ইসি গঠনে সার্চ কমিটি ঘোষণা
jugantor
রাষ্ট্রপতির মনোনয়নে ছহুল হোসাইন ও আনোয়ারা সৈয়দ
ইসি গঠনে সার্চ কমিটি ঘোষণা
সুপ্রিমকোর্ট জাজেস লাউঞ্জে বৈঠক আজ: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে গণমাধ্যমকে সময়ে সময়ে প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো হবে-কমিটির সভাপতি * ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে রাষ্ট্রপতির কাছে ১০ জনের নাম প্রস্তাব করবে কমিটি

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসানকে সভাপতি করে ১৩তম নির্বাচন কমিশন গঠনে অনুসন্ধান (সার্চ) কমিটি করা হয়েছে। ছয় সদস্যের এ কমিটির অন্যরা হলেন-হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এসএম কুদ্দুস জামান, মহাহিসাব নিয়ন্ত্রক ও নিরীক্ষক মুসলিম চৌধুরী, পিএসসি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন ও কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক আনোয়ারা সৈয়দ হক। শনিবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

এদিকে শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন সূত্র যুগান্তরকে জানায়, সার্চ কমিটির প্রথম বৈঠক আজ বিকাল সাড়ে ৪টায় সুপ্রিমকোর্ট জাজেস লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন-২০২২ অনুযায়ী এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। আইনের বিধান মোতাবেক সভাপতিসহ প্রথম চারজন পদাধিকার বলে কমিটিতে স্থান পেয়েছেন। বাকি দুজন রাষ্ট্রপতির মনোনীত সদস্য। আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও চার কমিশনার পদের বিপরীতে ১০ জনের নাম প্রস্তাব করবে সার্চ কমিটি। সেখান থেকে নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন রাষ্ট্রপতি। সার্চ কমিটির সভাপতি বিচারপতি ওবায়দুল হাসান তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় শনিবার বিকালে টেলিফোনে যুগান্তরকে বলেন, কমিটি গঠনের প্রজ্ঞাপন হয়েছে, কিন্তু এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আমার কথা হয়নি। সবার সঙ্গে কথা বলে আমরা বৈঠকে বসব। এখনো বৈঠকের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

এক প্রশ্নের উত্তরে ওবায়দুল হাসান বলেন, আপনারা জানেন কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে কথা বলে কমিটির বৈঠকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। তিনি আরও বলেন, কমিটির কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে গণমাধ্যমকে সময়ে সময়ে প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো হবে।

সার্চ কমিটির সদস্যদের মধ্যে সোহরাব হোসাইন, মুসলিম চৌধুরী ও ছহুল হোসাইন যথাক্রমে শিক্ষা সচিব, অর্থ সচিব ও আইন সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নির্বাচন কমিশন গঠনে এটি তৃতীয় সার্চ কমিটি। তবে নির্বাচন কমিশন আইন প্রণয়নের পর প্রথম সার্চ কমিটি। এর আগে নির্বাচন কমিশন গঠনে ২০১২ ও ২০১৭ সালে সার্চ কমিটি হয়েছিল। দুবারই রাষ্ট্রপতির বিশেষ আদেশে সার্চ কমিটি গঠন হয়। এবার নতুন আইনের অধীনে সার্চ কমিটি হলেও গতবারের কাঠামোকেই অনুসরণ করা হয়েছে। কারণ আইনের বিধানে সেই কাঠামোই রয়েছে। নির্বাচন কমিশন গঠনকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সিরিজ বৈঠক করেছেন। জানুয়ারিতে হওয়া সেসব বৈঠকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগসহ বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে আইন প্রণয়নের সুপারিশ এসেছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রণয়ন করা হয় ‘প্রধান নিবাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন-২০২২’।

কমিটির সদস্যদের পরিচয়-

বিচারপতি ওবায়দুল হাসান : সার্চ কমিটির সভাপতি ও বিচারপতি ওবায়দুল হাসান সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের অন্যতম জ্যেষ্ঠ বিচারপতি। হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি থাকাকালে ২০১৭ সালের সার্চ কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি। ওবায়দুল হাসান ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন। তার বাবা ডা. আখলাকুল হোসাইন আহমেদ গণপরিষদ সদস্য ছিলেন। ওবায়দুল হাসান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি নেন। তিনি ১৯৮৬ সালে আইনজীবী হিসাবে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করেন। ১৯৮৮ সালে হাইকোর্ট বিভাগে এবং আপিল বিভাগে ২০০৫ সালে আইনজীবী হিসাবে তালিকাভুক্ত হন। এরপর ২০০৯ সালে হাইকোর্ট বিভাগে বিচারপতি হিসাবে নিয়োগ পান ওবায়দুল হাসান।

এসএম কুদ্দুস জামান : এসএম কুদ্দুস জামান ৪ বছর ধরে হাইকোর্ট বিভাগে বিচারকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। ১৯৮৪ সালে জুডিশিয়াল সার্ভিসে যোগ দেওয়া কুদ্দুস জামানের জন্ম রাজবাড়ি জেলায়। ২০০৬ সালে জেলা জজ হন। সুপ্রিমকোর্টে রেজিস্ট্রারের দায়িত্বও পালন করেন তিনি। ২০১৫ সালে ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ হন কুদ্দুস জামান। ২০১৮ সালে হাইকোর্টে বিচারপতি হিসাবে নিয়োগ পান।

মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন : সার্চ কমিটির সদস্য মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন ২০০৭-১২ সালে নির্বাচন কমিশনারেরর দায়িত্ব পালন করেন। সিলেটের সন্তান ছহুল হোসাইন জেলা জজ এবং আইন সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে অবসর নেওয়ার পর একাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় সিলেট-১ আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু মনোনয়ন পাননি, নির্বাচনও করেননি।
আনোয়ারা সৈয়দ হক : দেশের প্রখ্যাত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক। তার স্বামী প্রয়াত সাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হকের খ্যাতি ছিল সব্যসাচী লেখক হিসাবে। ১৯৪০ সালে যশোর জেলায় জন্ম নেওয়া আনোয়ারা সৈয়দ হক পড়াশোনা করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজে এবং লন্ডনের এমআর সাইক-এ। তিনি কিছুকাল বিমানবাহিনীতে চিকিৎসক হিসাবে ছিলেন। গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও শিশুসাহিত্য রচনা করে যাওয়া আনোয়ারা সৈয়দ হক ২০১০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান। ২০১৯ সালে তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে সরকার।

সোহরাব হোসাইন : পিএসসি (সরকারি কর্মকমিশন) চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইন পদাধিকার বলে সার্চ কমিটিতে স্থান পেয়েছেন। প্রশাসন ক্যাডারের এ কর্মকর্তা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব ছিলেন। নোয়াখালীর সন্তান সোহরাব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী।

মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী : মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস ক্যাডারে যোগ দেন। কন্ট্রোলার জেনারেল অব অ্যাকাউন্টস, কন্ট্রোলার জেনারেল ডিফেন্স ফাইন্যান্স এবং অর্থ বিভাগের উপসচিব, যুগ্ম সচিব ও অতিরিক্ত সচিব ও সচিব পদে দায়িত্ব পালন করেন মুসলিম চৌধুরী। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাববিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়ার পর যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম ইউনিভার্সিটি থেকে ফিন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিংয়ে ডিসটিংশনসহ এমএসসি ডিগ্রি নেন।

সার্চ কমিটির কাজ : ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন-২০২২’ অনুযায়ী, সার্চ কমিটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে উপযুক্তদের বাছাই করবে। ব্যক্তি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তাদের নিজেদের সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং পেশাজীবী সংগঠনের কাছ থেকেও নাম আহ্বান করতে পারবে। আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তারা রাষ্ট্রপতির কাছে নাম সুপারিশ করবেন। সংবিধান অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ মোট পাঁচজনের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছে। আর নতুন আইনে বলা হয়েছে, প্রতি পদের বিপরীতে দুটি করে নাম প্রস্তাব করবে সার্চ কমিটি। সে হিসাবে ১০ জনের নাম রাষ্ট্রপতির কাছে প্রস্তাব করা হবে। তাদের মধ্য থেকে অনধিক পাঁচজনকে সিইসি ও ইসি হিসাবে নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ পাঁচ সদস্যের কম ব্যক্তি নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠনেও বাধা নেই।

শনিবার জারি করা সার্চ কমিটি গঠনসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এ অনুসন্ধান কমিটি ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন-২০২২’ মোতাবেক দায়িত্ব ও কার‌্যাবলি সম্পন্ন করবে। কিন্তু মাত্র ৯টি ধারার সংক্ষিপ্ত এ আইনে সার্চ কমিটির কার্যপরিধির বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। আইনের ৩(২) ধারায় বলা হয়েছে, ‘অনুসন্ধান কমিটি উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিবে।’ প্রসঙ্গত, ১৪ ফেব্রুয়ারি কেএম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন ইসি বিদায় নিচ্ছে।

রাষ্ট্রপতির মনোনয়নে ছহুল হোসাইন ও আনোয়ারা সৈয়দ

ইসি গঠনে সার্চ কমিটি ঘোষণা

সুপ্রিমকোর্ট জাজেস লাউঞ্জে বৈঠক আজ: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে গণমাধ্যমকে সময়ে সময়ে প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো হবে-কমিটির সভাপতি * ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে রাষ্ট্রপতির কাছে ১০ জনের নাম প্রস্তাব করবে কমিটি
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসানকে সভাপতি করে ১৩তম নির্বাচন কমিশন গঠনে অনুসন্ধান (সার্চ) কমিটি করা হয়েছে। ছয় সদস্যের এ কমিটির অন্যরা হলেন-হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এসএম কুদ্দুস জামান, মহাহিসাব নিয়ন্ত্রক ও নিরীক্ষক মুসলিম চৌধুরী, পিএসসি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন ও কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক আনোয়ারা সৈয়দ হক। শনিবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

এদিকে শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন সূত্র যুগান্তরকে জানায়, সার্চ কমিটির প্রথম বৈঠক আজ বিকাল সাড়ে ৪টায় সুপ্রিমকোর্ট জাজেস লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন-২০২২ অনুযায়ী এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। আইনের বিধান মোতাবেক সভাপতিসহ প্রথম চারজন পদাধিকার বলে কমিটিতে স্থান পেয়েছেন। বাকি দুজন রাষ্ট্রপতির মনোনীত সদস্য। আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও চার কমিশনার পদের বিপরীতে ১০ জনের নাম প্রস্তাব করবে সার্চ কমিটি। সেখান থেকে নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন রাষ্ট্রপতি। সার্চ কমিটির সভাপতি বিচারপতি ওবায়দুল হাসান তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় শনিবার বিকালে টেলিফোনে যুগান্তরকে বলেন, কমিটি গঠনের প্রজ্ঞাপন হয়েছে, কিন্তু এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আমার কথা হয়নি। সবার সঙ্গে কথা বলে আমরা বৈঠকে বসব। এখনো বৈঠকের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। 

এক প্রশ্নের উত্তরে ওবায়দুল হাসান বলেন, আপনারা জানেন কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে কথা বলে কমিটির বৈঠকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। তিনি আরও বলেন, কমিটির কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে গণমাধ্যমকে সময়ে সময়ে প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো হবে। 

সার্চ কমিটির সদস্যদের মধ্যে সোহরাব হোসাইন, মুসলিম চৌধুরী ও ছহুল হোসাইন যথাক্রমে শিক্ষা সচিব, অর্থ সচিব ও আইন সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নির্বাচন কমিশন গঠনে এটি তৃতীয় সার্চ কমিটি। তবে নির্বাচন কমিশন আইন প্রণয়নের পর প্রথম সার্চ কমিটি। এর আগে নির্বাচন কমিশন গঠনে ২০১২ ও ২০১৭ সালে সার্চ কমিটি হয়েছিল। দুবারই রাষ্ট্রপতির বিশেষ আদেশে সার্চ কমিটি গঠন হয়। এবার নতুন আইনের অধীনে সার্চ কমিটি হলেও গতবারের কাঠামোকেই অনুসরণ করা হয়েছে। কারণ আইনের বিধানে সেই কাঠামোই রয়েছে। নির্বাচন কমিশন গঠনকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সিরিজ বৈঠক করেছেন। জানুয়ারিতে হওয়া সেসব বৈঠকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগসহ বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে আইন প্রণয়নের সুপারিশ এসেছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রণয়ন করা হয় ‘প্রধান নিবাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন-২০২২’। 

কমিটির সদস্যদের পরিচয়-

বিচারপতি ওবায়দুল হাসান : সার্চ কমিটির সভাপতি ও বিচারপতি ওবায়দুল হাসান সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের অন্যতম জ্যেষ্ঠ বিচারপতি। হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি থাকাকালে ২০১৭ সালের সার্চ কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি। ওবায়দুল হাসান ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন। তার বাবা ডা. আখলাকুল হোসাইন আহমেদ গণপরিষদ সদস্য ছিলেন। ওবায়দুল হাসান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি নেন। তিনি ১৯৮৬ সালে আইনজীবী হিসাবে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করেন। ১৯৮৮ সালে হাইকোর্ট বিভাগে এবং আপিল বিভাগে ২০০৫ সালে আইনজীবী হিসাবে তালিকাভুক্ত হন। এরপর ২০০৯ সালে হাইকোর্ট বিভাগে বিচারপতি হিসাবে নিয়োগ পান ওবায়দুল হাসান।

এসএম কুদ্দুস জামান : এসএম কুদ্দুস জামান ৪ বছর ধরে হাইকোর্ট বিভাগে বিচারকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। ১৯৮৪ সালে জুডিশিয়াল সার্ভিসে যোগ দেওয়া কুদ্দুস জামানের জন্ম রাজবাড়ি জেলায়। ২০০৬ সালে জেলা জজ হন। সুপ্রিমকোর্টে রেজিস্ট্রারের দায়িত্বও পালন করেন তিনি। ২০১৫ সালে ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ হন কুদ্দুস জামান। ২০১৮ সালে হাইকোর্টে বিচারপতি হিসাবে নিয়োগ পান। 

মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন : সার্চ কমিটির সদস্য মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন ২০০৭-১২ সালে নির্বাচন কমিশনারেরর দায়িত্ব পালন করেন। সিলেটের সন্তান ছহুল হোসাইন জেলা জজ এবং আইন সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে অবসর নেওয়ার পর একাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় সিলেট-১ আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু মনোনয়ন পাননি, নির্বাচনও করেননি।
আনোয়ারা সৈয়দ হক : দেশের প্রখ্যাত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক। তার স্বামী প্রয়াত সাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হকের খ্যাতি ছিল সব্যসাচী লেখক হিসাবে। ১৯৪০ সালে যশোর জেলায় জন্ম নেওয়া আনোয়ারা সৈয়দ হক পড়াশোনা করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজে এবং লন্ডনের এমআর সাইক-এ। তিনি কিছুকাল বিমানবাহিনীতে চিকিৎসক হিসাবে ছিলেন। গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও শিশুসাহিত্য রচনা করে যাওয়া আনোয়ারা সৈয়দ হক ২০১০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান। ২০১৯ সালে তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে সরকার।

সোহরাব হোসাইন : পিএসসি (সরকারি কর্মকমিশন) চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইন পদাধিকার বলে সার্চ কমিটিতে স্থান পেয়েছেন। প্রশাসন ক্যাডারের এ কর্মকর্তা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব ছিলেন। নোয়াখালীর সন্তান সোহরাব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। 

মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী : মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস ক্যাডারে যোগ দেন। কন্ট্রোলার জেনারেল অব অ্যাকাউন্টস, কন্ট্রোলার জেনারেল ডিফেন্স ফাইন্যান্স এবং অর্থ বিভাগের উপসচিব, যুগ্ম সচিব ও অতিরিক্ত সচিব ও সচিব পদে দায়িত্ব পালন করেন মুসলিম চৌধুরী। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাববিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়ার পর যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম ইউনিভার্সিটি থেকে ফিন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিংয়ে ডিসটিংশনসহ এমএসসি ডিগ্রি নেন। 

সার্চ কমিটির কাজ : ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন-২০২২’ অনুযায়ী, সার্চ কমিটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে উপযুক্তদের বাছাই করবে। ব্যক্তি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তাদের নিজেদের সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং পেশাজীবী সংগঠনের কাছ থেকেও নাম আহ্বান করতে পারবে। আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তারা রাষ্ট্রপতির কাছে নাম সুপারিশ করবেন। সংবিধান অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ মোট পাঁচজনের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছে। আর নতুন আইনে বলা হয়েছে, প্রতি পদের বিপরীতে দুটি করে নাম প্রস্তাব করবে সার্চ কমিটি। সে হিসাবে ১০ জনের নাম রাষ্ট্রপতির কাছে প্রস্তাব করা হবে। তাদের মধ্য থেকে অনধিক পাঁচজনকে সিইসি ও ইসি হিসাবে নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ পাঁচ সদস্যের কম ব্যক্তি নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠনেও বাধা নেই। 

শনিবার জারি করা সার্চ কমিটি গঠনসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এ অনুসন্ধান কমিটি ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন-২০২২’ মোতাবেক দায়িত্ব ও কার‌্যাবলি সম্পন্ন করবে। কিন্তু মাত্র ৯টি ধারার সংক্ষিপ্ত এ আইনে সার্চ কমিটির কার্যপরিধির বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। আইনের ৩(২) ধারায় বলা হয়েছে, ‘অনুসন্ধান কমিটি উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিবে।’ প্রসঙ্গত, ১৪ ফেব্রুয়ারি কেএম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন ইসি বিদায় নিচ্ছে।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন