১৩৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ

এমপি হারুনকে দুদকে তলব ১১ এপ্রিল

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৪ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সরকারদলীয় এমপি বজলুল হক হারুনকে (বিএইচ হারুন) আগামী ১১ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) হাজির হতে নোটিশ করা হয়েছে। ১৩৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানে তাকে এ নোটিশ দেয়া হয়। মঙ্গলবার দুদকের উপপরিচালক মো. সামসুল আলম স্বাক্ষরিত নোটিশ এমপি হারুনের প্রিমিয়ার ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের ঠিকানায় পাঠানো হয়। হারুন ওই ব্যাংকের একজন পরিচালক। দুদকের সহকারী পরিচালক গুলশান আনোয়ার অনুসন্ধান কাজে সহযোগিতা করছেন।

প্রিমিয়ার ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) অসহযোগিতার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে অনুসন্ধান কাজ বন্ধ ছিল। কিন্তু বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিএইচ হারুনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শেষ করে প্রতিবেদন দাখিল করতে কমিশন থেকে অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে। কমিশন থেকে নির্দেশনা পেয়ে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তারা মঙ্গলবার বিএইচ হারুনকে তলব করে নোটিশ ইস্যু করেন।

প্রিমিয়ার ব্যাংকের গ্রাহক মেসার্স রুমী এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ব্যবসায়ী খলিলুর রহমান গত বছর দুদকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, তার ব্যাংক হিসাব থেকে অন্য কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় ব্যাংকটির পরিচালক এমপি বিএইচ হারুন ১৩৪ কোটি টাকা সরিয়ে নিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে প্রিমিয়ার ব্যাংক বংশাল শাখা থেকে গ্রাহক রুমী এন্টারপ্রাইজের নামে চেকবই ইস্যু দেখিয়ে প্রতারণা করা হয়।

সূত্র জানায়, অভিযোগটি অনুসন্ধান করতে গিয়ে দুদক পদে পদে বাধার মুখে পড়ে। কিন্তু সব বাধা উপেক্ষা করে অনুসন্ধান শেষ করে প্রতিবেদন দিতে চান অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তারা। এরই অংশ হিসেবে বিএইচ হারুনকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হল। এর আগে প্রিমিয়িার ব্যাংকের একজন ডিএমডিসহ সাতজন কর্মকর্তাকে দুদক জিজ্ঞাসাবাদ করে। ১৩৪ কোটি টাকা আত্মসাতের বিষয়ে তাদের কাছ থেকে তথ্য নেয় দুদক।

সূত্র জানায়, নোটিশে বিএইচ হারুনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা বলেছেন, প্রিমিয়ার ব্যাংকের পরিচালক বিএইচ হারুনসহ অন্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রাহকের নামে অতিরিক্ত চেক বই দেখিয়ে জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে ১৩৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। অবৈধভাবে অর্জিত এই অর্থ দিয়ে ঢাকা ব্যাংকসহ অন্য ব্যাংকের দেনা পরিশোধ, প্রিমিয়ার ব্যাংকসহ বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার ক্রয়, বনানী ও বারিধারায় বহুতল ভবন নির্মাণ, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একটি প্লট ক্রয় ও চারটি বিলাসবহুল গাড়ি কেনা হয়েছে। এ বিষয়ে সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে ব্যাংকের হারুনের বক্তব্য নেয়া জরুরি বলে নোটিশে বলা হয়। অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক সামসুল আলম জানান, ব্যাংকের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ১৩৪ কোটি টাকা আত্মসাতের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

হারুনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান প্রসঙ্গে দুদকের একজন মহাপরিচালক যুগান্তরকে বলেন, ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে চেক জালিয়াতির মাধ্যমে ১৩৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ ঘটনার অনুসন্ধান চলছে। একই সঙ্গে তার (হারুন) অবৈধ সম্পদের বিষয়েও অনুসন্ধান করছেন একই অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা। তিনি জানান, ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ সংক্রান্ত অভিযোগের মধ্যে তার অবৈধ সম্পদের বিষয়টি ছিল।

২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে হারুন ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর-কাঁঠালিয়া আসন থেকে নৌকা প্রতীকে বিজয়ী হন। এরপরই হারুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে প্রিমিয়ার ব্যাংকের গ্রাহক মেসার্স রুমী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ব্যবসায়ী খলিলুর রহমানের ১৩৪ কোটি টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন। ওই সময় তিনি প্রিমিয়ার ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন এবং এখনও ব্যাংকটির পরিচালক তিনি।

খলিলুর রহমান দুদক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আলাদা অভিযোগে বলেছেন, সৌদি সরকারের সাহায্যে ২০০৮ সালে সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য ১৫ হাজার ঘর নির্মাণে ২০৪ কোটি টাকার কাজ পান তিনি। তার প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব ছিল প্রিমিয়ার ব্যাংকের বংশাল শাখায়। সিডর এলাকায় কাজ চলাকালে ব্যাংকে জমা হওয়া ২০৪ কোটি টাকার মধ্যে ২৯৭টি চেকের পাতার মাধ্যমে ৭০ কোটি টাকা উত্তোলন করেন তিনি। কাজ শেষে বাকি ১৩৪ কোটি টাকা তোলার জন্য বংশাল শাখায় গেলে তৎকালীন শাখা ম্যানেজার সামসুদ্দিন চৌধুরী তাকে জানান, তিনি (গ্রাহক খলিলুর রহমান) সব টাকা তুলে নিয়েছেন এবং হিসাবও বন্ধ করে দিয়েছেন। এটা শুনে খলিলুর রহমানের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। ১৩৪ কোটি টাকা তিনি উত্তোলন করেননি। দুদকের কাছে তিনি অভিযোগ করেন, তার অজান্তে অতিরিক্ত ৩৮৮টি চেকবই ইস্যু দেখিয়ে তার স্বাক্ষর জাল করে ১৩৪ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন বিএইচ হারুন। এই অর্থ সরিয়ে নেয়ার সপক্ষে সব ডকুমেন্ট দুদককে সরবরাহ করেন অভিযোগকারী খলিলুর রহমান।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×