শেয়ারবাজারে ১ বছর রাখলেই কালো টাকা সাদা
jugantor
সংসদে অর্থবিল পাস
শেয়ারবাজারে ১ বছর রাখলেই কালো টাকা সাদা

  যুগান্তর রিপোর্ট  

৩০ জুন ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শেয়ারবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগে শর্ত শিথিল করে সোমবার জাতীয় সংসদে অর্থবিল পাস হয়েছে। এ ক্ষেত্রে শেয়ারবাজারে কমপক্ষে এক বছরের জন্য টাকা বিনিয়োগ করলেই কালো টাকা সাদা করা যাবে।

প্রস্তাবিত বাজেটে ৩ বছর করা হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ কর দিতে হবে। এর বাইরে উৎপাদনশীল খাতে উপকরণ কর রেয়াতের শর্ত বাতিল করা ছাড়া বাজেটে বড় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। কোম্পানির প্রচার ব্যয়সীমা, রাজস্ব কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছাচারী তল্লাশি ক্ষমতা বহাল রাখা হয়েছে।

ভ্যাট আপিলের কিছু ছাড় দেয়া হলেও তাতে আগের হারেই শিল্প মালিক ও উদ্যোক্তাদের অগ্রিম অর্থ জমা দিতে হবে। সাধারণ মানুষের মোবাইল সেবায় সম্পূরক শুল্ক কমানো হয়নি, ফলে কথা বলা ও ইন্টারনেট ব্যবহারে বাড়তি কর দিতে হবে। সংশোধিত অর্থবিল বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে সুনির্দিষ্ট কয়েকটি খাতে অবাধে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হয়েছিল। এর মধ্যে অন্যতম ছিল শেয়ারবাজার। এ ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ জরিমানা আরোপ করা হয়েছে। তবে এর আগেও কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ ছিল। কিন্তু ওই সময়ে শর্ত ছিল- এই টাকা কীভাবে আয় করা হয়েছে, সে ব্যাপারে কর কর্তৃপক্ষ অর্থাৎ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কোনো প্রশ্ন করবে না।

এর ফলে এনবিআর কোনো প্রশ্ন না করলেও দুর্নীতি দমন কমিশনসহ রাষ্ট্রের অন্যান্য কর্তৃপক্ষ কালো টাকা বিনিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কিন্তু এ বছর এ সংক্রান্ত অর্থমন্ত্রীর বাজেট প্রস্তাবনার মূল কথা ছিল- টাকা বিনিয়োগ করা হলে, সরকারের কোনো সংস্থাই কোনো ধরনের প্রশ্ন করবে না। আর শেয়ারবাজারের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, বিনিয়োগের দিন থেকে অন্তত তিন বছর রাখতে হবে।

কিন্তু শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টদের দাবি, এত লম্বা সময় বিনিয়োগ ধরে রাখার শর্ত দিলে কেউ বিনিয়োগে আসবে না। এতে শেয়ারবাজারেও তারল্যপ্রবাহ বাড়বে না। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। দুই স্টক, মার্চেন্ট এবং অন্যান্য সংস্থার পক্ষ থেকে এই শর্ত শিথিলের দাবি করা হয়। এসব দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই বিনিয়োগের শর্ত তিন বছর থেকে কমিয়ে ১ বছর করা হল।

সংশোধিত অর্থবিলের মাধ্যমে উপকরণ কর রেয়াতের শর্ত বাতিল করা হয়েছে। অর্থাৎ আগের নিয়মেই শিল্প মালিক ও উদ্যোক্তারা উপকরণ কর রেয়াত নিতে পারবেন। প্রস্তাবিত বাজেটে বলা হয়েছিল, আমদানির ৪ মাসের মধ্যে উপকরণ ব্যবহার করে পণ্য উৎপাদন করতে না পারলে রেয়াত বাতিল করা হবে।

পাশাপাশি ভ্যাট আপিলের ক্ষেত্রে বিধান পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে আপিল কমিশনার ও আপিলাত ট্রাইব্যুনালে ভ্যাট আপিলের ক্ষেত্রে তর্কিত করের ১০ শতাংশের পরিবর্তে ২০ শতাংশ অর্থ জমা দেয়ার বিধান প্রস্তাব করা হয়। সংশোধিত অর্থবিলের মাধ্যমে তর্কিত করের ২০ শতাংশ জমার বিধান রাখা হয়েছে।

তবে আপিল কমিশনারের আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ হয়ে আপিলাত ট্রাইব্যুনালে আবেদন করলে নতুন করে অর্থ জমা করতে হবে না। অর্থাৎ তর্কিত করের ২০ শতাংশ জমা দিয়ে আপিল কমিশনার ও পরবর্তী সময়ে চাইলে আপিলাত ট্রাইব্যুনালে আপিল করা যাবে। আগে আপিল কমিশনারের কাছে আপিলের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ এবং আপিলাত ট্রাইব্যুনালে আবেদনের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ অর্থ জমা দিতে হতো।

অবশ্য বাজেটে ব্যবসায়ী ও জনগণের অপ্রাপ্তির পাল্লাই ভারি থাকল। কোম্পানির প্রচার ব্যয়সীমা, রাজস্ব কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছাচারী তল্লাশি ক্ষমতা এবং আমদানি পণ্যের বিল অব এন্ট্রি ৫ দিনের মধ্যে জমা দেয়ার শর্ত বহাল রাখা হয়েছে। সাধারণ মানুষের মোবাইল সেবায় সম্পূরক শুল্ক কমানো হয়নি, ফলে কথা বলা ও ইন্টারনেট ব্যবহারে বাড়তি কর দিতে হবে।

প্রথা অনুযায়ী, অর্থবিলে কোনো পরিবর্তন আনতে হলে অর্থমন্ত্রীর সমাপনী বক্তব্য এবং অর্থবিল পাসের আগে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রীকে সে বিষয়ে অনুরোধ করেন। এরপর অর্থমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধ আমলে নিয়ে সেসব বিষয়ে পরিবর্তন এনে অর্থবিল পাসের প্রস্তাব করেন। কিন্তু এবার প্রধানমন্ত্রী কোনো পরিবর্তন আনতে অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ করেননি।

তবে সোমবার বিলটি পাসের আগে জাতীয় সংসদের সরকারি ও বিরোধীদলীয় সদস্যরা অর্থবিলের বিভিন্ন অংশের সংশোধনী প্রস্তাব এনে বক্তব্য দেন। সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান, কাজী ফিরোজ রশিদ, মুজিবুল হক, আবুল হাছান মাহমুদ আলী, অধ্যাপক আলী আশরাফ, মসিউর রহমান রাঙ্গার অর্থবিলের ওপর আনা কয়েকটি সংশোধনী প্রস্তাব অর্থমন্ত্রী গ্রহণ করেন। পরবর্তী সময়ে এগুলো ভোটে দিলে তাও কণ্ঠভোটে পাস হয়।

সংসদে অর্থবিল পাস

শেয়ারবাজারে ১ বছর রাখলেই কালো টাকা সাদা

 যুগান্তর রিপোর্ট 
৩০ জুন ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শেয়ারবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগে শর্ত শিথিল করে সোমবার জাতীয় সংসদে অর্থবিল পাস হয়েছে। এ ক্ষেত্রে শেয়ারবাজারে কমপক্ষে এক বছরের জন্য টাকা বিনিয়োগ করলেই কালো টাকা সাদা করা যাবে।

প্রস্তাবিত বাজেটে ৩ বছর করা হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ কর দিতে হবে। এর বাইরে উৎপাদনশীল খাতে উপকরণ কর রেয়াতের শর্ত বাতিল করা ছাড়া বাজেটে বড় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। কোম্পানির প্রচার ব্যয়সীমা, রাজস্ব কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছাচারী তল্লাশি ক্ষমতা বহাল রাখা হয়েছে।

ভ্যাট আপিলের কিছু ছাড় দেয়া হলেও তাতে আগের হারেই শিল্প মালিক ও উদ্যোক্তাদের অগ্রিম অর্থ জমা দিতে হবে। সাধারণ মানুষের মোবাইল সেবায় সম্পূরক শুল্ক কমানো হয়নি, ফলে কথা বলা ও ইন্টারনেট ব্যবহারে বাড়তি কর দিতে হবে। সংশোধিত অর্থবিল বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে সুনির্দিষ্ট কয়েকটি খাতে অবাধে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হয়েছিল। এর মধ্যে অন্যতম ছিল শেয়ারবাজার। এ ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ জরিমানা আরোপ করা হয়েছে। তবে এর আগেও কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ ছিল। কিন্তু ওই সময়ে শর্ত ছিল- এই টাকা কীভাবে আয় করা হয়েছে, সে ব্যাপারে কর কর্তৃপক্ষ অর্থাৎ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কোনো প্রশ্ন করবে না।

এর ফলে এনবিআর কোনো প্রশ্ন না করলেও দুর্নীতি দমন কমিশনসহ রাষ্ট্রের অন্যান্য কর্তৃপক্ষ কালো টাকা বিনিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কিন্তু এ বছর এ সংক্রান্ত অর্থমন্ত্রীর বাজেট প্রস্তাবনার মূল কথা ছিল- টাকা বিনিয়োগ করা হলে, সরকারের কোনো সংস্থাই কোনো ধরনের প্রশ্ন করবে না। আর শেয়ারবাজারের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, বিনিয়োগের দিন থেকে অন্তত তিন বছর রাখতে হবে।

কিন্তু শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টদের দাবি, এত লম্বা সময় বিনিয়োগ ধরে রাখার শর্ত দিলে কেউ বিনিয়োগে আসবে না। এতে শেয়ারবাজারেও তারল্যপ্রবাহ বাড়বে না। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। দুই স্টক, মার্চেন্ট এবং অন্যান্য সংস্থার পক্ষ থেকে এই শর্ত শিথিলের দাবি করা হয়। এসব দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই বিনিয়োগের শর্ত তিন বছর থেকে কমিয়ে ১ বছর করা হল।

সংশোধিত অর্থবিলের মাধ্যমে উপকরণ কর রেয়াতের শর্ত বাতিল করা হয়েছে। অর্থাৎ আগের নিয়মেই শিল্প মালিক ও উদ্যোক্তারা উপকরণ কর রেয়াত নিতে পারবেন। প্রস্তাবিত বাজেটে বলা হয়েছিল, আমদানির ৪ মাসের মধ্যে উপকরণ ব্যবহার করে পণ্য উৎপাদন করতে না পারলে রেয়াত বাতিল করা হবে।

পাশাপাশি ভ্যাট আপিলের ক্ষেত্রে বিধান পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে আপিল কমিশনার ও আপিলাত ট্রাইব্যুনালে ভ্যাট আপিলের ক্ষেত্রে তর্কিত করের ১০ শতাংশের পরিবর্তে ২০ শতাংশ অর্থ জমা দেয়ার বিধান প্রস্তাব করা হয়। সংশোধিত অর্থবিলের মাধ্যমে তর্কিত করের ২০ শতাংশ জমার বিধান রাখা হয়েছে।

তবে আপিল কমিশনারের আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ হয়ে আপিলাত ট্রাইব্যুনালে আবেদন করলে নতুন করে অর্থ জমা করতে হবে না। অর্থাৎ তর্কিত করের ২০ শতাংশ জমা দিয়ে আপিল কমিশনার ও পরবর্তী সময়ে চাইলে আপিলাত ট্রাইব্যুনালে আপিল করা যাবে। আগে আপিল কমিশনারের কাছে আপিলের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ এবং আপিলাত ট্রাইব্যুনালে আবেদনের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ অর্থ জমা দিতে হতো।

অবশ্য বাজেটে ব্যবসায়ী ও জনগণের অপ্রাপ্তির পাল্লাই ভারি থাকল। কোম্পানির প্রচার ব্যয়সীমা, রাজস্ব কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছাচারী তল্লাশি ক্ষমতা এবং আমদানি পণ্যের বিল অব এন্ট্রি ৫ দিনের মধ্যে জমা দেয়ার শর্ত বহাল রাখা হয়েছে। সাধারণ মানুষের মোবাইল সেবায় সম্পূরক শুল্ক কমানো হয়নি, ফলে কথা বলা ও ইন্টারনেট ব্যবহারে বাড়তি কর দিতে হবে।

প্রথা অনুযায়ী, অর্থবিলে কোনো পরিবর্তন আনতে হলে অর্থমন্ত্রীর সমাপনী বক্তব্য এবং অর্থবিল পাসের আগে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রীকে সে বিষয়ে অনুরোধ করেন। এরপর অর্থমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধ আমলে নিয়ে সেসব বিষয়ে পরিবর্তন এনে অর্থবিল পাসের প্রস্তাব করেন। কিন্তু এবার প্রধানমন্ত্রী কোনো পরিবর্তন আনতে অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ করেননি।

তবে সোমবার বিলটি পাসের আগে জাতীয় সংসদের সরকারি ও বিরোধীদলীয় সদস্যরা অর্থবিলের বিভিন্ন অংশের সংশোধনী প্রস্তাব এনে বক্তব্য দেন। সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান, কাজী ফিরোজ রশিদ, মুজিবুল হক, আবুল হাছান মাহমুদ আলী, অধ্যাপক আলী আশরাফ, মসিউর রহমান রাঙ্গার অর্থবিলের ওপর আনা কয়েকটি সংশোধনী প্রস্তাব অর্থমন্ত্রী গ্রহণ করেন। পরবর্তী সময়ে এগুলো ভোটে দিলে তাও কণ্ঠভোটে পাস হয়।

 

ঘটনাপ্রবাহ : বাজেট ২০২০-২১

০২ জুলাই, ২০২০