বিনিয়োগ বাড়াতে কর ছাড়ের হিড়িক
jugantor
বিনিয়োগ বাড়াতে কর ছাড়ের হিড়িক

  সাদ্দাম হোসেন ইমরান  

০২ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারে আগামী বাজেটে বিনিয়োগকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। করোনাকালে পুরোনো শিল্পকে টিকিয়ে রাখার পাশাপাশি নতুন শিল্প স্থাপনে নানা কর ছাড় দেয়া হবে।

শুধু শিল্প খাতে নয়, স্বাস্থ্য খাতেও বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত কর অবকাশ সুবিধা দেয়া হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

করপোরেট কর কমছে : গত বছরের ধারাবাহিকতায় আগামী বাজেটেও করপোরেট করে ছাড় দেয়া হচ্ছে। তবে ঢালাওভাবে সব খাতে নয়, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ও তালিকাবহির্ভূত শিল্পের কর কমানো হচ্ছে। অপরিবর্তিত থাকছে মার্চেন্ট ব্যাংক; সিগারেট, জর্দা ও গুলসহ তামাকজাত দ্রব্য প্রস্তুতকারী কোম্পানি এবং তালিকাভুক্ত ও তালিকাবহির্ভূত মোবাইল কোম্পানির কর হার।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি করপোরেট কর ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ২২ শতাংশ এবং তালিকাবহির্ভূত কোম্পানির কর সাড়ে ৩২ থেকে ৩০ শতাংশ করা হচ্ছে।

ন্যূনতম কর কমছে : পাইকারি ব্যবসায়ী, পণ্য পরিবেশক, ব্যক্তি মালিকানাধীন (প্রপাইটারশিপ) ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক লেনদেনের ওপর ন্যূনতম আয়কর কমানো হচ্ছে। বর্তমানে ৩ কোটি টাকার বেশি টার্নওভার হলে লাভ বা ক্ষতি যাই হোক দশমিক ৫০ শতাংশ হারে ন্যূনতম কর দিতে হয়।

আগামী বাজেটে করহার কমিয়ে দশমিক ২৫ শতাংশ করা হচ্ছে। পণ্য উৎপাদনে নিয়োজিত নতুন শিল্পের ক্ষেত্রে উৎপাদন শুরুর পরবর্তী প্রথম ৩ বছর ন্যূনতম কর হার দশমিক ১০ শতাংশ থাকছে। তবে মোবাইল অপারেটরদের লাভ-ক্ষতি নির্বিশেষে টার্নওভারের ওপর ২ শতাংশ এবং তামাক প্রস্তুতকারক কোম্পানির ক্ষেত্রে ন্যূনতম কর হার এক শতাংশ বহাল থাকছে।

একক মালিকানাধীন কোম্পানিকে কর ছাড় : এক ব্যক্তি মালিকানাধীন কোম্পানিকে উৎসাহিত করতে বাজেটে ‘বিশেষ’ কর ছাড় দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে কোম্পানি আইনের অধীনে গঠিত কোম্পানিকে সাড়ে ৩২ শতাংশ করপোরেট কর দিতে হয়। আগামী অর্থবছরে এক ব্যক্তির মালিকানাধীন কোম্পানির কর ২৫ শতাংশ করা হচ্ছে।

এসি-ফ্রিজ উৎপাদনে ভ্যাট অব্যাহতি : এসি উৎপাদনে ভ্যাট অব্যাহতি মেয়াদ ২০২৪ সাল পর্যন্ত এবং ফ্রিজের ক্ষেত্রে অব্যাহতির মেয়াদ ২০২০ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি ১৬শ সিসি পর্যন্ত গাড়ি উৎপাদনে প্রয়োজনীয় উপকরণ ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে ভ্যাট অব্যাহতির সুবিধা ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে। এছাড়া পলিপ্রোপাইলিন স্ট্যাপল ফাইবার, মোবাইল ফোন এবং স্যানিটারি ন্যাপকিন ও ডায়াপারের কাঁচামাল আমদানিতে ভ্যাট অব্যাহতির মেয়াদ ২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে।

তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য উৎপাদনে ভ্যাট অব্যাহতি : তথ্যপ্রযুক্তি ও কম্পিউটার শিল্পের বিকাশে প্রিন্টার, টোনার কার্টিজ, ইনকজেট কার্টিজ, কম্পিউটার প্রিন্টারের যন্ত্রাংশ, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, এআইও, ডেস্কটপ, নোটবুক, নেটপ্যাড, ট্যাব, সার্ভার, কিবোর্ড, মাউস, বারকোড ও কিউআর কোড স্ক্যানার, পিসিবিএ/মাদারবোর্ড, পাওয়ার ব্যাংক, রাউটার, নেটওয়ার্ক সুইচ, মডেম, নেটওয়ার্ক ডিভাইস/ হাব, স্পিকার, সাউন্ড সিস্টেম, ইয়ারফোন, হেডফোন, এসএসডি/পোর্টেবল এসএসডি, হার্ডডিস্ক ড্রাইভ, পেনড্রাইভ, মাইক্রো এসডি কার্ড, ফ্ল্যাশ মেমোরি কার্ড, সিসিটিভি, মনিটর, প্রজেক্টর, প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড, ই-রাইটিং প্যাড, ইউএসবি ক্যাবল, ডিজিটাল ঘড়ি, বিভিন্ন প্রকাশ লোডেড পিসিবি উৎপাদনে ভ্যাট অব্যাহতি দেয়া হচ্ছে।

হোম অ্যাপ্লায়েন্সে ভ্যাট অব্যাহতি : হোম অ্যাপ্লায়েন্সসামগ্রী উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে আগামী ২ বছরের জন্য ভ্যাট অব্যাহতি দেয়া হচ্ছে। ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, ইলেকট্রিক ওভেন, ব্লেন্ডার, জুসার, মিক্সার, গ্রাইন্ডার, ইলেকট্রিক কেটলি, রাইস কুকার, মাল্টি কুকার ও প্রেসার কুকার দেশে উৎপাদন করলে উপকরণ-যন্ত্রাংশ আমদানিতে ভ্যাট দেয়া লাগবে না।

আগাম কর কমছে : কমপ্লায়েন্স বাড়াতে নতুন ভ্যাট আইনে আগাম কর প্রথা চালু করা হয়। বাজেটে ভ্যাট আইন আরও ব্যবসাবান্ধব ও যুগোপযোগী করতে আমদানি পর্যায়ে আগাম কর (এটি) হার কমানো হচ্ছে। এটি ৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হচ্ছে। এছাড়া রিফান্ড জটিলতার কারণে কয়েকটি শিল্পকে আগাম কর থেকে অব্যাহতি দেয়া হচ্ছে। যেমন স্ক্র্যাপ ভেসেল; স্টিল শিল্পের ওয়েস্ট ও স্ক্র্যাপ, ফেরো অ্যালয়, স্পঞ্জ আয়রন; পিভিসি ও পেট রেজিন উৎপাদনে ব্যবহৃত ইথাইলিন গ্লাইকল, টেরেফথালিক অ্যাসিড, ইথাইলিন/প্রোপাইলিন আমদানি এবং উপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের আমদানিকৃত কাজু বাদাম আমদানিতে আগাম কর প্রত্যাহার হচ্ছে।

জরিমানা-সরল সুদ কমছে : ভ্যাট ফাঁকির জরিমানা ও সরল সুদ হার দুটোই কমানো হচ্ছে। বর্তমানে ভ্যাট ফাঁকির ক্ষেত্রে ফাঁকি দেয়া ভ্যাটের দ্বিগুণ জরিমানা করার বিধান রয়েছে। এটি কমিয়ে ফাঁকির সমপরিমাণ জরিমানার বিধান করা হচ্ছে। এছাড়া সময়মতো ভ্যাট না দেয়ায় ভ্যাট আইন অনুযায়ী মাসিক ২ শতাংশ হারে সরল সুদের বিধান রয়েছে। এটি বাজেটে এক শতাংশ করা হচ্ছে।

হিজড়াদের চাকরি দিলে কর ছাড় : হিজড়া জনগোষ্ঠীকে সমাজের মূলধারায় আনতে বাজেটে কর ছাড় দেয়া হচ্ছে। আগামীতে কোনো প্রতিষ্ঠান বছরের পুরো সময় মোট জনবলের ১০ শতাংশ বা ১০০ জনের বেশি হিজড়াকে চাকরি দিলে প্রদেয় করের ৫ শতাংশ রেয়াত পাবে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে সরকার প্রতিবন্ধীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে এ ধরনের সুবিধা দিয়েছিল।

হাসপাতাল নির্মাণে কর ছাড় : করোনায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বাজেটে বিশেষায়িত ও সাধারণ হাসপাতাল নির্মাণে কর অবকাশ সুবিধা দেয়া হচ্ছে। বিভাগীয় শহর ব্যতীত অন্য জেলায় ২০০ শয্যবিশিষ্ট বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং আড়াইশ শয্যবিশিষ্ট সাধারণ হাসপাতাল নির্মাণ করলে ১০ বছরের কর অবকাশ সুবিধা পাওয়া যাবে।

আইটি খাতে কর ছাড় : ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে আইটি খাতে কর অব্যাহতি সুবিধা দেয়া হচ্ছে। বিদ্যমান ২২টির পাশাপাশি আরও নতুন ৫টি সেবাকে করের বাইরে রাখা হচ্ছে। এগুলো হচ্ছে- ক্লাডউ সার্ভিস, সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন, ই লার্নিং প্ল্যাটফরম, ই বুক পাবলিকেশন, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট সার্ভিস এবং ফ্রিল্যান্সিং।

নারী উদ্যোক্তাদের বিশেষ ছাড় : অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি নারী উদ্যোক্তাদের বার্ষিক (টার্নওভার) লেনদেনে বিশেষ কর ছাড় থাকছে বাজেটে। টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনীতিতে নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে এ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বর্তমানে বার্ষিক ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভার কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত। বাজেটে অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি নারী উদ্যোক্তাদের জন্য টার্নওভারের সীমা ৭০ লাখ টাকা করা হচ্ছে।

কৃষি আধুনিকায়নকরণে উদ্যোগ থাকছে : কৃষি আধুনিকায়নকরণের লক্ষ্যে কৃষি কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি আমদানিতে আগাম কর প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এগুলো হচ্ছে থ্রেসার মেশিন, পাওয়ার রিপার, পাওয়ার টিলার, অপারেটেড সিডার, কম্বাইন হারভেস্টর, রোটারি টিলার, উইডার (নিড়ানি) ও উইনোয়ার (ঝাড়াইকল)।

রপ্তানি খাতে তহবিল আছে, কর ছাড় নেই : সবুজ শিল্পায়নকে উৎসাহিত করতে ‘গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড ফর এক্সপোর্ট’ তহবিলে আরও ২০ কোটি ডলার দেয়া হচ্ছে। ২০১৬ সালে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০ কোটি ডলার দিয়ে প্রথমে যাত্রা শুরু করে। পরে আরও ২০ কোটি ইউরো ফান্ডে যুক্ত করা হয়। অবশ্য বাজেটে রপ্তানি খাতে সব ধরনের কর অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে। এ খাতের উদ্যোক্তাদের চলতি অর্থবছরের মতো করপোরেট কর, রপ্তানি আয়ে উৎসে কর ও নগদ প্রণোদনায় উৎসে কর দিতে হবে।

বিনিয়োগ বাড়াতে কর ছাড়ের হিড়িক

 সাদ্দাম হোসেন ইমরান 
০২ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারে আগামী বাজেটে বিনিয়োগকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। করোনাকালে পুরোনো শিল্পকে টিকিয়ে রাখার পাশাপাশি নতুন শিল্প স্থাপনে নানা কর ছাড় দেয়া হবে।

শুধু শিল্প খাতে নয়, স্বাস্থ্য খাতেও বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত কর অবকাশ সুবিধা দেয়া হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

করপোরেট কর কমছে : গত বছরের ধারাবাহিকতায় আগামী বাজেটেও করপোরেট করে ছাড় দেয়া হচ্ছে। তবে ঢালাওভাবে সব খাতে নয়, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ও তালিকাবহির্ভূত শিল্পের কর কমানো হচ্ছে। অপরিবর্তিত থাকছে মার্চেন্ট ব্যাংক; সিগারেট, জর্দা ও গুলসহ তামাকজাত দ্রব্য প্রস্তুতকারী কোম্পানি এবং তালিকাভুক্ত ও তালিকাবহির্ভূত মোবাইল কোম্পানির কর হার।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি করপোরেট কর ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ২২ শতাংশ এবং তালিকাবহির্ভূত কোম্পানির কর সাড়ে ৩২ থেকে ৩০ শতাংশ করা হচ্ছে।

ন্যূনতম কর কমছে : পাইকারি ব্যবসায়ী, পণ্য পরিবেশক, ব্যক্তি মালিকানাধীন (প্রপাইটারশিপ) ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক লেনদেনের ওপর ন্যূনতম আয়কর কমানো হচ্ছে। বর্তমানে ৩ কোটি টাকার বেশি টার্নওভার হলে লাভ বা ক্ষতি যাই হোক দশমিক ৫০ শতাংশ হারে ন্যূনতম কর দিতে হয়।

আগামী বাজেটে করহার কমিয়ে দশমিক ২৫ শতাংশ করা হচ্ছে। পণ্য উৎপাদনে নিয়োজিত নতুন শিল্পের ক্ষেত্রে উৎপাদন শুরুর পরবর্তী প্রথম ৩ বছর ন্যূনতম কর হার দশমিক ১০ শতাংশ থাকছে। তবে মোবাইল অপারেটরদের লাভ-ক্ষতি নির্বিশেষে টার্নওভারের ওপর ২ শতাংশ এবং তামাক প্রস্তুতকারক কোম্পানির ক্ষেত্রে ন্যূনতম কর হার এক শতাংশ বহাল থাকছে।

একক মালিকানাধীন কোম্পানিকে কর ছাড় : এক ব্যক্তি মালিকানাধীন কোম্পানিকে উৎসাহিত করতে বাজেটে ‘বিশেষ’ কর ছাড় দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে কোম্পানি আইনের অধীনে গঠিত কোম্পানিকে সাড়ে ৩২ শতাংশ করপোরেট কর দিতে হয়। আগামী অর্থবছরে এক ব্যক্তির মালিকানাধীন কোম্পানির কর ২৫ শতাংশ করা হচ্ছে।

এসি-ফ্রিজ উৎপাদনে ভ্যাট অব্যাহতি : এসি উৎপাদনে ভ্যাট অব্যাহতি মেয়াদ ২০২৪ সাল পর্যন্ত এবং ফ্রিজের ক্ষেত্রে অব্যাহতির মেয়াদ ২০২০ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি ১৬শ সিসি পর্যন্ত গাড়ি উৎপাদনে প্রয়োজনীয় উপকরণ ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে ভ্যাট অব্যাহতির সুবিধা ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে। এছাড়া পলিপ্রোপাইলিন স্ট্যাপল ফাইবার, মোবাইল ফোন এবং স্যানিটারি ন্যাপকিন ও ডায়াপারের কাঁচামাল আমদানিতে ভ্যাট অব্যাহতির মেয়াদ ২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে।

তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য উৎপাদনে ভ্যাট অব্যাহতি : তথ্যপ্রযুক্তি ও কম্পিউটার শিল্পের বিকাশে প্রিন্টার, টোনার কার্টিজ, ইনকজেট কার্টিজ, কম্পিউটার প্রিন্টারের যন্ত্রাংশ, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, এআইও, ডেস্কটপ, নোটবুক, নেটপ্যাড, ট্যাব, সার্ভার, কিবোর্ড, মাউস, বারকোড ও কিউআর কোড স্ক্যানার, পিসিবিএ/মাদারবোর্ড, পাওয়ার ব্যাংক, রাউটার, নেটওয়ার্ক সুইচ, মডেম, নেটওয়ার্ক ডিভাইস/ হাব, স্পিকার, সাউন্ড সিস্টেম, ইয়ারফোন, হেডফোন, এসএসডি/পোর্টেবল এসএসডি, হার্ডডিস্ক ড্রাইভ, পেনড্রাইভ, মাইক্রো এসডি কার্ড, ফ্ল্যাশ মেমোরি কার্ড, সিসিটিভি, মনিটর, প্রজেক্টর, প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড, ই-রাইটিং প্যাড, ইউএসবি ক্যাবল, ডিজিটাল ঘড়ি, বিভিন্ন প্রকাশ লোডেড পিসিবি উৎপাদনে ভ্যাট অব্যাহতি দেয়া হচ্ছে।

হোম অ্যাপ্লায়েন্সে ভ্যাট অব্যাহতি : হোম অ্যাপ্লায়েন্সসামগ্রী উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে আগামী ২ বছরের জন্য ভ্যাট অব্যাহতি দেয়া হচ্ছে। ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, ইলেকট্রিক ওভেন, ব্লেন্ডার, জুসার, মিক্সার, গ্রাইন্ডার, ইলেকট্রিক কেটলি, রাইস কুকার, মাল্টি কুকার ও প্রেসার কুকার দেশে উৎপাদন করলে উপকরণ-যন্ত্রাংশ আমদানিতে ভ্যাট দেয়া লাগবে না।

আগাম কর কমছে : কমপ্লায়েন্স বাড়াতে নতুন ভ্যাট আইনে আগাম কর প্রথা চালু করা হয়। বাজেটে ভ্যাট আইন আরও ব্যবসাবান্ধব ও যুগোপযোগী করতে আমদানি পর্যায়ে আগাম কর (এটি) হার কমানো হচ্ছে। এটি ৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হচ্ছে। এছাড়া রিফান্ড জটিলতার কারণে কয়েকটি শিল্পকে আগাম কর থেকে অব্যাহতি দেয়া হচ্ছে। যেমন স্ক্র্যাপ ভেসেল; স্টিল শিল্পের ওয়েস্ট ও স্ক্র্যাপ, ফেরো অ্যালয়, স্পঞ্জ আয়রন; পিভিসি ও পেট রেজিন উৎপাদনে ব্যবহৃত ইথাইলিন গ্লাইকল, টেরেফথালিক অ্যাসিড, ইথাইলিন/প্রোপাইলিন আমদানি এবং উপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের আমদানিকৃত কাজু বাদাম আমদানিতে আগাম কর প্রত্যাহার হচ্ছে।

জরিমানা-সরল সুদ কমছে : ভ্যাট ফাঁকির জরিমানা ও সরল সুদ হার দুটোই কমানো হচ্ছে। বর্তমানে ভ্যাট ফাঁকির ক্ষেত্রে ফাঁকি দেয়া ভ্যাটের দ্বিগুণ জরিমানা করার বিধান রয়েছে। এটি কমিয়ে ফাঁকির সমপরিমাণ জরিমানার বিধান করা হচ্ছে। এছাড়া সময়মতো ভ্যাট না দেয়ায় ভ্যাট আইন অনুযায়ী মাসিক ২ শতাংশ হারে সরল সুদের বিধান রয়েছে। এটি বাজেটে এক শতাংশ করা হচ্ছে।

হিজড়াদের চাকরি দিলে কর ছাড় : হিজড়া জনগোষ্ঠীকে সমাজের মূলধারায় আনতে বাজেটে কর ছাড় দেয়া হচ্ছে। আগামীতে কোনো প্রতিষ্ঠান বছরের পুরো সময় মোট জনবলের ১০ শতাংশ বা ১০০ জনের বেশি হিজড়াকে চাকরি দিলে প্রদেয় করের ৫ শতাংশ রেয়াত পাবে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে সরকার প্রতিবন্ধীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে এ ধরনের সুবিধা দিয়েছিল।

হাসপাতাল নির্মাণে কর ছাড় : করোনায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বাজেটে বিশেষায়িত ও সাধারণ হাসপাতাল নির্মাণে কর অবকাশ সুবিধা দেয়া হচ্ছে। বিভাগীয় শহর ব্যতীত অন্য জেলায় ২০০ শয্যবিশিষ্ট বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং আড়াইশ শয্যবিশিষ্ট সাধারণ হাসপাতাল নির্মাণ করলে ১০ বছরের কর অবকাশ সুবিধা পাওয়া যাবে।

আইটি খাতে কর ছাড় : ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে আইটি খাতে কর অব্যাহতি সুবিধা দেয়া হচ্ছে। বিদ্যমান ২২টির পাশাপাশি আরও নতুন ৫টি সেবাকে করের বাইরে রাখা হচ্ছে। এগুলো হচ্ছে- ক্লাডউ সার্ভিস, সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন, ই লার্নিং প্ল্যাটফরম, ই বুক পাবলিকেশন, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট সার্ভিস এবং ফ্রিল্যান্সিং।

নারী উদ্যোক্তাদের বিশেষ ছাড় : অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি নারী উদ্যোক্তাদের বার্ষিক (টার্নওভার) লেনদেনে বিশেষ কর ছাড় থাকছে বাজেটে। টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনীতিতে নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে এ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বর্তমানে বার্ষিক ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভার কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত। বাজেটে অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি নারী উদ্যোক্তাদের জন্য টার্নওভারের সীমা ৭০ লাখ টাকা করা হচ্ছে।

কৃষি আধুনিকায়নকরণে উদ্যোগ থাকছে : কৃষি আধুনিকায়নকরণের লক্ষ্যে কৃষি কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি আমদানিতে আগাম কর প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এগুলো হচ্ছে থ্রেসার মেশিন, পাওয়ার রিপার, পাওয়ার টিলার, অপারেটেড সিডার, কম্বাইন হারভেস্টর, রোটারি টিলার, উইডার (নিড়ানি) ও উইনোয়ার (ঝাড়াইকল)।

রপ্তানি খাতে তহবিল আছে, কর ছাড় নেই : সবুজ শিল্পায়নকে উৎসাহিত করতে ‘গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড ফর এক্সপোর্ট’ তহবিলে আরও ২০ কোটি ডলার দেয়া হচ্ছে। ২০১৬ সালে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০ কোটি ডলার দিয়ে প্রথমে যাত্রা শুরু করে। পরে আরও ২০ কোটি ইউরো ফান্ডে যুক্ত করা হয়। অবশ্য বাজেটে রপ্তানি খাতে সব ধরনের কর অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে। এ খাতের উদ্যোক্তাদের চলতি অর্থবছরের মতো করপোরেট কর, রপ্তানি আয়ে উৎসে কর ও নগদ প্রণোদনায় উৎসে কর দিতে হবে।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন