ওসি প্রদীপের নির্দেশে দালালের চাঁদাবাজি

ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে ১০ লাখ টাকা আদায়

নিরীহ মানুষকে জিম্মি করে টাকা আদায় করা হতো

  কক্সবাজার প্রতিনিধি ১০ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফাইল ছবি

টেকনাফে ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের এক নেতার বিরুদ্ধে দশ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে টেকনাফ উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল হোসাইন ও তার এক সহযোগীর নামে উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী।

অভিযুক্তরা টেকনাফ থানার সদ্য প্রত্যাহার হওয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকার্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশের দালাল হিসেবে কাজ করত। অভিযোগ রয়েছে, তারা ওসি প্রদীপের নির্দেশে নিরীহ মানুষের কাছ থেকে ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে চাঁদা আদায় করত।

ভুক্তভোগী অভিযোগে জানান, ২৭ জুলাই সকালে সেন্টমার্টিন পূর্বপাড়ার জামাল উদ্দিন ওরফে মইস জামালের ছেলে মাছ ব্যবসায়ী জুবাইরকে সেন্টমার্টিন পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই মো. কাশেম পুলিশ ফাঁড়িতে ডেকে নিয়ে যান। পরে একইভাবে ওই এলাকার আবদুল হাকিমের ছেলে মো. আজিমকেও ডেকে আনে পুলিশ।

পরে কোনো কথাবার্তা ছাড়াই থানার ওসি প্রদীপ কুমার সালাম দিয়েছে বলে দু’জনকে স্পিডবোটে নিয়ে যায় টেকনাফ থানায়। একপর্যায়ে মাছ ব্যবসার আড়ালে ইয়াবা ব্যবসা করার অজুহাত দেখিয়ে দু’জনকে থানা হাজতে আটকে রাখা হয়।

দু’জনের মধ্যে জুবাইরকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য তার ভাই মো. ইউনুছের কাছ থেকে পুলিশের নাম ভাঙিয়ে টেকনাফ উপজেলা কমিউনিটি পুলিশের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল হোসাইন ও তার আরেক সহযোগী মিলে ১০ লাখ টাকা দাবি করে।

পরদিন ২৮ জুলাই ভুক্তভোগী পরিবার অনেক কষ্টে বাড়ির জমি বন্ধক রেখে ৪ লাখ টাকা নুরুল হোসাইনের হাতে তুলে দেয়। ওই টাকা নেয়ার কয়েক ঘণ্টা পর বাকি টাকা পরের দিন না দিলে জুবাইরকে ক্রসফায়ারের হুমকি দেয় নরুল হোসাইন।

এ ভয়ে ভাইকে রক্ষায় ২৯ জুলাই সন্ধ্যায় আরও ৬ লাখ টাকা দেন তাকে। এ সময় ওসিকে টাকা দিয়ে জুবাইরকে ছাড়িয়ে নেয়ার আশ্বাস দেয়া হলেও ৮ দিন পর বৃহস্পতিবার জুবাইরকে ৪ হাজার ইয়াবা উদ্ধারের একটি মামলায় চালান দেয় পুলিশ। পরে ছাড়াতে না পারায় কমিউনিটি পুলিশের নেতার কাছ থেকে টাকা ফেরত চাইলে নানা টালবাহানা শুরু করেন বলে জানান মো. ইউনুছ।

ভুক্তভোগী জানান, এসব টাকা টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপকে দিয়েছেন বলে অজুহাত দেখিয়ে এড়িয়ে চলছেন কমিউনিটি পুলিশ নেতা নুরুল হোসাইন।

একপর্যায়ে তার কাছ থেকে টাকা আদায় করতে না পরায় টেকনাফ উপজেলা কর্মকর্তা ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

ভুক্তভোগী মো. ইউনুছ আরও জানান, ‘আমার ভাই জুবাইর একজন মাছ ব্যবসায়ী। সে কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয়। আমার ভাইকে অহেতুক আটক করে আমাদের হয়রানি করেছে পুলিশ। ‘ক্রসফায়ার’র ভয় দেখিয়ে কমিউনিটি পুলিশের নেতার মাধ্যমে দশ লাখ টাকা নিলেও ভাইকে ইয়াবার মামলা দিয়ে চালান দেয়া হয়েছে।

অপরদিকে জুবাইয়েরর সঙ্গে ডেকে নিয়ে যাওয়া সেন্টমার্টিন পূর্বপাড়ার আবদুল হাকিমের ছেলে মো. আজিমের পরিবার থেকেও দালালের মাধ্যমে আদায় করা হয় ৭ লাখ টাকা। আজিমকে ছেড়ে দেয়ার অজুহাতে কেকে পাড়ার দালাল রশিদের মাধ্যমে আজিমের বড় ভাই ইলিয়াছের কাছ থেকে এ টাকা আদায় করেন ওসি প্রদীপের চিহ্নিত দালাল টেকনাফ কুলালপাড়ার হায়দার আলী।

টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক নুরুল বশর যুগান্তরকে বলেন, ওসি প্রদীপ টেকনাফ থানাকে যা করেছে কয়েক যুগেও পরিবর্তন সম্ভব নয়। তাছাড়া কমিউিনিটি পুলিশের নামে নুরুল হোসাইনের মতো দালালের কাছে টেকনাফবাসী জিম্মি।

এ ব্যাপারে টেকনাফ উপজেলা কমিউনিটি পুলিশের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল হোসাইনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও সে ফোন রিসিভ করেনি।

টেকনাফ থানার দায়িত্বে থাকা (ওসি তদন্ত) এবিএমএস দোহা বলেন, দীর্ঘদিন অসুস্থতার পর ৪ আগস্ট থানায় যোগদান করেছি। এ বিষয়ে জানা নেই বলে দাবি করেন তিনি।

ঘটনাপ্রবাহ : ওসি প্রদীপ কুমার দাস

আরও

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত