বহালতবিয়তে দুই হাজার প্রতিষ্ঠান
jugantor
পুরান ঢাকায় কেমিক্যাল
বহালতবিয়তে দুই হাজার প্রতিষ্ঠান

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৭ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কেমিক্যাল

পুরান ঢাকায় গত এক দশকে তিনটি বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এগুলো তদন্তে কমিটি হয়েছে। কমিটিগুলোর সুপারিশে ওই এলাকা থেকে কেমিক্যাল কারখানা সরিয়ে নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু কোনো সুপারিশ ও নির্দেশনা বাস্তবায়ন হয়নি। এখনো পুরান ঢাকায় ঝুঁকিপূর্ণ দুই হাজার কেমিক্যাল প্রতিষ্ঠানের রমরমা ব্যবসা চলছে।

এক দশকের বেশি সময় আগে পুরান ঢাকার নিমতলীর একটি রাসায়নিক গুদাম থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১২৪ জন দগ্ধ হয়ে মারা যান। ওই ঘটনার পর সেখান থেকে রাসায়নিক গুদাম ও কারখানা সরিয়ে নেওয়ার নিদের্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।

কিন্তু আজও স্থানান্তরিত হয়নি একটি গুদাম বা কারাখানা। এরই মধ্যে নিমতলী থেকে ১ কিলোমিটার দূরে চুড়িহাট্টায় ঘটে আরেকটি অগ্নিকাণ্ড। যেখানে মারা যান ৭৮ জন।

সেটিও ঘটেছিল রাসায়নিক পদার্থ থেকে। গত সোমবার পুরান ঢাকার কামালবাগে প্লাস্টিক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয়জন মারা গেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পুরান ঢাকায় কেমিক্যাল ও কেমিক্যালসংশ্লিষ্ট প্রায় দুই হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো ট্রেড লাইসেন্স নেই। এর পরও ১০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা অবৈধভাবে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

এসব প্রতিষ্ঠানকে স্থানান্তর বা উচ্ছেদ করার বিষয়ে দীর্ঘ সময়েও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি সরকার। যে কারণে এসব কেমিক্যাল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কিছু দিন পরপর দুর্ঘটনা ঘটছে।

কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা পুরান ঢাকাকেন্দ্রিক কেমিক্যাল ব্যবসা করছি। এটা সত্য যে, আবাসিক এলাকায় এ ধরনের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান অনিরাপদ।

এ কারণে আমরাও সরে যেতে চাই, কিন্তু সরকার তো কোনো ব্যবস্থা করতে পারছে না। আর সিটি করপোরেশন আমাদের অবৈধ বলছে। ঢালাও অবৈধ বললে তো হবে না।

একসময় আমাদের ট্রেড লাইসেন্স ছিল, সে আলোকে আমাদের ব্যাংক লোনও রয়েছে। এমতাবস্থায় সিটি করপোরেশন লাইসেন্স নবায়ন না করলে আমাদের সবকিছু অবৈধ হয়ে যাবে, এটা হতে পারে না।

আমরা তো ট্যাক্স ভ্যাট দিচ্ছি সরকারকে। আমরা কেমিক্যাল পদার্থ আমদানি করতে পারছি। ট্রেড লাইসেন্স মেয়রের কারণে হচ্ছে না।

তারা আরও বলেন, অন্য কোথাও স্থানান্তরের আগ পর্যন্ত আমাদের ট্রেড লাইসেন্স না দেওয়া অযৌক্তিক। যখন আমাদের স্থানান্তর করা হবে, সেই এলাকা থেকে নতুন করে ট্রেড লাইসেন্স করে নেব। আমরা গুদাম অন্যত্র সরিয়ে নিলেও পুরান ঢাকায় আমাদের শোরুম থাকবে।

জানা যায়, পুরান ঢাকার কেমিক্যাল গুদাম-কারখানা স্থানান্তরের নির্দেশনা দেওয়ার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো উদ্যোগ গ্রহণ করে।

ওই সময় কেমিক্যাল ও কেমিক্যাল সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নতুন ট্রেড লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন বন্ধ করে সিটি করপোরেশন।

এভাবে কেটে গেছে দীর্ঘসময়। সরকারের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে সিটি করপোরেশন পুরান ঢাকার কেমিক্যাল ব্যবসায়ীদের ব্যবসা বন্ধ করতে কোনো ধরনের উচ্ছেদ অভিযানও পরিচালনা করতে পারেনি।

এই সুযোগে পূর্বের বৈধ প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি অনেক অবৈধ প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠান এখন পুরান ঢাকার জনজীবনের জন্য বড় আতঙ্ক হয়ে দেখা দিয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, পুরান ঢাকার কামালবাগ, ইসলামবাগ, চকবাজার এলাকায় দেদার চলছে কেমিক্যাল বিক্র ও ব্যবহার। গুদাম থেকে ড্রামে করে বিভিন্ন কারখানা ও ফ্যাক্টরিতে কেমিক্যাল নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

কামালবাগের অগ্নিকাণ্ডের পরদিন গত মঙ্গলবারও পুরান ঢাকায় কেমিক্যাল বিক্রি ও পরিবহণ করতে দেখা গেছে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, পুরান ঢাকার কেমিক্যাল কারখানা, গুদাম ও কেমিক্যালজাতীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরাতে সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

সেটা বাস্তবায়নে শিল্প মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আমরাও সরকারের উচ্চ পর্যায়ে অনেক সভা করেছি।

আশা করছি, দ্রুততম সময়ে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হবে। সরকারের বিধিনিষেধের কারণে আমরা পুরান ঢাকার কেমিক্যালসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছি।

পুরান ঢাকায় কেমিক্যাল

বহালতবিয়তে দুই হাজার প্রতিষ্ঠান

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৭ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
কেমিক্যাল
সোয়ারিঘাটে রাখা বিভিন্ন কেমিক্যাল ও তেলের খালি ড্রাম। ছবি: যুগান্তর

পুরান ঢাকায় গত এক দশকে তিনটি বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এগুলো তদন্তে কমিটি হয়েছে। কমিটিগুলোর সুপারিশে ওই এলাকা থেকে কেমিক্যাল কারখানা সরিয়ে নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু কোনো সুপারিশ ও নির্দেশনা বাস্তবায়ন হয়নি। এখনো পুরান ঢাকায় ঝুঁকিপূর্ণ দুই হাজার কেমিক্যাল প্রতিষ্ঠানের রমরমা ব্যবসা চলছে।

এক দশকের বেশি সময় আগে পুরান ঢাকার নিমতলীর একটি রাসায়নিক গুদাম থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১২৪ জন দগ্ধ হয়ে মারা যান। ওই ঘটনার পর সেখান থেকে রাসায়নিক গুদাম ও কারখানা সরিয়ে নেওয়ার নিদের্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।

কিন্তু আজও স্থানান্তরিত হয়নি একটি গুদাম বা কারাখানা। এরই মধ্যে নিমতলী থেকে ১ কিলোমিটার দূরে চুড়িহাট্টায় ঘটে আরেকটি অগ্নিকাণ্ড। যেখানে মারা যান ৭৮ জন।

সেটিও ঘটেছিল রাসায়নিক পদার্থ থেকে। গত সোমবার পুরান ঢাকার কামালবাগে প্লাস্টিক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয়জন মারা গেছেন। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পুরান ঢাকায় কেমিক্যাল ও কেমিক্যালসংশ্লিষ্ট প্রায় দুই হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো ট্রেড লাইসেন্স নেই। এর পরও ১০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা অবৈধভাবে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

এসব প্রতিষ্ঠানকে স্থানান্তর বা উচ্ছেদ করার বিষয়ে দীর্ঘ সময়েও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি সরকার। যে কারণে এসব কেমিক্যাল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কিছু দিন পরপর দুর্ঘটনা ঘটছে। 

কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা পুরান ঢাকাকেন্দ্রিক কেমিক্যাল ব্যবসা করছি। এটা সত্য যে, আবাসিক এলাকায় এ ধরনের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান অনিরাপদ।

এ কারণে আমরাও সরে যেতে চাই, কিন্তু সরকার তো কোনো ব্যবস্থা করতে পারছে না। আর সিটি করপোরেশন আমাদের অবৈধ বলছে। ঢালাও অবৈধ বললে তো হবে না।

একসময় আমাদের ট্রেড লাইসেন্স ছিল, সে আলোকে আমাদের ব্যাংক লোনও রয়েছে। এমতাবস্থায় সিটি করপোরেশন লাইসেন্স নবায়ন না করলে আমাদের সবকিছু অবৈধ হয়ে যাবে, এটা হতে পারে না।

আমরা তো ট্যাক্স ভ্যাট দিচ্ছি সরকারকে। আমরা কেমিক্যাল পদার্থ আমদানি করতে পারছি। ট্রেড লাইসেন্স মেয়রের কারণে হচ্ছে না।

তারা আরও বলেন, অন্য কোথাও স্থানান্তরের আগ পর্যন্ত আমাদের ট্রেড লাইসেন্স না দেওয়া অযৌক্তিক। যখন আমাদের স্থানান্তর করা হবে, সেই এলাকা থেকে নতুন করে ট্রেড লাইসেন্স করে নেব। আমরা গুদাম অন্যত্র সরিয়ে নিলেও পুরান ঢাকায় আমাদের শোরুম থাকবে।

জানা যায়, পুরান ঢাকার কেমিক্যাল গুদাম-কারখানা স্থানান্তরের নির্দেশনা দেওয়ার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো উদ্যোগ গ্রহণ করে।

ওই সময় কেমিক্যাল ও কেমিক্যাল সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নতুন ট্রেড লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন বন্ধ করে সিটি করপোরেশন।

এভাবে কেটে গেছে দীর্ঘসময়। সরকারের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে সিটি করপোরেশন পুরান ঢাকার কেমিক্যাল ব্যবসায়ীদের ব্যবসা বন্ধ করতে কোনো ধরনের উচ্ছেদ অভিযানও পরিচালনা করতে পারেনি।

এই সুযোগে পূর্বের বৈধ প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি অনেক অবৈধ প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠান এখন পুরান ঢাকার জনজীবনের জন্য বড় আতঙ্ক হয়ে দেখা দিয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, পুরান ঢাকার কামালবাগ, ইসলামবাগ, চকবাজার এলাকায় দেদার চলছে কেমিক্যাল বিক্র ও ব্যবহার। গুদাম থেকে ড্রামে করে বিভিন্ন কারখানা ও ফ্যাক্টরিতে কেমিক্যাল নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

কামালবাগের অগ্নিকাণ্ডের পরদিন গত মঙ্গলবারও পুরান ঢাকায় কেমিক্যাল বিক্রি ও পরিবহণ করতে দেখা গেছে। 

এ প্রসঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, পুরান ঢাকার কেমিক্যাল কারখানা, গুদাম ও কেমিক্যালজাতীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরাতে সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

সেটা বাস্তবায়নে শিল্প মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আমরাও সরকারের উচ্চ পর্যায়ে অনেক সভা করেছি।

আশা করছি, দ্রুততম সময়ে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হবে। সরকারের বিধিনিষেধের কারণে আমরা পুরান ঢাকার কেমিক্যালসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছি।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন