২০২০-২১ সাল হবে মুজিববর্ষ : প্রধানমন্ত্রী
jugantor
২০২০-২১ সাল হবে মুজিববর্ষ : প্রধানমন্ত্রী
‘মুজিববর্ষ’ পালনে দুটি কমিটি গঠন

  যুগান্তর রিপোর্ট  

০৭ জুলাই ২০১৮, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আগামী ২০২০-২১ সালকে ‘মুজিববর্ষ’ ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে এ কর্মসূচি পালন করবে আওয়ামী লীগসহ সব শ্রেণীপেশার মানুষ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত এই বছরকে আমরা ‘মুজিববর্ষ’ হিসেবে পালন করব। ২০২১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করব। নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাঁকজমকপূর্ণভাবে বছরটি পালনের জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন শেখ হাসিনা। ‘মুজিববর্ষ’ পালনে জাতীয় অধ্যাপক ও নজরুল গবেষক রফিকুল ইসলামকে প্রধান করে একটি উচ্চপর্যায়ের নাগরিক কমিটি গঠন করা হয়। একই সঙ্গে দলগতভাবে কর্মসূচি পালনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে সদস্য সচিব করে আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শুক্রবার বিকালে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের আওয়ামী লীগের নবনির্মিত কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের উপদেষ্টা পরিষদ ও কার্যনির্বাহী কমিটির যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী ‘মুজিববর্ষ’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এ ছাড়া বৈঠকে বছরটি স্মরণীয় করে রাখতে একটি জাতীয় কমিটি ও একটি দলীয় কমিটি গঠন করেন।

গত ২৩ জুন দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের নতুন ভবন উদ্বোধন করা হয়। এরপর শুক্রবার এখানে প্রথমবারের মতো উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কমিটির এ সভা অনুষ্ঠিত হলো।

বিকাল ৫টায় অফিসে এসে পৌঁছান আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভাকক্ষে প্রবেশের পর দলীয় নেতাকর্মীরা দাঁড়িয়ে তাকে অভিবাদন জানান। নতুন অফিসে প্রথম সভায় দলীয় সভাপতিকে ফুল দিয়ে বরণ করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। যৌথসভার শুরুতেই শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন দলটির কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ। ওবায়দুল কাদেরের সঞ্চালনায় যৌথসভায় বক্তব্য রাখেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মুকুল বোস, রাশিদুল আলম, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুর রহমান, আখতারুজ্জামান, হারুন অর রশিদ প্রমুখ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে বলেন, অনেকে দেশের উন্নয়ন চায় না। তিনি বলেন, জাতির পিতা স্বল্পোন্নত দেশ রেখে গিয়েছিলেন। আজ আমরা উন্নয়নশীল দেশ। সবদিক থেকে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। যে স্বীকৃতি আমরা পেয়েছি এটা অনেকেরই পছন্দ নয়। পছন্দ না হওয়ার কারণ হল ঋণ আনতে নাকি সমস্যা হয়। দেশ দরিদ্র থাকলে, দরিদ্র কঙ্কালসার মানুষকে দেখিয়ে যারা বিদেশ থেকে টাকা এনে উচ্চহারে দরিদ্রদের ঋণ দিয়ে নিজেদের ভাগ্যের উন্নয়ন করে, তাদের সর্বনাশ হয়েছে। সর্বনাশ জনগণের হয়নি। যারা মানুষের রক্ত চুষে খায় তাদের সর্বনাশ হয়েছে।

সরকারের ধারাবাহিকতা থাকলেই দেশের উন্নয়ন হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকায় দেশ আজ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হতে পেরেছে। আমরা সবসময় চেয়েছি নিজেদের সম্পদ দিয়ে বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াব, নিজেরা স্বাবলম্বী হব। কারও কাছে হাত পেতে ভিক্ষা নিয়ে নয়। শিক্ষার গুরুত্ব অনুধাবন করছে মানুষ। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা চাই এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন, এর সঙ্গে দেশ হবে উন্নত-সমৃদ্ধশালী। সরকার শোষিতের পক্ষে এখন কাজ করছে। দেশের একটা মানুষ ঘরহারা নেই। দেশে কোনো কুঁড়েঘর থাকবে না।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট দেশ ও জাতির জন্য দুর্ভাগ্য। এরপর অবৈধ ক্ষমতা দখল। সন্ত্রাস জঙ্গিবাদে দেশের এগিয়ে যাওয়া। উন্নয়ন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে সবকিছু পেছনে ফেলে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি নিয়ে এখন উন্নতির পথে কাজ চলছে। উন্নয়নের মহাসড়কে চলমান বাংলাদেশ। স্যাটেলাইট মহাকাশে পৌঁছে গেছে।

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ২০২০ সাল জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করব। তখন দেশ দরিদ্রমুক্ত হবে। দরিদ্রমুক্ত দেশ হিসেবে আমরা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করব। এ জন্য বছরব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি নেয়া হবে। এ কর্মসূচি ঠিক করতেই আমরা এই বৈঠকে বসেছি। সারা দেশে বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত যেন এই কর্মসূচি পালিত হয়। সরকারিভাবেও আমরা কর্মসূচি পালন করব। ইতোমধ্যে আমি মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলেছি। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত এই বছরকে আমরা ‘মুজিববর্ষ’ হিসেবে পালন করব। ২০২১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করব। সেই পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর শতবার্ষিকী পালনের কর্মসূচি পালিত হবে। বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। বিভাগ, জেলা ও ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করা হবে।

তিনি বলেন, এই সময়ের মধ্যে স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, মহান ২১ শে ফেব্র“য়ারি, ঐতিহাসিক ৭ মার্চ, ১৭ মার্চ, ৭ জুন, ১৫ আগস্ট, ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবসের কর্মসূচিও থাকবে। এসব কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করে জাতির পিতার জন্ম দিবসের কর্মসূচি পালিত হবে। এ জন্ম দিবসের কর্মসূচিতে স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, জেলে-কামার-কুমার-তাঁতি, শ্রমিক-চাকরিজীবী-পেশাজীবী, শিশু-কিশোরসহ সব শ্রেণীপেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে। ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, চিত্রাঙ্কন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী ও কারাগারের রোজনামচা আমরা প্রকাশ করেছি। ১৯৪৭ সাল থেকে পাকিস্তানের গোয়েন্দা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যে রিপোর্ট দিয়েছে তার ৪৭টি ফাইল আমাদের কাছে আছে। হাজার হাজার পাতা সেই ফাইলে। সেটাও একটা ইতিহাস। এই ফাইলগুলোর পাতা হবে ৩০ থেকে ৪০ হাজার। সেখান থেকে বেছে ৯ হাজারে আনা হয়েছে। ১৪টি ভলিউমে এগুলো প্রকাশ করা হবে। প্রথম ভলিউমের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। একটি অনুষ্ঠান করে তা প্রকাশ করা হবে। এই বই কয়টি পড়লে বাংলাদেশের ইতিহাসের আর কিছু জানা বাকি থাকবে না।

তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে পাকিস্তান গোয়েন্দা সংস্থার যে রিপোর্ট সেই রিপোর্ট পড়লেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামের কথা জানা যাবে, বঙ্গবন্ধুর অপরিসীম অবদানের কথাও জানা যাবে। এত বড় গোয়েন্দা রিপোর্ট পৃথিবীর অন্য কোনো রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে দেয়া হয়েছে কিনা, তা আমার জানা নেই। তিনি বলেন, এখন আমরা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নিয়ে কাজ শুরু করেছি। আগরতলা মামলার নথিও আমাদের কাছে আছে। আরেকটি লেখা আছে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিকথা। এই লেখাটিও আমরা প্রস্তুত করছি, এটাও প্রকাশ করতে পারব।

বছরব্যাপী এই কর্মসূচি পালনে জাতীয় অধ্যাপক ও নজরুল গবেষক রফিকুল ইসলামকে প্রধান করে একটি উচ্চ পর্যায়ের নাগরিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে সদস্য সচিব হিসেবে থাকবেন সাবেক মুখ্যসচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। আর আওয়ামী লীগের বছরব্যাপী কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। আরও অনেক উপ-কমিটি গঠন করা হবে। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ জাতির পিতার জন্মদিন থেকে এ বছর শুরু হয়ে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে গিয়ে শেষ হবে।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও রাজনীতিবিদদের আমন্ত্রণ জানিয়ে একটি বড় ধরনের অনুষ্ঠানের প্রস্তাব করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। প্রধানমন্ত্রী এতে সম্মতি জানান। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি ও অস্থায়ী জাদুঘর নির্মাণ করা হবে।

বৈঠকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান টুঙ্গীপাড়া থেকে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী কর্মসূচি পালনের প্রস্তাব দেন। বৈঠকে দেশের সর্বশেষ রাজনীতি, আগামী নির্বাচনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দীর্ঘ আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়।

২০২০-২১ সাল হবে মুজিববর্ষ : প্রধানমন্ত্রী

‘মুজিববর্ষ’ পালনে দুটি কমিটি গঠন
 যুগান্তর রিপোর্ট 
০৭ জুলাই ২০১৮, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আগামী ২০২০-২১ সালকে ‘মুজিববর্ষ’ ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে এ কর্মসূচি পালন করবে আওয়ামী লীগসহ সব শ্রেণীপেশার মানুষ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত এই বছরকে আমরা ‘মুজিববর্ষ’ হিসেবে পালন করব। ২০২১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করব। নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাঁকজমকপূর্ণভাবে বছরটি পালনের জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন শেখ হাসিনা। ‘মুজিববর্ষ’ পালনে জাতীয় অধ্যাপক ও নজরুল গবেষক রফিকুল ইসলামকে প্রধান করে একটি উচ্চপর্যায়ের নাগরিক কমিটি গঠন করা হয়। একই সঙ্গে দলগতভাবে কর্মসূচি পালনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে সদস্য সচিব করে আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শুক্রবার বিকালে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের আওয়ামী লীগের নবনির্মিত কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের উপদেষ্টা পরিষদ ও কার্যনির্বাহী কমিটির যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী ‘মুজিববর্ষ’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এ ছাড়া বৈঠকে বছরটি স্মরণীয় করে রাখতে একটি জাতীয় কমিটি ও একটি দলীয় কমিটি গঠন করেন।

গত ২৩ জুন দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের নতুন ভবন উদ্বোধন করা হয়। এরপর শুক্রবার এখানে প্রথমবারের মতো উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কমিটির এ সভা অনুষ্ঠিত হলো।

বিকাল ৫টায় অফিসে এসে পৌঁছান আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভাকক্ষে প্রবেশের পর দলীয় নেতাকর্মীরা দাঁড়িয়ে তাকে অভিবাদন জানান। নতুন অফিসে প্রথম সভায় দলীয় সভাপতিকে ফুল দিয়ে বরণ করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। যৌথসভার শুরুতেই শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন দলটির কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ। ওবায়দুল কাদেরের সঞ্চালনায় যৌথসভায় বক্তব্য রাখেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মুকুল বোস, রাশিদুল আলম, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুর রহমান, আখতারুজ্জামান, হারুন অর রশিদ প্রমুখ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে বলেন, অনেকে দেশের উন্নয়ন চায় না। তিনি বলেন, জাতির পিতা স্বল্পোন্নত দেশ রেখে গিয়েছিলেন। আজ আমরা উন্নয়নশীল দেশ। সবদিক থেকে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। যে স্বীকৃতি আমরা পেয়েছি এটা অনেকেরই পছন্দ নয়। পছন্দ না হওয়ার কারণ হল ঋণ আনতে নাকি সমস্যা হয়। দেশ দরিদ্র থাকলে, দরিদ্র কঙ্কালসার মানুষকে দেখিয়ে যারা বিদেশ থেকে টাকা এনে উচ্চহারে দরিদ্রদের ঋণ দিয়ে নিজেদের ভাগ্যের উন্নয়ন করে, তাদের সর্বনাশ হয়েছে। সর্বনাশ জনগণের হয়নি। যারা মানুষের রক্ত চুষে খায় তাদের সর্বনাশ হয়েছে।

সরকারের ধারাবাহিকতা থাকলেই দেশের উন্নয়ন হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকায় দেশ আজ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হতে পেরেছে। আমরা সবসময় চেয়েছি নিজেদের সম্পদ দিয়ে বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াব, নিজেরা স্বাবলম্বী হব। কারও কাছে হাত পেতে ভিক্ষা নিয়ে নয়। শিক্ষার গুরুত্ব অনুধাবন করছে মানুষ। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা চাই এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন, এর সঙ্গে দেশ হবে উন্নত-সমৃদ্ধশালী। সরকার শোষিতের পক্ষে এখন কাজ করছে। দেশের একটা মানুষ ঘরহারা নেই। দেশে কোনো কুঁড়েঘর থাকবে না।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট দেশ ও জাতির জন্য দুর্ভাগ্য। এরপর অবৈধ ক্ষমতা দখল। সন্ত্রাস জঙ্গিবাদে দেশের এগিয়ে যাওয়া। উন্নয়ন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে সবকিছু পেছনে ফেলে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি নিয়ে এখন উন্নতির পথে কাজ চলছে। উন্নয়নের মহাসড়কে চলমান বাংলাদেশ। স্যাটেলাইট মহাকাশে পৌঁছে গেছে।

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ২০২০ সাল জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করব। তখন দেশ দরিদ্রমুক্ত হবে। দরিদ্রমুক্ত দেশ হিসেবে আমরা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করব। এ জন্য বছরব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি নেয়া হবে। এ কর্মসূচি ঠিক করতেই আমরা এই বৈঠকে বসেছি। সারা দেশে বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত যেন এই কর্মসূচি পালিত হয়। সরকারিভাবেও আমরা কর্মসূচি পালন করব। ইতোমধ্যে আমি মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলেছি। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত এই বছরকে আমরা ‘মুজিববর্ষ’ হিসেবে পালন করব। ২০২১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করব। সেই পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর শতবার্ষিকী পালনের কর্মসূচি পালিত হবে। বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। বিভাগ, জেলা ও ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করা হবে।

তিনি বলেন, এই সময়ের মধ্যে স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, মহান ২১ শে ফেব্র“য়ারি, ঐতিহাসিক ৭ মার্চ, ১৭ মার্চ, ৭ জুন, ১৫ আগস্ট, ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবসের কর্মসূচিও থাকবে। এসব কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করে জাতির পিতার জন্ম দিবসের কর্মসূচি পালিত হবে। এ জন্ম দিবসের কর্মসূচিতে স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, জেলে-কামার-কুমার-তাঁতি, শ্রমিক-চাকরিজীবী-পেশাজীবী, শিশু-কিশোরসহ সব শ্রেণীপেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে। ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, চিত্রাঙ্কন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী ও কারাগারের রোজনামচা আমরা প্রকাশ করেছি। ১৯৪৭ সাল থেকে পাকিস্তানের গোয়েন্দা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যে রিপোর্ট দিয়েছে তার ৪৭টি ফাইল আমাদের কাছে আছে। হাজার হাজার পাতা সেই ফাইলে। সেটাও একটা ইতিহাস। এই ফাইলগুলোর পাতা হবে ৩০ থেকে ৪০ হাজার। সেখান থেকে বেছে ৯ হাজারে আনা হয়েছে। ১৪টি ভলিউমে এগুলো প্রকাশ করা হবে। প্রথম ভলিউমের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। একটি অনুষ্ঠান করে তা প্রকাশ করা হবে। এই বই কয়টি পড়লে বাংলাদেশের ইতিহাসের আর কিছু জানা বাকি থাকবে না।

তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে পাকিস্তান গোয়েন্দা সংস্থার যে রিপোর্ট সেই রিপোর্ট পড়লেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামের কথা জানা যাবে, বঙ্গবন্ধুর অপরিসীম অবদানের কথাও জানা যাবে। এত বড় গোয়েন্দা রিপোর্ট পৃথিবীর অন্য কোনো রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে দেয়া হয়েছে কিনা, তা আমার জানা নেই। তিনি বলেন, এখন আমরা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নিয়ে কাজ শুরু করেছি। আগরতলা মামলার নথিও আমাদের কাছে আছে। আরেকটি লেখা আছে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিকথা। এই লেখাটিও আমরা প্রস্তুত করছি, এটাও প্রকাশ করতে পারব।

বছরব্যাপী এই কর্মসূচি পালনে জাতীয় অধ্যাপক ও নজরুল গবেষক রফিকুল ইসলামকে প্রধান করে একটি উচ্চ পর্যায়ের নাগরিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে সদস্য সচিব হিসেবে থাকবেন সাবেক মুখ্যসচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। আর আওয়ামী লীগের বছরব্যাপী কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। আরও অনেক উপ-কমিটি গঠন করা হবে। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ জাতির পিতার জন্মদিন থেকে এ বছর শুরু হয়ে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে গিয়ে শেষ হবে।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও রাজনীতিবিদদের আমন্ত্রণ জানিয়ে একটি বড় ধরনের অনুষ্ঠানের প্রস্তাব করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। প্রধানমন্ত্রী এতে সম্মতি জানান। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি ও অস্থায়ী জাদুঘর নির্মাণ করা হবে।

বৈঠকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান টুঙ্গীপাড়া থেকে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী কর্মসূচি পালনের প্রস্তাব দেন। বৈঠকে দেশের সর্বশেষ রাজনীতি, আগামী নির্বাচনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দীর্ঘ আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়।