Logo
Logo
×

Advertisement

প্রথম পাতা

বিভিন্ন কেন্দ্রে জাল ভোট বিক্ষিপ্ত সহিংসতা

এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ * তিনটি ভোট কেন্দ্রে নির্বাচন স্থগিত * ভোটার উপস্থিতি সকালে বেশি, দুপুরে ফাঁকা * কয়েক স্থানে বিএনপি নেতাকর্মীদের ধাওয়া, মারধর ও ক্যাম্প ভাংচুর

Advertisement

Icon

কাজী জেবেল ও মোস্তফা কামাল আহমেদ, খুলনা থেকে

প্রকাশ: ১৬ মে ২০১৮, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

বিভিন্ন কেন্দ্রে জাল ভোট দেয়ার অভিযোগ, কেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের শোডাউন এবং বিক্ষিপ্ত নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়। এদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণের সময় বড় কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। সার্বিকভাবে পরিস্থিতি ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। ভোট গ্রহণের শুরুতে কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এ সময় ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ দেখা গেছে। তবে বেলা গড়াতেই ভোট কেন্দ্রের এ উৎসবের দৃশ্যে অনেকটা ভাটা পড়ে। বেলা ১১টার পর থেকে অনেক ভোট কেন্দ্রের সীমানার ভেতর ও বাইরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখ করার মতো। জাল ভোট দেয়ার অভিযোগে তিনটি ভোট কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করেছেন সংশ্লিষ্ট প্রিসাইডিং কর্মকর্তা। জাল ভোটকে কেন্দ্র করে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আ’লীগ ও বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ ১১ রাউন্ড গুলি ছুড়েছে।

নির্বাচনের মাঠে আওয়ামী লীগের সরব উপস্থিতি থাকলেও সকাল থেকেই বিএনপি নেতাকর্মীদের তৎপরতা তেমন একটা দেখা যায়নি। বিএনপির মেয়র প্রার্থী নিজেই বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়ে নির্বাচনের অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেছেন, কয়েকটি কেন্দ্রে বিএনপির মেয়র ও দলীয় সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়। তবে বেশির ভাগ কেন্দ্রে বিএনপির এজেন্ট থাকলেও অনেক বুথেই তাদের দেখা যায়নি।

বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে সরেজমিন ঘুরে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে পাওয়া গেছে উল্লিখিত সব তথ্য। খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ভোট গ্রহণ শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী যুগান্তরকে বলেন, সিটি কর্পোরেশনের ২৮৯টি ভোট কেন্দ্রে সকাল ৮টায় একযোগে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। বেলা ১১টার পর কিছু প্রার্থীর অভিযোগ পেয়েছি। ওইসব অভিযোগ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছি। সার্বিকভাবে নির্বাচন ভালো হয়েছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জাল ভোটের কারণে ইকবাল নগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, লবণচরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (নিচতলা) ও লবণচরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (২য় তলা) ভোট কেন্দ্রে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। জাল ভোট দেয়াকে কেন্দ্র করে গোলযোগের কারণে ভোট দিতে না পেরে ইশবাল নগর সরকারি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ওই কেন্দ্রের ভোটার নাসরিন আক্তার অধরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনেই তিনি বলেন, আমি নতুন ভোটার। প্রথমবার ভোট দিতে এসেছি। আধা ঘণ্টা লাইনে দাঁড়ানোর পর বলল, ভোট দেয়ার দরকার নেই, চলে যান। আগামী বছর ভোট দেবেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এ কেমন নির্বাচন? নির্বাচন কমিশন কী করে? ওই সময়ে আরেক ভোটার সেলিনা আক্তার বলেন, আমাকে কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়েছে। বলেছে, আপনার ভোট হয়ে গেছে।

ভোট গ্রহণের পর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির মেয়র প্রার্থী মিজানুর রহমান বাবু তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সরকারি দলের নামধারীদের দখলদারিত্বে ভোটকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছে। জোর করে ভোট কেন্দ্র দখল ও ব্যালট পেপারে সিল মারার খবর প্রচারমাধ্যমেই এসেছে। দুপুর থেকে এই ধারা বৃদ্ধি পেয়ে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী অধিকাংশ কেন্দ্র সরকারি দলের নামধারীরা দখলদারিত্ব কায়েম করেছে। সুষ্ঠু নির্বাচন করতে না পারা ব্যর্থতার এ দায় সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে।

সরেজমিন দেখা গেছে, খুলনার ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের লবণচরার হাজী আবদুল মালেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে কয়েক দফায় জাল ভোট দিয়েছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বেলা ১টায় ওই কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রের বাইরে ছাত্রলীগের শত শত নেতাকর্মী অপেক্ষমাণ। পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীদের দেখে তারা কেন্দ্রের সীমানা বাইরে নেতাকর্মীদের নিয়ে সরে যান। সেখানে ভোটার উপস্থিতি দেখা যায়নি। ওই কেন্দ্রের ২ নম্বর বুথে গিয়ে দেখা গেছে, কাউন্সিলর প্রার্থীর তুলনায় মেয়র প্রার্থীর ব্যালট কম এবং ব্যালটের মুড়িতে সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার স্বাক্ষর ও সিল নেই। এর কারণ জানতে চাইলে ওই বুথের সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ফরিদা রুখসানা বলেন, কিছু লোক এসে জোর করে ব্যালট নিয়ে গিয়ে সিল মেরে বাক্সে ঢুকিয়েছে। আপনাদের দেখে চলে গেছে। পুলিশ চেষ্টা করেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। এ সময় ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মহিতোষ কুমার বিশ্বাস বলেন, কিছু দুষ্কৃতকারী এসে ব্যালট জোর করে নিয়ে সিল মেরেছে। ওই সময়ে কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ভোট বন্ধ করব কিনা সে বিষয়টি জানতে ওপরে কথা বলেছি। এ কারণে ভোট গ্রহণ সাময়িক বন্ধ রেখেছি। তবে ওই কেন্দ্রের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের এসআই রাশেদ বলেন, আমি কেন্দ্রের বাইরে ছিলাম। বিশৃঙ্খলার কথা শুনে এসেছি। কাউকে জাল ভোট দিতে দেখিনি। বেলা ২টার সময় পুনরায় ওই ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোটার উপস্থিতি দেখা যায়নি, তবে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের অবস্থান করতে দেখা গেছে।

বেলা সোয়া ২টার দিকে শিপইয়ার্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পুলিশ কর্মকর্তারা মিলেমিশে গল্প করছেন। ভোটের পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা গাজী কামাল হোসেন বলেন, শান্তিপূর্ণ ভোট হচ্ছে। এ কেন্দ্রের ৬টি বুথের মধ্যে ৫টিতে বিএনপির এজেন্ট এসেছে। তবে বুথে বুথে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুই দফায় এ কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকে জাল ভোট মেরেছে সরকারি দলের নেতাকর্মীরা। ওই ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থী রোকসানা কামালের পোলিং এজেন্ট রেহানা আক্তার রিনা এবং কাউন্সিলর প্রার্থী জাহিদুর রহমানের পোলিং এজেন্ট শাহিনুর রহমান প্রিসাইডিং কর্মকর্তার সামনে অভিযোগ করে বলেন, নৌকা প্রতীকের লোকজন কেন্দ্রে ঢুকে ৫০টি জাল ভোট দিয়ে চলে গেছে। পুলিশ ও প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা কিছুই বলেননি। এ সময় প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে তার (পোলিং এজেন্ট) সাক্ষাৎকার নিতে বাধা দেন এবং পুলিশ ডেকে আনেন। জাল ভোটের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ওই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, যেসব ব্যালটে সিল মারা হয়েছে সেগুলোতে সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার স্বাক্ষর ছিল না। এ কারণে ভোট গণনার সময় ওইসব ব্যালট বাতিল করা হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের একাধিক বাসিন্দা বলেন, সকালে সব কেন্দ্রেই অনেক ভোটার উপস্থিত ছিল। বেলা ১১টার পর থেকে এ ওয়ার্ডের ১৫টি কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দল নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জাল ভোট দিয়েছে। ভয়ে সাধারণ মানুষ কেন্দ্রে আসছেন না।

নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের মিয়াপাড়া মেইন রোডের রহিমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, ৫ নম্বর বুথে ব্যালট পেপারবিহীন বইয়ের মুড়িতে সিল ও স্বাক্ষর করছেন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সমরেন্দ্র নাথ। ব্যালট পেপারবিহীন বইয়ের মুড়িতে সিল মারার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, কিছু লোক এসে হৈচৈ করেছিল, দৌড়াদৌড়ি করেছিল তাই মুড়িতে সিল মারতে পারিনি। ওই কেন্দ্রের ৪ ও ৫ নম্বর বুথের বিএনপির এজেন্ট ক্রমান্বয়ে নাজিয়া পারভীন ও রোকসানা উচ্চস্বরে বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ১৫-২০ জন যুবক এসে সব ব্যালট নিয়ে নৌকায় সিল মেরে বাক্সে ঢুকিয়েছে। আমরা প্রতিবাদ করলে পুলিশ ও ওইসব যুবক আমাদের শাসিয়ে চলে যায়। এখন শান্তিপূর্ণভাবেই ভোট চলছে। এ বিষয়ে ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা পার্থ চ্যাটার্জি বলেন, জাল ভোটের চেষ্টা করেছিল। তবুও কোনো অভিযোগ করলে তদন্ত করে দেখব। ওই কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা এসআই সুজা-উদ দৌলা বলেন, জাল ভোট দেয়ার ঘটনা আমি দেখিনি, শুনিনি।

রূপসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দফায় দফায় জাল ভোট দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। বহিরাগতদের কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়ায় পুলিশ কর্মকর্তার ওপর চটেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. শফিকুল হায়াত। তিনি পুলিশ কর্মকর্তা আফজালের উদ্দেশে বলেন, আপনি কী ডিউটি করেন। বারবার কীভাবে এসব লোক কেন্দ্রে ঢোকে। পরে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, বেলা সাড়ে ১১টায় কিছু দুষ্কৃতকারী বারবার এসে একটি বুথে ঢুকে জাল ভোট মেরেছে। এ কারণে কিছু সময় ভোট গ্রহণ স্থগিত রেখেছিলাম। এ সময় নির্বাচনের কমিশনের যুগ্ম সচিব আবদুল বাতেন ওই কেন্দ্রে হাজির হন। তাকেও জাল ভোটের বিষয়টি জানান এ প্রিসাইডিং কর্মকর্তা। রূপসা বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে বর্তমান কাউন্সিলর রোকেয়া ফারুক অভিযোগ করেন, বিএনপির মেয়র প্রার্থী ও তার এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। এরপর ইচ্ছেমতো জাল ভোট মেরেছে সরকারি দল।

খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কেসিসি উইমেন্স কলেজে চারটি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। ওই কেন্দ্রের বাইরে শত শত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে নৌকা ব্যাজ পরে অবস্থান নিতে দেখা গেছে। কোনো ভোটার ভেতরে গেলেই তাকে নৌকায় ভোট দিতে চাপ দিতে দেখা গেছে।

একই চিত্র দেখা গেছে খালিশপুরে। খালিশপুরের সরকারি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট কেন্দ্রের বাইরে ভোট শুরুর আগে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর এজেন্ট ও সমর্থকদের ধাওয়া দেয়া হয়। ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার পর পরিবেশ শান্ত হয়। বিএনপি প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট সেলিম চৌধুরী সকাল সাড়ে ১০টার দিকে যুগান্তরকে জানান, কেন্দ্রে প্রবেশ করার আগে রাস্তায় কিছু লোক আমাদের এজেন্টদের ধাওয়া করেছিল। এ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মো. সুরাত আলী জানান, কেন্দ্রের বাইরে রাস্তায় গোলযোগের খবর তিনিও শুনেছেন। এতে ভোটারদের মধ্যে কোনো বিরূপ প্রভাব পড়েনি বলে দাবি করেন তিনি।

১১ নম্বর ওয়ার্ডের মসজিদে তৈয়্যেবা ফোরকানিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। সেখানে দু’সহোদরকে মারধরের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১০টার দিকে এ কেন্দ্রের বাইরে আওয়ামী লীগ মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী মুন্সী আবদুল ওয়াদুদের লোকজন সিরাজ নামে এক যুবলীগ কর্মীকে মারধর করেছে- এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরপর বেলা ১২টার দিকে সিরাজের ছোটভাই আলম এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাকেও মেরে জখম করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শী ভোটার শফিকুল, হাসান আলী ও সোলায়মান মিয়া জানান। এছাড়া বিকাল ৩টার পর একদল লোক হঠাৎ ঝড়ো বেগে ওই কেন্দ্রের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে বুথে ঢুকে জাল ভোট দেয়ার চেষ্টা করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। তবে প্রিসাইডিং অফিসার মো. কামরুজ্জামান সরকার যুগান্তরকে বলেন, কিছু অপরিচিত মানুষ দলবদ্ধ হয়ে বিকাল ৩টা ৫ মিনিটে কেন্দ্রের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ শুরু করে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। এরপর পুলিশ এসে তাদের বের করে দেয়। তিনি জানান, এ কেন্দ্রে মোট ভোটার ১৮০১ জন। বিকাল ৩টা পর্যন্ত ৫০ ভাগ ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

৭নং ওয়ার্ডে গুলিবর্ষণ : মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে নগরীর খালিশপুর থানার ৭নং ওয়ার্ডের উত্তর কাশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বহিরাগতরা কেন্দ্রে প্রবেশ করে ভোট দেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী সুলতান মাহমুদ পিন্টুর লোকজন বাধা দেয়। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী সেলিম ও বিএনপির প্রার্থী পিন্টুর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। খালিশপুর থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ১১ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে বলে জানান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সরদার মোশাররফ হোসেন।

প্রতিপক্ষকে মারধর : ২২ নম্বর ওয়ার্ডের খুলনা জিলা স্কুল কেন্দ্রে গিয়ে জানা যায়, বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী মাহবুব কায়সারের নির্বাচনী এজেন্ট মো. আলী আকবরকে সকাল সাড়ে ৮টায় বের করে দেয়া হয়। এ সময় তাকে মারধর করা হয়। এ বিষয়ে কাউন্সিলর প্রার্থী মাহবুব কায়সার বলেন, শুধু আলী আকবরকেই নয়, আবু হানিফ মাদ্রাসা কেন্দ্র থেকে তার অপর এজেন্ট তানভীর ইসলামকেও বের করে দেয় আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী মো. বিকু গাজীর লোকজন। তারা লাঠিসোটা নিয়ে সজ্জিত হয়ে এজেন্টের ওপর আক্রমণ চালায়।

সকাল সাড়ে ৯টায় নগরীর সিদ্দিকীয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে গিয়ে জানা যায়, স্থানীয় ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর আলী আকবর টিপুর সমর্থকরা বিএনপির প্রার্থী আনিছুর রহমান আরজুর সমর্থকদের ভোট কেন্দ্রের বাইরের প্যান্ডেল থেকে বের করে দেয়। এ সময় তারা কেন্দ্রের অভ্যন্তরে একটি বুথ থেকে বিএনপি প্রার্থীর পোলিং এজেন্টকে বের করে দেয়ার অভিযোগ তোলেন আরজু।

সোয়া ১০টার দিকে নগরীর ২৪নং ওয়ার্ডের শেরেবাংলা রোড এলাকায় যুবলীগ নেতা জাকিরের নেতৃত্বে বিএনপির প্যান্ডেলে ব্যাপক ভাংচুর চালায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় মুসলিম লীগ নগর সম্পাদক আক্তার জাহান রুকুসহ বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে ছাবিরুল, মুশফিকসহ ৪/৫ জন নেতাকর্মী আহত হন।

বেলা ১১টার দিকে প্রিন্স আগা খান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দেখা যায়, সেখানে ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্টকে বের করে দেয়া হয়েছে। সেখানে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা জোর করে কেন্দ্রে ঢুকতে চাইলে ২০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. গাউসুল আজমের হস্তক্ষেপে তারা সেখানে ঢুকতে পারেনি। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

প্রিসাইডিং অফিসার তালাবদ্ধ : সরকারি ইকবাল নগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে বেলা পৌনে ১১টার দিকে একদল যুবক প্রবেশ করে দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত ৭নং বুথের সব ব্যালট পেপার নিয়ে নৌকায় সিল মারে। প্রিসাইডিং অফিসার খলিলুর রহমান বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে তাকে এক কক্ষে নিয়ে আটকে রাখে। পরে ভোট নেয়ার মতো ব্যালট পেপার না থাকায় সেই বুথের ভোটারদের ফেরত দেয়া হয়। একপর্যায়ে গণমাধ্যমকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হলে সহকারী রিটার্নিং অফিসার আনিসুর রহমান সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের সঙ্গে আলোচনা করে কেন্দ্রের ভোট স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেন।

নৌকায় সিল মারা ব্যালট সরবরাহ : আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেকের বাসভবনের পাশের ফাতেমা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে একটি বুথে ভোট শুরুর আগেই তার কর্মীরা ব্যালটের একটি বইয়ে নৌকা প্রতীকে সিল মেরে রাখে। পরে ভোটাররা ভোট দিতে এলে তাদের সিল মারা ব্যালট দেয়া হয়। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর সেই বুথের ভোট স্থগিত করা হয়।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

কিশোর গ্যাং-এর বড় ভাইয়েরা আড়ালে অভিযানেও মিলছে না সুফল

অভিযানেও মিলছে না সুফল

দিল্লিতে ফের বিক্ষোভ, উত্তেজনা পতাকা ওড়ানোর আগেই আটক দীপকে ও নেহা

পতাকা ওড়ানোর আগেই আটক দীপকে ও নেহা

উত্তরায় ‘দে লারা’ গ্রুপের মুখোমুখি যুগান্তর ‘একদিন পরই বাইর হইয়া গ্যাছে, ট্যাকায় কথা কয়’

‘একদিন পরই বাইর হইয়া গ্যাছে, ট্যাকায় কথা কয়’

জ্বালানির অজুহাতে চালের দামে সাগরচুরি পরিবহণ ব্যয়ের ১৫ গুণ বোঝা ক্রেতার কাঁধে

পরিবহণ ব্যয়ের ১৫ গুণ বোঝা ক্রেতার কাঁধে

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম