অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বছরজুড়ে থাকবে
jugantor
আইএমএফের পূর্বাভাস
অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বছরজুড়ে থাকবে
ইউরোপ ও আমেরিকার মন্দায় বাংলাদেশের রপ্তানি আয় কমতে পারে

  ইকবাল হোসেন  

২৭ জুলাই ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়েছে। করোনার নেতিবাচক প্রভাব থেকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করা অনিশ্চয়তায় পড়েছে। ধুঁকছে বিশ্বের প্রায় সব বড় অর্থনীতির দেশগুলো।

এর প্রভাবে স্বল্প ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতেও দেখা দিয়েছে অর্থনৈতিক মন্দা। উচ্চ মূল্যস্ফীতির ধাক্কায় বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বড় অর্থনীতির দেশগুলো। বাংলাদেশসহ ভারত, পাকিস্তানেও মূল্যস্ফীতির বড় ধাক্কা লেগেছে।

২০২২ সালজুড়ে এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। চলতি বছর বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২০২১ সালের চেয়ে অর্ধেকে নেমে আসবে।

আরও ভয়ানক পূর্বাভাস দিয়ে তারা বলেছে, প্রবৃদ্ধির এ নিম্নগতির ধারা চলবে আগামী ২০২৩ সালেও। ওই বছরও অনেক দেশের প্রবৃদ্ধির হার ২০২২ সালের চেয়েও বেশি কমবে।

আইএমএফের মঙ্গলবার প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ১ শতাংশ।

২০২২ সালে এ হার অর্ধেক কমে দাঁড়াতে পারে ৩ দশমিক ২ শতাংশে। আর ২০২৩ সালে তা আরও কমে হতে পারে ২ দশমিক ৯ শতাংশ। অর্থাৎ ২০২১ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে প্রবৃদ্ধির হার অর্ধেকের বেশি কমে যাবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ব অর্থনীতির চালিকা শক্তি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। কিন্তু এ দুই পরাশক্তি যেন বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ক্রমেই খেই হারিয়ে ফেলছে। জ্বালানি সংকটের কারণে ইউরোপের ভারী শিল্পের উৎপাদনে ধস নেমেছে।

ইউরোর বড় দরপতনে ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতাও হ্রাস পেয়েছে। এতে তাদের আমদানি ব্যয় বেড়ে গেছে। ফলে আমদানি কমানো ও মূল্যস্ফীতির হার নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি অনুসরণ করছে।

এতে অর্থের প্রবাহ কমে গিয়ে ইউরোপের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যনির্ভর দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। গত বছর ইউরোপের প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। চলতি বছর তা ২ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে আসতে পারে। আগামী বছর তা আরও কমে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। চলতি বছর তা ২ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে যেতে পারে। আগামী বছর তা আরও কমে ১ শতাংশ হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বল্প আয়ের দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি গত বছর ছিল ৭ শতাংশ। চলতি বছর তা অর্ধেক কমে সাড়ে ৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তবে আগামী বছর এ হার সামান্য বেড়ে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ হতে পারে। করোনার কারণে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধিতেও বড় ধাক্কা লেগেছে।

আইএমএফের মতে, গত বছর বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ শতাংশ। কিন্তু সরকারের হিসাবে এ হার ছিল আরও বেশি। চলতি বছর প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। আগামী বছর তা সামান্য বেড়ে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ হাতে পারে। সরকার চলতি অর্থবছরের জন্য প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে সাড়ে ৭ শতাংশ।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ইউরোপ, আমেরিকা ও কানাডায় অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিলে সেই ঢেউ কমবেশি বাংলাদেশে লাগবেই। কেননা, রপ্তানির বড় একটি অংশ ওই দেশগুলোতে হচ্ছে।

রেমিট্যান্সের একটি অংশও ওই সব দেশ থেকে আসছে। আইএমএফ যেহেতু পর পর দুই বছর প্রবৃদ্ধি কমার আভাস দিয়েছে। সে পরিপ্রেক্ষিতে এখনই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিতে হবে।

মনে রাখতে হবে, রেমিট্যান্স কমার পর এখন রপ্তানিই অর্থনীতিতে চাপ সহ্য করতে সহায়তা করছে। রপ্তানি কমলে এ চাপ আরও বাড়বে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হবে শ্রমের বাজারে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ইউরোপ ও আমেরিকার মন্দার কারণে ইতোমধ্যে রপ্তানির আদেশ আসা কমে গেছে।

রপ্তানি ধরে রাখতে পোশাকের দাম কমানো হচ্ছে। তবে বাংলাদেশ কম দামের পোশাক রপ্তানি করে বলে এগুলো খুব বেশি হারে কমার আশঙ্কা নেই। তারপরও মন্দায় রপ্তানিতে আঘাত আসতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, দেশের রেমিট্যান্সের ৩৪ শতাংশই আসে আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলো থেকে। রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশই হচ্ছে দুটি দেশে।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা মনে করেন, আমেরিকা ও ইউরোপে মন্দা দেখা দিলে এর ঢেউ প্রথমে আসবে রেমিট্যান্সে ও পরে রপ্তানিতে।

আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী দুই বছর ইউরোপ ও আমেরিকায় প্রবৃদ্ধি কমলে এর নেতিবাচক প্রভাব তাদের বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোতেও পড়বে। এ পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এর প্রভাবে ওই দুই বাজারে রপ্তানি কমতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর চীনে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৮ দশমিক ১ শতাংশ। চলতি বছর তা কমে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ হবে, আগামী বছর তা সামান্য বেড়ে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে।

এ ছাড়া বড় দেশগুলোর মধ্যে চলতি অর্থবছরে ভারতের প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়াতে পারে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০২৩ সালে তা কমে ৬ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে। অথচ গত বছর তাদের প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৮ দশমিক ৭ শতাংশ।

আইএমএফ বলছে, এ বছর বিশ্বজুড়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতির ধারা অব্যাহত থাকবে। যা আগামী বছরকেও আক্রান্ত করবে। মূল্যস্ফীতির হার নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো বাজারে অর্থের প্রবাহে রাশ টানছে।

এতে মূল্যস্ফীতির হার কমলেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সঙ্কুচিত করে ফেলবে। এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পালে হাওয়া লাগানোর জন্য বিকল্প পথে অর্থের জোগান বাড়াতে হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বেশ কিছু বিষয়ে ইতিবাচক আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম কমার কথা বলা হয়েছে। গত বছর জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছিল ৬৮ শতাংশ। চলতি বছর তা ৫০ শতাংশ বাড়বে। আগামী বছর তা সাড়ে ১২ শতাংশ কমার আভাস দেওয়া হয়েছে।

জ্বালানিবহির্ভূত পণ্যের দাম গত বছর বেড়েছে ২৬ শতাংশ। চলতি বছর তা আরও ১০ শতাংশ বাড়তে পারে। তবে আগামী বছর তা সাড়ে ৩ শতাংশ কমতে পারে।

বিশ্ব মূল্যস্ফীতির হার গত বছর ছিল ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। চলতি বছর তা বেড়ে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে। আগামী বছর এ হার কমে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে।

উন্নত দেশগুলোতে এ হার চলতি বছর সাড়ে ৬ শতাংশ হতে পারে। তবে আগামী বছর তা আবার অর্ধেকে নেমে যেতে পারে। কিন্তু স্বল্প আয়ের দেশগুলোতে এ হার চলতি বছর গড়ে বেড়ে সাড়ে ৯ শতাংশ হতে পারে। আগামী বছর তা সামান্য কমে সাড়ে ৭ শতাংশে দাঁড়াতে পারে।

আইএমএফের পূর্বাভাস

অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বছরজুড়ে থাকবে

ইউরোপ ও আমেরিকার মন্দায় বাংলাদেশের রপ্তানি আয় কমতে পারে
 ইকবাল হোসেন 
২৭ জুলাই ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়েছে। করোনার নেতিবাচক প্রভাব থেকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করা অনিশ্চয়তায় পড়েছে। ধুঁকছে বিশ্বের প্রায় সব বড় অর্থনীতির দেশগুলো।

এর প্রভাবে স্বল্প ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতেও দেখা দিয়েছে অর্থনৈতিক মন্দা। উচ্চ মূল্যস্ফীতির ধাক্কায় বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বড় অর্থনীতির দেশগুলো। বাংলাদেশসহ ভারত, পাকিস্তানেও মূল্যস্ফীতির বড় ধাক্কা লেগেছে।

২০২২ সালজুড়ে এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। চলতি বছর বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২০২১ সালের চেয়ে অর্ধেকে নেমে আসবে।

আরও ভয়ানক পূর্বাভাস দিয়ে তারা বলেছে, প্রবৃদ্ধির এ নিম্নগতির ধারা চলবে আগামী ২০২৩ সালেও। ওই বছরও অনেক দেশের প্রবৃদ্ধির হার ২০২২ সালের চেয়েও বেশি কমবে।

আইএমএফের মঙ্গলবার প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ১ শতাংশ।

২০২২ সালে এ হার অর্ধেক কমে দাঁড়াতে পারে ৩ দশমিক ২ শতাংশে। আর ২০২৩ সালে তা আরও কমে হতে পারে ২ দশমিক ৯ শতাংশ। অর্থাৎ ২০২১ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে প্রবৃদ্ধির হার অর্ধেকের বেশি কমে যাবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ব অর্থনীতির চালিকা শক্তি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। কিন্তু এ দুই পরাশক্তি যেন বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ক্রমেই খেই হারিয়ে ফেলছে। জ্বালানি সংকটের কারণে ইউরোপের ভারী শিল্পের উৎপাদনে ধস নেমেছে।

ইউরোর বড় দরপতনে ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতাও হ্রাস পেয়েছে। এতে তাদের আমদানি ব্যয় বেড়ে গেছে। ফলে আমদানি কমানো ও মূল্যস্ফীতির হার নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি অনুসরণ করছে।

এতে অর্থের প্রবাহ কমে গিয়ে ইউরোপের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যনির্ভর দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। গত বছর ইউরোপের প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। চলতি বছর তা ২ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে আসতে পারে। আগামী বছর তা আরও কমে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। চলতি বছর তা ২ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে যেতে পারে। আগামী বছর তা আরও কমে ১ শতাংশ হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বল্প আয়ের দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি গত বছর ছিল ৭ শতাংশ। চলতি বছর তা অর্ধেক কমে সাড়ে ৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তবে আগামী বছর এ হার সামান্য বেড়ে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ হতে পারে। করোনার কারণে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধিতেও বড় ধাক্কা লেগেছে।

আইএমএফের মতে, গত বছর বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ শতাংশ। কিন্তু সরকারের হিসাবে এ হার ছিল আরও বেশি। চলতি বছর প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। আগামী বছর তা সামান্য বেড়ে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ হাতে পারে। সরকার চলতি অর্থবছরের জন্য প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে সাড়ে ৭ শতাংশ।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ইউরোপ, আমেরিকা ও কানাডায় অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিলে সেই ঢেউ কমবেশি বাংলাদেশে লাগবেই। কেননা, রপ্তানির বড় একটি অংশ ওই দেশগুলোতে হচ্ছে।

রেমিট্যান্সের একটি অংশও ওই সব দেশ থেকে আসছে। আইএমএফ যেহেতু পর পর দুই বছর প্রবৃদ্ধি কমার আভাস দিয়েছে। সে পরিপ্রেক্ষিতে এখনই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিতে হবে।

মনে রাখতে হবে, রেমিট্যান্স কমার পর এখন রপ্তানিই অর্থনীতিতে চাপ সহ্য করতে সহায়তা করছে। রপ্তানি কমলে এ চাপ আরও বাড়বে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হবে শ্রমের বাজারে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ইউরোপ ও আমেরিকার মন্দার কারণে ইতোমধ্যে রপ্তানির আদেশ আসা কমে গেছে।

রপ্তানি ধরে রাখতে পোশাকের দাম কমানো হচ্ছে। তবে বাংলাদেশ কম দামের পোশাক রপ্তানি করে বলে এগুলো খুব বেশি হারে কমার আশঙ্কা নেই। তারপরও মন্দায় রপ্তানিতে আঘাত আসতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, দেশের রেমিট্যান্সের ৩৪ শতাংশই আসে আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলো থেকে। রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশই হচ্ছে দুটি দেশে।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা মনে করেন, আমেরিকা ও ইউরোপে মন্দা দেখা দিলে এর ঢেউ প্রথমে আসবে রেমিট্যান্সে ও পরে রপ্তানিতে।

আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী দুই বছর ইউরোপ ও আমেরিকায় প্রবৃদ্ধি কমলে এর নেতিবাচক প্রভাব তাদের বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোতেও পড়বে। এ পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এর প্রভাবে ওই দুই বাজারে রপ্তানি কমতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর চীনে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৮ দশমিক ১ শতাংশ। চলতি বছর তা কমে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ হবে, আগামী বছর তা সামান্য বেড়ে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে।

এ ছাড়া বড় দেশগুলোর মধ্যে চলতি অর্থবছরে ভারতের প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়াতে পারে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০২৩ সালে তা কমে ৬ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে। অথচ গত বছর তাদের প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৮ দশমিক ৭ শতাংশ।

আইএমএফ বলছে, এ বছর বিশ্বজুড়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতির ধারা অব্যাহত থাকবে। যা আগামী বছরকেও আক্রান্ত করবে। মূল্যস্ফীতির হার নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো বাজারে অর্থের প্রবাহে রাশ টানছে।

এতে মূল্যস্ফীতির হার কমলেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সঙ্কুচিত করে ফেলবে। এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পালে হাওয়া লাগানোর জন্য বিকল্প পথে অর্থের জোগান বাড়াতে হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বেশ কিছু বিষয়ে ইতিবাচক আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম কমার কথা বলা হয়েছে। গত বছর জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছিল ৬৮ শতাংশ। চলতি বছর তা ৫০ শতাংশ বাড়বে। আগামী বছর তা সাড়ে ১২ শতাংশ কমার আভাস দেওয়া হয়েছে।

জ্বালানিবহির্ভূত পণ্যের দাম গত বছর বেড়েছে ২৬ শতাংশ। চলতি বছর তা আরও ১০ শতাংশ বাড়তে পারে। তবে আগামী বছর তা সাড়ে ৩ শতাংশ কমতে পারে।

বিশ্ব মূল্যস্ফীতির হার গত বছর ছিল ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। চলতি বছর তা বেড়ে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে। আগামী বছর এ হার কমে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে।

উন্নত দেশগুলোতে এ হার চলতি বছর সাড়ে ৬ শতাংশ হতে পারে। তবে আগামী বছর তা আবার অর্ধেকে নেমে যেতে পারে। কিন্তু স্বল্প আয়ের দেশগুলোতে এ হার চলতি বছর গড়ে বেড়ে সাড়ে ৯ শতাংশ হতে পারে। আগামী বছর তা সামান্য কমে সাড়ে ৭ শতাংশে দাঁড়াতে পারে।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন