মাগফিরাতের দশ দিন

কেঁদেকেটে মুক্তি নিশ্চিত করি

  মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী ১৪ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা-ঘাত মুছে গিয়ে

করুণার ফুল ফুটুক

মৃত্যু-কান্না শেষ হয়ে ফের

নতুন সূর্য উঠুক।

আজ মাহে রমজানের দ্বিতীয় দশকের শেষদিন। মাগফিরাতের রহমতি বৃষ্টি বন্ধ হয়ে যাবে আজ। এখন শুধু বাকি আছে একটি দশক। নাজাতের দশক। হে আল্লাহ, পৃথিবীবাসী করোনার আজাব থেকে আপনার কাছে মুক্তি ভিক্ষে করছে। আপনি তাদের করোনার আজাব থেকে মুক্তি দিন। হে আল্লাহ, আপনি আমাদের গোনাহমুক্ত মানুষ হিসেবে কবুল করে নিন।

হজরত ওমর (রা.) প্রায়ই বলতেন আর কাঁদতেন এ ভেবে যে, আল্লাহ যদি আমাকে মানুষ না বানিয়ে ভেড়া-বকরি বানাতেন, তাহলে কতই না ভালো হতো। আল্লাহর বান্দারা আমার গোশত খেয়ে আল্লাহর ইবাদত করত। হায়! মানুষ হওয়ার কারণে কত দায়িত্ব আমার কাঁধে চেপেছে। সব দায়িত্ব তো ঠিকভাবে পালন করা সম্ভব হয় না। কেয়ামতের দিন কী জবাব দেব আল্লাহর কাছে। আল্লাহ যদি আমাকে বলতেন, হে ওমর, তোমাকে আমি মাফ করে দিয়েছি- দুনিয়ার মানুষ বিশ্বাস করো, এর চেয়ে বড় পাওয়া, এর চেয়ে বড় আনন্দের আর কিছু আমার জন্য হতে পারে না।

এক মস্ত বড় আল্লাহর অলি ভক্ত-মুরিদদের নিয়ে বসে আছেন। এমন সময় একজন ভক্ত জিজ্ঞেস করল- হুজুর, আপনি তো কামেল মানুষ। আপনি অবশ্যই জান্নাতে যাবেন। ভক্তের এমন কথা শুনে ডুকরে কেঁদে ওঠলেন আল্লাহর অলি। তিনি বললেন, জান্নাত তো দূরের কথা, আল্লাহ যদি দয়া করে রহম করে জান্নাতিদের পায়ের পাপোশও আমাকে বানিয়ে দেন, এর চেয়ে সৌভাগ্য আর কী হবে? জাহান্নামের ভয়াবহ শাস্তি থেকে তো বাঁচতে পারলাম।

ইমাম গাজ্জালি (রহ.) লেখেন, একদিন আল্লাহর নবী (সা.) জিবরাইল ফেরেশতাকে বলেন, হে জিবরাইল, তোমার সঙ্গে মাঝেমধ্যে মিকাইল ফেরেশতাকেও দেখি। যতবার তাকে দেখেছি, ততবারই গম্ভীর মুখে ছিল সে। কখনও হাসতে দেখিনি তাকে। এর কারণ কী? জিবরাইল (আ.) বলেন, আল্লাহর নবী, ফেরেশতাদের মধ্যে মিকাইল ছিল সবচেয়ে হাশিখুশি। কিন্তু যেদিন জাহান্নাম বানানো শেষ হল, আর আমরা সবাই জাহান্নাম ঘুরে দেখলাম, সেদিন থেকে মিকাইলকে আর হাসতে দেখা যায়নি। সে বলে, না জানি এ জাহান্নামে আমাকেই ফেলা হয়। এত আজাব সহ্য করার ক্ষমতা আমার নেই। এ কথা বলেই জিবরাইল (আ.) খুব গম্ভীর হয়ে বললেন, শুধু মিকাইল কেন, ফেরেশতাদের সরদার জিবরাইলেরও এক মুহূর্ত জাহান্নামের আজাব সহ্য করার শক্তি নেই। আপনি অবশ্যই আপনার উম্মতকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি নিশ্চিত করে কবরে যেতে বলবেন (দাকায়েকুল আখবার)। আরেক দিনের ঘটনা। আম্মাজান আয়েশা সিদ্দিকাকে (রা.) নবীজি (সা.) বলছেন, হে আয়েশা, আল্লাহর দয়া না হলে কেউই জাহান্নামের আজাব থেকে বাঁচতে পারবে না। হজরত আয়েশা (রা.) জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর নবী, আপনিও না। নবীজি (সা.) বললেন, হ্যাঁ আয়েশা, আল্লাহর দয়া না হলে আমিও জাহান্নাম থেকে বাঁচতে পারব না। তবে আমার প্রভু আমাকে ওয়াদা করেছেন, তিনি আমাকে দয়া করবেন।

আমরা যেন খুব সহজেই নাজাত পেতে পারি, তাই আল্লাহতায়ালা রমজানের শেষ দশটি দিন হাত খুলে বসে আছেন। যে চাইবে, তাকেই নাজাত দেয়া হবে। যে কাঁদবে, তাকেই ক্ষমা করে জাহান্নাম থেকে মুক্তিপ্রাপ্তদের তালিকায় তার নাম টুকে নেয়া হবে। তাই আসুন, জাহান্নাম থেকে মুক্তির আগামী দশটি দিন আল্লাহর কাছে কেঁদেকেটে নিজের জীবনের মুক্তি নিশ্চিত করি।

লেখক : মুফাসসিরে কোরআন; চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ মুফাসসির সোসাইটি।

www.selimayadi.com

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত