Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

আইনজীবী সমিতির একতরফা নির্বাচন

ভোট নিয়ে সুপ্রিমকোর্ট চত্বরে তাণ্ডব

প্রধান বিচারপতির উদ্বেগ * বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের বাধা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ * আইনজীবী ও সাংবাদিকদের বেধড়ক প্রহার পুলিশের

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৩, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ভোট নিয়ে সুপ্রিমকোর্ট চত্বরে তাণ্ডব

Advertisement

সুপ্রিমকোর্ট বার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের হট্টগোলের মাঝে পুলিশের হামলায় আইনজীবী-সাংবাদিকসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। বুধবার দুপুরে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে দিনভর হট্টগোল, হইচই, ভাঙচুর ও ধাক্কাধাক্কি ও বিএনপিপন্থীদের বের করে দেয়ার মধ্য দিয়ে প্রথম দিনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনাসংক্রান্ত কমিটি নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের মধ্যে দ্বন্দ্বের জের ধরে এই হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। হট্টগোলের কারণে সকাল দশটায় ভোটগ্রহণ শুরু করা যায়নি। নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই ঘণ্টা পর ভোটগ্রহণ শুরু হয়। তবে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা ভোট দেননি বলে জানা গেছে। দিনভর বিক্ষোভ শেষে বিকালে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অবৈধ দাবি করে নতুন কমিশন গঠন ও ভোটের নতুন তারিখ ঘোষণার দাবি জানায় বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। 

এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। তিনি বলেছেন, এ ঘটনায় আমরা মর্মাহত। পুলিশের পিটুনিতে আহত গণমাধ্যমকর্মীরা প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করলে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। সাংবাদিকরা লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন সুপ্রিমকোর্ট রেজিস্ট্রারের দপ্তরেও। আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন তারা। তবে পুলিশের দাবি, সাংবাদিকরা ঘটনার মধ্যে পড়ে গিয়েছিল, ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের আক্রমণ করা হয়নি।

আওয়ামীপন্থি আইনজীবী ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক বলেন, নির্বাচন বানচাল করার জন্য বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা সুপ্রিমকোর্টে তাণ্ডব চালিয়েছে। জঙ্গি কায়দায় হামলা চালিয়ে নির্বাচনি ক্যাম্প ভাঙচুর করেছে। ত্রাস সৃষ্টি করে ভোটগ্রহণ বন্ধ করতে চেয়েছিল। পুলিশ তা প্রতিহত করেছে। তিনি বলেন, দুপুরের পর সুন্দরভাবে ভোট হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে বিএনপি আইনজীবীদের প্রতিনিধিও (এজেন্ট) ছিল। এদিকে সুপ্রিমকোর্টে পুলিশ ঢুকে আইনজীবীদের পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। এই ঘটনাকে বিচার বিভাগের জন্য কলঙ্কজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোন সাহসে সুপ্রিমকোর্টে পুলিশ ঢুকল। কার নির্দেশে পুলিশ এসে নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করল। প্রধান বিচারপতিকে এই প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। বুধবার বেলা ৩টার দিকে সুপ্রিমকোর্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

উপস্থিত এক সাংবাদিক বলেন, দুপুর পৌনে ১২টার দিকে হট্টগোলের শব্দ শুনে ভোটকেন্দ্রে যাই। সেখানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা স্লোগান দিচ্ছিলেন। একপর্যায়ে আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীদের সঙ্গে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কিও হয়। এখানে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা ভোট প্রতিহত করার চেষ্টা করছিলেন। এখানে তারা বিক্ষোভও করেন।

একপর্যায়ে ভোটকেন্দ্রে ২০ থেকে ৩০ জন পুলিশ প্রবেশ করে। পুলিশ এসেই বিএনপিপন্থিদের জোর করে বের করে দেয়। একাধিক আইনজীবী যেতে না চাইলে তাদের ধাক্কা দিয়ে টেনেহিঁচড়ে গেটের কাছে নিয়ে বের করে দেয়। তাদের লাঠিপেটাও করা হয়। একপক্ষকে বের করে দিলেও আওয়ামী লীগ সমর্থিতরা ভেতরেই ছিলেন। সেখানে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে পুলিশ গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর চড়াও হয়।

তাদের বেধড়ক পেটায়। পরে সাংবাদিকদেরও ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়। পুলিশের হামলার শিকার হন অন্তত ১০ সাংবাদিক। আহতদের মধ্যে এটিএন নিউজের সাংবাদিক জাবেদ আক্তারের অবস্থা গুরুতর। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত অন্যরা হলেন প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ ফটোসাংবাদিক শুভ্র কান্তি দাস, জাগো নিউজের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ফজলুল হক, আজকের পত্রিকার নূর মোহাম্মদ, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের জান্নাতুল ফেরদৌস, বৈশাখী টেলিভিশনের ক্যামেরা পারসন ইব্রাহিম হোসেন, এটিএন বাংলার ক্যামেরা পারসন হুমায়ুন কবির, মানবজমিনের আব্দুল্লাহ আল মারুফ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে সকাল পৌনে ১০টার দিকে বিএনপি সমর্থিত প্যানেল থেকে মনোনীত সম্পাদক প্রার্থী মো. রুহুল কুদ্দুসের সঙ্গে নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত উপকমিটির এক সদস্যের কথাকাটাকাটি চলছিল। অন্যদিকে উপকমিটির পক্ষ থেকে বারবার প্রার্থীদের নির্ধারিত জায়গায় যেতে বলা হচ্ছিল। এ সময় আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরা ‘ইয়েস, ইয়েস’ বলে রব তোলেন। একপর্যায়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত এক আইনজীবীর সঙ্গে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের ধাক্কাধাক্কি হয়। পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন সমিতির সভাপতি মোমতাজ উদ্দিন ফকির। তিনি আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল থেকে এবারের নির্বাচনে সভাপতি প্রার্থী। কিছুক্ষণ পর বিএনপি সমর্থিত প্যানেল থেকে সভাপতি প্রার্থী মাহবুব উদ্দিন বলেন, কমিশন বিষয়ে সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত নির্বাচন হবে না। এ সময় বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা ‘ইয়েস, ইয়েস’ বলে রব তোলেন। এর পক্ষে-বিপক্ষে হইচই ও হট্টগোল শুরু হয়। বেশ কিছুক্ষণ তা চলে। বেলা পৌনে ১১টার দিকে মিলনায়তনে উপস্থিত একাধিক আইনজীবী জানান, ভোট তখন পর্যন্ত শুরু হয়নি। পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থানের প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেলা ১১টার ৪০ মিনিটের দিকে সমিতির মিলনায়তনে পুলিশ প্রবেশ করে। 

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে বেলা ১২টার দিকে সমিতির সভাপতি ও সম্পাদকসহ আওয়ামী লীগ অংশের মনোনীত উপকমিটির আহ্বায়ক মো. মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে ভোট শুরু হয়। এ নিয়ে দিনভর সমিতি ভবন ও প্রাঙ্গণে উত্তেজনা বিরাজ করে। বিকাল তিনটার দিকে প্রেস ব্রিফিং করেন বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের সভাপতি ও সম্পাদক প্রার্থী। এরপর সাড়ে তিনটার দিকে তারা মিছিল নিয়ে সমিতি প্রাঙ্গণে থাকা ভোটের প্যান্ডেলের দিকে আসে। এরপর এক পর্যায়ে প্যান্ডেল ভাঙচুর, ধাওয়া-পালটা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এর পর পরই আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীরা স্লোগানসহ পালটা মিছিল করে। অন্যদিকে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা সমিতি ভবনের মিলনায়তনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এ সময় সমিতি ভবন ও প্রাঙ্গণে পুলিশের সরব উপস্থিতি দেখা যায়। এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সমিতির দুদিনব্যাপী ভোটগ্রহণের প্রথম দিন অতিবাহিত হয়। বেলা ১২টা থেকে বিরতিহীনভাবে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলে। বুধবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত উপকমিটির সদস্য আসাদুজ্জামান মনির সাংবাদিকদের বলেন, প্রার্থীসহ বিএনপিপন্থিদের আপত্তির কারণে ভোটগ্রহণ শুরু করতে দুই ঘণ্টা দেরি হয়। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর ১২টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিরতিহীনভাবে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। সমিতি প্রাঙ্গণে বিএনপিপন্থিরাই ভোটের প্যান্ডেল ভেঙেছে। এবারের নির্বাচনে ৮৬০২ জন ভোটারের মধ্যে প্রথম দিন ২২১৭ ভোট পড়েছে বলে জানান আসাদুজ্জামান মনির।

নতুন তারিখ ঘোষণার দাবি বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের : আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অবৈধ দাবি করে নতুন কমিশন গঠন ও ভোটের নতুন তারিখ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। বুধবার বিকাল ৩টায় অ্যানেক্স ভবনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপিপন্থি আইনজীবী ও আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন এ দাবি জানান। তিনি বলেন, সমিতির নিয়ম অনুযায়ী সমিতির সিনিয়র সদস্যকে নির্বাচন কমিশনের প্রধান করা হয়েছে। কিন্তু মঙ্গলবার কমিশনের প্রধান পদত্যাগ করায় কোনো আলোচনা ছাড়াই অন্য একজনকে প্রধান হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এটি আমাদের গঠনতন্ত্রপরিপন্থি কাজ। তাই এ কমিশন বৈধ নয়। অবৈধ কমিশনের মাধ্যমে কোনো নির্বাচন হতে পারে না। এ কমিশন বাদ দিয়ে নতুন কমিশন গঠন ও ভোটের নতুন তারিখ ঘোষণা করতে হবে। 

নির্বাচন একতরফা হচ্ছে কিনা বা এই নির্বাচন বর্জন করেছেন কিনা জানতে চাওয়া হয় বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের সম্পাদক পদপ্রার্থী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের কাছে। তিনি সরাসরি জবাব না দিয়ে যুগান্তরকে বলেন, আইনের দৃষ্টিতে আইনজীবী সমিতির কোনো নির্বাচন হচ্ছে না। এটা একটা প্রহসনের নির্বাচন। এ নির্বাচনের সঙ্গে আমাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আমরা ভোটও দেইনি। নির্বাচনে আমাদের কোনো এজেন্ট নেই। যেহেতু প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ করেছেন সেহেতু নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। তারপর নির্বাচন হবে।

ঘটনার পূর্বাপর : সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন ঘিরে মূলত গত সোমবার থেকে উত্তেজনা শুরু হয়। এর আগে নির্বাচন পরিচালনাসংক্রান্ত উপকমিটির আহ্বায়ক সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. মনসুরুল হক চৌধুরী ‘ব্যক্তিগত’ কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। এই প্রেক্ষাপটে ভোট হবে কিনা, কে আহ্বায়ক হবেন, নাকি উপকমিটির অপর সদস্যরা নির্বাচন পরিচালনা করবেন এ নিয়ে গত মঙ্গলবার দিনভর আইনজীবীদের মধ্যে আলোচনা চলে। ওইদিন সন্ধ্যার পর সমিতি প্রাঙ্গণে আহ্বায়ক কমিটির প্রধান নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তাপ ছড়ায়। আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরা নির্বাচন পরিচালনা উপকমিটির আহ্বায়ক হিসাবে মো. মনিরুজ্জামানকে মনোনীত করেন। অন্যদিকে বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা এএসএম মোকতার কবির খানকে আহ্বায়ক মনোনীত করেন। প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক আইনজীবী জানায়, মনিরুজ্জামান নির্বাচনি কার্যক্রমের অংশ হিসাবে ব্যালট পেপারে সই করতে সমিতির তিনতলার সম্মেলনকক্ষে যান। এতে আপত্তি জানান বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। তারা কিছু ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেন। এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে মিছিল, হইচই ও হট্টগোল হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে পালটাপালটি ধাওয়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। 

এবারের নির্বাচন পরিচালনার জন্য আগে সমিতির বর্তমান সম্পাদক মো. আবদুন নূর (আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল থেকে নির্বাচিত) আইনজীবী শাহ খসরুজ্জামানকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের উপকমিটি ঘোষণা করেছিলেন। অন্যদিকে কার্যনির্বাহী কমিটির সিনিয়র সহসম্পাদক মাহফুজ বিন ইউসুফ (বিএনপি সমর্থিত প্যানেল থেকে নির্বাচিত) আইনজীবী এজেডএম ফরিদুজ্জামানকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের উপকমিটি ঘোষণা করেছিলেন। তবে ২ মার্চ উভয় পক্ষের সম্মতিতে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির এবারের (২০২৩-২০২৪) নির্বাচন পরিচালনার জন্য সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. মনসুরুল হক চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যবিশিষ্ট উপকমিটি পুনর্গঠন করে। কিন্তু সোমবার মনসুরুল হক চৌধুরী পদত্যাগপত্র দেন।

সভাপতি একটি, সহসভাপতি দুটি, সম্পাদক একটি, কোষাধ্যক্ষ একটি, সহসম্পাদক দুটি ও সদস্যের সাতটিসহ মোট ১৪টি পদে এক বছর মেয়াদের জন্য এই নির্বাচন হয়ে থাকে। সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির ১৪টি পদের মধ্যে বর্তমান সভাপতি ও সম্পাদকসহ সাতটি পদে আছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরা। সহসম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষসহ অপর সাতটি পদে আছেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা।

সাংবাদিকদের হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ : সাংবাদিকদের হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি এবং ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম (এলআরএফ)। গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. ইয়াহিয়া ও সাধারণ সম্পাদক হাসান তারিক চৌধুরী এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘নির্বাচনকে বানচাল ও অগ্রহণযোগ্য করার জন্য যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে তা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’ অবিলম্বে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানান তারা। অন্যদিকে সাংবাদিকদের সংগঠন এলআরএফ-এর সভাপতি আশুতোষ সরকার ও সাধারণ সম্পাদক আহাম্মেদ সরোয়ার হোসেন ভূঞা এক বিবৃতিতে হামলার সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের শাস্তি ও আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানিয়েছেন।
 

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম