ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ছয় সদস্য
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চেয়ে চিঠি
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৩, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাংলাদেশের বিষয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ছয় সদস্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান জোসেপ বোরেলকে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে তারা বলেছেন, বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সাধারণ নির্বাচন নিশ্চিতে অবদান রাখতে আপনাকে অনুরোধ করছি। দেশটিতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অবসান, খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং সরকারের সঙ্গে বিএনপিসহ অন্য সব রাজনৈতিক দলকে সম্পৃক্ত করে চলমান সংকটের টেকসই ও গণতান্ত্রিক সমাধান খুঁজে বের করার আহ্বান জানাচ্ছি। ১২ জুন তারা চিঠিটি দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ইইউ ঢাকা অফিসের এক মুখপাত্র যুগান্তরকে জানান, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ছয় সদস্য ব্যক্তিগত মতামত দিয়েছেন। এ ব্যাপারে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম যুগান্তরকে জানান, যার কাছে চিঠিটি পাঠানো হয়েছে-তিনি আমাদের কিছু জানাননি। ফলে বিষয়টি নিয়ে কীভাবে মন্তব্য করব?
চিঠি পাঠানো ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ছয় সদস্য হলেন-স্লোভাক প্রজাতন্ত্রের ইভান স্টেফানেক, চেক প্রজাতন্ত্রের মাইকেল সোজড্রোভা, বুলগেরিয়ার আন্দ্রে কোভাতচেভ, ডেনমার্কের কারেন মেলচিওর, স্পেনের জাভিয়ের নার্ট এবং ফিনল্যান্ডের হেইডি হাউটালা। চিঠিতে তারা বলেন, বাংলাদেশে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ছিল না এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল নির্বাচন বর্জন করেছে।
বাংলাদেশে মানবাধিকারের লঙ্ঘনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা বলেন, এ চিঠির মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন সম্পর্কে আমাদের উদ্বেগ প্রকাশ করতে চাই এবং আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে সেখানে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানাই। তারা বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের প্রতি সম্মান দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। নিজেদের ক্ষমতা সুসংহত করতে সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, অপহরণ, নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার আশ্রয় নিচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসহ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হয়েছে-বিশেষ করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের পর থেকে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে নির্যাতন, দুর্ব্যবহার ও অপব্যবহার শুধু সরকারের রাজনৈতিক বিরোধীদের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রেও একইরকম ছিল। গত এক দশকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং গুমের উচ্চ হার জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক ইউএন কমিটি অ্যাগেইনস্ট টর্চারসহ (সিএটি) জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে উদ্বেগ অব্যাহত রেখেছে। আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের জনগণের পাশে ইইউর দাঁড়ানোর জোরালো কারণ আছে। কারণ দেশটি দীর্ঘদিন ধরে আমাদের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতার অংশীদার।
