কল্যাণপ্রাপ্তির মাসে জাহান্নামের দরজা বন্ধ

  ড. হাফেজ এবিএম হিজবুল্লাহ ২৮ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রমজান
ছবি: সংগৃহীত

সিয়াম ও সাওম আরবি শব্দ। সিন, ওয়াও ও মিম মূল বর্ণ। আভিধানিক অর্থ বিরত থাকা। এ অর্থেই কোরআন মাজিদে হজরত মারিয়াম আলাইহিস সালামের বক্তব্য এসেছে।

তাকে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, ‘যখন তুমি কোনো মানুষ দেখবে তখন বলবে, আমি রহমানের (আল্লাহ) জন্য বিরত থাকার মান্নত করেছি। অতএব, আজ আমি কোনো মানুষের সঙ্গে কথা বলব না।’ সুরা মারিয়াম : ২৬।

হাদিসেও এমন বর্ণনা পাওয়া যায় যে, ‘তোমাদের কাছে রমজান উপস্থিত। এটি বরকতময় একটি মাস। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তোমাদের ওপর এ মাসে সিয়াম পালন করা ফরজ করেছেন।’ নাসাঈ : ২১০৬।

সব ধর্ম বা জাতিগোষ্ঠীর সাওম কিন্তু একরকম নয়। অনেক ধর্মে এ রোজা বা উপবাস পালন বাধ্যতামূলকও নয়। কিন্তু ইসলামে সাওম পালন বাধ্যতামূলক। সাওম ইসলামের পাঁচ রুকনের (স্তম্ভ) একটি। সাওমের এ বিধান অস্বীকারকারী ঈমানদার থাকতে পারে না।

অন্য মাসে কাজা, সুন্নাত ও নফল সাওম পালন করা গেলেও রমজান মাসেই নির্ধারিত নিয়মে এ সাওম পালন করতে হয়। অর্থাৎ সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নিয়তসহ পানাহার ও কামাচার থেকে বিরত থাকার নামই সাওম।

আল্লাহর পক্ষ থেকে এ মাসে অনেক প্রতিশ্রুতি দেয়া আছে। প্রাপ্তির যেমন প্রতিশ্রুতি আছে, আছে ক্ষমারও প্রতিশ্রুতি। বেশি বেশি সওয়াব পেতে চান? রমজানে বেশি বেশি আমল করুন। গুনাহ থেকে বাঁচতে চান? রমজানে বেশি বেশি তওবা ইস্তিগফার করুন।

আপনি চান আল্লাহ আপনার প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করুক? তাহলে রমজানে বেশি বেশি আল্লাহর সান্নিধ্যে আসুন। আল্লাহর সঙ্গে আলাপনে মশগুল হোন। জি, বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করুন এবং কোরআন বোঝার চেষ্টা করুন।

কোরআন তেলাওয়াত মানে সরাসরি আল্লাহর সঙ্গে কথোপকথন। কোরআন মানেই তো আল্লাহর কালাম। জান্নাত পেতে চাইলে এ সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করা ঠিক হবে না। সরাসরি আল্লাহ থেকে পুরস্কার নিতে আগ্রহী? তাহলে সিয়াম পালনে যতœবান হতে হবে। কেননা সিয়াম সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ‘এটা আমার; আমিই এর প্রতিদান দেব।’

এ মাসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুসংবাদ দান করতেন এ বলে, ‘তোমাদের কাছে এক মুবারক মাস উপস্থিত হয়েছে। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা এ মাসের সিয়ামকে তোমাদের ওপর ফরজ করেছেন।

এ মাসে আসমানের দরজা খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয় এবং এ মাসে দুষ্টচক্র শয়তানকে বেড়ি পরিয়ে দেয়া হয়। এ মাসে রয়েছে আল্লাহর (ইবাদতের) জন্য এমন একটি রাত যে রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। যে এ মাসের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয় সে সব কল্যাণ থেকে বঞ্চিত।’ নাসাঈ : ২১০৬।

তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ মাসে প্রচুর মেহনত করতেন। তিনি সাওমের ফজিলত বর্ণনা করেছেন। ইফতার, সাহরি ও কিয়ামুল লাইল বা তারাবির সালাতে উৎসাহিত করেছেন।

শেষ দশ দিন তো ঘর-সংসার ছেড়ে সোজা মসজিদে অবস্থান করতেন। এর নাম এতেকাফ। একান্তে নিবিষ্ট মনে আল্লাহর এবাদতে নিজেকে মসজিদে বন্দি করে রাখতেন। শুধু তাই নয়। শেষের দশ দিন কোমর বেঁধে ইবাদতে ব্যস্ত হয়ে পড়তেন তিনি।

রাত জেগে জেগে নিজেও ইবাদত করতেন, পরিবারের সদস্যদেরও জাগিয়ে তুলতেন। আল্লাহ আমাদের সেভাবে ইবাদত করার তাওফিক দান করুন।

লেখক : অধ্যাপক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter