বাংলাদেশে দুর্নীতি মোকাবিলায় নিষেধাজ্ঞা হাতিয়ার হতে পারে: যুক্তরাষ্ট্র
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৩, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অর্থ পাচার, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী এবং নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রসঙ্গটি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে উঠে এসেছে। এতে পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেছেন, দুর্নীতি মোকাবিলায় নিষেধাজ্ঞা হাতিয়ার হিসাবে কাজ করতে পারে। এ ছাড়া বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে চলমান মার্কিন নীতি অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ম্যাথিউ মিলার। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে ওই ব্রিফিংয়ের বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক ম্যাথিউ মিলারের কাছে বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচার এবং এ ধরনের দুর্নীতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের চিন্তা করছে কিনা তা জানতে চান। এ সময় ওই সাংবাদিক মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বৈশ্বিক দুর্নীতি দমনবিষয়ক সমন্বয়ক রিচার্ড নেফিউর সদ্য শেষ হওয়া বাংলাদেশ সফর ও দুর্নীতি বিষয়ে মন্তব্য এবং বাংলাদেশের গণমাধ্যমে সম্প্রতি বিপুল অঙ্কের অর্থ বিদেশে পাচার করা নিয়ে চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশের কথা উল্লেখ করেন।
জবাবে ম্যাথিউ মিলার বলেন, আমি এর আগে ভিন্ন একটি দেশের সম্পর্কে একটি ভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলাম, নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগে আমরা কখনই বিষয়টি নিয়ে কথা বলি না। তবে সাধারণভাবে বলতে গেলে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের একটি হাতিয়ার হতে পারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ। আমাদের আরও কিছু হাতিয়ার রয়েছে। যেমন সম্পদ জব্দ করা। অংশীদার দেশগুলোকে তথ্য দেওয়া, যাতে তারা মামলা করতে পারে। এছাড়া বাংলাদেশকে তার সীমানার মধ্যে থাকা দুর্নীতিবাজদের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে নির্মূল করতে উৎসাহিত করছি আমরা।
এর আগে পৃথক প্রশ্নে এক সাংবাদিক জানতে চান, বাংলাদেশে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য আজ মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের সামনে বিক্ষোভ হচ্ছে সেখানে তারা যা করছে, সে বিষয়ে আপনার কোনো মন্তব্য আছে?
জবাবে মার্কিন মুখপাত্র বলেন, আমরা অনেকবার এই বিষয়টি স্পষ্ট করেছি। আমরা বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সমর্থন করি। আমরা তা প্রকাশ্যেই স্পষ্ট করে বলেছি। আমরা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনার সময়ও এটি পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছি এবং বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে আমাদের চলমান নীতি অব্যাহত থাকবে।
অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আহ্বান জাতিসংঘের : আবারও বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। মঙ্গলবার মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের ডেপুটি মুখপাত্র ফারহান হক নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ আহ্বান জানান। সেখানে একজন সাংবাদিক জানতে চান-সম্প্রতি বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক কিছু নির্বাচনি পর্যবেক্ষক দল সফর করছে। তাদের সঙ্গে বিএনপি ও অন্য রাজনৈতিক দলগুলো যোগাযোগ করছে না। বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে এসব দল ভাঙচুর ও রাজপথে প্রতিবাদ বিক্ষোভ করছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব কি না? জবাবে ফারহান হক বলেন, বিশ্বের সব জায়গায়ই প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা চাই-শান্তিপূর্ণ সমাবেশ এবং প্রতিবাদ বিক্ষোভের অধিকারকে সব নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী স্বীকৃতি দেবে এবং সম্মান করবে। এ অবস্থায় বাংলাদেশে একটি অংশগ্রহণমূলক, শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনকে আমরা অব্যাহতভাবে উৎসাহিত করি।
