নির্বাচনি প্রশিক্ষণ শুরু
সংসদ নির্বাচন জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আগামী জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে। এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এনেছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনিছুর রহমান। শনিবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (ইটিআই) দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। তবে ভোটের তারিখ এখনো নির্বাচন কমিশন নির্ধারণ করেনি বলেও জানান তিনি। এ সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও অন্য তিন কমিশনার উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি সর্বোচ্চ ধাপে পৌঁছায়নি। তবে জনগণ সত্যিকার অর্থে স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারলে সেটি মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।
প্রসঙ্গত, আগামী সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় ১০ লাখ ব্যক্তিকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। গতকাল ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। এতে চারটি ব্যাচে ১০০ জনকে দুদিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এভাবে ১২৮টি ব্যাচে তিন হাজার ২০০ জন প্রশিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেবে ইসি। তিন হাজার ২০০ জন মাঠপর্যায়ে প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারদের প্রশিক্ষণ দেবে। প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল। ওই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য দেন চার কমিশনার। এতে নির্বাচন কমিশনার মো. আনিছুর রহমান বলেন, বড় কর্মযজ্ঞ শুরু হচ্ছে। এটা নিয়ে বলা যায়, ২০২৪ সালের গোড়ার দিকে একেবারে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন হবে। আমরা এখনো তারিখ ঠিক করিনি। সেই দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম আজ (শনিবার) থেকে শুরু হয়ে গেল। তিনি বলেন, আমরা বেশির ভাগ ভোট ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) নিয়েছি। এবার কাগজের ব্যালটে জাতীয় নির্বাচনের ভোট হবে। কাজেই চ্যালেঞ্জটা বেশিই থাকবে। নির্বাচন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে, আইনে প্রিসাইডিং অফিসারের ভোট বন্ধ করার ক্ষমতা দেওয়া আছে। এগুলো জানতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করতে পারলে আমাদের সার্থকতা হবে। এর সঙ্গে আরেকটি বিষয় যুক্ত হয়েছে, সেটি হচ্ছে ক্রেডিবিলিটি। আমাদের সমন্বিতভাবে চাইতে হবে এবং একটা বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন হতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি সর্বোচ্চ ধাপে পৌঁছায়নি। পৃথিবীর অনেক দেশ আছে যেখানে নির্বাচন নিয়ে হাহুতাশ করতে হয় না। বিশেষ করে ইউরোপের অনেক দেশ, যেখানে নির্বাচনগুলো খুব শান্তিপূর্ণভাবে হয়ে যায়। ওরা গণতন্ত্রের একটা বিশেষ অবস্থানে গিয়ে স্থিতু হয়েছে। সিইসি বলেন, জনগণ যেখানে সত্যিকার অর্থে স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে, সেটি মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। আমি আপনাদের বলব, প্রশিক্ষণ খুব গুরুত্বপূর্ণভাবে গ্রহণ করবেন। কোনো রকম সংশয় রেখে এখান থেকে বিদায় নেবেন না।
কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কেন্দে র দায়িত্ব উপলব্ধি করতে হবে। সম্প্রতি আইন করে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার ক্ষমতা বর্ধিত করা হয়েছে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করাটাই ইসির সার্থকতা হবে।
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আহসান হাবিব খান বলেন, কঠিন প্রশিক্ষণ, সহজ যুদ্ধ। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ করার জন্য সবার সহযোগিতা দরকার। যত সুন্দরভাবে প্রশিক্ষণ হবে, ততই একটা সুন্দর নির্বাচন হবে। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত এক হাজার ভোট করেছি, যেগুলো সুন্দর ও অবাধ হয়েছে। ওইসব নির্বাচন নিয়ে কোনো কথা ওঠেনি। ভোটকেন্দে নির্বাচনি কর্মকর্তাদের ভূমিকা অনেক।
নির্বাচন কমিশনার বেগম রাশেদা সুলতানা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, নির্বাচন যাতে প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখবেন। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য করার চেষ্টা করা হবে।
নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেন, আমরা যখন চাকরিতে যোগ দেই তখন নির্বাচনে কোনো রকম প্রশিক্ষণই দেওয়া হতো না। কিন্তু নির্বাচন তো ঠিকই করতাম। তার পরও নির্বাচন নিয়ে কোনো রকম কথাবার্তা হতো না। কিন্তু দিন যত যাচ্ছে ততই সবকিছু জটিল হচ্ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচনও জটিল হয়ে গেছে। এই জটিল হওয়ার কারণে এত আইনকানুন ও এত প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয়। তিনি বলেন, আমাদের নির্বাচন আইন আছে, সেগুলো আপনারা দেখে বা পড়ে নেবেন। আপনাদের কাছে বেশি কথা না বলাই ভালো। নিজে পড়লেই জানা যায় সবকিছু।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ইসি সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম ও নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক এসএম আসাদুজ্জমান বক্তব্য রাখেন।
