অর্থনীতিতে বিপর্যয়ের শঙ্কা করোনার দীর্ঘ ধাক্কায়

দীর্ঘায়িত সংক্রমণে সংকট আরও বাড়বে -বাংলাদেশ ব্যাংক * রফতানি আয়, রেমিটেন্স, বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা চাপে পড়বে * শিল্প-উৎপাদন কমলে কাঁচামাল-যন্ত্রপাতির চাহিদা কমার সঙ্গে আমদানি রাজস্বও কমবে -এনবিআর

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৬ জুন ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের প্রভাবে দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এর প্রকোপ আরও দীর্ঘায়িত হলে অর্থনীতিতে বড় বিপর্যয়ের শঙ্কা আছে। গত ৩ মাসে করোনার ধাক্কায় রফতানি আয়, রেমিটেন্স প্রবাহ, বিদেশি বিনিয়োগ, রাজস্ব আহরণ কমে গেছে। ভাইরাসটির প্রভাব বেশি দিন স্থায়ী হলে এসব খাতে আয় আরও কমে যাবে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আলাদা দুটি প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিভিন্ন সময় বাংলাদেশের অর্থনীতি নানামুখী প্রাকৃতিক ও রাজনৈতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করেই এগিয়েছে। এতে অর্থনীতির একটি অন্তর্নিহিত সহ্য শক্তি গড়ে উঠেছে। এ শক্তির বলে মানুষ বেঁচে থাকার তাগিদে কাজ করে অর্থনীতিতে রক্ত সঞ্চালনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। যা অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করে। এবারও করোনাভাইরাসের ধাক্কায় অর্থনীতিতে যে ক্ষতের সৃষ্টি হবে তা মানুষেরর চেষ্টায় কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। তবে এক্ষেত্রে সরকারকে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে রফতানি আয় কমেছে ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১১ দশমিক ৬১ শতাংশ। গত ১০ মাসের হিসাবে রফতানি আয় তুলনামূলক কমলেও করোনার প্রভাবে মার্চ-এপ্রিলে সবচেয়ে বেশি কমেছে। এর মধ্যে এপ্রিলে কমেছে প্রায় ৮৩ শতাংশ। গত বছরের একই মাসে বেড়েছিল ২ দশমিক ৬৯ শতাংশ। ফেব্রুয়ারিতে রফতানি আয় কমেছে ১ দশমিক ৮০ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে বেড়েছিল ১০ দশমিক ১২ শতাংশ।

বাংলাদেশ রফতানিকারক সমিতির সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, করোনা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে রফতানিমুখী শিল্পের ভবিষ্যৎ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে রফতানির বাজার খুলবে না। রফতানিও বাড়বে না। এর নেতিবাচক প্রভাব দেশের অর্থনীতি ও রফতানিমুখী শিল্পেও পড়বে।

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি রয়েছে প্রায় ৬২ হাজার কোটি টাকা। এপ্রিল পর্যন্ত সংশোধিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৩৫ হাজার ৭৯৬ কোটি টাকা। বিপরীতে আদায় হয়েছে এক লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা।

জুলাই-এপ্রিলে রেমিটেন্স কমেছে ১১ দশমিক ৭৪ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে বেড়েছিল প্রায় ১০ শতাংশ। এপ্রিলে রেমিটেন্স কমেছে ২৪ দশমিক ২৬ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে বেড়েছিল ৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ। গত মার্চে এসেছিল ১২৮ কোটি ডলার। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ শতাংশ কম। ফেব্রুয়ারিতে কমেছে ১০ দশমিক ২০ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে বেড়েছিল ১৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ। গত বছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে বৈদেশিক অনুদান বেড়েছিল সাড়ে ৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে কমেছে সাড়ে ৮ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, রেমিটেন্স ও রফতানি আয় ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনার ওপর চাপ বাড়বে। সংক্রমণ দীর্ঘায়িত হলে এ খাতে চাপের মাত্রা আরও বেড়ে যাবে।

এদিকে এনবিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়, কর আহরণ ব্যবস্থা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সারা বিশ্বের সব মানুষের ভোগপণ্য সেবা, চাহিদার ওপর নির্ভরশীল। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ধারায় অর্থনীতি, রাষ্ট্রীয় সম্পদ আহরণ, বণ্টন, বাণিজ্য ও ভোগে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে আসবে। একই সঙ্গে সারা বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশেও পরিবর্তনের ঢেউ আঘাত হানবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় ভোগ্যপণ্য সেবার চাহিদা কমে গেলে আমদানি কমবে, শিল্প-উৎপাদন কমলে কাঁচামাল-যন্ত্রপাতির চাহিদা কমে যাবে। এতে করের ওপর ব্যাপক ঋণাত্মক প্রভাব পড়বে। অন্যদিকে আয়বর্ধক কার্যক্রম কমে গেলে অর্থনৈতিক মন্দা শুরু হলে প্রত্যক্ষ করও কমে যাবে।

ধারণা করা যায় যে, আগামীতে রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক কার্যক্রমের বড় একটি অংশ জনগণের মৌলিক চাহিদার সেবায় নিয়োজিত হবে। যার মধ্যে চিকিৎসা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন, খাদ্য, শিক্ষা, আবাসন ও জনগণের নিরাপত্তার দিকেই অধিকতর মনোযোগ আকৃষ্ট করতে হবে। এসব মৌলিক সম্পদ, উৎপাদন, বিপণন, সরবরাহ ও সেবা, বেশিরভাগই সম্পূর্ণ করমুক্ত বা ন্যূনতম করের আওতাধীন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব কারণে ধারণা করা যায় যে, ভবিষ্যতে অবস্থা স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও তার দীর্ঘস্থায়ী প্রতিক্রিয়া অর্থনৈতিক কার্যক্রমের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এতে রাজস্ব আহরণ ব্যাপকভাবে কমে যাবে।

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত