কেন্দ্রের কাছে তথ্য রয়েছে। যারা নিষ্ক্রিয় ও তৃণমূলকে শক্তিশালী করতে পারছে না- তাদের একটি তালিকা করা হচ্ছে। তালিকা ধরে ওই সব নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট জেলা কমিটি বিলুপ্ত করে আবারও নতুন করে কমিটি দেয়া হবে।

দলীয় সূত্র জানায়, শীর্ষনেতাদের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতার কারণে ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। গত বছরের ২৭ মার্চ কাজী মনিরুজ্জামানকে সভাপতি ও অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে সাধারণ সম্পাদক করে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ২০৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়।

এ কমিটি বিলুপ্ত করে শুক্রবার দলের কেন্দ্রীয় সহদফতর সম্পাদক মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপিতে জানানো হয়, পরবর্তী নতুন কমিটি গঠন না হওয়া পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলাধীন সব উপজেলা ও পৌর বিএনপির কার্যক্রম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহসাংগঠনিক সম্পাদকদের পরামর্শক্রমে পরিচালিত হবে।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার ১১ মাসের মাথায় তা বিলুপ্ত করার কারণ সভাপতি রাজনীতিতে একেবারে নিষ্ক্রিয় রয়েছেন। কোনো দলীয় কর্মসূচিতে তাকে পান না নেতাকর্মীরা। আর সাধারণ সম্পাদক সাংগঠনিক কোনো কাজে সফলতা দেখাতে পারেননি।

দুই শীর্ষ নেতার কারণে নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংগঠনিকভাবে অনেক দুর্বল হচ্ছে- তৃণমূলের নেতাকর্মীরা কেন্দ্রে এমন অভিযোগ দিলে তা যাচাই করে বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পরই জেলা কমিটি বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত দেন দলীয় হাইকমান্ড।

বিএনপির কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা যুগান্তরকে বলেন, দলের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে যারা ব্যর্থ হচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তৃণমূল নেতাকর্মীদেরও চাপ ছিল। নেতাকর্মীরা চান সাংগঠনিক জেলা শাখায় যেন সঠিক নেতৃত্ব দেয়া হয়। তা না হলে নেতাকর্মীদের কাজে গতি আসে না। এতে করে দলও চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সবকিছু বিবেচনা করেই নিষ্ক্রিয়দের বিরুদ্ধে কঠোর হচ্ছেন বিএনপি হাইকমান্ড।

'কোভিড-১৯' সর্বশেষ আপডেট

# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৬১ ২৬
বিশ্ব ১০,১৫,৮৫০ ২,১২,৯৯১ ৫৩,২১৬
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×