এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গৃহবধূ গণধর্ষণ
সাইফুরসহ ৩ আসামি রিমান্ডে
ধর্ষকদের পক্ষে আদালতে দাঁড়াননি কোনো আইনজীবী * আরও ৩ জন গ্রেফতার * সারা দেশে প্রতিবাদ অব্যাহত
Advertisement
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সিলেটের এমসি (মুরারী চাঁদ) কলেজ ছাত্রাবাসে গৃহবধূকে গণধর্ষণের মামলায় প্রধান আসামি সাইফুরসহ তিনজনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে দাঁড়াননি।
তারা বলছেন, স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে গণধর্ষণের মতো জঘন্যতম ঘটনা সমাজের মানুষকে নাড়া দিয়েছে। তাই ঘৃণা ও নৈতিক অবস্থান থেকেই তারা আসামিপক্ষে দাঁড়াননি।
রোববার রাতে আরও দু’জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। তারা হলেন- ছাত্রলীগ নেতা রাজন মিয়া ও মো. আইনুদ্দিন। গ্রেফতার হওয়া ছাত্রলীগ নেতা মাহবুবুর রহমান রনির দেয়া তথ্য অনুযায়ী তাদের গ্রেফতার করা হয়।
এছাড়া সোমবার রাতে গ্রেফতার হয়েছে মাহফুজুর রহমান নামে আরেক আসামি। এ নিয়ে গণধর্ষণ মামলায় সাতজন গ্রেফতার হল।
এদিকে সোমবারও রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে এমসি কলেজে গণধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদ অব্যাহত ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রী, ছাত্রসংগঠন এবং নানা পেশার মানুষ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে।
এসব কর্মসূচিতে বক্তারা ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। দোষীদের বিচার না হওয়ার কারণেই মূলত ধর্ষণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে বলেও মন্তব্য করেন তারা। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ধর্ষণের ঘটনায় নিন্দার ঝড় বইছে।
সোমবার সকালে পুলিশি পাহারার প্রিজন ভ্যানে মামলার প্রধান আসামি ছাত্রলীগ নেতা সাইফুর রহমান ও অর্জুন লস্কর এবং দুপুরে রবিউল ইসলামকে সিলেট মহানগর হাকিম-২ আদালতে হাজির করা হয়।
এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও এসএমপির শাহপরান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত সাইফুর রহমানসহ প্রত্যেকের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের এপিপি অ্যাডভোকেট খোকন কুমার দত্ত জানান, আদালতে রিমান্ড শুনানিকালে আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী উকালত নামা দাখিল করেননি। তবে বাদীপক্ষের হয়ে বেশ কয়েকজন আইনজীবী শুনানিকালে উপস্থিত ছিলেন।
আদালত আসামিদের বক্তব্য শুনতে চাইলে তারা আদালতকে জানায়, ছাত্রাবাসে ঘটে যাওয়া ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তারা অপরাধ করেনি।
এ ঘটনা ঘটিয়েছে রাজন, তারেক ও আইনুদ্দিন (রাজন ও আইনুদ্দিন গ্রেফতার)। পরে আদালত তাদের প্রত্যেকের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আসামিপক্ষে আদালতে না দাঁড়ানো প্রসঙ্গে আইনজীবী দেবব্রত চৌধুরী লিটন বলেন, এটি একটি জঘন্যতম ও নির্মম ঘটনা। যা সমাজের মানুষকে নাড়া দিয়েছে এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
তাই নৈতিক অবস্থান থেকেই আমরা আইনজীবীরা আসামিপক্ষে দাঁড়াইনি এবং তাদের জামিনে কেউ আবেদন করেনি। সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এটিএম ফয়েজ বলেন, আইনজীবীদের এ সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত।
ঘৃণা প্রকাশের জন্যই স্বপ্রণোদিত হয়ে কোনো আইনজীবী আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করতে যাননি। তবে সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতি আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্ত নেয়নি।
রোববার রাতে হবিগঞ্জ সদর থানা এলাকা থেকে গণধর্ষণ মামলার ৩নং আসামি ছাত্রলীগ নেতা মাহবুবুর রহমান রনিকে (২৮) গ্রেফতার করে র্যাব-৯ এর শ্রীমঙ্গল ক্যাম্প।
পরে রনির দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতেই ছাত্রলীগ নেতা রাজন মিয়া ও মো. আইনুদ্দিনকে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া সোমবার রাত ১২টার দিকে গ্রেফতার হয় মাহফুজুর রহমান নামে আরেক আসামি।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও কানাইঘাট থানা পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে হরিপুরের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। মাহফুজুর রহমান মামলার ৬ নম্বর আসামি।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলার পুলিশ সুপার মো. ফরিদ উদ্দিন। প্রসঙ্গত, শুক্রবার সন্ধ্যায় স্বামীর সঙ্গে এমসি কলেজে ঘুরতে গিয়েছিলেন এক তরুণী গৃহবধূ।
এ সময় কলেজ ক্যাম্পাস থেকে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী তাদের জোরপূর্বক কলেজের ছাত্রাবাসে নিয়ে যায়। সেখানে একটি কক্ষে স্বামীকে আটকে রেখে তরুণীকে গণধর্ষণ করে তারা।
ওই রাত ১১টায় শাহপরাণ থানা পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। এ ঘটনার পর ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং তিনজনের নাম অজ্ঞাত রেখে মোট ৯ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। নাম উল্লেখ করা আসামিদের মধ্যে সোমবার রাতে মাহফুজুর গ্রেফতার হয়েছে।
চুনারুঘাট সীমান্তে কড়া নজরদারি : চুনারুঘাট প্রতিনিধি জানান, এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের ঘটনায় হবিগঞ্জের মাধবপুর সীমান্ত দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিল অন্যতম আসামি অর্জুন লস্কর।
যদিও তার শেষ রক্ষা হয়নি। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে সিলেট গোয়েন্দা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। অন্য কোনো আসামি যাতে দেশ থেকে পালাতে না পারে সে জন্য চুনারুঘাট ও মাধবপুর সীমান্তে আরও কড়া নজরদারি রাখা হয়েছে।
এ ব্যাপারে চুনারুঘাট থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) চম্পক ধাম বলেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী উপজেলা মাধবপুর সীমান্ত দিয়ে এক আসামি পালানোর চেষ্টা করেছিল।
তাই আমরা চুনারুঘাট সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়েছি। পুলিশের পাশাপাশি বিট পুলিশ ও নিজস্ব সোর্স সীমান্তে কাজ করছে।
