২৮ অক্টোবরের পরিণতি হবে ১০ ডিসেম্বরের মতো: ওবায়দুল কাদের
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৩, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
১০ ডিসেম্বরের মতো ২৮ অক্টোবরও বিএনপির একই পরিণতি হবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ১০ ডিসেম্বরের পর থেকে খালেদা জিয়া দেশ চালাবেন বলে দম্ভোক্তিও তারা (বিএনপি) করেছিল। ১০ ডিসেম্বরের মতো ২৮ অক্টোবরও তাদের একই পরিণতি হবে। শুধু চিন্তা করছি, কোথায় গিয়ে তারা খাদে পড়বে? ১০ ডিসেম্বর তারা খাদে পড়েছিল গোলাপবাগের গরুর হাটে। এবার কোথায় তা দেখার অপেক্ষায় আছি। শুক্রবার আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নেতারা সকালে ঘুম থেকে উঠে মিথ্যাচার শুরু করেন। সারা দিন মিথ্যাচার করেন। সত্য কথা বলার মানসিকতা তারা হারিয়ে ফেলেছেন। তাদের কোনো শুভবোধ নেই।
সেতুমন্ত্রী বলেন, তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে বিএনপি। যার উদাহরণ ২০০১ ও ২০০৬। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে ধ্বংসের কিনারায় নিয়ে গেছে। তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাংলাদেশে আর করার সুযোগ নেই। আদালত বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা নিয়েছেন। তত্ত্বাবধায়ক ফিরিয়ে এনে ২০০১ এবং ২০০৬-এর পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি বাংলাদেশের মানুষ চায় না।
পূজা নিয়ে কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদ-সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের বিতর্কিত মন্তব্য ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ওবায়দুল কাদের বলেন, দলীয়ভাবে বিষয়টি আমাদের গোচরে এসেছে। আমরা ওয়াকিবহাল। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগের সঙ্গে খোঁজখবর নিয়েছেন। গোটা ব্যাপারটা নিয়ে দল থেকে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি কেউ অপকর্ম করে থাকে, আওয়ামী লীগের চেতনার বিরুদ্ধে কেউ কোনো কাজ করে, সেটা নিয়ে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ভোটের সময় হিন্দুরা না হলে আমাদের চলে না, কিন্তু হিন্দুরা যখন বিপদে পড়বে, তখন আমরা তাদের পাশে থাকি না। এটা তো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি না। আমার ভোটের সময় তাদের প্রয়োজন অথচ তাদের জীবনযাপনে, তাদের ধর্মীয় উৎসব পালনে আমাদের সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত হবে, যারা ঘটনা ঘটায় তারা দুর্বৃত্ত। আমি এদের হিন্দু-মুসলমান বুঝি না। এদের পরিচয় এরা দুর্বৃত্ত। এই দুর্বৃত্ত মুসলমানদের মধ্যে নেই বলার উপায় নেই। আওয়ামী লীগের মধ্যেও কেউ কেউ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করে বলে স্বীকার করেন ওবায়দুল কাদের। ২০২১ সালে দুর্গাপূজার সময় বিভিন্ন জায়গায় হওয়া সহিংসতা মোকাবিলায় সাংগঠনিক ব্যর্থতা ছিল বলেও উল্লেখ করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। এবার যাতে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার মতো ঘটনা না ঘটে, তার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক পাহারায় থাকার নির্দেশনা দেন কাদের।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের পার্টির সবাই খুব ভালো মানুষ, এটা দাবি করার কোনো উপায় নেই। কারণ, কিছু কিছু ঘটনা ঘটে, বাড়িঘরে আগুন লাগে, জমি দখল করে, এগুলো একটা অশুভ উদ্দেশ্যে অনেকে এসব ঘটনা ঘটিয়ে থাকে। ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গিটা যদি গালাগালের সঙ্গে উচ্চারিত হয়, সেটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা দলগতভাবে এসব ব্যাপারগুলো লক্ষ করছি। এদের ব্যাপারে আমরা সতর্ক করছি। পুনরাবৃত্তি রোধে এ ধরনের ঘটনার জন্য আমরা কিছু কিছু ব্যবস্থা নিতেও শুরু করেছি। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, এসএম কামাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, কার্যনির্বাহী সদস্য নির্মল কুমার চ্যাটার্জি, পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জেএল ভৌমিক, সাধারণ সম্পাদক চন্দ্রনাথ পোদ্দার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, দপ্তর সম্পাদক মিলন কান্তি প্রমুখ।
