আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ক্ষতির কারণ হবে: মির্জা ফখরুল
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৩, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঢাকায় নিযুক্ত ছয় রাষ্ট্রদূতের বাড়তি নিরাপত্তা প্রত্যাহার আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দেশের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে-এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, দায়িত্বহীনভাবে কূটনীতিকদের বাড়তি নিরাপত্তা প্রত্যাহার করেছে সরকার, এতে সংকট সৃষ্টি হবে। এটা বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করবে। বাংলাদেশের মানুষকে ক্ষতি করবে। এটা সুখকর কিছু বয়ে আনবে না।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিদেশে গিয়ে উপযুক্ত প্রটোকল না পেয়ে এর প্রতিশোধ হিসাবে বাংলাদেশে নিযুক্ত কূটনীতিকদের সুবিধা প্রত্যাহার করে নিয়েছে সরকার। কূটনীতিকদের বাড়তি নিরাপত্তা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশকে একঘরে করে দেবে। সরকার শঙ্কিত হয়ে পশ্চিমা বিশ্বের সমালোচনা করছে। ত্রিদেশীয় সফরের পর প্রধানমন্ত্রী চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব এ কথা বলেন। এর আগে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪২তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিএনপি ও অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের যৌথসভা হয়।
ছয় রাষ্ট্রদূতের বাড়তি নিরাপত্তা প্রত্যাহারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে যদি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এই বিষয়ে পালটা কোনো ব্যবস্থা নেয়, সেটা তো বাংলাদেশের মানুষের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
সৌদি আরব সব সময় বাংলাদেশকে সহযোগিতা করছে, তারা যদি কোনো ব্যবস্থা নেয় সেটা ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। ভারতও এর মধ্যে রয়েছে। জাপান ও অস্ট্রেলিয়া আছে। যারা আমাদের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সহযোগী। নিঃসন্দেহে এটা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কখনো কোনো শুভ ফল বয়ে আনবে না।’
নির্বাচনকালীন সরকার হলেও বিএনপির সুযোগ নেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ-সংগ্রাম-লড়াই করছি সত্যিকার অর্থেই প্রতিনিধিত্বমূলক একটি সংসদ তৈরি করার জন্য। আমরা বারবার করে বলেছি-এই সরকার ক্ষমতায় থাকলে তা হবে না। আমরা বলছি, একটা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে।
আওয়ামী লীগ নির্বাচনকালীন সরকার কী গঠন করবে, না করবে তা অমূলক; আমাদের কাছে এটা কোনো ব্যাপারই নয়। আমরা একটা নিরপেক্ষ সরকার চাই। সেই নিরপেক্ষ সরকার অবশ্যই নির্দলীয়ভাবে চাই। এখানে কোনো দলীয় ব্যক্তিদের আমরা চাই না।’
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির সংসদ থেকে পদত্যাগ করাটা ভুল ছিল কিনা, এমন প্রশ্নে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কখনোই নয়। এটা (সংসদ থেকে পদত্যাগ) অত্যন্ত সঠিক সিদ্ধান্ত। কারণ এই সংসদ জাতির আশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে তো বটেই, এই সংসদে জাতির প্রতিনিধিত্বই ছিল না। কারণ, তারা নির্বাচিত নয়।’
