Logo
Logo
×

Advertisement

প্রথম পাতা

গণভবনে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

ভোট ডাকাতরাই ভোটাধিকারের কথা বলছে

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৩, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ভোট ডাকাতরাই ভোটাধিকারের কথা বলছে

Advertisement

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা ভোট চোর, ভোট ডাকাত ছিল, তারাই এখন গণতন্ত্র চায়! ভোটের অধিকারের কথা বলে!

যাদের জন্মই হয়েছে অবৈধভাবে, তাদের কাছ থেকে এসব কথা শুনতে হয়। এগুলো মাঠের কথা, মাঠেই থাকবে। আমরা জনতার সঙ্গে থাকব।

জনতার পাশে থাকব। জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করব। জনগণের জন্য কাজ করে যাব। জনগণের আস্থা-বিশ্বাস অর্জন করে তাদের ভোটের মাধ্যমেই তো আমরা ক্ষমতায় এসেছি। মানুষের বিশ্বাস ও আস্থাটাই আমাদের একমাত্র শক্তি। আর কোনো শক্তি নেই। বাংলাদেশের জনগণই আওয়ামী লীগের একমাত্র বন্ধু, এটা মনে রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষ্যে বুধবার গণভবনে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়ে সেটাও কার্যকর করে যাচ্ছি। খুব স্বাভাবিকভাবেই এ অর্জনগুলো নৎস্যাৎ করতে; যারা স্বাধীনতার বিরুদ্ধে, যারা জাতির পিতাকে হত্যা করেছে-জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে তাদের একটা ষড়যন্ত্র চলতেই থাকবে। কিন্তু অনেস্টি থাকলে এবং পারপাস (উদ্দেশ্য) যদি সততার সঙ্গে হয়, তাহলে যে কোনো জায়গায় সাফল্য আনা যায়। এ কথাটাই সব সময় মনে রাখি। লক্ষ্য একটাই-দেশের মানুষের জীবনটা উন্নত করা, তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করে দেওয়া। বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে। সেই হাসি ফোটানোটাই একমাত্র কর্তব্য এবং সেটাই করে যাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, আজ যখন ভূমিহীন, গৃহহীন মানুষকে ঘর দিই, ঘর পাওয়ার পর তাদের মুখের হাসির চেয়ে বড় পাওয়া বা সার্থকতা আর কিছু নেই।

সরকারপ্রধান বলেন, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা যেন অব্যাহত থাকে, সেটাই আমাদের প্রচেষ্টা। সেই সঙ্গে গণতন্ত্র, এটা নিয়ে অনেকেই কথা বলেন। বাংলাদেশে গণতন্ত্র, ভোটের অধিকার কবে ছিল? পঁচাত্তর সালের পর থেকে জিয়াউর রহমান ভোট চুরি, ভোট কারচুপি, ভোট নিয়ে খেলা, মানুষের ভাগ্য নিয়ে খেলা করেছে। বরং আওয়ামী লীগের নানা পদক্ষেপের ফলে আজ বিভিন্ন সংস্কার করে নির্বাচন পদ্ধতিটাকে গণমুখী করা, জনগণের ভোট সম্পর্কে তাদের সচেতন করা হয়েছে। ‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব’ স্লোগান দিয়ে মানুষকে ভোট সম্পর্কে সচেতন করা, এটা তো আওয়ামী লীগই করেছে, আর কেউ না। নির্বাচন কমিশন করার জন্য আইন করা হয়েছে, যেখানে ভুয়া ভোটার দিয়ে তালিকা হতো, সেখানে ছবিসহ ভোটার তালিকা হয়েছে, আইডি কার্ড-সবই তো আওয়ামী লীগেরই করে দেওয়া। তারপরও যখন কেউ ভোট, গণতন্ত্র আর নির্বাচন নিয়ে আমাদের সবক দিতে আসে, সেখানে আর কিছু বলার নেই। দলকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, দল শক্তিশালী করা, মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সেই সঙ্গে উন্নয়ন কর্মসূচি যেন ত্বরান্বিত হয়, সেই ব্যবস্থাটা নিতে হবে। আওয়ামী লীগ জনগণের সংগঠন, জনগণের কল্যাণেই কাজ করে যাবে। এটাই হচ্ছে আমাদের একমাত্র প্রতিজ্ঞা। জাতির পিতার যে স্বপ্ন, দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো, বাংলাদেশকে সোনার বাংলা হিসাবে গড়ে তোলা, সেটা আমরা ইনশাআল্লাহ করব।

তিনি বলেন, যেদিন ফিরে আসি, সেদিন তো চেনা মুখগুলো পাইনি। কিন্তু পেয়েছিলাম এ দেশের জনগণকে আর আমার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীকে। সেই থেকে আওয়ামী লীগ আর বাংলাদেশের জনগণই আমার পরিবার। আমি সেভাবেই নিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। এটা ধরে রেখে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এই প্রতিজ্ঞা নিয়েই চলতে হবে। ধনসম্পদ কারও চিরদিন থাকে না। মরলে মাটির নিচেই যেতে হবে, কেউ কিছু সঙ্গে নিয়ে যেতে পারে না। কিন্তু বেশি করলে বদনামটা নিয়ে যেতে হয়। সেটা যেন না হয়। কোনো কিছুই স্থায়ী নয়। কারণ, এটাই (আওয়ামী লীগ) একমাত্র দল, যারা দেশের কল্যাণে চিন্তাভাবনা করে। আর বাকিগুলো তো লুটেরার দল। তারা কোনোদিন জনগণের কল্যাণে কাজ করে না। সন্ত্রাসী দল, খুনির দল বা যুদ্ধাপরাধীর দল যেন দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর ছিনিমিনি খেলতে না পারে, সেদিকে সবাইকে নজর রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফুল দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল শুভেচ্ছা জানায়। এসময় দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, মাহবুবউল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, এসএম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ও কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। দিবসটি উপলক্ষ্যে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারাও।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

রাতে গুজব দাবি, দিনে সত্যতা স্বীকার প্রতিমন্ত্রীর ইশরাকের নাটকীয় পদত্যাগ

ইশরাকের নাটকীয় পদত্যাগ

নিয়ম ভঙ্গকারীদের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা

নিয়ম ভঙ্গকারীদের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা

ফ্রান্সে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে, কারফিউ জারি

ফ্রান্সে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে, কারফিউ জারি

স্বৈরাচার ফেরার পথ খুলে দেওয়া হবে শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি: প্রধানমন্ত্রী

স্বৈরাচার ফেরার পথ খুলে দেওয়া হবে শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি: প্রধানমন্ত্রী

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম