অংশগ্রহণমূলক নিরপেক্ষ নির্বাচন চায় যুক্তরাষ্ট্র: মার্কিন রাষ্ট্রদূত
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস দৃঢ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণের সমৃদ্ধির জন্য আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। বাংলাদেশের নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করে না যুক্তরাষ্ট্র। রাজনৈতিক সহিংসতাকে সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসাবে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের সমৃদ্ধির জন্য আগামী জাতীয় নির্বাচন রাজনৈতিক সংঘাতহীনভাবে সম্পন্ন করা গুরুত্বপূর্ণ। সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চায় যুক্তরাষ্ট্র। এ ধরনের একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব সরকার, রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের। কোনো পক্ষ তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনে ব্যর্থ হলে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাজধানীর একটি হোটেলে বুধবার আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত মধ্যাহ্ন ভোজ সভায় পিটার হাস এসব বলেন। ‘ইউএস-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক : ব্যবসা ও বাণিজ্য সম্প্রসারণই চাবিকাঠি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় মূল বক্তব্য দেন তিনি। এ ছাড়া বক্তব্য দেন অ্যামচেম সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ ও সহসভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অ্যামচেম সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহম্মেদ। অনুষ্ঠানে সাবেক মন্ত্রী, ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ছাড়াও শ্রমিক নিরাপত্তা, বিনিয়োগ, মিয়ানমার ইস্যুসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। এ সময় তিনি বলেন, বাংলাদেশের ব্যাপারে ৫টি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেয় যুক্তরাষ্ট্র। প্রথমত, শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ত, এ দেশের প্রতিশ্রুত গণতন্ত্র, বহুদলীয় গণতন্ত্র, সহিষ্ণুতা, স্বচ্ছতা, সুশাসন ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতা। তৃতীয়ত, সামাজিক ও পরিবেশগত প্রতিকূলতা মোকাবিলায় সক্ষমতা। চতুর্থত, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফেরা পর্যন্ত তাদের আশ্রয় দেওয়া। পঞ্চমত, এই চার লক্ষ্য সার্থকভাবে পরিপালন করলে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শ্রমমান উন্নয়নে বাংলাদেশকে সহায়তা দেওয়া।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ভিত্তিতে এসব অর্জন সম্ভব। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুঃখজনকভাবে মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের অনুকূলে নেই। তবে অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের মতো যুক্তরাষ্ট্রও রোহিঙ্গাদের শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন প্রয়োজন মেটাতে বাংলাদেশকে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশে মার্কিন উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) কাতার থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের প্রচুর বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রয়োজন হবে। এজন্য প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও যুক্তরাষ্ট্র সফরে গত সপ্তাহে মার্কিন এফডিআইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে বাস্তবতা হচ্ছে বিনিয়োগের পরিবেশ। এ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে পিটার হাস বলেন, মার্কিন উদ্যোক্তারা কোনো দেশে বিনিয়োগের আগে দুর্নীতিসংক্রান্ত বাস্তবতা, সহজ ব্যবসা পরিবেশ, দক্ষ শ্রমশক্তির সহজপ্রাপ্যতা ও বেশি মুনাফার বিষয়টি বিবেচনা করে থাকে। দুঃখজনকভাবে প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়ে এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে।
জিএসপি সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, শ্রমিক নিরাপত্তা প্রশ্নে বাংলাদেশের জিএসপি স্থগিত করা হয়। এখনো রপ্তানি পণ্যের বাইরে স্থানীয় বাজারের জন্য যেসব পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে সেগুলোর ক্ষেত্রে এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি নেই। শ্রম আইনের জটিলতাও এখনো কাটেনি। এছাড়া শ্রম অধিকার এবং সিবিএ (কালেকটিভ বার্গেনিং এজেন্সি) যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রসঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) শুল্কমুক্ত রপ্তানিতে জিএসপি প্লাস সুবিধা প্রাপ্তির বিষয়টিও জড়িত। যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশের মধ্যকার আগামী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংলাপে এ নিয়ে আলোচনা হবে।
ভূ-রাজনীতি এবং ভূ-অর্থনীতি সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইন ব্যাহত হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী নেতিবাচক এই প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হবে।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মিয়া, গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, পিআরআই’র চেয়ারম্যান ড. জায়েদী সাত্তার, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মজিদ প্রমুখ।
