Logo
Logo
×
   

প্রথম পাতা

মন্ত্রিসভায় আরপিও’র খসড়া অনুমোদন

পুরো আসন বাতিলের ক্ষমতা হারাল ইসি

অনিয়ম হলে কেন্দ্রের ভোট স্থগিত বা বাতিল করতে পারবে * আসনভিত্তিক রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগের সুযোগ

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৩, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

পুরো আসন বাতিলের ক্ষমতা হারাল ইসি

নির্বাচন চলাকালে অনিয়ম হলে পুরো আসনের ভোট বাতিল করতে পারবে না নির্বাচন কমিশন। এর বদলে এক বা একাধিক কেন্দ্রের নির্বাচন স্থগিত বা বাতিল করতে পারবে ইসি। এমন বিধান রেখে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনীর চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিদ্যমান আইনের ৯১ ধারা অনুযায়ী পুরো আসনের নির্বাচন বাতিলের ক্ষমতা ইসি’র হাতে আছে। এই ক্ষমতা বলেই গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচনে পুরো ভোট বাতিল করেছিল নির্বাচন কমিশন।

সংশোধনীতে সংসদ নির্বাচনে আসনভিত্তিক রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগের বিধানও সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। বর্তমানে জেলাতেও আসনভিত্তিক রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগের বিধান আছে। এখন জেলার পরিবর্তে আসনভিত্তিক রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া যাবে। কোনো রিটার্নিং কর্মকর্তাকে যে সংখ্যক আসনের দায়িত্ব দেওয়া হবে তিনি সেইসব আসনের নির্বাচন পরিচালনা করবেন। নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলার পরিবর্তে আসন শব্দটি উল্লেখ থাকবে।

কোনো প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিলের আগের দিন কৃষি ও ক্ষুদ্রঋণ এবং বিলখেলাপিরা টাকা পরিশোধ করলেই নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন। বৈধভাবে কোনো গণমাধ্যমকর্মী ও পর্যবেক্ষক ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে চাইলে তাকে বাধা দেওয়া যাবে না। কেউ তাদের কাজে বাধা দিলে সেজন্য আইনে দুই থেকে সাত বছরের সাজার বিধান রাখা হয়েছে।

বৈঠক শেষে সিদ্ধান্তগুলো সাংবাদিকদের জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন। তিনি জানান, পুরো আসন নয়, কোনো কেন্দ্রে অনিয়ম-বিশৃঙ্খলা হলে সেই কেন্দ্রগুলোর নির্বাচন স্থগিত বা বাতিল করতে পারবে নির্বাচন কমিশন। সাংবাদিকরা জানতে চেয়েছিলেন এর আগে গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচনে পুরো আসনের নির্বাচন বাতিল করেছিল ইসি। তবে এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে চাননি মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

তিনি বলেন, আজকের মন্ত্রিসভায় আলোচনার বিষয় নিয়েই তিনি থাকতে চান। তাতে যে বিধানগুলো গ্রহণ করা হয়েছে সেগুলো নিয়েই কথা বলতে চান।

জাতীয় নির্বাচনের সময় আর বেশি নেই জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন জানান, এর আগেই সংশোধিত হচ্ছে গণপ্রতিনিধিত্ব আইনের (আরপিও) কয়েকটি ধারা। এছাড়া মনোনয়নপত্র দাখিলের আগের দিন কৃষি ও ক্ষুদ্রঋণ এবং বিলখেলাপিরা তাদের খেলাপি টাকা পরিশোধ করলেই নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন। এই সুযোগ রাখা হয়েছে সংশোধনীতে।

মাহবুব হোসেন আরও বলেন, আরপিওতে যুক্ত হচ্ছে আরও কিছু নতুন ধারা। সে অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের আগের দিন পর্র্যন্ত ইউটিলিটি বিল জমা দিতে পারবেন প্রার্থীরা। একইভাবে আয়করের রসিদ জমা দিতে হবে। এছাড়া রাজনৈতিক দলের গঠনতন্ত্র, আয়-ব্যয় জমা দেওয়ার সময়সীমা ২০২০ থেকে বাড়িয়ে ২০৩০ সাল করা হয়েছে।

জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলায় আসনভিত্তিক রিটার্নিং কর্মকর্তা থাকেন। আইন অনুযায়ী তিনি এক বা একাধিক আসনের নির্বাচন পরিচালনা করতে পারেন। এ সুযোগে জেলার ৪-৫টি সংসদীয় আসনের নির্বাচন একজন রিটার্নিং কর্মকর্তাই পরিচালনা করতেন। এবার সংশোধনীতে আসনভিত্তিক রিটার্নিং কর্মকর্তা করার বিধানও সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। এতে জেলার পরিবর্তে আসন শব্দটি উল্লেখ থাকবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, মন্ত্রিসভা প্রকিউরমেন্ট অথরিটি আইন, সুরক্ষিত লেনদেন, ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনসহ তিনটি আইনের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।

অস্থাবর সম্পত্তির ভিত্তিতেও ঋণ নেওয়া যাবে : মন্ত্রিসভার বৈঠকে সুরক্ষিত লেনদেন (অস্থাবর সম্পত্তি) আইন-২০২৩ খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই আইন পাশ হলে অস্থাবর সম্পত্তির ভিত্তিতেও ঋণ নেওয়া যাবে। ১৬ ধরনের বিষয় উল্লেখ করে দেওয়া হয়েছে। এসব অস্থাবর সম্পত্তির রেজিস্ট্রেশন থাকবে। মেধাস্বত্বও এই অস্থাবর সম্পত্তি হিসাবে গণ্য হবে।

মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন : মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি অনন্য উদ্যোগ। এটি দেশে ও বিদেশে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিকের সাফল্যের বিষয় নিয়ে ১৬ মে জাতিসংঘে একটি প্রস্তাব পাশ হয়েছে, সেখানে প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে বিশেষভাবে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। এটিকে শেখ হাসিনার উদ্যোগ নামে চিহ্নিত করা হয়েছে। এজন্য মন্ত্রিসভা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছে।

বাংলাদেশের কমিউনিটি ক্লিনিক বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি নিজেও জানতাম না যে প্রস্তাবটি (কমিউনিটি ক্লিনিকের বিষয়ে) কখন জাতিসংঘে উত্থাপিত হয়েছিল। প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হওয়ার পর জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আমাকে অবহিত করেছিলেন। কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা সারা দেশের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জানা গেছে, মন্ত্রিসভার পক্ষ থেকে তথ্য ও সম্প্র্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমন মানবিক উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাতে বলেন যারা প্রস্তাবটি কো-স্পন্সর করেছে এবং জাতিসংঘের সবকটি সদস্য দেশ যারা সর্বসম্মতভাবে এটিকে সমর্থন করেছে।

নির্বাচন পুরো আসন বাতিল ক্ষমতা হারাল ইসি

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম