এমডি পরিচালকসহ ৫ কর্মকর্তার বেতন কর্তন হবে না!
jugantor
নতুন অফিস আদেশে বিমানজুড়ে চাঞ্চল্য
এমডি পরিচালকসহ ৫ কর্মকর্তার বেতন কর্তন হবে না!

  মুজিব মাসুদ  

০৬ মে ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাসের ভয়ালগ্রাসে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ বিমানের ব্যয় কমাতে সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কর্তন করা হলেও এমডি ও পরিচালকসহ (প্রশাসন) ডেপুটেশনে আসা পাঁচ শীর্ষ কর্মকর্তার বেতন-ভাতা কর্তন না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) জারি করা নতুন অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এর আগে মার্চে এক অফিস আদেশে সর্বস্তরের কর্মকর্তার বেতন-ভাতা ১০ শতাংশ কর্তন করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

অপরদিকে চিফ ফাইনান্স অফিসারের (সিএফও) আদেশ এবং বেতন-ভাতা কর্তনের অফিস আদেশে কোনো নির্দেশনা না থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বৈশাখী ভাতা দিয়ে কন্ট্রোলার অব অ্যাকাউন্টস মঞ্জুর ইমামসহ দুই নিরীহ কর্মকর্তা ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) হয়েছেন।

অথচ সিএফও ও পরিচালক (ফাইনান্স) বিবেক সুদ বহাল তবিয়তে আছেন। এ দুই ঘটনায় বিমানজুড়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বিমানের পরিচালনা পর্যদের সাবেক সদস্য ওয়াহিদুল আলম যুগান্তরকে বলেন, এক প্রতিষ্ঠানে দুই নিয়ম কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। এটা বৈষম্য। এ প্রসঙ্গে মঙ্গলবার বিকালে বিমান এমডি মোকাব্বির হোসেন এবং পরিচালক প্রশাসন জিয়াউদ্দিন আহম্মেদকে একাধিকবার টেলিফোন করা হলেও তারা ফোন ধরেননি।

নতুন অফিস আদেশ অনুযায়ী বেতনক্রম ১ থেকে ৩ (২) পর্যন্ত কর্মকর্তাদের মোট বেতন (গ্রোস স্যালারি) থেকে ১০ শতাংশ কর্তন করা হবে। ৪ থেকে ৫ পর্যন্ত কর্মকর্তাদের ১৫ শতাংশ, ৬ থেকে ৮ পর্যন্ত কর্মকর্তাদের ২০ শতাংশ এবং ৯ থেকে উপরের কর্মকর্তাদের ২৫ শতাংশ কর্তন করা হবে। অপরদিকে পাইলটদের ক্ষেত্রে যাদের চাকরির বয়স ১ থেকে ৫ বছরের মধ্যে তাদের আউট স্টেশন অ্যালাউন্স কর্তনের পর যে বেতন থাকবে তার ২৫ শতাংশ কর্তন করা হবে।

যাদের চাকরির বয়স ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে তাদের ক্ষেত্রেও আউট স্টেশন অ্যালাউন্স কর্তনের পর যে বেতন থাকবে তার ৩০ শতাংশ কর্তন করা হবে। এছাড়া যাদের চাকরির বয়স ১০ বছরের বেশি তাদের ক্ষেত্রেও একই নিয়মে মোট বেতনের ৫০ শতাংশ কর্তন করা হবে।

অর্থাৎ একজন বোয়িং-৭৭৭ এর পাইলট আগে মাসে সাড়ে ৮ লাখ টাকা বেতন পেলেও এখন তিনি বেতন পাবেন ৩ লাখ ১৭ হাজার টাকা। এ হিসাবে তার ৬৫ শতাংশ বেতন কর্তন করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ পাইলট অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) সভাপতি ক্যাপ্টেন মাহবুুবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, বর্তমান অফিস আদেশ অনুযায়ী এক সিনিয়র পাইলট এখন মাসে বেতন পাবেন ২ লাখ টাকা। তার মতে, ৫০ বা ৬৫ শতাংশ নয়, একজন পাইলটের বেতন ৭০ শতাংশ কর্তন করা হবে।

নতুন আদেশে আরও বলা হয়- বিমানে প্রেষণে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বেতন কর্তন করা যাবে না। তবে তারা অন্য কোনো সুবিধা পেয়ে থাকলে কিংবা বিমান থেকে বিশেষ ভাতা পেয়ে থাকলে সেখান থেকে ২৫ শতাংশ কর্তন করা হবে। ক্যাজুয়াল কর্মীদের ক্ষেত্রে বেতন কর্তন না করলেও তাদের বেতন-ভাতা মাসে ২২ দিন অনুসারে দেয়া হবে।

এছাড়া তারা অন্য কোনো সুবিধা পাবেন না। বিএফসিসি, বিপিসি এবং আন্তর্জাতিক স্টেশনে কর্মরত হোম বেইজড কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বেতন গণনায় একই নীতি অনুসরণ করা হবে।

আগের অফিস আদেশে বলা হয়- বিমানের সব প্রশাসনিক, কারিগরি ও অপারেশনাল কর্মচারী, প্রকৌশল কর্মকর্তা এবং কেবিন ক্রুদের সব ধরনের ওভারটাইম ভাতা প্রদান বন্ধ করা হয়েছে। মার্চ মাস থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এসব কর্মকর্তাকে কোনো ধরনের ওভারটাইম দেয়া হবে না। ১৫ মার্চ বিমানের নির্বাহী পরিচালকদের সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আর্থিক সাশ্রয়ে সাময়িকভাবে সভায় ১০টি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

জানা গেছে, বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ায় ১৮টি আন্তর্জাতিক রুটের পরিবর্তে মাত্র দুটি রুটে বিমান চলাচল করছে। লন্ডন ও ম্যানচেস্টার রুটেও যাত্রী কমে গেছে। রুট ও আয় কমে যাওয়ায় বিমানের সব কর্মকর্তার ওভারটাইম ভাতা ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে মার্চ মাস থেকে ষষ্ঠ থেকে তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাসহ ককপিট ও কেবিন ক্রুদের মূল বেতনের ১০ শতাংশ হারে কাটা হচ্ছিল।

বিমানের অপারেশন বিঘ্ন না ঘটিয়ে ককপিট এবং কেবিন ক্রুদের প্রতি মাসে আট দিন ছুটি দেয়া হয়েছে। এজন্য কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ দেয়া হচ্ছে না। মার্চ থেকে নির্বাহী পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও সমমানের এবং মর্যাদার কর্মকর্তা, উপ-মহাব্যবস্থাপক বা সমমর্যাদার কর্মকর্তাসহ অন্যদের আপ্যায়ন ভাতা বিদ্যমান হারের ৫০ শতাংশ দেয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য ফুড সাবসিডি ভাতা বন্ধ করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত পূর্ত ও সেবামূলক কাজের অর্থ পরিশোধ স্থগিত করা হয়েছে। বিমানের প্রকৌশল পরিদফতর ও অন্য সব পরিদফতরের কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য জ্বালানি বা জ্বালানি ব্যয় বাবদ কোনো অর্থ দেয়া হচ্ছে না।

নতুন অফিস আদেশে বিমানজুড়ে চাঞ্চল্য

এমডি পরিচালকসহ ৫ কর্মকর্তার বেতন কর্তন হবে না!

 মুজিব মাসুদ 
০৬ মে ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাসের ভয়ালগ্রাসে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ বিমানের ব্যয় কমাতে সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কর্তন করা হলেও এমডি ও পরিচালকসহ (প্রশাসন) ডেপুটেশনে আসা পাঁচ শীর্ষ কর্মকর্তার বেতন-ভাতা কর্তন না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) জারি করা নতুন অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এর আগে মার্চে এক অফিস আদেশে সর্বস্তরের কর্মকর্তার বেতন-ভাতা ১০ শতাংশ কর্তন করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

অপরদিকে চিফ ফাইনান্স অফিসারের (সিএফও) আদেশ এবং বেতন-ভাতা কর্তনের অফিস আদেশে কোনো নির্দেশনা না থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বৈশাখী ভাতা দিয়ে কন্ট্রোলার অব অ্যাকাউন্টস মঞ্জুর ইমামসহ দুই নিরীহ কর্মকর্তা ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) হয়েছেন।

অথচ সিএফও ও পরিচালক (ফাইনান্স) বিবেক সুদ বহাল তবিয়তে আছেন। এ দুই ঘটনায় বিমানজুড়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বিমানের পরিচালনা পর্যদের সাবেক সদস্য ওয়াহিদুল আলম যুগান্তরকে বলেন, এক প্রতিষ্ঠানে দুই নিয়ম কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। এটা বৈষম্য। এ প্রসঙ্গে মঙ্গলবার বিকালে বিমান এমডি মোকাব্বির হোসেন এবং পরিচালক প্রশাসন জিয়াউদ্দিন আহম্মেদকে একাধিকবার টেলিফোন করা হলেও তারা ফোন ধরেননি।

নতুন অফিস আদেশ অনুযায়ী বেতনক্রম ১ থেকে ৩ (২) পর্যন্ত কর্মকর্তাদের মোট বেতন (গ্রোস স্যালারি) থেকে ১০ শতাংশ কর্তন করা হবে। ৪ থেকে ৫ পর্যন্ত কর্মকর্তাদের ১৫ শতাংশ, ৬ থেকে ৮ পর্যন্ত কর্মকর্তাদের ২০ শতাংশ এবং ৯ থেকে উপরের কর্মকর্তাদের ২৫ শতাংশ কর্তন করা হবে। অপরদিকে পাইলটদের ক্ষেত্রে যাদের চাকরির বয়স ১ থেকে ৫ বছরের মধ্যে তাদের আউট স্টেশন অ্যালাউন্স কর্তনের পর যে বেতন থাকবে তার ২৫ শতাংশ কর্তন করা হবে।

যাদের চাকরির বয়স ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে তাদের ক্ষেত্রেও আউট স্টেশন অ্যালাউন্স কর্তনের পর যে বেতন থাকবে তার ৩০ শতাংশ কর্তন করা হবে। এছাড়া যাদের চাকরির বয়স ১০ বছরের বেশি তাদের ক্ষেত্রেও একই নিয়মে মোট বেতনের ৫০ শতাংশ কর্তন করা হবে।

অর্থাৎ একজন বোয়িং-৭৭৭ এর পাইলট আগে মাসে সাড়ে ৮ লাখ টাকা বেতন পেলেও এখন তিনি বেতন পাবেন ৩ লাখ ১৭ হাজার টাকা। এ হিসাবে তার ৬৫ শতাংশ বেতন কর্তন করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ পাইলট অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) সভাপতি ক্যাপ্টেন মাহবুুবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, বর্তমান অফিস আদেশ অনুযায়ী এক সিনিয়র পাইলট এখন মাসে বেতন পাবেন ২ লাখ টাকা। তার মতে, ৫০ বা ৬৫ শতাংশ নয়, একজন পাইলটের বেতন ৭০ শতাংশ কর্তন করা হবে।

নতুন আদেশে আরও বলা হয়- বিমানে প্রেষণে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বেতন কর্তন করা যাবে না। তবে তারা অন্য কোনো সুবিধা পেয়ে থাকলে কিংবা বিমান থেকে বিশেষ ভাতা পেয়ে থাকলে সেখান থেকে ২৫ শতাংশ কর্তন করা হবে। ক্যাজুয়াল কর্মীদের ক্ষেত্রে বেতন কর্তন না করলেও তাদের বেতন-ভাতা মাসে ২২ দিন অনুসারে দেয়া হবে।

এছাড়া তারা অন্য কোনো সুবিধা পাবেন না। বিএফসিসি, বিপিসি এবং আন্তর্জাতিক স্টেশনে কর্মরত হোম বেইজড কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বেতন গণনায় একই নীতি অনুসরণ করা হবে।

আগের অফিস আদেশে বলা হয়- বিমানের সব প্রশাসনিক, কারিগরি ও অপারেশনাল কর্মচারী, প্রকৌশল কর্মকর্তা এবং কেবিন ক্রুদের সব ধরনের ওভারটাইম ভাতা প্রদান বন্ধ করা হয়েছে। মার্চ মাস থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এসব কর্মকর্তাকে কোনো ধরনের ওভারটাইম দেয়া হবে না। ১৫ মার্চ বিমানের নির্বাহী পরিচালকদের সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আর্থিক সাশ্রয়ে সাময়িকভাবে সভায় ১০টি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

জানা গেছে, বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ায় ১৮টি আন্তর্জাতিক রুটের পরিবর্তে মাত্র দুটি রুটে বিমান চলাচল করছে। লন্ডন ও ম্যানচেস্টার রুটেও যাত্রী কমে গেছে। রুট ও আয় কমে যাওয়ায় বিমানের সব কর্মকর্তার ওভারটাইম ভাতা ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে মার্চ মাস থেকে ষষ্ঠ থেকে তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাসহ ককপিট ও কেবিন ক্রুদের মূল বেতনের ১০ শতাংশ হারে কাটা হচ্ছিল।

বিমানের অপারেশন বিঘ্ন না ঘটিয়ে ককপিট এবং কেবিন ক্রুদের প্রতি মাসে আট দিন ছুটি দেয়া হয়েছে। এজন্য কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ দেয়া হচ্ছে না। মার্চ থেকে নির্বাহী পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও সমমানের এবং মর্যাদার কর্মকর্তা, উপ-মহাব্যবস্থাপক বা সমমর্যাদার কর্মকর্তাসহ অন্যদের আপ্যায়ন ভাতা বিদ্যমান হারের ৫০ শতাংশ দেয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য ফুড সাবসিডি ভাতা বন্ধ করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত পূর্ত ও সেবামূলক কাজের অর্থ পরিশোধ স্থগিত করা হয়েছে। বিমানের প্রকৌশল পরিদফতর ও অন্য সব পরিদফতরের কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য জ্বালানি বা জ্বালানি ব্যয় বাবদ কোনো অর্থ দেয়া হচ্ছে না।