Logo
Logo
×

Advertisement

প্রথম পাতা

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতিতে ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’ পলিসি ঢাকার

ভিসানীতি প্রয়োগে ৫ প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য সংগ্রহ করবে যুক্তরাষ্ট্র * ভিসানীতি নিয়ে সরকারের কোনো মাথাব্যথা নেই -পররাষ্ট্রমন্ত্রী

Advertisement

Icon

মাসুদ করিম

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৩, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতিতে ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’ পলিসি ঢাকার

Advertisement

বাংলাদেশের জন্য ওয়াশিংটন নতুন ভিসানীতি ঘোষণা করার পর ঢাকা ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’ পলিসি নিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিকে সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলার লক্ষ্যে সরকারের এই ধীরে চলো নীতি।

তবে ভিসানীতি প্রয়োগে তথ্য সংগ্রহের উৎস নিয়ে সরকারের যথেষ্ট সন্দেহ আছে। যুক্তরাষ্ট্রের তরফে পাঁচটি উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহের কথা সরকারকে জানানো হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতি নিয়ে সরকারের কোনো মাথাব্যথা নেই। তারা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে সহায়তার লক্ষ্যে এই নীতি করেছে বলে জানিয়েছে। মন্ত্রী আরও বলেন, এটা সুষ্ঠু নির্বাচনে সহায়ক হলে ভালো, তবে আমাদের যথেষ্ট সন্দেহ আছে। 

মার্কিন নতুন ভিসানীতির আওতায় নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় কেউ বাধা দিলে তাকে ভিসা দেবে না যুক্তরাষ্ট্র। ৩ মে বাংলাদেশ সরকারকে নতুন ভিসানীতির কথা অবহিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

২৪ মে বাংলাদেশ সময় প্রায় মাঝরাতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন ভিসানীতি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু মিডিয়ায় সাক্ষাৎকার দিয়ে ভিসানীতি ব্যাখ্যা করেন।

২৫ মে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির নেতাদের কাছে ভিসানীতির ব্যাখ্যা করেন। ওইদিন বিকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। ভিসানীতি ঘোষণার পর বাংলাদেশের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করার জন্য মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস জুনে ওয়াশিংটন যাচ্ছেন। 

জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন রোববার যুগান্তরকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ঠিকমতো তাদের নীতি বাস্তবায়ন করলে সেটা বিএনপির জন্য সমস্যা হবে। তারা জ্বালাও-পোড়াও করতে পারবে না।

আমাদের জন্য এটা ভালো। কারণ, আমরা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের রাজনৈতিক কর্মীরা আমেরিকার ভিসার জন্য তেমন আবেদন করে না।

আমেরিকায় ভিসার আবেদন করেন যারা বড়লোক, ব্যবসায়ী, ঘুসের টাকা পাচার করেছেন। স্বল্পসংখ্যক এলিট শ্রেণি তাদের সম্পদ রক্ষার জন্য আমেরিকার ভিসা চায়। এখন তারা দুশ্চিন্তায় পড়েছে।

এটা আমাদের জন্য আশীর্বাদ হবে। টাকা পাচার কমবে।’ ভিসানীতি মোকাবিলায় সরকারের কৌশল কী জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বলেন, ‘এটা নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই, উচ্চবাচ্য নেই।

এমনিতেই কেউ আমেরিকার ভিসার আবেদন করলে এক বছর পর ভিসার ইন্টারভিউয়ের অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেয়। ফলে এটা আমাদের কাছে তেমন কোনো বিগ ডিল না। এটা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্নও নই।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমি তাদের (যুক্তরাষ্ট্র) কাছে জানতে চেয়েছিলাম, তোমরা যে সুষ্ঠু নির্বাচনে সহায়তা করার জন্য ভিসানীতি করেছ; এটার মাধ্যমে কোথাও কি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে? তারা বলল, এমন কোনো প্রমাণ নেই। সোমালিয়া ও নাইজেরিয়ায় এই নীতি করেও সফল হয়নি যুক্তরাষ্ট্র। এখন বাংলাদেশে পরীক্ষা করার জন্য এটা তারা প্রয়োগ করছে। বাংলাদেশকে গিনিপিগ হিসাবে ব্যবহার করবে!’

ড. মোমেন বলেন, ‘তারা আমাকে বলেছে, বাংলাদেশে নির্বাচনে সংঘাত হয়, মারামারি হয়, সরকারকে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে সহায়তার জন্য তারা এই নীতি করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সহায়তা করতে চান। আসল মতলব আমরা জানি না।’ 

ভিসানীতি বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে তথ্য পাবে, এ বিষয়ে কোনো আলাপ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হয়েছে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা আমরা জানতে চেয়েছিলাম। তারা বলেছে, পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য যাচাই করে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন। এসব প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান নয়। বাংলাদেশিরা এগুলো পরিচালনা করেন। ফলে তাদের কানকথার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিলে উলটাপালটা, ভুলত্রুটি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবুও তারা যেহেতু বলছে, সহায়তার জন্য এটা করেছে; আমরা দেখি, জ্বালাও-পোড়াও বন্ধ হয় কি না।’

তথ্যের উৎস পাঁচ প্রতিষ্ঠান : ভিসানীতি বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রকে তথ্য সরবরাহকারী পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, পাঁচ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আদিলুর রহমানের অধিকার, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বেলা, মায়ের ডাক অন্তর্ভুক্ত। সরকার এসব প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট বলে মনে করে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের একজন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসানীতি আমরা পর্যালোচনা করে দেখছি। এখানে সরকার ও বিরোধী দল উভয়কে উদ্দেশ্য করে নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় বাধাদান থেকে বিরত রাখার বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো অসাংবিধানিক ব্যবস্থার প্রতি যুক্তরাষ্ট্র কোনো সমর্থন দেয়নি। এদিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতিতে সরকারের জন্য ইতিবাচক দিকও আছে।’

তিনি আরও জানান, ‘যুক্তরাষ্ট্রের তরফে বাংলাদেশ সরকারকে সুনির্দিষ্টভাবে অবহিত করা হয়েছে যে, নির্বাচন কী পদ্ধতিতে হবে, সেটা বাংলাদেশের নিজস্ব বিষয়। সেটা নিয়ে তারা কিছু বলবে না। যুক্তরাষ্ট্র চায়, নির্বাচনের প্রক্রিয়াটা সঠিক হোক। শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশ করতে দেওয়া হোক। মিডিয়া ও সুশীল সমাজকে ভয়ভীতি দেখানো যাবে না। ভোটদানে বাধা দেওয়া যাবে না।’

যুক্তরাষ্ট্র সব দেশের জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের জন্য এককভাবে ভিসানীতি ঘোষণার পরও সরকার নমনীয় প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে কেন জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে বুঝিয়ে কঠোর পদক্ষেপ থেকে বিরত রাখতে আমরা চেষ্টা করছি। আমাদের ওপর ভিসানীতি চাপিয়ে দেওয়ার কারণে আমরা কোনো পালটা পদক্ষেপ নেব না। কোনো কড়া প্রতিক্রিয়া দেখাব না। কিছুদিন পর বিষয়টা আরও স্পষ্ট হবে। আপাতত আমরা অপেক্ষা করব।’
 

Advertisement

ভিসানীতি

Advertisement

আরও পড়ুন

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস আজ প্রতিদিন ঝরছে ২২ প্রাণ

প্রতিদিন ঝরছে ২২ প্রাণ

ঢামেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট রোগী ঢুকতে পারলেও বেরোনো কঠিন

রোগী ঢুকতে পারলেও বেরোনো কঠিন

লেভেল ক্রসিংয়ে সড়ক যান ধৈর্যচ্যুতির খেসারত মৃত্যু আর পঙ্গুত্বে

ধৈর্যচ্যুতির খেসারত মৃত্যু আর পঙ্গুত্বে

যুগান্তরকে ইলিয়াস কাঞ্চন শুধু আইনে সড়ক নিরাপদ হবে না

শুধু আইনে সড়ক নিরাপদ হবে না

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম